মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ভূমি বিষয়ক তথ্য

ভূমি বিষয়ক তথ্য

 

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ন আইন, ১৯৫০
(১৯৫১ সালের ২৮নং আইন)
[১৬ই মে, ১৯৫১]
প্রথম খণ্ড
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক


ধারা-(সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও বিস্তৃতি)
উপধারা-(১)এই আইন ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন নামে অভিহিত হইবে।
উপধারা-(২)এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে কার্যকর হইবে।
ধারা-( সংজ্ঞাসমূহ)
এই আইনের বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গে বিপরীত কোনোকিছু না থাকলে-
উপধারা-(১)'সেস'শব্দটি ১৮৭৯ সালের আসাম স্থানীয় হার রেগুলেশন মোতাবেক ধার্যকৃত স্থানীয় হারসমূহকে অন্তর্ভূক্ত হইবে।
উপধারা-(২)'দাতব্য উদ্দেশ্য'শব্দটি গরীবদের ত্রাণ, শিক্ষা, চিকিত্‍সা ও সাধারণ জনহিতকর অন্যান্য কার্যকে অন্তর্ভুক্ত করে;
উপধারা-(৩)'কালেক্টর'অর্থএকটি জেলার কালেক্টর এবং একজন ডেপুটি কমিশনার ও সরকার কতৃর্ক এই আইনেরঅধীনে কালেক্টরের সমস্ত বা যে কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য নিযুক্ত হতে পারেএরূপ অন্যান্য কর্মকর্তা এর অন্তর্ভুক্ত হবে;
উপধারা-(৪)'কমিশনার'বলতে ৪৮ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক নিযুক্ত রাষ্ট্রীয় ক্রয় কমিশনারকে বুঝায়;
উপধারা-(৫)'কোম্পানী'বলতে ১৯১৩ সালের কোম্পানী আইনের অনুরূপ অর্থ বুঝাবে;
উপধারা-(৬)'সম্পুর্ণখাইখালাসী রেহেন'বলতে ঋণ হিসেবে গৃহীত অর্থ বা শস্য প্রদান করারনিশ্চয়তাস্বরূপ কোনো প্রজা কর্তৃক কোনো ভূমির দখলাধিকার এই শর্তেহস্তান্তর করাকে বুঝায় যে রেহেনের মেয়াদকাল ঐ ভূমি হতে প্রাপ্ত মুনাফারদ্বারা সকল সুদসহ ঋণ শোধ বলে ধরে নেয়া হবে;
উপধারা-(৭)জোতসমুহেরক্ষেত্রে ব্যবহৃত 'একত্রীকরণ'শব্দটি দ্বারা বিভিন্ন জোতে অবস্থিত সকল অথবাযে কোনো পৃথক পৃথক দাগের ভূমি একত্রে সন্নিবেশ করার নিমিত্ত পুনঃবন্টনকার্যক্রমকে বুঝায়;
উপধারা-(৮)'সমবায়সমিতি'বলিতে ১৯১২ সালের সমবায় সমিতি আইন বা ১৯৪০ সালের বঙ্গীয় সমবায় সমিতিআইন মোতাবেক রেজিস্ট্রিকৃত বা রেজিস্ট্রিকত বলে গণ্য একটি সমিতিকে বুঝায়;
উপধারা-(৯)'রায়তীকৃষক'বা অধীনস্থ রায়তী কৃষক' বলিতে এমন রায়ত বা অধীনস্থ রায়তকে বুঝায় যেনিজ বা পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা বা চাকরদের দ্বারা বা বর্গাদারদের দ্বারাবা ভাড়াটে শ্রমিকদের দ্বারা বা সহ-অংশীদারদের দ্বারা চাষের নিমিত্ত ভূমিঅধিকারে রাখে;
উপধারা-()-'পরিত্যাক্তচা বাগান'অর্থ একক ব্যবস্থাপনার অধীনে রাখা ভূমির যে কোনো খণ্ড বা খণ্ডেরসমষ্টি যা চা-এর চাষ বা চা উত্‍পাদনের নিমিত্ত দখল, বন্দোবস্ত অথবা ইজারাদেওয়া হইয়াছিল বা যার মধ্যে চা গাছের ঝোপ ছিল বা আছে এবং যা সরকার কতৃর্কপ্রদত্ত নোটিশের মাধ্যমে পরিত্যক্ত চা বাগান হিসেবে ঘোষিত হয়েছে এবং উক্তভূমির উপর নির্মিত দালান কোঠাও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে।
শর্ত থাকে যে, কোনো ভূমির একটি খণ্ড বা খণ্ডগুলিকে পরিত্যক্ত বা চা বাগান হিসেবে ঘোষণা প্রদানকালে সরকার বিবেচনা করিতে পারেন-
(i)পূর্ববর্তীপাঁচ বছরে ঐরূপ ভূমির কমপক্ষে ১৫ শতাংশ পরিমাণ এলাকায় চা-এর আবাদ করাহয়েছে;(ii) পূর্ববর্তী সাত বছরের অধিককাল এবং যে এলাকায় চা-এর আবাদ করাহয়েছে বিগত ৩ বছরে তার একর প্রতি উত্‍পাদন সেই সময় বাংলাদেশে চা আবাদকারীসমস্ত এলাকার একর প্রতি গড় উত্‍পাদনের শতকরা ২৫ ভাগের কম কি না সে বিষয়ে চাবোর্ডের মতামত;

উপধারা-(-) ভূমিরেকর্ড ও জরিপ পরিচালক' শব্দসমুহ ভূমি রেকর্ড এবংজরিপের অতিরিক্ত পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করে।

উপধারা-(১০)'দায়দায়িত্ব' শব্দটি কোনো জমিদারী, রায়তীস্বত্ব, হোল্ডিং, প্রজাস্বত্ব বাভূমিসম্পর্কে ব্যবহৃত হয় যার দ্বারা উক্ত জমিদারী, রায়তীস্বত্ব,হোল্ডিং, প্রজাস্বত্ববা ভূমির উপরে দখলদার কতৃর্ক সৃষ্ট কোনো রেহেন, দায়, পূর্বদায়, অধীনস্থপ্রজাস্বত্ব, ইজমেন্ট বা অপরাপর অধিকার বা স্বার্থ কিংবাঐগুলিতে নিহিত তার নিজস্বস্বার্থের উপর সীমাবদ্ধতা অারোপ করে তাকে বুঝায়।

উপধারা-(১১)'এস্টেট'অর্থঅাপাতত বলবত্‍ অাইন অনুসারে একটিজেলার কালেক্টর কতৃর্ক প্রস্তুতকৃত ওরক্ষিত রাজস্ব প্রদানকারী জমি ওরাজস্বমুক্ত জমির সাধারণ রেজিস্টারগুলিরকোনো একটিতে অন্তর্ভুক্ত জমি এবং সরকারীসরকারী খাস মহল সমুহ ওরাজস্বমুক্ত জমি যাহা রেজিস্টার অন্তর্ভুক্ত হয় নাই এবংসিরেট জেলারনিম্নলিখিত জমিও ইহার অন্তর্ভুক্ত -

(i)যে জমির জন্য অনতিবিলম্বে বা ভবিষ্যতে ভূমি রাজস্ব প্রদান করিতে হইবে যাহার জন্যএকটি পৃথক চুক্তি সম্পাদন করা হইয়াছে;

(ii)যে জমির জন্য ভূমি রাজস্ব হিসাবে পৃথক একটি অংশ প্রদান করিতে হইবেকিংবা নিম্নরুপকরা হইয়াছে অথচ সেই অর্থের জন্য সরকারের সহিত কোনো চুক্তিসম্পাদিত হয় নাই;

(iii) এরূপ ভূমি যেগুলি সামাজিকভাবে ডেপুটি কমিশনারের রাজস্বমুক্তএস্টেটের রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি;(iv)এরূপ ভূমি যেগুলিসম্পূর্ণরূপে সরকারী সম্পত্তি হিসেবে ১৮৮৬ সালের আসাম ভূমি ও রাজস্বরেগুলেশনের ৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক প্রস্তুতকৃত রাজস্বভূক্ত বা রাজস্বমুক্তএস্টেটের সাধারণ রেজিস্টারে পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে;
উপধারা-(১২)'হাট' বা 'বাজার'অর্থ সেই স্থান যে স্থানে লোকেরা সপ্তাহের প্রতিদিন বা বিশেষদিনে প্রধানতঃ কৃষিপণ্য বা সবজি, গবাদিপশু, পশুর চামড়া, হাস-মুরগী, মাছ-মাংস,ডিম, দুধ, দুগ্ধজাত সামগ্রী বা অন্যান্য খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য বাদৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্য বেচাকেনার জন্য সমবেত হয়; ঐস্থানে অবস্থিত ঐ সকল জিনিসের দোকানপাটও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৩)'হোল্ডিংবা জোত'অর্থ ভূমির একটি খণ্ড অথবা খণ্ডসমূহ বা তার একটি অবিভক্ত অংশ যাকোনো রায়ত বা অধীনস্থ রায়ত কর্তৃক অধিকৃত এবং যা কোনো পৃথক প্রজাস্বত্বেরবিষয়বস্তু;
উপধারা-(১৪)'বসতবাটি'বলিতেবাসগৃহ ও তার আওতাভূক্ত ভূমি সেই সঙ্গে এ ধরনের বাসগৃহ সংলগ্ন বাসংশ্লিষ্ট কোনো আঙ্গিনা, বাগান, পুকুর,প্রার্থনার জায়গা, ব্যক্তিগতগোরস্থান বা শ্নশানঘাটকে বুঝায় এবং তা অন্তর্ভুক্ত করে বাসগৃহের সুবিধাভোগের উদ্দেশ্যে বা কৃষি বা সবজি চাষের সঙ্গে সংযুক্ত বহির্বাটিকে বাসুনির্দিষ্ট সীমানার মধ্যকার ভূমিকে তা পতিত হোক বা না হোক;
উপধারা-(১৫)কোনোব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট 'খাস ভূমি' বা 'খাস দখলীয় ভূমি'বলিতে চিরস্থায়ীবন্দোবস্ত ব্যতীত ইজারাভূক্ত ভূমি, ঐ ভূমিতে দণ্ডায়মান ভবন ও প্রয়োজনীয়সংলগ্ন স্থানও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৬)'ভূমি'বলিতেসেই রকমের ভূমিকে বুঝায় যেগুলি আবাদ করা হয় বা চাষাবাদ না করে ফেলিয়া রাখাহয় বা বছরের যে কোনো সময় জলে ভরা থাকে; এই ভূমি হইতে উদ্ভুত সুবিধা, ঘর-বাড়ি, দালানকোঠা এবং মাটির সাথে সংযুক্ত যে কোনোবস্তুর সঙ্গেস্থায়ীভাবে সংযুক্ত যে কোনো বস্তুও এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৬-ক)সাময়িকভাবেবলবত্‍ যে কোনো আইনে বা কোনো চুক্তিতে বা কোনো আদালতের রায় বা ডিক্রিআদেশে যাই থাকুক না কেন (১৬) উপধারায় বর্ণিত ভূমির সংজ্ঞার মধ্যে সকল রকমেরউন্মুক্ত বা বদ্ধ মত্‍স্য খামার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৭)'অকৃষিপ্রজা'অর্থ একজন প্রজা যে কৃষি চাষ বা ফলচাষের সাথে সম্পর্কিত নয় এরূপভূমির অধিকারী থাকে; তবে যে ব্যক্তি চিরস্থায়ী ইজারা ব্যতীত অন্য কোনোপ্রকার ইজারাসূত্রে ভূমি ও তার উপর নির্মিত দালান ও প্রয়োজনীয় সংলগ্ন জায়গাঅধিকারে রাখে সে তার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
উপধারা-(১৮)'নোটিফিকেশন' অর্থ সরকারী গেজেটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি,
উপধারা-(১৮-ক)'ফলবাগান'বলিতে মানুষের প্রচেষ্টায় সৃষ্ট ফল গাছের বাগানকে বুঝায়, নারিকেল, সুপারি ও আনারসের এর অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(১৯)'নির্ধারিত'অর্থ এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি দ্বারা কোনো কিছু নির্দিষ্ট করে দেয়া;
উপধারা-(২০)'স্বত্বাধিকারী'বলতেএমন কোনো ব্যক্তিকে বুঝায় যে অছি-এর মাধ্যমে বা তার নিজের কল্যাণে কোনোএস্টেট বা তার অংশ বিশেশের মালিকানার অধিকারী থাকে;
উপধারা-(২১)'রেজিস্ট্রিকৃত' অর্থ কোনো দলিল রেজিস্ট্রিকরণের জন্য সাময়িকভাবে বলবত্‍ আইনের অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত;
উপধারা-(২২)'খাজনা'বলিতেপ্রজা কতৃর্ক ভূমি ব্যবহার বা দখলে রাখার নিমিত্ত আইনানুগভাবে ভূ-স্বামীকেপরিশোধযোগ্য বা অর্পণযোগ্য কোনো নগদ অর্থ বা দ্রব্যসামগ্রীকে বুঝায়;
উপধারা-(২৩)'খাজনা গ্রহীতা'অর্থ একজন স্বত্বাধিকারী বা রায়তিস্বত্বের অধিকারী ও সেইসঙ্গে একজন রায়ত,একজন অধীনস্থ রায়ত বা একজন অকৃষি প্রজা যাহার ভূমি ইজারাপ্রদান করা হয়েছে ও তত্‍সহ সেবা কার্য প্রদান করার বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিকেনিষ্কর ভূমি প্রদানকারী উপরস্থ মালিক এর অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু চিরস্থায়ীব্যতীত অন্য প্রকারে যে ব্যক্তি তার এরূপ অকৃষি ভূমি ও এর উপরের কোনোদালান ও তত্‍সংলগ্ন প্রয়োজনীয় জায়গা স্থায়ীভাবে ইজারা প্রদান করিয়াছে সে এইসংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নহে;
উপধারা-(২৪)'রাজস্বঅফিসার'বলিতে এই আইন মোতাবেক বা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধি অনুসারে একজনরাজস্ব কর্মকর্তার সকল কার্য বা যে কোনো কার্য সম্পাদন করিবার উদ্দেশ্যেসরকার কতৃর্ক নিযুক্ত কোনো অফিসার রাজস্ব অফিসার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হইবে;
উপধারা-(২৫)'স্বাক্ষরিত'বলিতেঅন্তর্ভুক্ত যে ক্ষেত্রে স্বীয় নাম লিখিতে অক্ষম কোনো ব্যক্তি চিহ্নটিপ্রদান করে; উক্ত ব্যক্তির নামও স্বাক্ষরিত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত;
উপধারা-(২৬)উত্তরাধিকার'বলিতে উইল ছাড়া বা উইলের মাধ্যমে প্রদত্ত উভয়বিধ উত্তরাধিকার অন্তর্ভুক্ত হয়;
উপধারা-(২৭)'প্রজা'বলিতেএমন ব্যক্তিকে বুঝায় যে অপরের ভূমি দখল করিয়া আছে ও বিশেষ চুক্তিরঅবর্তমানে উক্ত ভূমির জন্য উক্ত ব্যক্তিকে খাজনা দিতে বাধ্য থাকেঃ
শর্তথাকে যে, কোনো ব্যক্তি যদি সাধারণভাবে প্রচলিত আধিবাবর্গা চাষী বা ভোগব্যবস্থাধীনে অপরের ভূমি এই শর্তে চাষাবাদ করে যে উক্ত ব্যক্তিকে সেউত্‍পন্ন ফসলের একটি অংশ প্রদান করিবে তবে সে প্রজা নহে,কিন্তু উক্তব্যক্তি প্রজা হিসেবে গণ্য হইবে;
উক্ত ব্যক্তিকে যদি তার ভূ-স্বামীকতৃর্ক সম্পাদিত বা তার অনুকূলে সম্পাদিত ও ভূমির মালিক কর্তৃক গৃহীত কোনোদলিলের মাধ্যমে একজন প্রজা হিসেবে প্রত্যক্ষভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়; দেওয়ানী আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে যদি প্রজা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছেকিংবা হয়;
উপধারা-(২৮)'মধ্যস্বত্ব'অর্থ মধ্যস্বত্বের অধিকারী বা অধীনস্থ মধ্যস্বত্বের অধিকারীর স্বার্থ;
উপধারা-(২৯)'গ্রাম'বলিতেসরকার কর্তৃক বা সরকারের কতৃর্ত্বাধীনে পরিচালিত জরীপে সুনির্দিষ্ট এবংপৃথক গ্রাম হিসেবে সীমানা চিহ্নিত ও জরিপকৃত এবং রেকর্ডভূক্ত এলাকাতে বুঝায়এবং যেখানে এ ধরনের কোনো জরিপ করা হয়নি সেখানে কালেক্টর রাজস্ব বোর্ডেরঅনুমোদনক্রমে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ জারির মাধ্যমে ঐ এলাকাতে গ্রাম ঘোষণাকরতে পারেন;
উপধারা-(৩০)বত্‍সর বা কৃষি বত্‍সর বলিতে পহেলা বৈশাখে শুরু বাংলা সনকে বুঝাইবে;
উপধারা-(৩১)যেসমস্ত শব্দ বা বর্ণনা এই আইনের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ খণ্ডেব্যবহৃত হয়েছে কিন্তু এই আইনে যেগুলির ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি এবং বঙ্গীয়প্রজস্বত্ব আইন, ১৮৮৫ বা সিলেট প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৩৬ এ ব্যবহৃত হয়েছে ঐসমস্ত শব্দ ও বর্ণনার অর্থ যে ভাবে ঐ আইনসমূহে দেয়া হয়েছে সেগুলি ঐ আইন যেএলাকায় প্রযোজ্য সেই এলাকা সমূহে একই অর্থ বুঝাইবে।
ধারা-২ক(অব্যাহতি)

সরকার জনস্বার্থে কোনো জমিতে বা বিভিন্ন শ্রেণীর জমিতে নিহিত স্থানীয়কতৃর্পক্ষের স্বার্থকে এই আইন অনুসারে অর্জন করা হইতে সাধারণ বা বিশেষ আদেশদ্বারা অব্যাহতি দিতে পারিবেন।
দ্বিতীয় খন্ড
দ্বিতীয় অধ্যায়
কতিপয়খাজনা গ্রহীতার স্বার্থে অধিগ্রহণের নিমিত্ত বিশেষ বিধানাবলী

 

ধারা- (কতিপয়খাজনা গ্রহীতার স্বার্থ অধিগ্রহণ এবংউহার ফলাফল)
উপধারা-(১)এইআইন কার্যকর হওয়ার সময়ে সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমেবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ হইতে খাজনা প্রাপকের নিম্নবর্ণিত সম্পত্তিসরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা অাইনসংগতবলিয়াবিবেচিতহইবে-
(i)বিজ্ঞপ্তিতেউল্লেখিত কোনো জেলায় বা জেলার অংশে বা স্থানীয় এলাকায় অবস্থিত খাজনাপ্রাপকের এস্টেট, মধ্যস্বস্ত, জোত বা প্রজাস্বত্বে বিদ্যমান সকল স্বার্থ; এবং
(ii)১৮৭৯ সালের কোর্ট অব ওয়ার্ডস এ্যাক্টের অধীনে কোর্ট অবওয়ার্ডসের ব্যবস্থাধীনে পরিচালিত খাজনা প্রাপকের এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের অন্ত-ভূমিতে (land) এবং মাটির নীচেঅবস্থিত খনিতে বিদ্যমান সকল স্বার্থ এই অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত।
উপধারা-(২)এইআইনের ২০ ধারার (২), (৩), (৪), (৫) ও (৬) উপধারায় বর্ণিত ব্যতিক্রমসাপেক্ষে এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে বিদ্যমান খাজনাপ্রাপকের স্বার্থ সম্পর্কিত (১) উপধারা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার সাথেসাথে বা পরে যে কোনো সময় সরকারী গেজেটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিততারিখ হইতে যে সকল ভূমি খাজনা প্রাপক খাস দখলে রাখিতে পারিবে না তা সরকারঅধিগ্রহণ করিবে এবং ঐ সমস্ত সম্পত্তি দায়মুক্ত অবস্থায় চুড়ান্তরূপে সরকারেরউপর বর্তাইবে।
উপধারা-(২ক)এইধারা মোতাবেক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে খাজনা প্রাপকের নাম নির্দিষ্ট উল্লেখথাকিবে বা যে এলাকায় তার স্বার্থ বিদ্যমান আছে তা উল্লেখ থাকিবে বা সরকারকর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো নিয়মে বর্ণিত থাকিবে।
উপধারা-(৩)উপধারা (১) ও (২) এ উল্লেখিত বিজ্ঞপ্তির আকার ঐরূপ হইবে ও বিবরণী ঐরূপ থাকিবে যা নিরূপন বা নির্ধারণ করা যাইবে।
উপধারা-(৪)উপধারা (১) অনুযায়ী প্রচলিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ হইতে-
(ক)বিজ্ঞপ্তিতেউল্লেখিত এস্টেট,তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত, প্রজাস্বত্বে নিহিত স্বার্থ, খাসদখলীয় সকল সম্পত্তিতে নিহিত স্বার্থ, ঐ সকল এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের অন্তঃভূমিতে এবং মাটির নীচে অবস্থিত খনিতে বিদ্যমানসমস্ত স্বার্থ ঐ সকল এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে খাজনাআদায়ের নিমিত্ত অফিস অথবা কাচারী হিসেবে ব্যবহৃত দালান অথবা দালানের অংশেবিদ্যমান খাজনা প্রাপকের স্বার্থ দায়হীনভাবে সরকারের উপর চুড়ান্তরূপেবর্তাইবে।
শর্ত থাকে যে, এই দফায় উল্লেখিত কোনো কিছুই সংশ্লিষ্ট খাজনা প্রাপকের বসতবাড়ীতে অবস্থিত দালানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
(খ)উপধারা(১) অনুযায়ী স্বার্থ অধিগ্রহণের নিমিত্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে যেসমস্ত বকেয়া খাজনা, সেস ও ঐগুলির সুদ বৈধভাবে খাজনা প্রাপকের নিকটকালেক্টরের পাওনা ছিল সেগুলি আদায়যোগ্য হইবে ও আদায়ের অন্যান্য উপায়েরবিপরীত কোনো কাজ না করিয়া ৫৮ ধারা মোতাবেক যখন কালেক্টরের আদেশে তাহাকেক্ষতিপূরণ প্রদান করা হইবে।তখন ক্ষতিপূরণের অর্থ হইতে বকেয়া খাজনা, সে এবংঐগুলির সুদ বাবদ প্রাপ্য অর্থ কাটিয়া নেয়া হইবে।
(গ)উপধারা(১) অনুযায়ী স্বার্থ অধিগ্রহণের নিমিত্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে যে সকলবকেয়া খাজনা, সেস এবং ঐগুলির সুদ খাজনা প্রাপকের প্রাপ্য ছিল তা উক্ততারিখে তামাদি হইয়া না গিয়ানা থাকাকালে সরকার কর্তৃক আদায়যোগ্য বলিয়া গণ্যহইবে এবং আদায়ের অন্যান্য উপায়ের বিপরীত কোনো কাজ না করিয়া ৫৮ ধারামোতাবেক কালেক্টরের আদেশে যে ব্যক্তির উক্তঅর্থপাওনাছিল তাহাকে যখনক্ষতিপূরণ (যদি পাওনাথাকে), প্রদান করা হইবে তখন তা হতে বকেয়া খাজনা, সেসএবং ঐগুলির সুদ বাবদ প্রাপ্য অর্থ কাটিয়ালওয়া হইবে।(ঘ)উপধারা(১) অনুযায়ী স্বার্থ অধিগ্রহলের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে ১৮৮২সালের বেঙ্গল ইমব্যাংকমেন্ট এ্যাক্ট বা ১৯৫২ সালের ইস্ট বেঙ্গলইমব্যাংকমেন্ট এন্ড ড্রেইনেজ এ্যাক্ট মোতাবেক খাজনা প্রাপকের নিকট যদিকোনো বকেয়া অর্থ অথবা ভবিষ্যতের কিস্তি পাওনা থাকে তাহলে আদায়ের অন্যান্যউপায়ের বিপরীত কোনো কাজ না করিয়া ৫৮ ধারা মোতাবেক যখন কালেক্টরের আদেশেতাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হইবে তখন ক্ষতিপূরণের অর্থ হতে উক্ত বকেয়া অর্থএবং ভবিষ্যতের কিস্তির অর্থ কেটে নেয়া হবে।
(ঘঘ)উপধারা(১) অনুযায়ী স্বার্থ অধিগ্রহণের নিমিত্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখে ১৯৪৪সালের বঙ্গীয় কৃষি আয়কর আইন মোতাবেক যদি খাজনা প্রাপকের নিকট কোনো বকেয়াকৃষি আয়কর সরকারের পাওনা থাকে তবে আদায়ের অন্যান্য উপারের বিপরীত কোন কাজনা করিয়া ৫৮ ধারা মোতাবেক যখন কালেক্টরের আদেশে তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করাহইবে তখন ক্ষতিপূরণের অর্থ হতে উক্ত বকেয়া কাটিয়া রাখা হইবে।
(ঙ)এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের ভূমি যে সমস্ত প্রজা (১) উপধারারবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত খাজনা প্রাপকের প্রত্যক্ষ অধীনে রক্ষণাবেক্ষণ করিততাহারা প্রত্যক্ষভাবে সরকারের প্রজা বলিয়া গণ্য হইবে এবং খাজনা প্রদানযোগ্যভূমি অধিকারে অথবা দখলে রাখার নিমিত্তে প্রচলিত হারে সরকারকে খাজনাখাজনাপ্রদানকরিবে,অপর কোনো ব্যক্তিকে নহে।
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে১৯৫৭ সালের পূর্ব বঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব (সংশোধনী)অধ্যাদেশ বলবত্‍ হওয়ার পূর্বে ৪৩ ধারার (২) উপধারা মোতাবেক এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে নিহিত খাজনা প্রাপকের স্বার্থের ক্ষতিপূরণনির্ধারণের বিবরণী চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হইয়াছে বলিয়া কোনো বিজ্ঞপ্তিপ্রকাশ করা হয়নি সেক্ষেত্রে এ সমস্ত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বাপ্রজাস্বত্বের অধিকারী খাজনা প্রাপকের সরাসরি অধীনস্থ প্রজা ঐ সমস্ত ভূমিখাজনামুক্ত ভূমি ছাড়া অধিকারে রাখার জন্য ১৯ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ীচুড়ান্তভাবে প্রকাশিত ও ৫৩ ধারা অনুযায়ী সংশোধনকৃত স্বত্বলিপিতে নির্ধারিতহারে খাজনা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
(চ)উপধারা(২) অনুযায়ী যে সকল খাসভূমি অধিগ্রহণ করা হয়নি সেই সমস্ত ভূমি খাজনাপ্রাপকগণ সরকারের প্রত্যক্ষ প্রজা হিসেবে দখলে রাখার অধিকারী হইবে এবং ৫ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত খাজনা সরকারকে প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
(চচ)সিলেটজেলা ছাড়া অপরাপর জেলার ক্ষেত্রে ১৯ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ী স্বত্বলিপিচুড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত বা ৫ ধারা অনুযায়ী খাজনা নির্ধারিতনা হওয়া পর্যন্ত (ঙ) দফার শর্তে ও (চ) দফায় বর্ণিত প্রজাগণ ৪র্থ অধ্যায় মতেপ্রণয়নকৃত বিধি অনুযযায়ী প্রাথমিক খাজনার বিবরণীতে প্রদর্শিত হারে সরকারকেখাজনা প্রদানকরিবে।সিলেট জেলার ক্ষেত্রে (ঙ) দফার শর্তে উল্লেখিত প্রজাগণ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইন বা ১৯৮৬ সালের আসাম ল্যান্ড এ্যান্ডরেভিনিউ রেগুলেশন বা ১৯৫০ সালের বঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্বআইন মোতাবেক সত্যায়িত খসড়া স্বত্বলিপির উপর ভিত্তি করে প্রণয়নকৃত সাময়িকখাজনার বিপরীতে প্রদর্শিত হারে সরকারকে খাজনা দিতে হইবে এবং (চ) দফায়বর্ণিত প্রজাগণকে ৫ ধারা ও তদনুযায়ী প্রণীত বিধি অনুসারে নির্ধারিত হারেসরকারকে খাজনা প্রদানকরিতে হইবে।
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ১৯ ধারার (৩)উপধারা অনুযায়ী চুড়ান্ত ভাবে প্রকাশিত স্বত্বলিপিতে হ্রাসকৃত হারে বাবির্ধিত হারে উক্ত খাজনা দেখানো হয় বা ৫ ধারা অনুযায়ী হ্রাসকৃত হারে বাবর্ধিত হারে নির্ধারিত হয় বা ৫৩ ধারা অনুযায়ী উক্ত খাজনার পরিমাণ হ্রাসকিংবা বৃদ্ধি পায় সেক্ষেত্রে উক্ত প্রজার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ হইতেপূর্বে দেয়া খাজনার পরিমাণ কম হইলে নির্ধারিত খাজনার বাকী অংশ দিতে বাধ্যথাকিবে এবং বেশী হলে অতিরিক্ত খাজনা ভবিষ্যতে প্রদত্ত খাজনার সাথে সমন্বয়সাধন করার অধিকারী হইবে।
(ছ)দফা (ঙ), (চ) ও (চচ) এ উল্লেখিত বকেয়া খাজনা আদায় করার জন্য উপায়ের বিপরীত কোনোকাজ না করিয়া ১৯১৩ সালের বঙ্গীয় সরকারী দাবি আদায় আইন মোতাবেক আদায়যোগ্যহইবে।(জ)দফা (ঙ) অনুযায়ী যে সকলমধ্যস্বত্ব সম্পূর্ণরূপে ও প্রত্যক্ষভাবে সরকারের অধীনে স্থানান্তরিতহইয়াছে তা ১৯৬৮ সালের বঙ্গীয় ভূমি রাজস্ব বিক্রয় আইন-এর ১ ধারা অনুসারেপ্রদত্ত মধ্যস্বত্বের সংজ্ঞার ধারার একই অর্থ বুঝাইবে।
উপধারা-(-ক)আপাততঃবলবত্‍ অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ কিছুথাকাসত্ত্বেও সিলেট জেলার ক্ষেত্রেপ্রযোজ্য (৪) উপধারার (ঙ), (চ) এবং (চচ) দফা মোতাবেক প্রদত্ত বকেয়া খাজনাআদায় করিবার ক্ষেত্রে তামাদি হওয়ার সময়সীমা খাজনা গ্রহণের স্বার্থঅধিগ্রহণের তারিখ হইতে ২৪ মাস বাদদিয়গণনা করিতেহইবে।
উপধারা-(৫)বিদায়ী খাজনা প্রাপকরা যাদের স্বার্থ এই ধারা মোতাবেক অধিগ্রহণ করা হইয়াছে তাহারা এই আইনে উল্লেখিত ক্ষতিপূরণ লাভের অধিকারী হইবে।
ধারা-৩ক(বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে বিবরণী দাখিলের নিমিত্ত নোটিশ)

 ৩ ধারা অনুযায়ী এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্ব বা খাস দখলীয় ভূমিতেবিদ্যমান খাজনা প্রাপকের স্বার্থ অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে রাজস্ব অফিসার উক্তধারার (১) উপধারা বা (২) উপধারা মোতাবেক উক্ত স্বার্থ অথবা ভূমি সম্পর্কিতবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পূর্বে যে কোনো সময়ে নির্ধারিত উপায়ে খাজনাপ্রাপকের উপর নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে নোটিশ জারির ষাট দিনের কম নহে এমননির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত ফরমে নোটিশে নির্দেশিতভাবে নিম্নলিখিত সকল অথবাযে কোনো তথ্য সংবলিত একটি বিবরণী দাখিল করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতেপারেন।
(i)খাজনা প্রাপক কর্তৃক অধিকৃত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত ওপ্রজাস্বত্বের মোট পরিমাণ এবং বর্ণনা ও বার্ষিক রাজস্ব খাজনা ও সেসসমূহযাহা সে তাহার ভূমির তাত্‍ক্ষণিক উপরস্থ ভূমির ভূমি মালিককে বা সরকারকেক্ষেত্র ভেদে প্রদান করিত তাহার বিবরণ;(ii)যে গ্রাম, থানা এবং জেলায়এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত ও প্রজাস্বত্বের ভূমি অবস্থিত তাহার নাম ওসেই সঙ্গে তাত্‍ক্ষণিক পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের অধিক নহে সময়ের জন্য ব্যবহৃতখাজনা আদায়ের কাগজপত্রের তালিকা;(iii)খাজনা প্রাপকের খাস দখলীয় সকল ভূমি যেগ্রাম এবং যে থানায় অবস্থিত তাহার নামসহ ভূমির পরিমাণ, বর্ণনা ওশ্রেণীবিন্যাস;(iv)উক্ত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত ও প্রজাস্বত্বেরঅন্যান্যসহ অংশীদারগণ যাহারা যৌথভাবে খাজনা প্রাপকের সঙ্গে খাজনা আদায়করিত তাহাদের নাম এবং নির্ধারিত অংশসমূহের বিবরণ; ও
(v) উক্তরূপ অন্যান্য বিবরণ যাহা রাজস্ব অফিসার প্রয়োজন মনে করেন।


ধারা-(বিবরণী দাখিলের নিমিত্ত নোটিশ প্রদান ও নির্দেশ পালন না করার জন্য দন্ড)
উপধারা-(১): ৩(১) ধারা মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর যতশীঘ্র সম্ভব রাজস্ব অফিসারনির্ধারিত পন্থায় খাজনা প্রাপক যাহার সম্পত্তি কোর্ট অব ওয়ার্ডসআইন ১৮৭৯মোতাবেক কোর্ট অব ওয়ার্ডস এর পরিচালনাধীন রহিয়াছে সেছাড়া বিজ্ঞপ্তিতেউল্লেখিত প্রত্যেক খাজনা প্রাপককে নোটিশ জারির মাধ্যমে দাখিল করার নিমিত্তনির্দেশ দিতে পারেন-
(ক)নির্ধারিত ফরমে একটি বিবরণী যাতে দেখাতে হবে-
(i)উক্ত বিজ্ঞপ্তি দ্বারা যে সকল এস্টেট, তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বাপ্রজাস্বত্বে তার স্বার্থ অধিগ্রহণ করা হয়েছে তার মোট পরিমাণ ও বর্ণনা এবংসেগুলির বার্ষিক খাজনা ও সেস, যা সে ভূমির উপরস্থ ভূ-স্বামী অথবাসরকারকে,ক্ষেত্র ভেদে প্রদান করত তার বর্ণনা;(ii)যে গ্রাম, থানা ও জেলায়এস্টেট, তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের ভূমি অবস্থিত তাহার নামএবং প্রত্যেক গ্রামের খাজনা ও সেস, কর বাবদ মোট বার্ষিক দাবির পরিমাণ ওদাবির সমর্থনেদাবীআদায়ের কাগজপত্রের তালিকা।
(iii)তার খাস দখলীয় ভূমিরপরিমাণ এবং বর্ণনা;(iv)উক্ত এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্বের খাজনাগ্রহীতার সাথে যৌথভাবে খাজনা আদায়কারীর সহ-অংশীদারদের নাম ও নির্ধারিতঅংশসমূহ; এবং
(খ)রাজস্ব অফিসারেরপ্রয়োজন অনুযায়ী অপরাপর বিবরণ, কাগজপত্র বা দলিলপত্র এবং নোটিশে উল্লখিতঅফিসারের নিকট নোটিশ জারির ষাট দিনের কম নহেএরূপ সময়ে উক্ত এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক সেরেস্তার সমস্ত কাগজপত্র;
শর্ত থাকে যে, ৩কধারা মোতাবেক নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে যে সমস্ত বিবরণ দাখিল করা হয়েছে তাহাসঠিকভাবে প্রদত্ত হইয়াছেবলিয়া রাজস্ব অফিসার মনে করিলে খাজনা প্রাপককে আরবিবরণী দাখিল করিতে হইবে না।
উপধারা-(২):উপধারা (১) এ বর্ণিত কাগজপত্র যে অফিসার গ্রহণ করিবেন তিনি হস্তান্তরিত কাগজপত্রের জন্য রশিদ প্রদান করবেন ।
উপধারা-(৩):যৌথভাবেআদায়কারী সকল সহ-অংশীদার যৌথভাবে অধিকৃত এস্টেট, তালুক,মধ্যস্বত্ব, জোতবা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক এই ধারার (১) উপধারা অথবা ৩ক ধারা মোতাবেক নোটিশেপ্রদত্ত নির্দেশসমূহ পালন করিবার নিমিত্তে যৌথ ও এককভাবে দায়ী থাকিবে।
উপধারা-(৪):এইধারার (১) উপধারা অথবা ৩ক ধারা মোতাবেক যাহার উপর নোটিশ দেয়া হইয়াছে সেইব্যক্তি যদি নোটিশে উল্লেখিত সময় বা রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তাহারস্বেচ্ছামূলক ক্ষমতাবলে মঞ্জুরীকৃত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে উক্তনোটিশে উল্লেখিত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক সকলবা কোনো নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হইয়াথাকে, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য পরিবেশনকরে বা কোনো তথ্য, কাগজপত্র বা দলিল গোপন করিয়াথাকেতবে-
(ক)সেই ব্যক্তি শুনানীর সুযোগ অন্তে রাজস্ব অফিসার কর্তৃক ধার্যকৃত জরিমানার দায়ে দায়ী হইবেন, যাহা-
(i)রাজস্ব প্রদানের আওতাভুক্ত এস্টেটের বা খাজনা প্রদানের আওতাভুক্ততালুক,রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের ক্ষেত্রে এস্টেটের বার্ষিক রাজস্ববা তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের বার্ষিক খাজনার পাঁচগুণ,অবস্থাভেদে বর্ধিত হইতে পারে; এবং
(ii)রাজস্বমুক্ত এস্টেটের বাখাজনামুক্ত তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের ক্ষেত্রে রাজস্বঅফিসার তার স্বেচ্ছামূলক ক্ষমতাবলে ২,৫০০/- টাকার বেশী নয় এরূপ যে কোনোপরিমাণ অর্থ পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারেন।
(খ)এতদ্ব্যতীত রাজস্ব অফিসার কর্তৃক নিদেশিত হইলে সে ৬ ধারা মোতাবেক প্রদত্ত অন্তবর্তীকালীন আর্থিক সুবিধা হইতে বঞ্চিত হইতে পারে।
উপধারা-(৫):(i)উপধারা(১) মোতাবেক যার উপর নোটিশ জারি করা হইয়াছে সেই খাজনা প্রাপক নোটিশেউল্লেখিত সময়ের মধ্যে বা রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তাহার স্বেচ্ছামূলক ক্ষমতাপ্রয়োগ দ্বারা মঞ্জুরীকৃত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে যদি নোটিশে উল্লেখিতনির্দেশ অনুযায়ী তাহার এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্ববিষয়ক সেরেস্তার কাগজপত্র হস্তান্তর করিতে ব্যর্থ হয়, তবে রাজস্ব অফিসার বাতত্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অপর কোনো ব্যক্তি প্রয়োজন মনে করিলে সহায়তাসহ যেকোনো ভূমিতে বা দালানকোঠায়, যেখানে ঐ সমস্ত কাগজপত্র পাওয়া যাইবে বলিয়ারাজস্ব অফিসারের বিশ্বাস করার কারণ রহিয়াছেসেখানেপ্রবেশ করিতে পারেন এবংউক্ত এস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্ব জোত বা প্রজাস্বত্ব ব্যবস্থাপনা করারনিমিত্ত যে সমস্ত কাগজপত্র দরকার বলিয়া তিনি বিবেচনা করিবেন সেই সমস্তকাগজপত্র জব্দ করিতে এবং দখলে লইতে পারেন;
শর্ত থাকে যে, রাজস্ব অফিসারঅথবা ঐরূপ অন্য কোনো ব্যক্তি দালান সংলগ্ন আবদ্ধ উঠান অথবা বাগানে উক্তউঠান বা বাগানের বাসিন্দা অথবা দখলকারীর সম্মতি ব্যতীত বা যদি উক্ত সম্মতিদিতে অস্বীকার করা হয় তবে উক্ত বাসিন্দা অথবা দখলকারীকে তাহার উদ্দেশ্যসম্বলিত লিখিত দুই ঘন্টার নোটিশ প্রদান ব্যতীত প্রবেশ করিবেন না;
আরওশর্ত থাকে যে, এই উপধারা মোতাবেক যে সমস্ত কাগজপত্র রাজস্ব অফিসার অথবা অপরকোনো ব্যক্তি কর্তৃক দখলে নেয়া হইবে তার একটি তালিকা রাজস্ব অফিসারসংশ্লিষ্ট খাজনা প্রাপককে প্রদান করিবেন।(ii)উপধারা (৪) এর বিধানের হানিকরকিছুনা করিয়াথাকিলেএ উপধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
উপধারা-(৬):খাজনাপ্রাপক যে এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্ব বিষয়ক সেরেস্তার কাগজপত্র(১) উপধারা মোতাবেক সরকারের কোনো অফিসারের নিকট হস্তান্তর করিয়াছে সে বাউক্ত এস্টেট, তালুক, জোত বা প্রজাস্বত্বের সঙ্গে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত পন্থায় উক্ত কাগজপত্র পরিদর্শন করার অধিকারী হইবে ওনির্ধারিত ফিস প্রদান করিয়া উক্ত কাগজপত্রের অনুলিপি পাওয়ারও অধিকারীহইবে।


ধারা-(খাজনা প্রাপকের খাস ভূমির খাজনা নির্ধারণ)

৩(১) ধারা মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর যথাশীঘ্র সম্ভব রাজস্বঅফিসার ২৩, ২৪, ২৫, ২৫ক, ২৬, ২৭ এবং ২৮ ধারায় বর্ণিত নীতিসমূহ মোতাবেকবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ও বিজ্ঞপ্তির সাথে সম্পর্কিত ভূ-সম্পত্তি,তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বসমূহে অবস্থিত সকল খাজনা প্রাপকগণের খাসদখলীয় প্রত্যেক ভূমি খন্ডের খাজনা নির্ধারণ করিবেন।
ধারা-(অন্তর্বর্তীকালীন পরিশোধ)

উপধারা-(১):৩ধারার (১) উপধারার অধীনে কোনো ভূ-সম্পত্তি, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বাপ্রজাস্বত্বে কোনো খাজনা প্রাপকের স্বার্থসমূহ অধিগ্রহণ করা হইলে সেবিজ্ঞপ্তির তারিখ হইতে নির্ধারিত সময় ও নির্ধারিত পন্থায় তার ঐরূপস্বার্থের জন্য তাহার ভূ-সম্পত্তি, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বাপ্রজাস্বত্বসমূহ যাই হোক ইহাতে খাজনা ও সেস বাবদ বার্ষিক যে আয় হইত সেতাহার এক তৃতীয়াংশ পাবে।
উপধারা-(২):কোনোখাজনা প্রাপক যাহার খাস ভূমি ৩ ধারার (২) উপধারা মোতাবেক অধিগ্রহণ করাহইয়াছে সে বিজ্ঞপ্তির তারিখ হইতে নির্ধারিত সময় ও পন্থায় ৩৯ ধারার (১)উপধারায় যে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্ত হইবে তাহার ৫% অর্থ বার্ষিক অন্তর্বর্তীকালীনপাওনা হিসেবে পাওয়ার অধিকারী হইবে এবং ঐ ক্ষতিপূরণের টাকা নির্ধারণের জন্যঐরূপ ভূমির বাবদ ৩৯ ধারার (২) (৩) ও (৪) উপধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
উপধারা-(৩):উপধারা(১) এর উদ্দেশ্যে কোনো ভূ-সম্পত্তি, তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বাপ্রজাস্বত্বের কোনো বছরের প্রকৃত আয় নিরূপণ করার সময় উক্তভূ-সম্পত্তি,তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্ব হইতে সরকার ৩ ধারার (২)উপধারায় অধিগ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে খাজনা ও সেস বাবদ যে স্থূল বামোটঅংকেরটাকা আদায় করিয়াছেন তাহা হইতে নিম্নলিখিত অর্থসমূহ বাদ দেয়া হইবে-
(i)বিজ্ঞপ্তির তারিখের অব্যবহিত পূর্বে সরকার বা উপরস্থ ভূ-স্বামীকে ঐ সকলস্বার্থের জন্য বার্ষিক রাজস্ব বা খাজনা এবং সেস হিসেবে যে পরিমাণ অর্থপ্রদান করার নিমিত্ত নির্ধারণ করা হইত বাহয়সেই পরিমাণ সেই পরিমাণঅর্থ;(ii)যেখানে ৩ ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইত না সেক্ষেত্রে বঙ্গীয় কৃষিআয়কর আইন ১৯৪৪ বা আয়কর আইন ১৯২২ মোতাবেক ঐ আদায়ের উপর যে পরিমাণ খাজনাধার্য করা হইত তার গড় হারের সমপরিমাণ অর্থ;(iii)বিদায়ী খাজনা প্রাপক যদিআইনানুগভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে বাধ্য থাকিত তবে উক্ত ভূ-সম্পত্তি, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের সেচ অথবা রক্ষণমূলক কাজের রক্ষণাবেক্ষণেরজন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হ'ত, যদি থাকে,সেই পরিমাণ অর্থ; এবং
(iv)আদায় চার্জ বাবদ মোট আদায়ের শতকরা বিশ ভাগের বেশী নয় এরূপ পরিমাণ অর্থ।
ব্যাখ্যাঃএই উপধারায় গড় হার বলিতে বঙ্গীয় কৃষি আয়কর আইন, ১৯৪৪ বা আয়কর আইন, ১৯২২-এরবিধান মোতাবেক বিজ্ঞাপিত তারিখের পূর্বে শেষ বারের মত নির্ধরিত খাজনার গড়হারকে বুঝায়।
উপধারা-(৪)উপধারা(৩) এর অধীনে যে পরিমাণ অর্থ বাদ দেয়া হইবে তা নির্ধারণের জন্য রাজস্বঅফিসার সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধি দ্বারা পরিচালিত হইবেন।
উপধারা-(৪ক)উপধারা(১) (৩) এবং (৪) এ ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও সরকার নির্ধারিত সময়ে এবংপন্থায় ঐরূপ যে কোনোখাজনা প্রাপককে যে বছরের বাবদ (খ) উপধারা মোতাবেকঅন্তবর্তীকালীন অর্থ পাওনা ছিল কিন্তু উক্ত উপধারা মোতাবেক তাহা প্রদান করাহয়নি, উক্ত (১) উপধারায় উল্লেখিত অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ প্রদানের পরিবর্তে৩৫ বা ৩৬ ধারার অধীনে নির্ধারিত ৪২ ধারার অধীনে ক্ষতিপূরণ বিবরণীতে ৫৪ধারার অধীনে সংশোধন সাপেক্ষে চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত ঐরূপ স্বার্থের প্রকৃতআয়ের এক ষষ্ঠাংশ হারে নগদ অর্থ প্রদান করিতে পারিবেন।
উপধারা-(৫)এইধারার কোনো কিছুই ওয়াকফ,ওয়াকফ-আল আওলাদ, দেবোত্তর বা অপর কোনো অছিরঅধীনস্থ কোনো ভূ-সম্পত্তি, তালুক রায়তিস্বত্ব, জোত, প্রজাস্বত্ব বা ভূমিরক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
ধারা-৬ক(অছির অন্তর্ভুক্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ প্রদান)
উপধারা-(১)যেখাজনা প্রাপকের ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল আওলাদ, দেবোত্তর বা অপর কোনো অছির অধীনএস্টেট, তালুক,মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বে বিদ্যমান স্বার্থ ৩ ধারার(১) উপধারা মোতাবেক অধিগ্রহণ করা হইয়াছে সে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ হইতেনির্ধারিত সময়ে এবং নির্ধারিত নিয়মে উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কিত বার্ষিকঅন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সুবিধা হিসেবে নিম্নবর্ণিত নগদ অর্থ পাওয়ারঅধিকারী হইবে-
(i)এস্টেট, তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বেরপ্রকৃত আয়ের যতখানি ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা সংরক্ষণ ছাড়া দাতব্য এবংধর্মীয় উদ্দেশ্যে উত্‍সর্গ এবং প্রয়োগ করা হইয়াছে ততখানির সমকক্ষ বার্ষিকবৃত্তি;(ii)দফা (i)মোতাবেক বাষিক বৃত্তি বাদ দেয়ার পর উক্ত এস্টেট, তালুক, রায়তীস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের প্রকৃত আয়ের কোনো অংশ অতিরিক্ত থাকেসেই প্রকৃত আয়ের অংশ বাবদ ৩৭ ধারার (৩) উপধারা মোতাবেক যতখানি ক্ষতিপূরণপাওয়া যাইবে তার ৩% হারে নির্ধারিত অর্থ।
উপধারা-(২)উপধারা(১) এর দফা (i)এ উল্লেখিত বার্ষিক বৃত্তির পরিমাণ ৩৭ ধারার (৩) উপধারামোতাবেক স্থায়ী বার্ষিক বৃত্তি নির্ধারণের নিমিত্ত যে নিয়ম বর্ণিত আছে উক্তএকই পদ্ধতিতে তা নির্ধারিত হইবে এবং উক্ত অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে ৫৮(৪)উপধারা এবং ৫৯(৪) উপধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে।
উপধারা-(৩)উপধারা (১) এর (ii)দফার নিমিত্ত ৬ ধারার (৩) ও (৪) উপধারায় উল্লেখিত নিয়মে প্রকৃত আয় নির্ধারণ করা হইবে।
উপধারা-(৪)যেখাজনা প্রাপকের ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল আওলাদ, দেবোত্তর বা অপর কোনো অছির অধীনখাস ভূমি ৩ ধারার (২) উপধারা মোতাবেক অধিগ্রহণ করা হয়েছে সে বিজ্ঞপ্তিজারির তারিখ হইতে নির্ধারিত সময়ে এবং নির্ধারিত নিয়মে উক্ত সম্পত্তিসম্পর্কিত বার্ষিক অন্তর্বর্তীকালীন সুবিধা হিসেবে নিম্নলিখিত নগদ অর্থপাওয়ার অধিকারী হইবে-
(i)ভূমির আয়ের যতখানি ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধাসংরক্ষণ ছাড়া দাতব্য এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উত্‍সর্গ এবং প্রয়োগ করা হয়েছেততখানির সমপরিমাণ বার্ষিক বৃত্তি; এবং
(i) উক্ত ভূমির প্রকৃত আয়েরঅবশিষ্ট অংশ, যদি থাকে বাবদ ৩৯ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক যতখানি ক্ষতিপূরণপাওয়া যাবে তার ৩% হারে নির্ধারিত অর্থ এবং উক্ত অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রেউক্ত ধারার (২), (৩) ও (৪) উপধারার বিধানসমূহ প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষেপ্রযোজ্য হইবে।
উপধারা-(৫)উপধারা(৪) এর (i)দফায় উল্লেখিত বার্ষিক বৃত্তির পরিমাণ ৩৯ ধারার ১(ক) উপধারামোতাবেক স্থায়ী বার্ষিক বৃত্তি নির্ধারণের যে নিয়ম বর্ণিত আছে সেই নিয়মমোতাবেক নির্ধারিত হইবে এবং উক্ত অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে ৫৮ ধারার (৪)উপধারা এবং ৫৯ ধারার (৪) উপধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে।
ধারা-৭(আপিল)কোনোব্যক্তি যদি ৪ ধারার (৪) উপধারা অথবা ৫ ধারায় প্রদত্ত রাজস্ব অফিসারেরকোনো আদেশ দ্বারা ক্ষুব্ধ হন বা ৬ অথবা ৬ক ধারা মোতাবেক রাজস্ব অফিসারকর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন নির্ধারিত অর্থ প্রদানের আদেশ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থহন তবে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং নির্ধারিত উপায়ে নির্ধারিত উর্ধ্বতনরাজস্ব কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আপিল পেশ করিতে পারেন এবং উক্ত কর্তৃপক্ষেরসিদ্ধান্ত ও কেবল উক্ত সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে বর্ণিত এবং উপধারাসমূহের অধীনেপ্রদত্ত রাজস্ব অফিসারের উক্ত আদেশ চুড়ান্ত হইবে।
ধারা-(এই অধ্যায়ের অধীনে আরোপিত জরিমানা পরিশোধ ও আদায়)

এই অধ্যায়ের অধীনে কোনো ব্যক্তিকে জরিমানা করা হলে রাজস্ব অফিসার যেতারিখে জরিমানা করে আদেশ প্রদান করেন সে তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে বাযেক্ষেত্রে ঐরূপ আদেশের বিরুদ্ধে ৭ ধারা অনুযায়ী কোনো আপিলদায়ের করা হয়তবে উক্ত আপিল নিষ্পত্তির তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে নির্ধারিত উপায়ে তিনিতা পরিশোধ করিবেন এবং ঐরূপভাবে উক্ত জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাসরকারী দাবি আদায় আইন ১৯১৩-এর অধীনে সরকারী দাবি হিসেবে আদায়যোগ্য হইবে।
ধারা-(বাতিল)
ধারা-১০(অন্তর্বর্তীকালীন প্রাপ্য অর্থ ক্রোকমুক্ত)

১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি ও ১৯১৩ সালের সরকারী দাবি আদায় আইনেভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও ৬ ধারার (১) ও (২) উপধারা বা ৬ক ধারার (১) বা(৪) উপধারা মোতাবেক বিদায়ী খাজনা প্রাপক যে অন্তর্বর্তীকালীনঅর্থ প্রাপ্যহয় তা দেওয়ানী আদালতের কোনো ডিক্রী অথবা আদেশ অথবা সার্টিফিকেট জারি করারনিমিত্ত ক্রোক করা চলিবে না যদি না উক্ত ডিক্রী অথবা সার্টিফিকেট কোনোভূ-সম্পত্তি, তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত, প্রজাস্বত্ব বা ভূমির বকেয়া রাজস্ব, খাজনা অথবা সেস আদায়ের নিমিত্ত দেয়া হইয়া থাকে।
ধারা-১০ক(ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল আওলাদ, দেবোত্তর অথবা অন্যান্য ধর্মীয় অছির অধীনস্থ কতিপয় খাজনা গ্রহণের স্বার্থ-সম্পর্কিত বিশেষ বিধানসমূহ)
উপধারা-()ধারা৩ এর (৪) উপধারার (ঙ) এবং (চচ) দফাসমূহে বা ৬ক ধারায় ভিন্ন কিছু থাকাসত্ত্বেও এই ধারার বিধানসমূহ সেই সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবেযেক্ষেত্রেওয়াকফ,ওয়াকফ-আল আওলাদ দেবোত্তর অথবা অন্যান্য ধর্মীয় অছিরঅধীনস্থ খাজনা প্রাপকের স্বার্থ ৩ ধারার (১) উপধারা বা (২) উপধারা মোতাবেকঅধিগ্রহণ করা হইয়াছে, কিন্তু ১৯৬০ সালের পূর্ব বঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ওপ্রজাস্বত্ব (সংশোধনী) অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার তারিখ পর্যন্ত উক্তস্বার্থের অধীনস্থ ভূমি অধিকারে রাখার নিমিত্তে প্রজাদের নিকট হইতে খাজনাঅথবা সেস কর আদায়ের মধ্য দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে সরকার ঐ সমস্ত সম্পত্তিরউপর দখলের অধিকার প্রয়োগ করেনি।
উপধারা-(২)উক্তস্বার্থ অধিগ্রহণের তারিখে বা তারিখ হইতে মোতাওয়াল্লি বা সেবাইত বাঅছিদার, যেখানে যা প্রযোজ্য হয়, উক্ত তারিখের অব্যবহিত পূর্বে অধিকৃতসম্পত্তি কৃষি বছরের শেষ দিন যে দিন ৭৩ ধারার (২) উপধারা মোতাবেক উক্তস্বার্থ সম্পর্কিত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী বিবরণী চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছেবলিয়া বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে সেই দিন পর্যন্ত বা উক্ত সম্পত্তিতে সরকারদখলের অধিকার প্রয়োগ না করা পর্যন্ত, যা পরে ঘটিবে,সেই পর্যন্ত সরকারেরপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচালনা করিবে বা পরিচালনা করিয়াছে বলিয়া গণ্য করা হইবে।
উপধারা-(৩)উক্তমোতাওয়াল্লী, সেবাইত অথবা অছিদার সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে (৪) উপধারায়উল্লেখিত বিধান সাপেক্ষে ও উল্লেখিত হারে উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কিত প্রজাকর্তৃক প্রদত্ত সকল খাজনা এবং সেস কর ও খাস জমির ফসলের ভাগ উক্ত স্বার্থঅধিগ্রহণের তারিখ হতে কৃষি বছরের শেষ দিন পর্যন্ত বা উপধারা-২মোতাবেকবর্ণিত দখলের অধিকার প্রয়োগ না করা পর্যন্ত, যা পরে সংঘটিত হবে সেই পর্যন্তআদায়ের অধিকারী হইবে এবং সে ৬ক ধারা মোতাবেক উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কিতঅন্তর্বর্তীকালীন অর্থ প্রদান এবং তার মজুরীর পরিবর্তে আদায়কৃত ফসলেরবিক্রয়লব্ধ অর্থ এবং অন্যান্য আয় অধিকারে রাখিবে এবং নিম্নেবর্ণিত অর্থেরকম পরিমাণ অর্থ নির্ধারিত নিয়মে বার্ষিক হারে সরকারকে প্রদান সাপেক্ষে-
(ক)যেপরিমান অর্থ ঐসমস্ত অধিগ্রহণের অব্যবহিত আগে বার্ষিক রাজস্ব বা খাজনা ওসেস কর বাবদ সরকারকে অথবা উপরস্থ জমিদারকে, যেখানে যা প্রযোজ্য হয়,প্রদানেরনিমিত্ত কালেক্টর কতৃর্ক নির্ধারিত হয় বা হইত; এবং
(খ)যেপরিমান অর্থ ঐ সমস্ত স্বার্থ অধিগ্রহণ না করা হলে ১৯৪৪ সালের বঙ্গীয় কৃষিআয়কর আইন মোতাবেক ঐ সমস্ত স্বার্থ হতে আগত আয়ের উপর কর নির্ধারণযোগ্য হইত;
শর্তথাকে যে,(i)কোনো মোতাওয়াল্লি, সেবাইত অথবা অছিদার অস্থায় ইজারা ছাড়া অপরকোনো নিয়মে খাস ভূমিতে নিহিত কোনো স্বার্থ হস্তান্তর বা দায় বা চার্জসৃষ্টি করার অধিকারী হবে না; উক্ত অস্থায়ী ইজারা যে বছর সৃষ্টি করা হইয়াছেসেই বছরের শেষ কারিখে এক বছরের অতিরিক্ত সময়ের জন্য এক সঙ্গে প্রদান করাহইবে না;কালেক্টরের পূর্ব অনুমতি ছাড়া এবং কালেক্টর কতৃর্ক এই ব্যাপারেনির্ধারিত শর্ত পালন ছাড়া কোনো গাছ কাটা যাইবেনা অথবা কোনো ইমারত ধ্বংসকরা যাইবেনা; ঐসকল শর্তের পরিপন্থী কোনো হস্তান্তর বা দায় বা চার্জ সৃষ্টিকরা হলে অথবা কোনো ইজারা দেয়া হলে তা বাতিল বলিয়াগণ্য হইবে ও শর্তেরপরিপন্থীভাবে যে গাছ কাটা হয়েছে বা যে ইমারত ধ্বংস করা হয়েছে তার সম্পূর্ণমূণ্য উক্ত মোতাওয়াল্লি, সেবাইত অথবা অছিদারের নিকট হইতে বকেয়া খাজনা অথবাভূমির রাজস্ব হিসেবে উদ্ধারযোগ্য হইবে।
(i)(i)কালেক্টর কতৃর্ক নির্ধারিতযে পরিমাণ অর্থ স্বার্থ অধিগ্রহণের অব্যবহিত আগে মোতাওয়াল্লি, সেবাইত অথবাঅছিদারের সরাসরি অধীনে ১৮৮০ সালের বঙ্গীয় সেস কর আইন মোতাবেক পথ এবংগণপূর্ত সেস করবা ১৮৭৯ সালের আসাম স্থানীয় কর রেগুলেশন মোতাবেক স্থানীয় করপ্রজাগণের দ্বারা বার্ষিক হারে প্রদানযোগ্য ছিল সেই পরিমাণ অর্থ (ক) দফায়বর্ণিত অর্থ হতে বাদ যাইবে এবং তা বাংলা ১৩৬৭ সালের ১লা বৈশাখ হতে কার্যকরহইবে।
(iii)যে ক্ষেত্রে (১) উপধারায় উল্লেখিত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনোমোতাওয়াল্লি,সেবাইত অথবা অছিদার উক্ত স্বার্থ অধিগ্রহণের অব্যবহিত পূর্বেকোনোরায়তীস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের কারণে সরকারের নিকট হইতে বা এমনখাজনা প্রাপকের নিকট হইতে যার উক্ত রায়তীস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বেনিহিত স্বার্থ অধিগ্রহণ করা হইয়াছে এবং দখল লাভ করা হইয়াছে সে ক্ষেত্রেউক্ত মোতাওয়াল্লি, সেবাইত অথবা অছিদার এই ধারা মোতাবেক সরকারের কাছে তারবার্ষিক আয়ের সঙ্গে সেই পরিমাণ অর্থের সমপরিমাণ অর্থ সমন্বয় করার অধিকারীহইবে কালেক্টর কতৃর্ক নির্ধারিত যে পরিমাণ অর্থ অধিগ্রহণের অব্যবহিত পূর্বেউক্ত রায়তিস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্বের কারণে বার্ষিক খাজনা এবং সেস করহিসেবে তার প্রাপ্য ছিল; কিন্তু ১৮৮০ সালের বঙ্গীয় সেস কর আইন মোতাবেক পথ ওগণপূর্ত সেস কর বা ১৮৭৯ সালের আসাম স্থানীয় কর রেগুলেশন মোতাবেক স্থানীয়কর ১৩৬৭ বাংলা সালের ১লা বৈশাখ হইতে আয় সমন্বয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য হইবে নাএবং সমন্বয়ের নিমিত্ত যদি বার্ষিক মোট অর্থের পরিমাণ এই ধারায় উল্লেখিত মোটবার্ষিক আয় অপেক্ষা বেশী হয় তবে অতিরিক্ত অর্থ কোনো আইন অথবা চুক্তিঅনুযায়ী তার নিকট অপর কোনো সরকারী পাওনা থাকলে তা কেটে নেয়ার পর বাকী অর্থসরকারের নিকট হইতে পাওয়ার অধিকারী হইবে।
ব্যাখাঃ ১৯৪৪ সালের বঙ্গীয়কৃষি আয়কর আইন মোতাবেক অধিগ্রহণের তারিখের আগে শেষবার যে কর নির্ধারণ করাহয়েছিল তার গড় হার বের করিয়া (খ) দফার জন্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করাযাইবে।
উপধারা-(৪)অধিগ্রহণেরঅব্যবহিত পূর্বে খাজনা প্রদান সাপেক্ষে ভূমির অধিকারী (৩) উপধারায়উল্লেখিত প্রজাগণ ৪৩ ধারা মোতাবেক সংশোধন সাপেক্ষে ১৯ ধারার (৩) উপধারামোতাবেক চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানে নির্ধারিত হারে উক্ত ভূমির খাজনাপরিশোধের জন্য দায়ী হইবে;
শর্ত থাকে যে, উক্ত প্রজাগণ চুড়ান্তভাবেখতিয়ান প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চতুর্থ অধ্যায় মোতাবেক প্রণয়নকৃত বিধিমালাঅনুযায়ী প্রাথমিক খাজনার বিবরণীতে উল্লেখিত হারে উক্ত ভূমির খাজনা প্রদানকরিবে; এবং যে ক্ষেত্রে উক্ত প্রাথমিক খাজনার বিবরণী প্রণয়ন করা হয়নিসেক্ষেত্রে উক্ত প্রাথমিক খাজনার বিবরণী প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্তঅধিগ্রহণের অব্যবহিত পূর্বে যে হারে প্রচলিত ছিল সে হারে খাজনা প্রদানকরিবে।
আরও শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ১৯ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ীচুড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানে হ্রাসকৃত হারে বা বর্ধিত হারে উক্ত খাজনাপ্রদর্শিত হয় বা ৪৩ ধারা মোতাবেক উক্ত খাজনার পরিমাণ হ্রাস বাবৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় সেক্ষেত্রে উক্ত প্রজার পূর্বে দেয়া খাজনার পরিমাণ কম হলেনির্ধারিত খাজনার বাকী অংশ দিতে বাধ্য থাকিবে এবং বেশী হলে অতিরিক্তখাজনার ভবিষ্যতে প্রদত্ত খাজনার সাথে পূর্ব হইতে বলবত্‍‍যোগ্যরূপে সমন্বয়সাধন করার অধিকারী হইবে।
উপধারা-(৫)এইধারা মোতাবেক প্রজার নিকট হইতে মোতাওয়াল্লি, সেবাইত বা অছিদারের আদায়যোগ্যবকেয়া খাজনা ও সেস কর সরকারী পাওনা হিসেবে পুনরুদ্ধারযোগ্য হইবে এবং উক্তমোতাওয়াল্লি, সেবাইত বা অছিদারের ১৯১৩ সালের সরকারী দাবি আদায় আইন মোতাবেকউক্ত বকেয়া আদায়ের নিমিত্ত নির্ধারিত নিয়মে সার্টিফিকেট কর্মকর্তার টিকটদরখাস্ত করিতে পারিবে।
উপধারা-(৬)উপধারা(৪) অনুযায়ী কোনো প্রজা অতিরিক্ত খাজনা প্রদান করিলে প্রদত্ত সেই খাজনাহইতে মোতাওয়াল্লি, সেবাইত বা অছিদারের পরিচালানাধীন সময়ে পরবর্তীকালেতত্‍কতৃর্ক প্রদানযোগ্য খাজনা উক্ত উপধারা মোতাবেক সমন্বয় করার পর অবশিষ্টঅর্থ উক্ত মোতাওয়াল্লি,সেবাইত বা অছিদার সরকারকে পরিশোধ করিবে।
উপধারা-(৭)উপধারা(৩) বা (৬) মোতাবেক যে অর্থ মোতাওয়াল্লি, সেবাইত বা অছিদার কতৃর্ক সরকারকেপ্রদানযোগ্য ছিল তা সরকারী পাওনা হিসেবে আদায়যোগ্য হইবে।
উপধারা-(৮)উপধারা(৫) মোতাবেক কোনো সার্টিফিকেট অফিসার কর্তৃক আদায়কৃত বকেয়া খাজনা এবং সেসকরা (৩) অথবা (৬) উপধারা মোতাবেক বকেয়া সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট অর্থসংশ্লিষ্ট মোতাওয়াল্লি,সেবাইত বা অছিদারকে দেয়া হইবে।
উপধারা-(৯)এইআইনের কোনো স্থানে বা আপাততঃ বলবত্‍  কোনো আইনে ভিন্নরূপ কোনো কিছুথাকা সত্ত্বেও উপধারা (৪) মোতাবেক কোনো প্রজা কতৃর্ক প্রদত্ত বকেয়া খাজনাএবং সেস কর আদায়ের সময়সীমা গণনা করার ক্ষেত্রে উক্ত বকেয়া পাওনার সাথেসংশ্লিষ্ট খাজনা গ্রহণের স্বার্থ অধিগ্রহণের তারিখ হইতে চব্বিশ মাস সময় বাদদিতে হইবে।
উপধারা-(১০)প্রত্যেকমোতাওয়াল্লি, সেবাইত বা অছিদার নির্ধারিত ফরম-এ এবং নির্ধারিত সময়ে এইধারা মোতাবেক আগের বছরে তত্‍তৃর্ক আদায়কৃত খাজনা এবং সেস কর দেয়া সত্ত্বেওউক্ত আদায়কৃত অর্থ হতে তত্‍কতৃর্ক ব্যয়কৃত অর্থের হিসাবে সমন্বিত একটিবিবরণী কালেক্টরের কাছে দাখিল করিবে।
উপধারা-(১১)কোনোআদালত কোনো ব্যক্তি কতৃর্ক কোনো সম্পত্তি সম্পর্কিত এই ধারারয় বর্ণিতসুবিধার নিমিত্ত দাবি বা উক্তরূপ সুবিধার অধিকারী তাহার জন্য ঘোষণারউদ্দেশ্যে দায়েরকৃত কোনো মামলা অথবা দরখাস্ত গ্রহণ করিবে না, যতক্ষণপর্যন্ত উক্ত ব্যক্তি কালেক্টরের নিকট দরখাস্ত না করেন এবং কালেক্টর সেইব্যক্তি উক্ত সুবিধার অধিকারী নয় বলিয়া চুড়ান্ত আদেশ প্রদান না করেন;
শর্তথাকে যে, উক্ত দরখাস্ত দায়েরের তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে যদি কালেক্টরকতৃর্ক চুড়ান্ত আদেশ প্রদান না করা হয় তবে উক্ত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরমোতাওয়াল্লি, সেবাইত বা অছিদার দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়েরের অধিকারী হইবে।

তৃতীয় খন্ড
তৃতীয় অধ্যায়
চাকুরীর বিনিময়ে ভূমি ভোগ সম্পর্কে বিশেষ বিধানসমূহ
ধারা-১১( দখলী অধিকারসমূহ অর্জন)
উপধারা-(১)আপাততঃবলবত্‍ অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ কোনো কিছু থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি তারসেবার বিনিময়ে কৃষি বা ফলচাষ বা বসবাসের প্রয়োজনে অন্য ব্যক্তির অধীনেভূমি অধিকারে রাখে বলে স্থানীয়ভাবে নানকর, চাকরান অথবা অনুরূপভাবে পরিচিতসেই ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার তারিখে অথবা তারিখ হইতে যার অধীনে ভূমিঅধিকারে রাখে তাহাকে যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা প্রদান সাপেক্ষে ঐ ভূমিতেদখলী অধিকার অর্জন করিবে এবং ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন ও ১৯৩৬সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের যতটা দখলী রায়তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় ততটাতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।
উপধারা-(২)উপধারা(১) এ উল্লেখিত যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা বলতে ঐরূপ খাজনাকে বুঝায় যাদখলীয় রায়ত কতৃর্ক প্রদত্ত অনুরূপ বর্ণনা ও সুবিধা সংবলিত একই গ্রাম অথবাপার্শ্ববর্তী গ্রামের ভূমির জন্য ঐরূপ প্রজা ও তার ভূ-স্বামীর মধ্যেচুক্তির মাধ্যমে স্বীকৃত খাজনা বা চুক্তির অবর্তমানে প্রজা বা ভূ-স্বামীরআবেদনক্রমে কালেক্টর কতৃর্ক নির্ধারিত প্রচলিত খাজনার হারের বেশী হইবে না।
ধারা-১২(কোন কোন ক্ষেত্রে প্রচার বসতবাড়ি উচ্ছেদ)
উপধারা-(১)১১ধারায় ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্তেও যেক্ষেত্রে ঐ প্রচার বসতবাড়ি ভূমিরমালিকের বসতবাড়ির মধ্যে অবস্থিত থাকে সেক্ষেত্রে সে বা তাহার ভূমির মালিকএই আইন কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে উক্ত ভূমির দখল সম্বন্ধীয় মোকাদ্দমাগ্রহণ করার এখতিয়ার বিশিষ্ট দেওয়ানী আদালতে ঐ প্রচার বসতবাড়ি উচ্ছেদ করারআদেশের জন্য দরখাস্ত করিতে পারিবে।
উপধারা-(২)উপধারা(১) মোতাবেক দরখাস্ত দায়ের করা হইলে আদালত পক্ষগণকে শুনানীর সুযোগ দানকরিয়া যতটুকু যথাযথ মনে করিবেন ততটুকু সাক্ষ্য গ্রহণ করিয়া এবং অনুসন্ধানকরিয়া যদি সন্তুষ্ট হন যে, ঐ প্রজার বসতবাড়ি ভূমির মালিকের বসতবাড়ির মধ্যেঅবস্থিত তবে প্রার্থীত আদেশ প্রদান করিবেন।
শর্ত থাকে যে, আদালত যদিদেখেন, ১১ ধারা মাতাবেক বা অন্য কোনো উপায়ে দরখাস্তে বর্ণিত বসতবাড়ি ছাড়া ঐপ্রজা দখলী রায়ত হিসেবে চাষাবাদের নিমিত্ত পাঁচ বিঘার কম ভূমি দখলে রাখেতবে আদালত ভূমির মালিক কতৃর্ক প্রজাকে বিবেচনাপ্রসূত ক্ষতিপূরণ প্রদানেরপরিমাণ নির্ধারণ করিবেন অথবা আদালতের মতানুসারে নতুন স্থানে বসতবাড়িস্থানান্তরের খরচ, অনুরূপ বসতবাড়ি পুনঃনির্মানের খরচ, ঐরূপ নির্মাণের জন্যভূমির খরচ এবং আদালত কতৃর্ক যথাযথ বিবেচিত অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ নিরূপণকরিবেন; যতক্ষণ পর্যন্ত ভূমির মালিক প্রজাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের উদ্দেশ্যেনির্ধারিত অর্থ আদালতে জমা না দেয় বা প্রজা লিখিতভাবে আদালতে স্বীকার নাকরে যে, আদালতের বাহিরে ঐ পরিমাণ অর্থ ভূমির মালিকের নিকট হইতে গ্রহণকরিয়াছে ততক্ষণ পর্যন্ত আদালত উচ্ছেদের আদেশ প্রদান করিবেন না।
উপধারা-(৩)উপধারা (১) মোতাবেক প্রদত্ত আদেশ ঐ প্রজার বিরুদ্ধে উচ্ছেদের ডিগ্রী হিসেবে গণ্য হইবে এবং ঐরূপ আদশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল চলিবে না।
ধারা-১৩(কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃষি ভূমির পুনরুদ্ধার)
উপধারা-(১)যদিকোনো ব্যক্তিকে ১৯৪৮ সালের ৭ইএপ্রিলের পর দেওয়ানী আদালতের ডিক্রী বাআদেশ বা কালেক্টরের আদেশ বা কালেক্ট কতৃর্ক ক্ষমতাপ্রাপ্ত রাজস্বকর্মকর্তার আদেশ ছাড়া অন্য কোনোভাবে ১১ ধারার (১) উপধারায় সেবার বিনিময়েনিষ্করভাবে ভোগ দখলকৃত কৃষিচাষ ও ফলের চাষ হতে উচ্ছদ করা হয়েথাকেসেক্ষেত্রেউক্ত ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ঐ ভূমি পুনরুদ্ধারেরজন্য কালেক্টরের নিকট দরখাস্ত করিতে পারিবে।
উপধারা-(২)উপধারা(১) মোতাবেক দরখাস্ত করা হইলে কালেক্টর পক্ষগণকে শুনানীর সুযোগ প্রদানকরেন ও যতটুকু যথাযথ মনে করিবেন ততটুকু সাক্ষ্য গ্রহণ করিয়া এবং অনুসন্ধানকরিয়া যদি সন্তুষ্ট হন যে,উল্লেখিত তারিখের পরে ভোগ দখলকৃত ভূমি হইতেদরখাস্তকারীকে উচ্ছেদ করা হইয়াছে তবে কালেক্টর দরখাস্তকারীর নিকট উক্ত ভূমিনুপঃরুদ্ধারের জন্য আদেশ প্রদান করিতেও তিনি যথাযথ মনে করিলে পরবর্তী কৃষিবছরের পরে নহে এমন তারিখ হইতে উক্ত আদেশ কার্যকর করিবেন।
উপধারা-(৩)যেব্যক্তির দখলে উক্ত ভূমি রহিয়াছে সে যদি দরখাস্তকারীর নিকট দখল কার্যকরহওয়ার তারিখে দখল হস্তান্ত না করে তবে কালেক্টর দরখাস্তকারীর আবেদনক্রমেউক্ত ব্যক্তিকে উচ্ছেদ করিয়া ঐ ভূমিতে দরখাস্তকারীকে দখল প্রদান করিবেন।
শর্তথাকে যে, উক্ত ব্যক্তি যদি ভূমির মালিক ছাড়াও অন্য ব্যক্তি হয় তবে সেভূমির মালিকের নিকট হইতে কালেক্টর কতৃর্ক নির্ধারিত যুক্তিসঙ্গত ক্ষতিপূরণপাইবে।
উপধারা-(৪)যেক্ষেত্রেএই ধারার অধীনে কৃষি চাষ বা ফলচাষের ভূমি কোনো ব্যক্তিকে পুনরুদ্ধারকরিয়া দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে ১১ ধারার বিধানসমূহ ভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্যহইবে।


ধারা-১৪(আপিল)১১ধারার (২) উপধারায় কালেক্টরের আদেশে ক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি উক্ত আদেশেরতারিখ হইতে ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত এলাকার এখতিয়ারবান জেলা জজের নিকট আপিলদায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত আপিলে জেলা জজের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হইবে।
ধারা-১৫(বিবিধ)১১ধারার (২) উপধারায় ১২ ধারার (১) উপধারায় বা ১৩ ধারার (১) উপধারায় কোনোদরখাস্ত নির্ধারিত ফরমে নির্ধরিত বিবরণসহ করিতে হইবে এবং তার সঙ্গেনির্ধারিত প্রসেস ফি জমা দিতে হইবে।
ধারা-১৬(কতিপয় ভূমির অব্যাহতি) এইঅধ্যায়ের কোনো কিছু চা এস্টেটের সীমানার মধ্যে অথবা অপর কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সীমানার মধ্যে অবস্থিত ভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
 

চতুর্থ খন্ড
চতুর্থ অধ্যায়
স্বত্বলিপি প্রস্তুতকরণ
 

ধারা-১৭(স্বত্বলিপি প্রস্তুতকরণ)
উপধারা-(১)সরকারএই আইন মোতাবেক কোনো জেলায়, জেলার অংশে বা স্থানীয় এলাকায় অবস্থিত খাজনাপ্রাপকগণের স্বার্থ এবং এই আইন মোতাবেক ঐ সমস্ত স্থানের ভূমিতে নিহিতঅধিগ্রহণযোগ্য অন্যান্য স্বার্থ অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে এবং ২য় অধ্যায়েরঅধীনে ইতোমধ্যে অধিগৃহীত স্বার্থসহ এই সমস্ত স্বার্থের নিমিত্ত ক্ষতিপূরণনির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই মর্মে আদেশ জারি করিতে পারিবেন যে-
(ক)উক্ত জেলা, জেলার অংশ অথবা স্থানীয় এলাকার জন্য স্বত্বলিপি তৈরী করিতে হইবে; বা
(খ)১৮৮৫সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের দশম অধ্যায় মোতাবেক সর্বশেষ প্রণয়নকৃত ওচুড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ান উক্ত জেলা, জেলার অংশ অথবা স্থানীয় এলাকারজন্য এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ এবং সরকার কতৃর্ক এই উদ্দেশ্যে প্রণয়নকৃতবিধিমালা অনুযায়ী রাজস্ব কর্মকর্তা কতৃর্ক রিভিশন বা পরিমার্জন করিতে হইবে।
উপধারা-(২)যদি১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ১০১ ধারা মোতাবেক বা ১৯৩৬ সালেরসিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের ১১৭ ধারা মোতাবেক কোনো জেলা, জেলার অংশ বাস্থানীয় এলাকার জন্য খতিয়ান তৈরীর উদ্দেশ্যে আদেশ করা হইয়া থাকে; কিন্তুখতিয়ান তৈরীর কাজ ম্পন্ন না হয় বা জেলা, জেলার অংশ অথবা এলাকার জন্য খতিয়ানতৈরী অথবা পরিমার্জনের উদ্দেশ্যে (১) উপধারা মোতাবেক আদেশ দানের সময় ঐস্বত্বলিপি বা খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হয় তাহা হলে এই আইন মোতাবেকখতিয়ান তৈরীর কার্যক্রম স্থগিত হইবে এবং ঐ খতিয়ান এই অধ্যায়ের বিধানসমূহএবং সরকার কতৃর্ক এই উদ্দেশ্যে প্রণয়নকৃত বিধিমালা অনুযায়ী প্রস্তুত করিতেহইবে।
তবে শর্ত থাকে যে, স্বত্বলিপি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ১৮৮৫ সালেরবঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ১০ম অধ্যায় বা ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্বআইনের ৯ম অধ্যায় মোতাবেক আরম্ভকৃত কার্যক্রম ও ঐ স্বত্বলিপির খসড়া প্রকাশিতহওয়ার আগে ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ১০৩ ধারার (৪) উপধারা বা১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের ১১৯ ধারা মোতাবেক যেখানে যাহা প্রযোজ্যহয়, গৃহীত কার্যক্রম এই অধ্যায় মোতাবেক স্বত্বলিপি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এইঅধ্যায় মোতাবেক শুরু করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
উপধারা-(৩)উপধারা (১) মোতাবেক আদেশের সরকারী গেজেট বিজ্ঞপ্তিকে ঐ আদেশ যথাযথভাবে প্রস্তুত হইয়াছে বলিয়া চুড়ান্ত সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হইবে।
ধারা-১৮(যে সকল বিবরণ খতিয়ানে রেকর্ড করিতে হইবে)যখন১৭ ধারা মোতাবেক কোনো আদেশ প্রদান করা হয় তখন ঐ আদেশ অনুযায়ী প্রণয়নকৃতবা পরিমার্জিত খতিয়ানে রাজস্ব কর্মকর্তা নির্ধারিতবিবরণসমূহ রেকর্ডভুক্তকরিবেন।
ধারা-১৯(খতিয়ানসমূহের খসড়া ও চুড়ান্ত প্রকাশ)
উপধারা-(১)যেক্ষেত্রে১৮ ধারায় বর্ণিত বিবরণসমূহ অন্তর্ভুক্ত করার নিমিত্ত একটি স্বত্বলিপিপ্রণয়ন করা হয় অথবা পরিমার্জন করা হয় সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার নির্ধারিতসময়ের জন্য নির্ধারিত নিয়মে প্রণয়নকৃত এবং পরিমার্জিত খসড়া স্বত্বলিপিপ্রকাশ করিবেন ও প্রকাশের সময় যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করা যাইত অথবা বাদ দেওয়াহইয়াছে সেই সম্বন্ধে আপত্তি গ্রহণ ও বিবেচনা করিবেন।
উপধারা-(২)উপধারা(১) মোতাবেক দায়েরকৃত আপত্তির প্রেক্ষিতে রাজস্ব অফিসার কতৃর্ক প্রদত্তকোনো আদেশে ক্ষুব্ধ ব্যক্তি সহকারী সেটলমেন্ট অফিসারের নিম্নতম পদে নহেএরূপ নির্ধারত রাজস্ব কর্র্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত নিয়মে এবং নির্ধারিতসময়ের মধ্যে আপিল করিতে পারিবে।
উপধারা-(৩)যেক্ষেত্রেএরূপ সকল আপত্তি এবং আপিল সরকার কতৃর্ক এই উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিসমূহঅনুযায়ী বিবেচিত ও নিষ্পত্তি হইয়াছে সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার চুড়ান্তভাবেস্বত্বলিপি প্রণয়ন করিবেন ও নির্ধারিত নিয়মে ঐ স্বত্বলিপি চুড়ান্তভাবেপ্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন; এবং উক্ত প্রকাশ এই অধ্যায় মোতাবেক খতিয়ানযথাযথভাবে প্রণয়ন ও পরিমার্জনের জন্যচুড়ান্ত সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।
উপধারা-()যেক্ষেত্রে(৩) উপধারা মোতাবেক একটি খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয় সেক্ষেত্রে এইউদ্দেশ্যে রাজস্ব বোর্ড কতৃর্ক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজস্ব অফিসার তারচুড়ান্ত প্রকাশনা ও তাহার তারিখ উল্লেখ করিয়া একটি সার্টিফিকেট প্রদানকরিবেন এবং তিনি তাহাতে তারিখ ও পদবীসহ নাম স্বাক্ষর করিবেন।
ধারা-২০(খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক ও অকৃষি প্রজা কতৃর্ক দখলে রাখা ভূমিসমূহ)
উপধারা-(১)৫মঅধ্যায় মোতাবেক খাজনা প্রাপকের স্বার্থ অধিগ্রহনের প্রেক্ষিতে একজন খাজনাপ্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক ও অকৃষি প্রজা (২) উপধারায়উল্লেখিত খাস ভূমি ছাড়া অন্য কোনো এলাকায় খাস ভূমি দখলে রাখার অধিকারীহইবে না।
উপধারা-(২)একজন খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজা সরকারের অধীনস্থ প্রজা হিসেবে দখলে রাখার অধিকারী হইবে-
(ক)কোনোএস্টেট, তালুক, মধ্যস্বত্বে খাজনা আদায়ের অফিস অথবা কর্মচারী হিসেবেপ্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত ও সরকার কতৃর্ক অধিগ্রহণের জন্য গৃহীত বসত-বাড়িরবাইরে অবস্থিত কোনো দালান অথবা দালানের অংশ ছাড়া বসতবাড়ি বা বসতবাড়িসংলগ্ন ভূমি;(খ)পরিত্যক্ত চা বাগান ছাড়া নিম্নে উল্লেখিত বিভিন্ন শ্রেণীর খাস দখলীয় ভূমি-
(i)কৃষি চাষ, ফল চাষ অথবা পুকুরের জন্য ব্যবহৃত ভূমি;(ii) চাষযোগ্য বা সংস্কার করার পর চাষযোগ্য ভূমি;(iii)পতিত অকৃষি ভূমিঃ
শর্ত থাকে যে, (ক) ও (খ) দফায় উল্লেখিত খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক,অধীনস্থরায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজা কতৃর্ক অধিকৃত ভূমির মোট পরিমাণ ৩৭৫ বিঘা বা তারপরিবারের প্রত্যেক সদস্যের পিছু দশ বিঘা যা অধিক হইবে, এর অতিরিক্ত হইবেনা।
উপধারা-(২ক)আপাততঃবলবত্‍ অন্য কোনো আইনে অথবা কোনো দলিলে বা আদালতের রায় ডিক্রী বা আদেশভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও (২) উপধারার (ক) ও (খ) দফায় উল্লেখিতশ্রেণীভুক্ত ভূমি অন্তর্ভুক্ত করে না বা অন্তুর্ভুক্ত করে না বলে ধরিয়ালওয়াহ্ইবে-
(i)হাট অথবা বাজারে অবস্থিত ভূমি অথবা দালান; অথবা
(ii)সম্পূর্ণভাবে খননকৃত পুকুর ছাড়া মত্‍স্য খামার; অথবা
(iii)বনাঞ্চলের জন্য ভূমি; বা
(iv)ফেরীঘাট হিসেবে প্রকৃতপক্ষে ব্যবহৃত ভূমি।
 উপধারা-(৩)ধারা২ এর (৪) উপধারার (খ) দফা মোতাবেক একজন খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক,অধীনস্থরায়তী কৃষক, অকৃষি প্রজা যে সকল জমি দখলে রাখার অধিকারী সেই সকল জমির বন্টনঐ খাজনা গ্রহীতা, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজার ইচ্ছাঅনুযায়ী রাজস্ব অফিসারবন্টন করিবেন বা যেক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেকোনো ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়নি সেইক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যে সরকার কতৃর্ক প্রণীতবিধি অনুযায়ী বন্টন করিবেন।
শর্ত থাকে যে, এই ইচ্ছা প্রয়োগের ক্ষেত্রেউক্ত খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক,অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজা তারপরিবারের অন্যান্য সদস্যগণের মাথাপিছু ১০ বিঘা পরিমাণ বা তার কম বা ১০বিঘার অতিরিক্ত হইলে কমপক্ষে ১০ বিঘা পরিমাণ ভূমি অধিকারে রাখিতে পারিবেএবং ঐ পরিবারে ভূমি বন্টনের ক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার যে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষেভূমি দখলে রাখে তার নাম রেকর্ডভুক্ত করিবেন।
আরও শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে কোনো খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষিপ্রজা কোনো ভূমি ১৯৫২ সালের কৃষি উন্নয়ন ফাইন্যান্স কর্পোরেশ এ্যাক্টমোতাবেক প্রতিষ্ঠিত কৃষি উন্নয়ন ফাইন্যান্স কর্পোরেশন-এর নিকট বা ১৯৫৭সালের কৃষি ব্যাংক এ্যাক্ট মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান কৃষি ব্যাংকেরনিকট রেহেন রাখিয়াছে সেইক্ষেত্রে এই ধারা মোতাবেক ইচ্ছা প্রয়োগের ক্ষেত্রে(২) উপধারা মোতাবেক সেই সকল শ্রেণীর ভূমি এবং যেই পরিমাণ ভূমি সে অধিকারেরাখিতে পারিবে তাহার মধ্যে ঐ রেহেনকৃত ভূমি অন্তর্ভুক্ত করিতে বাধ্য থাকিবেএবং যেক্ষেত্রে ঐ খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষিপ্রজা এই ধারা মোতাবেক ইতঃপূর্বে ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছে কিন্তু অতিরিক্ত খাসভূমি সম্পর্কিত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণী বিবরণী চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়নি, সেইক্ষেত্রে এই শর্তের বিধানসমূহ অনুযায়ী তাহার ইচ্ছা পরিমার্জন করারপ্রয়োজন হইবে।
উপধারা-(৪)উপধারা(২) এ ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও একজন খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা খাজনা প্রাপকগণের বা রায়তী কৃষকগণের বা অধীনস্থরায়তী কৃষকগণের দল যাহারা সমবায়ের ভিত্তিতে অথবা শক্তি চালিত যান্ত্রিকপদ্ধতির প্রয়োগের অন্যভাবে বৃহদায়তন খামার অথবা বৃহদায়তন দুগ্ধ খামারপরিচালনা করিতেছে তাহারা এই উদ্দেশ্যে নির্ধারিত রাজস্ব কর্তৃপক্ষ কতৃর্কপ্রদত্ত সার্টিফিকেট সাপেক্ষে, এই উপধারায় নির্ধারিত ভূমির অতিরিক্ত সেইপরিমাণ ভূমি দখলে এবং অধিকারে রাখিতে পারিবে যে পরিমাণ ভূমি রাজস্বকতৃর্পক্ষ কতৃর্ক প্রদত্ত সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকিবে।
শর্ত থাকে যে, সরকার কতৃর্ক নির্ধারিত বিশেষ বিশেষ সময়ে ঐ সার্টিফিকেট রাজস্ব কতৃর্পক্ষের রিভিশনের আওতায় থাকিবে।
উপধারা-(৪ক)উপধারা(২) এ ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ চা বা কফিচাষ ও উত্‍পাদনের উদ্দেশ্যে অথবা রাবার চাষের উদ্দেশ্যে ভূমি অধিকারেরাখিলে বা কোনো কোম্পানী চিনি উত্‍পাদনের উদ্দেশ্যে আখ চাষের জন্য জমিঅধিকারে রাখিলে এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত রাজস্ব কতৃর্পক্ষ কতৃর্ক প্রদত্তসার্টিফিকেট সাপেক্ষে এই উপধারায় নির্ধারিত পরিমাণ ভূমির অতিরিক্ত সেইপরিমাণ ভূমি দখলে এবং অধিকারে রাখিতে পারিবে যে পরিমাণ ভূমি রাজস্বকতৃর্পক্ষ কতৃর্ক প্রদত্ত সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকিবে।
আরও শর্ত থাকেযে, এই উপধারার উদ্দেশ্যে একটি পরিত্যক্ত চা বাগানকে চা চাষ এবং উত্‍পাদনেরজন্য অধিকৃত ভূমি হিসেবে ধরিয়ালওয়া যাইবে না।
উপধারা-(৪খ)উপধারা(৪) ও (৪ক) বা ৩৯, ৪৩ এবং ৪৪ ধারা বা আপাততঃ বলবত্‍ অন্য কোনো আইনেভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও উপধারা (৪) ও (৪ক) মোতাবেক সার্টিফিকেটেরঅধীনস্থ ভূমি ঐ তারিখে সরকরের উপর চুড়ান্তভাবে বর্তাইবে যখন উক্তসার্টিফিকেটধারী ব্যক্তির উক্ত ভূমি দীর্ঘস্থায়ী মেয়াদে ইজারা গ্রহণের জন্যআবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার তাহার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে, যেখানেসার্টিফিকেটধারী ব্যক্তি উক্ত ভূমি আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণের জন্য ৩৯ ধারামোতাবেক প্রাপ্য ক্ষতিপূরনের দাবি ত্যাগ করিয়াছে ও উক্ত সার্টিফিকেটেরসমাপ্তি ঘটাইয়া কোনো প্রিমিয়াম দাবি না করিয়া ইজারার মধ্যে সরকার কতৃর্কনির্ধারিতশর্ত সাপেক্ষে ভূমি ৮১ ধারার (১) উপধারার ২য় শর্ত মোতাবেক ইজারাদেয়া যাইবেএকথা উল্লেখ করিয়াছে।
উপধারা-(৫) (i) এই ধারায় (১) (২) এবং (৩) উপধারার কোন কিছুই প্রযোজ্য হবে না-
(ক) বাতিল
(খ)বৃহদায়তনশিল্পের জন্য ব্যবহৃত দালান বা অট্টালিকা ও প্রয়োজনীয় সংলগ্ন এলাকারভূমিসহ উক্ত শিল্পের কাঁচামালা উত্‍পাদনের জন্য ভূমি; বা
(গ)দেবোত্তর, ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল-আওলাদের অধীনস্থ ভূমির যতটুকু অংশ সম্পূর্ণভাবেউত্‍সর্গীকৃত থাকে ততটুকু ভূমি ও যার আয় কোনো ব্যক্তি বিশেষের অার্থিকসুবিধার জন্য সংরক্ষণ না করিয়া সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় এবং দাতব্য উদ্দেশ্যেপ্রযোজ্য হয়।
(i)যেক্ষেত্রে দেবোত্তর ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল-আওলাদ বা অন্যকোনো ট্রাস্টের অধীনস্থ ভূমি হইতে আগত আয়ের এক অংশ ধর্মীয় ও দাতব্যউদ্দেশ্যে উত্‍সর্গ করা হয় এবং এক অংশ কোনো ব্যক্তি বিশেষের আর্থিকসুবিধার জন্য সংরক্ষণ করা হয়,সেক্ষেত্রে ভূমির উক্ত অংশ এই উদ্দেশ্যে সরকারকর্তৃক প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত দফা (i)এর উপদফা (গ) এরআওতাভুক্তহইবে।
ব্যাখাঃ এই ধারার (২) উপধারার উদ্দেশ্যে-
(ক)একজনখাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তীকৃষক বা অকৃষি প্রজা পরিবারেরসদস্যদিগকে নিয়ে গঠিত দলভুক্ত ব্যক্তিগণকেও অন্তর্ভুক্ত করে বলিয়াধরিয়ালওয়া হয়, এবং
(খ)একজন খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তীকৃষক বাঅকৃষি প্রজা সম্পর্কিত পরিবার উক্ত খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থরায়তীকৃষক বা অকৃষি প্রজা ও একই মেসে বসবাসকারী এবং ঐ খাজনা প্রাপক, রায়তীকৃষক, অধীনস্থ রায়তীকৃষক বা অকৃষি প্রজার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিগণকে নিয়েগঠিত হয় ধরিয়া লওয়া হয়, কিন্তু তাহা একই মেসে বসবাসকারী কোনো কর্মচারীঅথবা ভাড়াটিয়া শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করিবে না।
উপধারা-(৬)হাটঅথবা বাজারে অবস্থিত ভূমি বা বনাঞ্চল, মত্‍স্য খামার অথবা ফেরীর জন্যব্যবহৃত ভূমির ক্ষেত্রে (৫) উপধারার দফা (i)এর উপদফা (গ) এবং উক্ত উপধারারদফা (ii)এর বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে না অথবা প্রযোজ্য হইবে না ধরিয়া লওয়াহবে।
ধারা-২১(দখলীয় ভূমির খাজনা প্রদান)

কোনো খাজনা প্রাপ্ত, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজা ২০ধারা মোতাবেক যে সমস্ত ভূমি দখলে রাখিয়া তাহার জন্য তাহাকে এই আইনের বিধানমোতাবেক ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা পরিশোধ করিতে হইবে।
ধারা-২২(সকল ভূমির জন্য এই অধ্যায়ের অধীনে নির্ধারিত ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা প্রদান করতে হবে)
উপধারা-(১)আপাততঃবলবত্‍ অন্য কোনো আইনে অথবা ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের দশমঅধ্যায়ের অধীনে সর্বশেষ প্রস্তুত ও চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানের কোনোবিবরণে ভিন্নরূপ কোনো কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের অধীনে কোনো জেলারবা জেলার অংশের বা স্থানীয় এলাকার সমস্ত ভূমি, যা সম্বন্ধে খতিয়ান প্রস্তুতও পুনঃপরীক্ষণ করা হইয়াছে, এই অধ্যায়ের বিধান অনুসারে নির্ধারিত ন্যায্য ওন্যায়সঙ্গত খাজনার জন্য দায়ী থাকিবে এবং উক্তরূপে প্রস্তুত বা পুনঃপরীক্ষণখতিয়ানে ঐরূপ খাজনা অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।
শর্ত থাকে যে, যদি ৫ ধারামোতাবেক কোনো ভূমির খাজনা ইতিপূর্বে নির্ধারিত হইয়া থাকে তবে এই অধ্যায়েরঅধীনে আর খাজনা নির্ধারণ করার প্রয়োজন হইবে না এবং উক্তরূপ নির্ধারিত খাজনাএই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক ন্যায় এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে নির্ধারণ করা হইয়াছেবলিয়া গণ্য হইবে।
উপধারা-(২)যেক্ষেত্রেন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ অনুযায়ী নির্ধারিতহইয়াছে কিন্তু তা এই আইনের অন্য কোনো বিধান মোতাবেক কার্যকরী না হয়সেক্ষেত্রে যে এলাকায় উক্ত ভূমি অবস্থিত সেই এলাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণীতালিকা ঘোষণা করে ৪৩ ধারার (২) উপধারা মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখেরপরবর্তী কৃষি বছরের প্রথম দিন হতে তা কার্যকর হইবে।
ধারা-২৩(খাস ভূমির যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা নির্ধারণ)

এই অধ্যায় মোতাবেক খতিয়ান প্রণয়ন ও পরিমার্জনের ক্ষেত্রে একজন রাজস্বঅফিসার ২য় অধ্যায় মোতাবেক যে মালিক অথবা মধ্যস্বত্বের অধিকারীর স্বার্থঅধিগ্রহণ করা হইয়াছে সে সেহ একজন মালিক অথবা মধ্যস্বত্বের অধিকারীর খাসদখলীয় ঐ এলাকার স্বত্বলিপিভুক্ত প্রত্যেক খন্ড ভূমির খাজনা নির্ধারণকরিবেন-
(i)যদি ঐরূপ ভূমি কৃষি ভূমি হয় তবে একই গ্রামে অথবাপার্শ্ববর্তী গ্রামে অবস্থিত অনুরূপ বর্ণনা ও সুবিধা সংবলিত ভূমির জন্যদখলদার রায়তগণ কতৃর্ক সাধারণভাবে প্রদত্ত খাজনার হার বিবেচনা করিয়া রাজস্বঅফিসার যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনার হার নির্ধারণ করিবেন; এবং
(ii)যদিঐরূপ ভূমি অকৃষি ভূমি হয় এবং তবে রাজস্ব অফিসার নিম্নলিখিত বিষয়সমূহবিবেচনা করিয়া যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনার হার নির্ধারণ করিবেন-
(ক)সংলগ্ন এলাকার অনুরূপ সুবিধা ও বর্ণনা সংবলিত অকৃষি ভূমির জন্য সরকারকে বা অন্য কোনো ভূ-স্বামীকে সাধারণভাবে প্রদত্ত খাজনা;(খ)ধারা ১৭ মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অব্যবহিত পূর্বে ঐ ভূমির বাজার মূল্য; এবং
(গ)প্রদানযোগ্য খাজনা যাতে নির্ধারিত খাজনার হার বাজার মূল্য অপেক্ষা শতকরা এক ভাগের বেশী না হয়;
ঐরূপ মালিক অথবা মধ্যস্বত্বের অধিকারী ২০ ধারা মোতাবেক উক্ত খন্ড ভূমি দখলে রাখার অধিকারী হউক বা না হউক।
শর্তথাকে যে, যেক্ষেত্রে কোনো এস্টেট, তালুক বা মধ্যস্বত্বের ক্ষেত্রে বিগতপনেরো বছরের মধ্যে ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ করা হইয়াছে সেক্ষেত্রে সেইনির্ধারণে যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত হিসেবে গৃহীত খাজনার হারকে এই ধারার অর্থেযথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।
ব্যাখাঃ এই ধারার প্রয়োগের জন্য ভূমির উপর দন্ডায়মান দালান অথবা ইমারত ভূমির অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
ধারা-২৪( রায়ত ও অধীনস্থ রায়তদের যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা নির্ধারণ)
উপধারা-(১)এইঅধ্যায়ের অধীনে স্বত্বলিপি প্রণয়ন ও পরিমার্জনের ক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসারস্বত্বলিপি প্রণয়ন বা পরিমার্জনের সময়ে এলাকায় অবস্থিত স্বত্বলিপিরঅন্তর্ভুক্ত একজন রায়ত বা অধীনস্থ রায়ত কর্তৃক অধিকৃত ভূমির জন্যপ্রদানযোগ্য খাজনা (২) (৩) ও (৪) উপধারার বিধানসমূহ সাপেক্ষে যথাযথ ওন্যায়সঙ্গত বলিয়া অনুমান করিবেন।
উপধারা-(২)যেক্ষেত্রেরায়ত কতৃর্ক উক্ত ভূমির জন্য প্রদানযোগ্য খাজনার পরিমাণ রাজস্ব অফিসারেরমতানুসারে যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত বলিয়া প্রতীয়মান না হয়, সেক্ষেত্রে তিনিএকই গ্রামে অথবা পার্শ্ববর্তী গ্রামে অবস্থিত অনুরূপ বর্ণনা ও সুবিধাসংবলিত ভূমির জন্য দখলকার রায়ত কতৃর্ক সাধারণভাবে প্রদত্ত খাজনার হারবিবেচনা করিয়া তিনি যে পরিমান যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত মনে করেন সেই পরিমাণহ্রাস করিবেন।
উপধারা-(৩) যেক্ষেত্রেঅধীনস্থ রায়ত কতৃর্ক কোনো ভূমির জন্য প্রদানযোগ্য খাজনার পরিমাণ রাজস্বঅফিসারের মতানুসারে যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত বলে প্রতীয়মান না হয় সেক্ষেত্রেতিনি একই গ্রামে অথবা পাশ্ববর্তী গ্রামে অবস্থিত অনুরূপ বর্ণনা ও সুবিধাসম্বলিত ভূমির জন্য দখলদার রায়ত কতৃর্ক প্রদানযোগ্য যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গতখাজনা অপেক্ষা শতকরা ৫০ ভাগের বেশী নহে এরূপ পরিমাণ খাজনা হ্রাস করিতেপারেন।
উপধারা-(৪)কোনোরায়ত অথবা অধীনস্থ রায়ত যদি (১) উপধারায় বর্ণিত কোনো ভূমি সম্বন্ধীয়খাজনা দ্রব্যের মাধ্যমে প্রদান করে অথবা অাসলের অংশের নির্ধারিত মূল্যেপ্রদান করে অথবা ঐ সকল নিয়মের মধ্যে একাধিক নিয়মে প্রদান করে তবে রাজস্বঅফিসার ঐ খাজনাকে ঐ ভূমির বার্ষিক মোট উত্‍পাদিত ফসলের মোট মূল্যের একদশমাংশের বেশী নহে এরূপ যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত আর্থিক খাজনায় রূপান্তরিতকরিবেন; যা নির্ধারণ করা হইবে ঐ ভূমির স্বাভাবিক উত্‍পাদন নির্ধারিত নিয়মেবহুগুণ বৃদ্ধি করে বিগত বিশ বছরে প্রত্যেক প্রকার ফসলের গড়মূল্য বাহিরকরিয়া সেই সঙ্গে যে বছর ফসলেরমূল্যাঅস্বাভাবিক ছিল সেই বছরের হিসাব হইতেবাদ দিয়ে
শর্ত থাকে যে, রাজস্ব অফিসার ঐ খাজনাকে যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গতআর্থিক খাজনায় রূপান্তরিত করিবার সময় ঐ রায়ত অথবা অধীনস্থ রায়তের উর্ধ্বতনভূমির মালিককে ঐ রায়ত বা অধীনস্থ রায়তের উর্ধ্বতন ভূমির মালিককে ঐ রায়ত বাঅধীনস্থ রায়তের উর্ধ্বতন ভূমির মালিক কতৃর্ক প্রদানযোগ্য খাজনার ২৫ ভাগেরকম নয় ও ৫০ ভাগের বেশী নয় অনুরূপ একটি লাভের অংশ প্রদান করিবেন।
যখন ঐউর্ধ্বতন ভূমির মালিক দ্রব্যের মাধ্যমে বা ফসলের অংশের নির্ধারিত মূল্যে বাফসলের সাথে উক্ত উঠানামা করা হারে বা এই সকল নিয়মের মধ্যে একাধিক নিয়মেখাজনা প্রদান করে।
ধারা-২৫(অকৃষি প্রজাগণের ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা নির্ধারণ)

এই অধ্যায় মোতাবেক খতিয়ান প্রস্তুত এবং পুনঃপরীক্ষণের সময় রাজস্ব অফিসাররায়তীয় স্বত্বের অধিকারী ব্যতীত সকল অকৃষি প্রজাগণ কতৃর্ক অধিকৃত সকলঅকৃষি ভূমির জন্য ২৩ ধারার বিধানসমূহের যতটুকু অকৃষি ভূমির ক্ষেত্রেপ্রযোজ্য হয় ততটুকু ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা নির্ধারণ করিবেন ।
শর্তথাকে যে, যেক্ষেত্রে ঐরূপ কোনো প্রজা কোনো স্বত্বাধিকারী অথবা রায়তীস্বত্বের অধিকারী ছাড়া অপর কোনো ব্যক্তির অধীনে কোনো ভূমি অধিকারে রাখেসেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার উক্ত ভূমির জন্য ঐ প্রজা কতৃর্ক প্রদত্ত প্রচলিতখাজনাকে ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত বলিয়া অনুমান করেন যদি তাহা উক্ত ব্যক্তিকতৃর্ক ঐভূমির জন্য প্রদানযোগ্য ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত খাজনা অপেক্ষাশতকরা ৫০ ভাগের বেশী না হয় এবং তা যদি বেশী হয় তবে রাজস্ব অফিসার উক্তপ্রজা কতৃর্ক অধিকৃত উক্ত ভূমির ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা অপেক্ষা শতকরা৫০ ভাগের বেশী না হয় এরূপ পরিমাণ খাজনা ধার্য করিবেন।
ধারা-২৫ক(কতিপয় ক্ষেত্রে খাজনা বৃদ্ধি ও নির্ধারণ)
উপধারা-(১)যেক্ষেত্রেকোনো তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের খাজনা ঐরূপ তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের মালিক কতৃর্ক ভূমির উপরস্থ মালিক অথবাসরকারকে প্রদানযোগ্য খাজনা বা রাজস্ব অপেক্ষা কম হয় সেক্ষেত্রে রাজস্বঅফিসার ঐরূপ তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের খাজনার পরিমাণবৃদ্ধি করিতে পারেন যাহা ঐরূপ তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বেরমালিক কতৃর্ক প্রদানযোগ্য খাজনা বা রাজস্বের চেয়ে কম হইবে না।
শর্ত থাকেযে, যখন কোনো তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্ব মূল এস্টেট,তালুক, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের অংশ নিয়ে গঠিত হয় তখন এই ধারা মোতাবেকখাজনা বৃদ্ধির পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার কোনো ভূমির জন্যভূমির মালিককে প্রদানযোগ্য খাজনা ও মূল এস্টেট, তালুক,মধ্যস্বত্ব, জোতঅথবা প্রজাস্বত্বের অবশিষ্ট অংশসহ উক্ত ভূমির মালিকের খাস দখলীয় ভূমিরখাজনার মূল্য বিবেচনা করিবেন।
উপধারা-(২)যেক্ষেত্রেমধ্যস্বত্বের অধিকারী, রায়ত, অধীনস্থ রায়ত অথবা অকৃষি প্রজা কতৃর্ক অধিকৃতভূমির খাজনা ধার্যের জন্য দায়ী হয়, কিন্তু এ সম্পর্কে কোনো খাজনা ধার্যকরা হয়নিসেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার মধ্যস্বত্বের অধিকারী কতৃর্ক প্রদানযোগ্যখাজনা ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের (৭) ধারা অনুসারে এবং ঐরূপরায়ত ও অধীনস্থ রায়ত কতৃর্ক প্রদানযোগ্য খাজনা (২৬) ধারার নীতি অনুসারেনির্ধারণ করিবেন।
ধারা-২৬(নিস্কর জমির খাজনা ধার্যকরণ)
উপধারা-(১)যেক্ষেত্রেকোনো একজন রায়ত অথবা অধীনস্থ রায়ত কতৃর্ক কোনো নিষ্কর ভূমির অধিকার লাভকরেন সেক্ষেত্রে একই গ্রামে অথবা পার্শ্ববর্তী গ্রামে অবস্থিত অনুরূপবর্ণনা ও অনুরূপ সুবিধা বিশিষ্ট ভূমির দখলী রায়তগণ সাধারণতঃ যে খাজনাপ্রদান করেন সেই হার বিবেচনা করে রাজস্ব অফিসার বিবেচনা অনুযায়ী ন্যায্য ওন্যায়সঙ্গত খাজনা নির্ধারণ করিবেন।
উপধারা-(২)যেক্ষেত্রেকোনো রায়ত কতৃর্ক কোনো নিষ্কর অকৃষি ভূমির অধিকার লাভ করা হয় সেক্ষেত্রেঐরূপ ভূমির খাজনা অকৃষি ভূমির ক্ষেত্রে ২৩ ধারার বিধান যতখানি প্রযোজ্যসেইভাবে উক্ত ধারার বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।
ধারা-২৭(কোনো কোনো ক্ষেত্রে পৃথক জোত অথবা প্রজাস্বত্ব সৃষ্টি)

যেক্ষেত্রে মালিক অথবা রায়তীস্বত্বের অধিকারী ছাড়া কোনো খাজনা প্রাপকএকটি জোত অথবা প্রজাস্বত্বের একটি অংশ খাস দখলে রাখে সেক্ষেত্রে উক্ত অংশএকটি পৃথক জোত অথবা প্রজাস্বত্বরূপে গণ্য হইবে এবং তাহার জন্য পৃথকভাবেখাজনা ধার্য করা হইবে এবং ঐরূপ খাজনা ধার্য করার সময় রাজস্ব অফিসার মূল জোতঅথবা প্রজাস্বত্বের খাজনা নতুন জোত বা প্রজাস্বত্বের আনুপাতিক এলাকা ওমূল্য এবং ঐ শ্রেণীর জোত বা প্রজাস্বত্বের ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত খাজনানির্ধারণ করার নিমিত্ত এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ বিবেচনা করিবেন।
ধারা-২৮(সেবামূলক প্রজাস্বত্বের খাজনা নির্ধারণ)

এই অধ্যায় মোতাবেক খতিয়ান প্রস্তুত বা পরিমার্জনের ক্ষেত্রে রাজস্বঅফিসার উক্ত রেকর্ডের সংশ্লিষ্ট এলাকায় যদি কোনো ব্যক্তি সেবার বিনিময়েকোনো ভূমির খাজনা ছাড়া অধিকারে রাখার সাক্ষ্য দিতে পারে তবে ঐ ভূমির খাজনাএকই গ্রামে অথবা পার্শ্ববর্তী গ্রামে অবস্থিত অনুরূপ বর্ণনা এবং অনুরূপসুবিধা সংবলিত ভূমির জন্য দখলীয় রায়ত কতৃর্ক প্রদত্তখাজনার হার বিবেচনায়রাখিয়া যে হার যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত মনে করিবেন সেই হারে ধার্য করিবেন।
শর্তথাকে যে, এই ধারার কোনো কিছুই চা এস্টেটের এলাকায় বা অন্য কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের এলাকায় অবস্থিত সেবার বিনিময়ে নিষ্কর ভূমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্যহইবে না।
ধারা-২৯(এই অধ্যায়ের অধীনে খাজনা নির্ধারণের ফলাফল)
উপধারা-(১)এইঅধ্যায়ের অধীনে নির্ধারিত ও ১৯ ধারা মোতাবেক চুড়ান্তভাবে প্রকাশিতস্বত্বলিপি বা খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত সমস্ত খাজনা ৫৩ ধারার বিধান সাপেক্ষেশুদ্ধভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণার্থে ন্যায্য ওন্যায়সঙ্গত হয়েছে বলিয়া গণ্য করা হইবে।
উপধারা-(২)এইঅধ্যায়ের বিধানসমূহ মোতাবেক কোনো খাজনা নির্ধারণ সম্বন্ধে অথবা উক্তখাজনা নির্ধারণ থেকে বাদ দেয়া সম্বন্ধে আদালতে কোনোমামলা দায়ের করা চলিবেনা।
ধারা-৩০(দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা)
উপধারা-(১)কোনোএলাকা সম্বন্ধে খতিয়ান প্রস্তুত এবং পরিমার্জন করার নিমিত্ত ১৭ ধারামোতাবেক কোনো আদেশ জারি করার পর কোনো দেওয়ানী আদালত খাজনা পরিবর্তন অথবাকোনো প্রজার মর্যাদা নিরূপণ অথবা উক্ত এলাকার জোত অথবা প্রজাস্বত্বেরঅনুসঙ্গ সম্বন্ধীয় কোনো মামলা অথবা দরখাস্ত গ্রহণ করিবেন না; এবং ঐ এলাকাসম্বন্ধীয় কোনো মামলা বা দরখাস্ত যদি কোনো দেওয়ানী আদালতে আদেশ প্রদানেরতারিখে রুজু অবস্থায় থাকে, তবে তাহা আর চলিতে দেয়া হইবে না এবং তা বাতিলহইবে।
ব্যাখ্যাঃ এই উপধারায় মামলা বলতে একটি আপিলকেও অন্তর্ভুক্ত করিবে।
উপধারা-(২) এইঅধ্যায়ের অধীনে কোনো খতিয়ান প্রস্তুত, বা পুনঃপরীক্ষণের জন্য প্রদত্তআদেশ সম্বন্ধে বা ঐরূপ কোনো রেকর্ড বা তার অংশবিশেষ প্রস্তুত, প্রকাশ,স্বাক্ষর অথবা সত্যায়ন সম্পর্কে দেওয়ানী আদালতে মামলা আনয়ন করাযাইবে না।
উপধারা-(৩)কোনোভূমি সম্পর্কে দেওয়ানী আদালতের বা হাইকোর্টের কোনো মামলা, আপিল বাকার্যক্রম বা ঐরূপ মামলা, আপিল বা কার্যক্রমে প্রদত্ত কোনো আদেশ এই আইনেরবিধানসমূহ মোতাবেক খতিয়ান অথবা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রণয়ন অথবাপুনঃপরীক্ষণ করার পথে কোনো প্রতিবন্ধকরূপে কার্যকর হইবে না।
ধারা-৩১(বর্তমান খতিয়ান সমূহের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রস্তুত)
উপধারা-(১)১৭ধারার কার্যক্রমের পরিবর্তে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৮৮৫ সালেরবঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ১০ম অধ্যায় অথবা ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্বআইনের ৯ম অধ্যায় মোতাবেক সর্বশেষ প্রস্তুতকৃত এবং চুড়ান্তভাবে প্রকাশিতখতিয়ানের উপর ভিত্তি করিয়াকোনো রিভিশন ছাড়া অথবা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিতবিবরণ রিভিশন বা রেকর্ডভুক্ত করার পর কোনো নির্দিষ্ট জেলা অথবা জেলার অংশবা স্থানীয় এলাকা সম্বন্ধে ৫ম অধ্যায় মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীপ্রস্তুত করার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
উপধারা-(২)যেক্ষেত্রে(১) উপধারার অধীনে কোনো আদেশ প্রদান করা হয় সেক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যেরাজস্ব অফিসার সরকার কতৃর্ক প্রণীত বিধি মোতাবেক বিবরণসমূহ রিভিশন অথবারেকর্ডভুক্ত করিবেন।
উপধারা-(৩)উপধারা (২) মোতাবেক শুদ্ধকৃত স্বত্বলিপি এই অধ্যায়ের অধীনে যথাযথভাবে রিভিশনকৃত এবং চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হইয়ছে বলিয়া গণ্য করা হইবে।
উপধারা-(৪) যেক্ষেত্রেউপধারা (১) মোতাবেক কোনো এলাকা সম্বন্ধে কোনো আদেশ দেয়া হয় সেক্ষেত্রে১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন এর ১০৫, ১০৫ক এবং ১০৬ ধারা বা ১৯৩৬সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইন এর ১২১, ১২২ এবং ১২৩ ধারা, যেখানে যা প্রযোজ্যহইবে, উক্ত এলাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না এবং উক্ত আদেশ প্রদানেরতারিখে উক্ত ধারাসমূহের অধীনে বিচারাধীন কোনো দরখাস্ত, মামলা বাকার্যক্রমসমূহ আর চলিবে না এবং বাতিল হইবে।
পঞ্চম অধ্যায়
খাজনা প্রাপকদের স্বার্থ ও কতিপয় অন্যান্য
স্বার্থ অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ
ধারা-৩২(ব্যাখা)

এই অধ্যায়ে খাজনা প্রাপক, মালিক অথবা মধ্যস্বত্বের অধিকারী বলিতেদ্বিতীয় অধ্যায়ের অধীনে যে খাজনা প্রাপক স্বত্বাধিকারী অথবা মধ্যস্বত্বেরঅধিকারী স্বার্থসমূহ অধিগ্রহণ করা হইয়াছে তাহাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে বাবুঝায়।
ধারা-৩৩(ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রস্তুতের আদেশ)

৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক যে কোনো জেলা, জেলার অংশ বিশেষ অথবা স্থানীয় এলাকাসম্বন্ধীয় খতিয়ান প্রস্তুত, পুনঃপরীক্ষণ এবং চুড়ান্তভাবে প্রকাশের সাথেসাথে রাজস্ব অফিসার নির্ধারিত ফরমে এবং নির্ধারিত উপায়ে ক্ষতিপূরণ নির্ধারনবিবরণী তৈরী করিবেন যাহার মধ্যে উক্ত জেলা, জেলার অংশবিশেষ অথবা স্থানীয়এলাকায় অবস্থিত খাজনা প্রাপকগণের সকলের মোট সম্পদ এবং প্রকৃত আয় এবং এইঅধ্যায় অথবা ২য় অধ্যায়ের অধীনে যাহাদের স্বার্থসমূহ অধিগ্রহণ করা হইয়াছেসেই সমস্ত ব্যক্তিগণকে এই আইনের বিধানসমূহ মোতাবেক প্রদেয় ক্ষতিপুরণসহনির্ধারিত অপরাপর বিবরণসমূহ উল্লেখ থাকিবে।
শর্ত থাকে যে, সম্পত্তিসম্বন্ধে পঞ্চম ক অধ্যায় মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী তৈরী করাহইয়াছে এই অধ্যায় অথবা ২য় অধ্যায়ের অধীনে অধিগ্রহণকৃত উক্ত সম্পত্তিরক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী তৈরীর কোনোপ্রয়োজন নাই।
ধারা-৩৪(মালিক, মধ্যস্বত্বের অধিকারী বা অন্যান্য খাজনা প্রাপকগণের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও পরিশোধের ক্ষেত্রে পৃথক ব্যবহার)

এরূপ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী তৈরীর ক্ষেত্রে বিবরণীর সাথেম্বন্ধযুক্ত এলাকায় অবস্থিত কোনো এস্টেট, মধ্যস্বত্ব, জোত বা প্রজাস্বত্ববা কোনো এস্টেটের, মধ্যস্বত্বের, জোতের বা প্রজাস্বত্বের খন্ডে খাজনাআদায়কারী প্রত্যেক স্বত্বাধিকারী, মধ্যস্বত্বের অধিকারী বা অন্যান্য খাজনাপ্রাপক, সে ভিন্নভাবে খাজনা আদায় করুক বা অন্যান্যদেরসঙ্গে আদায় করুক নাকেন এ অধ্যায় মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে পৃথকভাবেব্যবহৃত হইবে।
শর্ত থাকে যে, মিতক্ষরা আইন মোতাবেক নিয়ন্ত্রিত অবিভক্তহিন্দু পরিবারের ক্ষেত্রে উক্ত পরিবারের অন্তর্ভুক্ত সমস্ত খাজনা প্রাপকগণউক্ত উদ্দেশ্যে যৌথভাবে গণ্য বা ব্যবহৃত হবে।
আরও শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে একাধিক স্বত্ত্বাধিকারী, মধ্যস্বত্বের অধিকারী অথবা অন্যান্যখাজনা প্রাপক যৌথভাবে খাজনা প্রাপকের স্বার্থসমূহ অধিকারে রাখে এবং ঐরূপস্বার্থসমূহের প্রকৃত আয় পাঁচশত টাকা অতিক্রম না করে সে ক্ষেত্রে উক্তস্বত্বাধিকারীগণ, রায়তী স্বাত্বের অধিকারীগণ, অন্যান্য খাজনা প্রাপকগণ এইঅধ্যায় মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে যৌথভাবে গণ্য বা ব্যবহৃতহইতে পারে।
ধারা-৩৫(খাজনা প্রাপকগণের মোট আয় প্রকৃত আয় গণনা)
উপধারা-(১)এই অধ্যায় মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রণয়নের উদ্দেশ্যে-
(ক)খাজনা প্রাপকের মোট আয় অধীনস্থ প্রজা কতৃর্ক ঐ খাজনা প্রাপককে দেয়া মোট খাজনা ও সেস  এরসমস্টিকে ধরিতেহইবে।
(i)২য় অধ্যায় মোতাবেক স্বার্থ অধিগৃহণের ক্ষেত্রে নোটিশে বর্ণিত তারিখের অব্যবহিত আগের কৃষি বছরের জন্য; ও
(ii)অন্যান্য ক্ষেত্রে ৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত স্বত্বলিপির অব্যবহিত আগের কৃষি বছরের জন্য; এবং

যেক্ষেত্রে ঐ খাজনা প্রাপক এবং এস্টেটের মালিক অথবা মধ্যস্বত্বেরঅধিকারী হয়, সেক্ষেত্রে ২০ ধারা মোতাবেক খাস ভূমি দখলে রাখার জন্য ৪র্থঅধ্যায় মোতাবেক নির্ধারিত মোট যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা ও ক্ষতিপূরণনির্ধারণী পণয়নের জন্য গণনা করা হয়।
তবেশর্ত থাকে যে, ২৪, ২৫, ২৫ক, ২৭এবং ২৮ ধারায় বর্ণিত মধ্যস্বত্বের অধিকারী,রায়ত, অধীনস্থ রায়ত অথবা অকৃষিপ্রজার ক্ষেত্রে ঐ ভূমির জন্য ঐ সকল ধারার বিধান মোতাবেক ধার্যকৃত ওনির্ধারিত ও ৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত স্বত্বলিপিতেঅন্তর্ভুক্ত খাজনাকে এই দফার উদ্দেশ্যে ঐ বছরের ঐভূমির জন্য ঐ মধ্যস্বত্বেরঅধিকরী রায়ত, অধীনস্থ রায়ত অথবা অকৃষি প্রজা কর্তৃক তার উপরস্থ উর্ধ্বতনভূমির মালিককে দেয়া খাজনা বলে ধরিয়া লওয়া হইবে;(খ)মোট আয় হতে নিম্নলিখিত অর্থ বাদ দিয়ে খাজনা প্রাপকের প্রকৃত আয় গণনা করা হবে-
(i)মোট আয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত ভূমির ক্ষেত্রে সরকার বা উপরস্থ ভূমিরমালিককে,ভূমি রাজস্ব অথবা খাজনা ও সেস হিসেবে গ্রহীতা কর্তৃক প্রদানের জন্যগণনা করা হইয়াছিল অথবা গণনা করা হইয়াছে যে পরিমাণ অর্থ;(ii)ঐ বছরের আয়েরজন্য ১৯৪৪ সালের বঙ্গীয় কৃষি আয়কর আইন মোতাবেক কর হিসেবে ঐ খাজনা প্রাপককর্তৃক প্রদানের জন্য গণনা করা হইয়াছিল অথবা গণনা করা হইয়াছে যে পরিমাণঅর্থ;(iii)ঐ বছরের আয়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত অকৃষি হতে আগত আয়ের জন্য ১৯২২সালের আয়কর আইন মোতাবেক কর হিসেবে ঐ খাজনা প্রাপক কর্তৃক প্রদানের জন্যগণনা করা হইয়াছিল অথবা গণনা করা হইয়াছে যে পরিমান অর্থ;(ivঐ ভূমির সেচব্যবস্থা এবং সংস্কারমূলক কার্যাদি পরিচালনা করার জন্য খাজনা প্রাপক কর্তৃকব্যয়কৃত অর্থের বার্ষিক গড় পরিমাণ অর্থ;(iv)মোট আয়ের শতকরা ২০ ভাগের বেশীনহে ঐ পরিমাণ আদায়ের জন্য চার্জ বাবদ অর্থ।
উপধারা-(২)উপধারা(১) এর (খ) দফার (i),(ii),(iii)উপদফায় বর্ণিত অর্থ গণনা করিতে গিয়ে অথবা ঐদফার (i)উপদফায় বর্ণিত ব্যয় এবং চার্জ নির্ধারণ করিতে গিয়ে রাজস্ব অফিসাসরকার কর্তৃক এই উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিসমূহ মোতাবেক পরিচালিত হইবে।
ধারা-৩৬(কর্তৃপক্ষকে মানিতে অসম্মত স্বত্বাধিকারীর প্রকৃত আয়)

৩৬ ধারায় ভিন্নরূপ কোনো কিছু থাকা সত্ত্বেও অস্থায়ীভাবে বন্দোবস্তকৃতব্যক্তিগত ভূ-সম্পত্তির অসম্মত মালিকের ক্ষেত্রে ৩৫ ধারার (১) উপধারার (ক)দফার (i)অথবা (ii)উপদফার উল্লেখিত কৃষি বত্‍সরের ঐরূপ স্বত্বাধিকারীকেপ্রদেয় মালিকানাকে ৩৫ ধারা মোতাবেক হিসাবকৃত ঐরূপ স্বাত্বধিকারীর প্রকৃত আয়হিসেবে গণ্য করা হইবে।
ধারা-৩৬ক(শেইর (SAIR)ক্ষতিপূরণ ভাতাগ্রহণকারী প্রকৃত আয়)

৩৫ ধারায় অন্য কিছু থাকা সত্ত্বেও শেইর(SAIR)ক্ষতিপূরণভাতা, যা বাজারের, জমিতে আদায়কৃত তোলা ও কর অবলুপ্তির কারণে জমির মালিককেপ্রদান করা হয়, গ্রহণকারীর ক্ষেত্রে ঐ গ্রহণকারীকে বার্ষিক প্রদানযোগ্যশেইর(SAIR)ক্ষতিপূরণ ভাতার পরিমাণকে ৩৫ ধারা অনুযায়ী গণনাকৃত ঐ গ্রহণকারীর প্রকৃত আয় হিসেবে গণ্য করিতে হ্ইবে।
ধারা-৩৭(খাজনা প্রাপকের স্বার্থের জন্য ক্ষতিপূরণের হার)

৩৫ এবং ৩৬ ধারা মোতাবেক প্রকৃত আয় গণনা করার পর খাজনা প্রাপকগণেরস্বার্থ অধিগ্রহণ সম্পর্কে দেয়া ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিম্নলিখিতভাবেনির্ধারণ করা হইবেঃ
উপধারা-(১)এক্ষেত্রেখাজনা প্রাপক কোনো এস্টেটের মালিক, স্থায়ী রায়তীস্বত্ব অথবাপ্রজাস্বত্বের অধিকারী অথবা কোনো রায়ত বা অধীনস্থ, রায়ত হয় সেক্ষেত্রে ঐখাজনা প্রাপকের স্বার্থ হইতে আগত প্রকৃত আয়ের উপর ভিত্তি করিয়া নিম্নলিখিতবিবরণী বা টেবিল অনুসারে নির্ধারণ করা হইবে; যথাঃ
 

বাংলাদেশে মোট প্রকৃত আয়ের পরিমাণ

প্রদানযোগ্য ক্ষতিপূরণের হার

(ক)যেক্ষেত্রে প্রকৃত আয় পাঁচশত টাকা অতিক্রম করে না।

 ঐরূপ প্রকৃত আয়ের দশগুণ ।

(খ)যেক্ষেত্রে গণনাকৃত আয় পাঁচশত টাকা অতিক্রম করে কিন্তু বাংলাদেশে মোট প্রকৃত আয়ের পরিমাণ দুই হাজার অতিক্রম করে না।

ঐরূপ প্রকৃত আয়ের আট গুণ বা উপরের (ক) আইটেম অনুসারে সর্বোচ্চ প্রকৃতপ্রদানযোগ্য ক্ষতিপূরণের হার আয়ের চেয়ে ঐ (ক) আইটেম অনুসারে অতিরিক্তপ্রকৃত আয় দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ, যাহার পরিমাণ অধিকতরহয়।

(গ)যেক্ষেত্রে প্রকৃত আয় দুই হাজার টাকা অতিক্রম করে কিন্তু পাঁচ হাজার টাকা অতিক্রম করে না।

ঐরূপ প্রকৃত আয়ের সাত গুণ বা উপরের (খ) আইটেম অনুসারে সর্বোচ প্রকৃতআয়ের চেয়ে ঐ (খ) আইটেম অনুসারে অতিরিক্ত প্রকৃত আয় দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্তসর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ, যাহার পরিমাণ অধিকতর হয়।

 

(ঘ)যেক্ষেত্রে প্রকৃত আয় পাঁচ হাজার টাকা অতিক্রম করে কিন্তু দশ হাজার টাকা অতিক্রম করে না।

ঐরূপ প্রকৃত আয়ের ছয় গুণ বা উপরের (গ) আইটেম অনুসারে সর্বোচ প্রকৃত আয়েরচেয়ে ঐ (গ) আইটেম অনুসারে অতিরিক্ত প্রকৃত আয় দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্তসর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ, যাহার পরিমাণ অধিকতর হয় ।

(ঙ)যেক্ষেত্রে প্রকৃত আয় দশ হাজার টাকা অতিক্রম করে কিন্তু পঁচিশ হাজার টাকা অতিক্রম করে না।

ঐরূপ আয়ের পাঁচ গুণ বা উপরের (ঘ) আইটেম অনুসারে সর্বোচপ্রকৃত আয়ের চেয়ে ঐ(ঘ) আইটেম অনুসারে অতিরিক্ত প্রকৃত আয় দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সর্বোচ্চপরিমাণ অর্থ, যাহার পরিমাণ অধিকতর হয়।

(চ)যেক্ষেত্রে প্রকৃত আয় পঁচিশ হাজার টাকা অতিক্রম করে কিন্তু পঞ্চাশ হাজার টাকা অতিক্রম করে না।

ঐরূপ আয়ের চার গুণ বা উপরের (ঙ) আইটেম অনুসারে সর্বোচ্চ প্রকৃত আয়েরচেয়ে ঐ (ঙ) আইটেম অনুসারে অতিরিক্ত প্রকৃত আয় দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্তসর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ, যাহার পরিমাণ অধিকতর হয়।

(ছ)যেক্ষেত্রে প্রকৃত আয় পঞ্চাশ হাজার টাকা অতিক্রম করে কিন্তু এক লক্ষ টাকা অতিক্রম করে না।

 

ঐরূপ আয়ের তিন গুণ বা উপরের (চ) আইটেম অনুসারেসর্বোচ্চ প্রকৃত আয়ের চেয়েঐ (চ) আইটেম অনুসারে অতিরিক্ত প্রকৃত আয় দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সর্বোচ্চপরিমাণ অর্থ, যাহার পরিমাণ অধিকতর হয়।

 

(জ)যেক্ষেত্রে প্রকৃত আয় এক লক্ষ টাকা অতিক্রম করে।

 ঐরূপ আয়ের দুই গুণ বা উপরের (ঙ) আইটেম অনুসারে সর্বোচ্চ প্রকৃত আয়েরচেয়ে ঐ (ঙ) আইটেম অনুসারে অতিরিক্ত প্রকৃত আয় দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্তসর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ, যাহার পরিমাণ অধিকতর হয়।

উপধারা-()যেক্ষেত্রেখাজনা প্রাপক অস্থায়ী মধ্যস্বত্বের অথবা অস্থায়ী অপর কোনো প্রজাস্বত্বেরঅধিকারী হয় সেক্ষেত্রে উক্ত খাজনা প্রাপকের স্বার্থ অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেউক্ত খাজনা প্রাপক প্রদানযোগ্য ব্যক্তি উক্ত খাজনা প্রাপকের উপরস্থ মালিকেরস্বার্থ অধিগ্রহণ করার জন্য এই অধ্যায় অনুযায়ী উপরস্থ মালিককে প্রদানযোগ্যক্ষতিপূরণ হইতে প্রদান করা হইবে; এবং রাজস্ব অফিসার এই আইনের অধীনে প্রণীতবিধিসাপেক্ষে ক্ষতিপূরণের অর্থ অস্থায়ী রায়তীস্বত্ব বা প্রজাস্বত্বেরঅধিকারী ও তার উপরস্থ জমির মালিকের মধ্যে ভাগ করে দিবেন; এবং ঐ অংশ ভাগকরার সময় রাজস্ব অফিসার অস্থায়ী রায়তীস্বত্ত্বের অসমাপ্ত সময় বিবেচনারমধ্যে রাখিবেন এবং
উপধারা-()যেক্ষেত্রেসম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে ওয়কফ, ওয়াকফ-আল-আওলাদ, দোবাত্তর অথবা অপর কোনোট্রাস্ট অথবা আইনতঃ বাধ্যবাধকতার অধীনস্থ কোনো এস্টেট,রায়তীস্বত্ত্ব জোতঅথবা প্রজাস্বত্বের প্রকৃত আয় অথবা প্রকৃত আয়ের কোনো অংশ কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য আর্থিক সুবিধা সংরক্ষণ ছাড়া দাতব্য অথবা ধর্মীয় উদ্দেশ্যেসম্পূর্ণভাবে উত্‍সর্গীকৃত ও প্রযোজ্য হয় সেক্ষেত্রে খাজনা প্রাপকেরস্বার্থ অধিগ্রহণের জন্য প্রদানযোগ্য ক্ষতিপূরণ দফা (১) অনুযায়ী ধার্য করারপরিবর্তে বার্ষিক বৃত্তি হিসেবে নির্ধারিত নিয়মে ধার্য করা হইবে যাহারপরিমাণ ঐ প্রকৃত আয় অথবা আয়ের অংশ যেখানে যা প্রযোজ্য তার সমান হইবে।
ধারা-৩৮(একাধিক এলাকায় কোনো খাজনা প্রাপকের স্বার্থসমূহের ক্ষতিপূরণ বিবরণী প্রস্তুত)

যেক্ষেত্রে কোনো খাজনা প্রাপক একাধিক এলাকায় অবস্থিত স্বার্থসমূহেরখাজনা গ্রহণের অধিকারী হয় সেক্ষেত্রে ঐ স্বার্থ প্রদানযোগ্য ক্ষতিপূরণেরপরিমাণ এই উদ্দেশ্যে সরকার কতৃর্ক প্রণীত বিধিসমূহ মোতাবেক নির্ধারণ করাহইবে এবং উক্ত স্বার্থ সম্বন্ধীয় ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী তৈরী করা হইবে।
ধারা-৩৯(খাস ভূমির ক্ষতিপূরণেরর হার)
উপধারা-()খাজনাপ্রাপক, চাষী রায়ত, অধীনস্থ চাষী রায়ত অথবা অকৃষি প্রজা ২০ ধারা মোতাবেকযে সকল ভূমি অধিকারে রাখতে পারে না সেই খাস দখলীয় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেনিম্নলিখিত বিবরণী অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হইবে।

ভূমির শ্রেণী

প্রদানযোগ্য ক্ষতিপূরণের হার

(ক)কৃষি চাষ, ফল চাষ অথবা পুকুরের জন্য ব্যবহৃত ভূমির জন্য

 উক্ত ভূমি হইতে আগত বার্ষিক লাভের পাঁচগুণ।

(খ)যে সকল ভূমির উপর হাট অথবা বাজার বসে সেই সকল ভূমির জন্য

 উক্ত হাট অথবা বাজার হইতে আগত বার্ষিক লাভের পাঁচগুণ।ঐ

(গ)চাষযোগ্য অথবা সংস্কারের পর চাষযোগ্য ভূমির জন্য-
(i)লাভজনক ভূমি
(ii)অলাভজনক ভূমি

উক্ত ভূমি হইতে আগত বার্ষিক লাভের পাঁচগুণ বা বার্ষিক রায়তী এইউদ্দেশ্যে রাজস্ব অফিসার কতৃর্ক নির্ধারিত পার্র্শ্ববর্তী চাষযোগ্য ভূমিরসমান এলাকার খাজনার দশগুণ, যার পরিমাণ অধিকতর হয়।
একর প্রতি দশ টাকা।

 

(ঘ)মত্‍স্য খামার বা বনাঞ্চলের জন্য বা ফেরী হিসেবে ব্যবহৃত ভমির জন্য

উক্ত ভূমি হইতে আগত বার্ষিক লাভের পাঁচগুণ।

(ঘ-১)জঙ্গল, নদীর কোর্স অথবা মত্‍স্যখামার নয় এরূপ অচাষযোগ্য ভূমি যথা-রাস্তা,পথ, সাধারণের জন্য গোস্থান অথবাশ্মশানঘাট, নদী, খাল ও জলের কোর্স যা সর্ব-সাধারণ তাহাদের স্বাভাবিক অথবাপ্রথাগত অধিকার দ্বারা অথবা ইজমেন্ট-এর অধিকার দ্বারা ব্যবহার করে ঐরূপভূমির জন্য  যেক্ষেত্রে প্রকৃত আয় দশ হাজার টাকা অতিক্রম করে কিন্তু পঁচিশহাজার টাকা অতিক্রম করে না।

 উক্ত ভূমি হতে আগত বার্ষিক লাভের পাঁচগুণ।

(ঙ)খালি অ-কৃষি ভূমির জন্য

নির্ধারিত নিয়মে ধার্যকৃত ভূমি ইজারা দেয়ার বার্ষিক মূল্যের পাঁচগুণ।

(চ)দালানসহ ভূমির জন্য
(i)ভূমি
(ii)দালান

 

নির্ধারিত নিয়মে ধার্যকৃত ভূমি ইজারা দেয়ার বার্ষিক মূল্যের পাঁচগুণ।

নির্ধারিত নিয়মে ধার্যকৃত অপচয় বাদ দিয়ে নির্মাণের প্রকৃত খরচ।

উপধারা-(১ক)উপধারা(১) এ ভিন্নতর কিছু থাকা সত্ত্বেও, যে ভূমিতে হাট বা বাজার বসে অথবা যেভূমি বন অথবা মত্‍স্য খামার লইয়াগঠিত হয় অথবা ফেরীর জন্য ব্যবহৃত হয় ঐরূপওয়াকফ,ওয়াকফ-আল-আওলাদ, দেবাত্তর বা অন্য কোনো ট্রাস্ট-এর অধীনস্থ খাস জমিঅথবা সম্পূর্ণরূপে উত্‍সগীর্কৃত করা হইয়াছে ও যার আয় কোনো ব্যক্তি বিশেষেরআর্থিক সুবিধা সংরক্ষণ ছাড়া ধর্মীয় অথবা দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রযোজ্য করাহইয়াছে এরূপ জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রদানযোগ্য ক্ষতিপূরণ ঐ উপধারায় উল্লেখিতবিবরণী অনুযায়ী নির্ধারণ করার পরিবর্তে নির্ধারিত নিয়মে ধার্যকৃত উক্তপ্রযোজ্য বার্ষিক গড় আয়ের পরিমাণ অর্থ বার্ষিক বৃত্তি হিসেবে ধার্য করাহইবে,কিন্তু উক্ত বৃত্তির পরিমাণ এই ধারার বিধান মোতাবেক নির্ধারিত ঐ জমিহইতে আগত প্রকৃত বার্ষিক লাভের অতিরিক্ত হইবে না।
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল-আওলাদ বা অন্য কোনো ট্রাস্টের অধীনস্থ জমিহইতে ধর্মীয় অথবা দাতব্য উদ্দেশ্যে উত্‍সর্গীত হয় ও অংশ বিশেষ কোনোব্যক্তির আর্থিক সুবিধা লাভের জন্য সংরক্ষণ করা হয় যা এই উদ্দেশ্যেনির্ধারিত হইয়াছে তাহা এই উপধারার আওতাধীন থাকিবে।
উপধারা-(২)উপধারা(১) ও (১ক) মোতাবেক জমির শ্রেণীবিন্যাসের ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ দেখা দিলেতা নির্ধারিত রাজস্ব কতৃর্পক্ষের নিকট পাঠানো হইবে যার সিদ্ধান্ত চুড়ান্তবলিয়া বিবেচিত হইবে।
উপধারা-(৩)উপধারা (১) এর (ক) ও (খ) দফার উদ্দেশ্যে জমি হতে প্রকৃত বার্ষিক লাভ নিম্নলিখিত নিয়মে নির্ধারণ করা হবে৷
(ক)যে বছরের জন্য নির্ধারণী বিবরণ প্রস্তুত করা হইবে তার অব্যবহিত দশ বছরেরপূর্বের প্রত্যেক প্রকার ফসলের গড় দাম দ্বারা, নির্ধারিত নিয়মে জমিরস্বাভাবিক বার্ষিক উত্‍পাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করিয়া প্রথমে জমির বার্ষিকউত্‍পাদনের মোট মূল্য গণনা করা হইবে।
(খ)ভূমির বার্ষিক উত্‍পাদনের মোট মূল্য হইতে নিম্নলিখিত বিষয় বাদ দিয়ে প্রকৃত বার্ষিক লাভ গণনা করিতে হইবে-
(i)আবাদের জন্য খরচ হিসেবে নির্ধারিত নিয়মে ধার্যকৃত অর্থ যার পরিমাণভূমির বার্ষিক উত্‍পাদনের মোট মূল্যের শতকরা পাঁচ ভাগের বেশী হবেনা;(ii)ভূমির বার্ষিক রাজস্ব বা খাজনা ও সেস কর হিসেবে খাজনা প্রাপক, রায়তীকৃষক,অধীনস্থ রায়তী কৃষক বা অকৃষি প্রজা কতৃর্ক প্রদানযোগ্য গণনাকৃতঅর্থ;(iii)১৯৪৪ সালের বঙ্গীয় কৃষি আয়কর আইন মোতাবেক ঐ জমির আয়ের জন্য করহিসেবে খাজনা প্রাপক, রায়তী কৃষক, অধীনস্থ কৃষক অথবা অকৃষি প্রজা কতৃর্কপ্রদানযোগ্য গণনাকৃত অর্থ;(vi)১৯২২ সালের আয়কর আইন মোতাবেক উক্ত জমির আয়েরজন্য কর হিসেবে খাজনা প্রদান অথবা অকৃষি প্রজা কতৃর্ক প্রদানযোগ্য গণনাকৃতঅর্থ।
উপধারা-(৪)উপধারা(১) এর (খ) (ঘ) ও (ঘ-১) দফার উদ্দেশ্যে প্রকৃত বার্ষিক আয় বলিতে এইউদ্দেশ্যে সরকার কতৃর্ক প্রণীত বিধিমালা মোতাবেক রাজস্ব অফিসার কর্তৃকনির্ধারিত প্রকৃত বার্ষিক আয়কে বুঝায়।
উপধারা-(৫)যেক্ষেত্রেরায়তী কৃষক অথবা অকৃষি প্রজা কতৃর্ক অধিকৃত জমি যার জন্য (১) উপধারামোতাবেক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়, রেহেন অবস্থায় থাকে, সেক্ষেত্রে উক্তউপধারা মোতাবেক ঐ রায়তী কৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক অথবা অকৃষি প্রজা ও তাহাররেহেন গ্রহীতার মধ্যে ভাগ করিয়া দেওয়া হইবে; এবং রাজস্ব অফিসার এই আইনমোতাবেক এই আইনের উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধানসমূহ মোতাবেক উক্ত ক্ষতিপূরণ ভাগকরিয়াদিবেন;এবং ঐ ভাগ করার সময় রাজস্ব অফিসার খাই-খালাসী রেহেনের ক্ষেত্রেউক্ত রেহেনের ক্ষেত্রে উক্ত রেহেনের অসমাপ্ত সময়কে বিবেচনার মধ্যে রাখিবেন।
ধারা-৪০( ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রাথমিকভাবে প্রকাশ)

এই অধ্যায়ের অধীনে অধিগ্রহণযোগ্য বা ২য় অধ্যায় মোতাবেক অধিগ্রহণ করাহইয়াছে এই রকম খাজনা প্রাপক চাষী রায়ত, অধীনস্থ চাষী রায়ত এবং অকৃষি প্রজারখাজ ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ২৭, ৩৮ এবং ৩৯ ধারা মোতাবেক প্রদেয়ক্ষতিপূরণের অংক নির্ধারিত হওয়ার পর ৩৩ ধারা মোতাবেক রাজস্ব কর্মকর্তাক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী তৈরী করিবেন ও উক্ত বিবরণী যখন তৈরী হইবে রাজস্বঅফিসার তখন তার খসড়া নির্ধারিত নিয়মে ত্রিশ দিনের কম নহে এরূপ সময়ের জন্যপ্রকাশ করাইবেন এবং উক্ত প্রকাশের সময়ের মধ্যে এতে কোনো কিছু অন্তর্ভুক্তকরা অথবা এ হইতে কোনো কিছু বাদ দেওয়া সম্বন্ধে আপত্তি গ্রহণ করিবেন ও তাবিবেচনা করিবেন এবং সরকার কতৃর্ক এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিমালা মোতাবেক ঐসমস্ত আপত্তির নিষ্পত্তি করিবেন।
তবেশর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীনে কোনো আপত্তি করা চলিবে না-
(i)এই ব্যক্তির দ্বারা যে খসড়া ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরীতে অন্তর্ভুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়নি; অথবা
(ii)ঐ বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এরূপ খাজনার পরিমাণ সম্বন্ধে যা ৫ ধারাঅথবা ৪র্থ অধ্যায় অথবা ৪৬ক ধারার (২) উপধারা মোতাবেক নির্ধারিত হইয়াছে।
উপধারা-(২)কোনোজেলায় অথবা জেলার অংশে অথবা স্থানীয় এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন গ্রাম অথবাদলবদ্ধ গ্রামসমূহের নিমিত্ত অথবা এক বা একাধিক ব্যক্তি যাহার অথবা যাহাদেরবিভিন্ন এলাকায় থাকা স্বার্থ যে সম্বন্ধে ৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক খতিয়ানরিভিশন এবং চুড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হইয়াছে তাহার বা তাহাদের নিমিত্ত (১)উপধারা মোতাবেক ভিন্ন খসড়া ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রস্তুত ও প্রকাশকরা যাইতে পারে।
ধারা-৪১(উর্ধ্বতন রেভিনিউ কতৃর্পক্ষের নিকট আপিল)

৪০ ধারার (১) উপধারায় প্রদত্ত রাজস্ব অফিসারের প্রতিটি আদেশের বিরুদ্ধেউক্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে দুই মাস মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত উধ্বতনরাজস্ব অফিসারের নিকট আপিল করা চলিবে; এবং উক্ত উর্ধ্বতন রাজস্ব অফিসারএতদুদ্দেশ্যে সরকার কতৃর্ক প্রণীত বিধিমালা মোতাবেক উক্ত অাপিল বিবেচনা ওনিষ্পত্তি করিবেন।
ধারা-৪২(ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীর চুড়ান্ত প্রকাশ)

যেক্ষেত্রে ঐরূপ সমস্ত আপত্তি ও আপিলের নিষ্পত্তি হয় সেই ক্ষেত্রে খসড়াক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীতে রাজস্ব অফিসার ঐরূপ পরিবর্তন সাধন করিবেনযাহা৪০ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক আনীত আপত্তি বা ৪১ ধারা মোতাবেক আপিলেরপ্রেক্ষিতে দেওয়া আদেশ কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন হইয়া পড়ে এবং ঐ পরিবর্তিতবিবরণী নির্ধারিত নিয়ম মোতাবেক চুড়ান্তভাবে প্রকাশ করিবেন এবং উক্ত প্রকাশএই অধ্যায়ের অধীনে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী সঠিকভাবে প্রস্তুতহইয়াছেতাহার চুড়ান্ত সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হইবে এবং চুড়ান্তভাবে প্রকাশিতক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রতিটি এন্ট্রি অতঃপর বর্ণিত ব্যতিক্রমসাপেক্ষে, উক্ত এন্ট্রিতে বর্ণিত বিষয় খাজনা প্রাপকগণের স্বার্থ সমূহেরপ্রকৃতি, ভূমির সঠিক পরিমাণ ও স্বার্থের দাবিদারগণের মধ্যে ক্ষতিপূরণহারাহারিভাবে বন্টন এবং চুড়ান্ত সাক্ষ্য হিসেবে ধরা হইবে।
ধারা-৪৩( ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীর চুড়ান্ত প্রকাশ সম্পর্কে সার্টিফিকেট ও অনুমান)
উপধারা-(১)যেক্ষেত্রে৪২ ধারায় কোনো ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়সেক্ষেত্রে কমিশনার কর্তৃক সাধারণ অথবা বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্ধারিত সময়েরাজস্ব অফিসার উক্ত চুড়ান্ত প্রকাশ এবং প্রকাশের তারিখের ঘটনা বর্ণনাক্রমেএকটি সার্টিফিকেট তৈরী করিবেন ও তাতে তার নাম এবং অফিসের উপাধিসহ দস্তখতকরিবেন ও তারিখ লিখিবেন।
উপধারা-(২)৪২ধারায় কোনো গ্রাম, দলবদ্ধ গ্রাম অথবা স্থানীয় এলাকা সম্বন্ধে ক্ষতিপূরণনির্ধারণী বিবরণ চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর সরকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিতহওয়ার পর সরকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ঐ বিজ্ঞপ্তিতে তারিখ এবংচুড়ান্ত প্রকাশের বিষয় বর্ণনা করিয়াঘোষনা দিবেন যে, উক্ত গ্রাম, অথবাদলবদ্ধ গ্রাম অথবা স্থানীয় এলাকা, যেখানে যেমন প্রযোজ্য হয় এর নিমিত্তক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হইয়াছে ও উক্ত বিজ্ঞপ্তিউক্ত প্রকাশ এবং তারিখের চুড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হইবে।
ধারা-৪৪( স্বাত্বাধিকারী,রায়তীস্বত্বেরঅধিকারী ও অন্যান্য খাজনা প্রাপকগণের স্বার্থ ও কতিপয় খাস জমি সরকারকতৃর্ক অধিগ্রহণ ও সরকারের উপর ন্যাস্ত ও তার ফলাফল)

আপাততঃ বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে অথবা এই আইনের ২য় অধ্যায় অথবা অপর কোনোচুক্তিতে ভিন্ন কিছু বলা থাকা সত্ত্বেও ৩ ধারার (৪) উপ-ধারার (ক) (খ) (গ) ও(ঘ) দফার ৪০ এবং ৪৬ঙ ধারার (৩) উপধারার বিধান সাপেক্ষে ৪৩ ধারার (২)উপধারা মোতাবেক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত হইয়াছেএইমর্মে ঘোষণা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি সরকারী গেজেট প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতেনিম্নলিখিত ফলাফল উদ্ভব হইবে, যথাঃ
উপধারা-(১)কোনোএস্টেটে নিহিত সব স্বত্বাধিকারীর রায়তীস্বত্বে নিহিত সব রায়তী স্বত্বেরঅধিকারীর এবং বিবরণীতে বর্ণিত এলাকায় পত্তনভুক্ত জোত অথবা প্রজাস্বত্বেনিহিত অন্য সব খাজনা প্রাপকের স্বার্থ বা ঐ এলাকাভুক্ত এস্টেট, রায়তীস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্ব, যেখানে যা প্রযোজ্য হয়, এর অংশ বিশেষেরস্বার্থসহ ঐ সব ভূ-স্বামী রায়তী স্বত্বের অধিকারী এবং অন্য খাজনা প্রাপকেরবা ঐ এলাকাভুক্ত এস্টেট, রায়তীস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্ব অথবা ঐ এস্টেটরায়তীস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের অংশ বিশেষের ভূমি যাহা ঐস্বত্বাধিকারী রায়তী স্বত্বের অধিকারী এবং অন্য খাজনা প্রাপকের খাস দখলেথাকে এতে নিহিত স্বার্থ ও ইতঃপূর্বে ২য় অধ্যায় মোতাবেক বা ৪৬ঙ ধারার (৩)উপধারা মোতাবেক অধিগ্রহণ করা হইয়াছে এমন স্বার্থ ছাড়া ঐ এস্টেট, রায়তীস্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্ব বা ঐ এস্টেট, রায়তীস্বত্ব, জোত অথবাপ্রজাস্বত্বের অংশ বিশেষের জমির মাটির নীচে নিহিত সব খাজনা প্রাপকেরস্বার্থসহ জমির অধিকার সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখের পরবর্তীকৃষি বছরের ১লা তারিখ হইতে সরকার কতৃর্ক অধিগ্রহণ করা হইয়াছে বলিয়াধরিয়ালওয়া হইবে এবং দফা (২) এ বর্ণিত ঐ ভূ-স্বামী রায়তী স্বত্বের অধিকারীএবং অন্য খাজনা প্রাপকের অধিকার সাপেক্ষে সব রকম দায়মুক্ত অবস্থায় সরকারেরউপর সম্পূর্ণভাবে ন্যস্ত হইবে।
উপধারা-(২)প্রত্যেকস্বত্বাধিকারী, রায়তী স্বত্বের অধিকারী এবং অন্য খাজনা প্রাপক যার বিবরণীরসাথে সম্পর্কযুক্ত এলাকায় অবস্থিত কোনো এস্টেট রায়তীস্বত্ব বা জোত বাপ্রজাস্বত্বের বা কোনো এস্টেট, রায়তীস্বত্ব অথবা জোত অথবা প্রজাস্বত্বেরঅংশ বিশেষে নিহিত স্বার্থ, যেখানে যা প্রযোজ্য হয়, এই আইন মোতাবেক অধিগ্রহণকরা হইয়াছে, যে ৪র্থ অধ্যায় মোতাবেক যে সমস্ত জমি দখলে রাখার অধিকারী হয়তা সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখের পরবর্তী কৃষি বছরের প্রথম দিনহতে কার্যকর এই আইনের বিধান সাপেক্ষে সরকারের অধীনে সরাসরি প্রজা হিসেবেদখলে রাখার অধিকারী হইবে।
উপধারা-(৩)যেসব জমি রায়ত, অধীনস্থ রায়ত, অথবা অকৃষি প্রজা চতুর্থ অধ্যায় মোতাবেক দখলেরাখার অধিকারী তার অতিরিক্ত বিবরণীরসাথে সম্পর্কযুক্ত এলাকায় অবস্থিত এরায়ত, অধীনস্থ রায়ত ও অকৃষি প্রজার স্বার্থসহ ইতঃপূর্বে এই আইনের অন্যকোনো বিধান মোতাবেক অধিগ্রহণ করা হইয়াছেএই রকম স্বার্থ ছাড়া অধিকৃতঅতিরিক্ত সব জমির মাটির নীচে নিহিত স্বার্থ ও সেখানে নিহিত সমস্ত অধিকারসরকারী গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রচারের তারিখের পরবর্তী কৃষি সালের ১লা তারিখহইতে সরকার কতৃর্ক অধিগ্রহণ করা হইয়াছে বলিয়া ধরিয়া লওয়া হইবে এবং সকলপ্রকার দায়দেনা মুক্ত অবস্থায় সরকারের উপর সম্পূর্ণভাবে ন্যস্ত হইবে।
উপধারা-(৪)উক্তবিজ্ঞপ্তি প্রচারের তারিখের পরবর্তী কৃষি বছরের ১লা তারিখের অব্যবহিতপূর্বে বিবরণীর সাথে সম্পর্কযুক্ত এলাকায় অবস্থিত জমির অধিকারী সব রায়তীকৃষক, অধীনস্থ রায়তী কৃষক এবং অন্য কোনো প্রজা, যদি তারা ইতঃপূর্বে এইআইনের অন্য কোনো বিধান মোতাবেক সরকারের সরাসরি প্রজা না হইয়া থাকে, তবেউক্ত কৃষি বছরের ১লা তারিখ হইতে কার্যকরী সরকারের অধীনস্থ প্রজা হইবে এবংএই আইনের বিধান সাপেক্ষে ঐসব জমি যেগুলি (৩) দফা মোতাবেক বা এই আইনের অন্যকোনো বিধান মোতাবেক সরকারের উপর ন্যস্ত হয়নি এতে দখলে রাখার অধিকারী হইবেএবং ঐ অধিকৃত জমির জন্য সরকারকে খাজনা প্রদানের জন্য দায়ী থাকিবে।
উপধারা-(৫)৩ধারার (৪) উপধারার (খ) দফায় বর্ণিত সব বকেয়া রাজস্ব এবং সেস করসহ সুদ যদিপাওনা থাকে বিবরণীর সাথে সম্পর্কযুক্ত এলাকায় অবস্থিত এস্টেট সম্পর্কেবিজ্ঞপ্তি প্রচারের তারিখের পরবর্তী কৃষি বছরের ১লা তারিখে বৈধভাবে প্রাপ্যহইলে এতে ঐ কৃষি বছরের ১লা তারিখের পর বিদায়ী মালিকের নিকট আদায়যোগ্যবলিয়া বিবেচিত হইবে ও আদায়ের জন্য অন্য কোনো নিয়মের পরিপন্থী কোনো কাজ নাকরিয়া কালেক্টর কতৃর্ক আদেশ প্রদান করা হইলে ঐ মালিককে প্রদানযোগ্যক্ষতিপূরণের অর্থ হইতে ঐ বকেয়া সেস কর এবং সুদের অর্থ বাদ দিয়ে তা আদায় করাহইবে।
উপধারা-(৬)১৮৮২সালের বঙ্গীয় ইমব্যাংকমেন্ট আইন বা ১৯৫২ সালের পূর্ব বঙ্গীয় ইমব্যাংকমেন্টএন্ড ড্রেইনেজ আই মোতাবেক খাজনা প্রাপকের নিকট সরকার কতৃর্ক আদায়যোগ্য সবঅর্থ বা ঐ বিজ্ঞপ্তি প্রচারের তারিখের পরবর্তী কৃষি বছরের ১লা তারিখেপ্রাপ্য থাকে এবং যাহা ৩ ধারার (৪) উপধারার (ঘ) দফা অনুযায়ী ইতঃপূর্বেআওতাভুক্ত হয়নি ঐ অর্থ ১৮৮২ সালের বঙ্গীয় ইমব্যাংকমেন্ট আইন অথবা ১৯৫২সালের পূর্ব বঙ্গীয় ইমব্যাংকমেন্ট এন্ড ড্রেইনেজ আইন মোতাবেক বকেয়া পাওনাহিসেবে হোক অথবা ভবিষ্যতের কিস্তি হিসেবে হোক আদায়ের অপর কোনো নিয়মেরপরিপন্থী কোনো কাজ না করিয়া কালেক্টর কতৃর্ক আদেশ প্রদান করা হইলেআদায়যোগ্য অর্থের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত জমির স্বার্থ অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেখাজনা প্রাপকের প্রদানযোগ্যক্ষতিপূরণের অর্থ হইতে ঐ বকেয়া পাওনা এবংভবিষ্যতের কিস্তির অর্থ বাদ দিয়া অাদায় করাহইবে।
উপধারা-(৬ক)১৯৪৪সালের বেঙ্গল এগ্রিকালচারালইনকাম ট্যাক্স এ্যাক্টমোতাবেক কোনো ব্যক্তিরনিকট হইতে সরকারের আদায়যোগ্য বকেয়া কৃষি আয়কর যাহা উক্তবিজ্ঞপ্তি প্রচারেরতারিখের পরবর্তী কৃষি বত্‍সরের১লা তারিখে প্রাপ্য থাকে ও যাহা ৩ ধারার (৪)উপধারার (ঘ) অনুচ্ছেদ দ্বারা আদায় হয়নাই আদায়ের অপর কোনো নিয়মের পরিপন্থীকোনো কাজ না করিয়া কালেক্টর কর্তৃক আদেশ প্রদানকরা হইলে আদায়যোগ্য অর্থেরসংগে সম্পর্কযুক্ত স্বার্থ অথবা জমির বেলায় ৫৮ ধারামোতাবেক উক্ত ব্যক্তিকেপ্রদানযোগ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ হইতে ঐ বকেয়া অর্থ বাদ দিয়াআদায় করা হইবে।

উপধারা-(৭)উক্তবিজ্ঞপ্তি প্রচারের তারিখের পরবর্তী কৃষি বত্‍সরের১লা তারিখে পূর্ববর্তী যেকোনো সময়ের ঐ বিবরণীরসংগে সম্পর্কযুক্ত কোনো রায়তীস্বত্ব, জোত অথবাজমির বকেয়া খাজনা এবং সেসকর তদসহ সুদ যাহা তামাদি হইয়া যায় নাইঅথবাইতিপূর্বে ৩ (৪) ধারার ঙ অনুচ্ছেদ মোতাবেক সরকারের উপর ন্যস্ত হয় নাইউক্ত কৃষি বত্‍সরের১লা তারিখে অথবা ১লা তারিখ হইতে সরকারের উপর ন্যস্ত হইবেএবং সরকার কর্তৃকআদায়যোগ্য হইবে ও আদায়ের অপর কোনো নিয়মের পরিপন্থী কোনোকাজ না করিয়া কালেক্টর কর্তৃকআদেশ প্রদান করা হইলে ৫৮ ধারা মোতাবেক উক্তব্যক্তিকে প্রদানযোগ্য ক্ষতিপূরণের অর্থহইতে ঐ বকেয়া খাজনা, সেসকর ও সুদেরঅর্থ বাদ দিয়া উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে আদায় করাহইবে;

উপধারা-(৮)উক্তবিজ্ঞপ্তি প্রচারের তারিখের পরবর্তী কৃষি বত্‍সরেরতারিখ হইতে কার্যকরীখাজনা গ্রহণের স্বার্থ অথবা জমির বেলায় বিজ্ঞপ্তির সংগেসম্পর্কযুক্তক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীতে ধার্যকৃত ক্ষতিপূরণের জন্য ঐ ধারার (১)অথবা(২) অথবা (৪ক) উপধারা মোতাবেক প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন অর্থপ্রদানেরপরিসমাপ্তি ঘটিবে; এবং ঐ স্বার্থ অথবা জমি সম্পর্কে ঐ ধারার (১)অথবা (২) অথবা (ক)উপধারা মোতাবেক মোট প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ উক্তস্বার্থ অথবা জমির জন্য ঐধারা মোতাবেক অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ প্রদানেরতারিখ হইতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ারকৃষি বত্‍সরেরশেষ দিন পর্যন্ত সময়েরজন্য ঐ বিবরণীতে বর্ণিত স্বার্থ অথবা জমির জন্য নির্ধারিতক্ষতিপূরণেরঅর্থের শতকরা তিনভাগ পরিমাণ অর্থ ঐ ক্ষতিপূরণের অর্থ হইতে বাদ যাইবে।

ধারা ৪৫(রাজস্ব অফিসার কর্তৃক ঘোষণা)- সরকারী গেজেটে৪৩ (২) ধারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সাথে সাথে রাজস্ব অফিসারপ্রকাশিতবিজ্ঞপ্তির সহিত সম্বন্ধযুক্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীতেঅন্তর্ভূক্ত এলাকায়স্থানীয় ভাষায় একটি ঘোষণা প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণকরিবেন-

(ক)ঐরূপ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হইবার প্রেক্ষিতে ৪৪ ধারা মোতাবেক যে সমস্ত ফলাফল উদ্ভুতহইয়াছে সেইগুলি ব্যাখ্যা করিয়া; ও

(খ)ঐরূপবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পরের কৃষি বত্‍সরেরপ্রথম দিন হইতে যে সমস্তব্যক্তি সরকারের প্রজা হইবে উহাদিগকে সরকার ছাড়া অপর কোনোব্যক্তি খাজনাপ্রদান না করিবার নিমিত্ত নির্দেশ জারী করিয়া।

ধারা ৪৬খতিয়ান মুদ্রণ ওবিতরণ-

উপধারা-(১)সকলএস্টেট, মধ্যস্বত্ব অথবা জেলা, জেলার অংশ অথবা স্থানীয় এলাকায় অবস্থিত জোতবাপ্রজাস্বত্বে নিহিত খাজনা প্রাপকের স্বার্থ যেগুলি সম্বন্ধে ৪র্থঅধ্যায়ের অধীনেখতিয়ান প্রণয়ন পরিমার্জন এবং চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হইয়াছেসেইগুলির সংগেসম্বন্ধযুক্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রকাশিত হইবার পর ঐখাজনা প্রাপকদেরপর্যায়ভুক্ত সম্পূর্ণ স্বার্থের পরিসমাপ্তি ঘটাইয়া ও যে সকলব্যক্তি ঐ স্বার্থঅধিগ্রহণ করার ফলে প্রজা হিসাবে সরাসরি সরকারের অধীনেআসিবে তাহা প্রদর্শন করিয়াসংশোধন করা হইবে, ও জেলার রাজস্ব বিবরণী প্রকাশেরপরে খতিয়ানের সহিত সম্বন্ধযুক্তএলাকায় এক বা একাধিকসদস্যেরজন্ম হইলে তাহা ঐউদ্দেশ্যেসরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিসমূহ মোতাবেক কালেক্টর কর্তৃক নির্ধারিতহইবে ।

উপধারা-(২)খতিয়ানের মুদ্রিত অনুলিপি উহার সংগে সম্পর্কযুক্ত এলাকায় প্রজাদের মধ্যেনির্ধারিত নিয়মে বিনামূল্যেবিতরণ করা হইবে ।

দ্বিতীয় অধ্যায়ের অধীন অধিগ্রহণকৃতসম্পত্তির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীপ্রস্তুতকরণের জন্য বিশেষবিধানসমূহ ৫-ক অধ্যায় অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীপ্রস্তুতকরণ ।

ধারা-৪৬( বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রেক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রস্তুতকরণ)-

উপধারা-(১)১৭অথবা ৩১ ধারার অধীনে কার্যক্রমপরিচালনা করিবার পরিবর্তে সরকার গেজেটেবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ৩ক ও ৪ ধারারঅধীন দাখিলকৃত অথবা দখলকৃত বিবরণীকাগজপত্র এবং দলিল-দস্তাবেজের উপর ভিত্তি করিয়া ৩ধারার অধীন অধিগ্রহণকৃতখাজনা প্রাপকের সম্পত্তি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী তৈরীকরিবার জন্য আদেশদিতে পারিবেন ।

উপধারা-(২)যখন(১) উপধারার অধীন আদেশ করা হয় তখন রাজস্ব অফিসার ঐবিবরণী, কাগজপত্র এবংদলিল-দস্তাবেজ নির্ধারিত নিয়মে পরীক্ষা করিয়া দেখিবেন, প্রয়োজন মাফিকসংশোধন করিবেন ও ঐ খাজনা প্রাপকের অব্যবহিত অধীনস্থ সকল প্রজার যথাযথওন্যায়সংগত খাজনা ২৪, ২৫, ২৫ক, ২৬ ও ২৮ ধারায় বর্ণিত নীতি অনুসারে নির্ধারিতকরিবেন ।

উপধারা-(৩)উপধারা(২) এর অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার পর রাজস্বঅফিসার নির্ধারিত ফরমে ওনির্ধারিত নিয়মে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী তৈরী করিবেনযাহাতে ঐ খাজনাপ্রাপকের মোট সম্পত্তি ও প্রকৃত আয় এই আইনের বিধানাবলী অনুসারেতাহারপ্রাপ্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ও তদসহ নির্ধারিত অন্যান্য বিবরণ থাকিবে ।

ধারা৪৬-খ (দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ারে প্রতিবন্ধকতা)

৪৬ ধারারঅধীনে কোনো আদেশ প্রদানের পর উক্তধারার (২) উপধারা অনুযায়ী যে ভূমির যথাযথ ওন্যায়সংগত খাজনা নির্ধারণ করাপ্রয়োজন হয় সেই ভূমির খাজনা পরিবর্তন অথবা নির্ধারণেরজন্য কোনো দেওয়ানীআদালত কোনো মামলা বা দরখাস্ত গ্রহণ করিবেন না এবং উক্ত আদেশপ্রদানেরতারিখে যদি কোনো মামলা অথবা দরখাস্ত কোনো দেওয়ানী আদালতে রুজু থাকে তবেউহারকার্যক্রম আর চলিবে না এবং উহা বাতিল হইবে ।

ধারা ৪৬-গ(পঞ্চম-ক অধ্যায়ের অধীন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণবিবরণীর ক্ষেত্রে ৩৪-৩৪ ধারার বিধানসমূহ প্রয়োগ)

 এই অধ্যায়ের অধীন ক্ষতিপূরণনির্ধারণ বিবরণী তৈরী ও প্রকাশের ক্ষেত্রে-

(ক)৩৪, ৩৮ এবং ৪০-৪৩ ধারার বিধানসমূহ যতটুকু প্রযোজ্য ততটুকুপ্রয়োগ করিতে হইবে;

(খ)৩৭ ও ৩৯ ধারার বিধানাবলী সম্পূর্ণ প্রয়োগ হইবে;

(গ)নিম্নলিখিত সংশোধনসাপেক্ষে ৩৫ ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্যহইবে যথা:

“(ক)বিজ্ঞপ্তি তারিখের অব্যবহিত অধীনস্থপ্রজাগণ কর্তৃকপ্রদত্ত”মোট খাজনা ও সেস নিয়া ও যেক্ষেত্রে ঐ খাজনাপ্রাপককোনো এস্টেটের মালিক বামধ্যস্বত্বের অধিকারী হয় সেক্ষেত্রে ২০ ধারার অধীন ঐএস্টেটের বা মধ্যস্বত্বের মধ্যেঅধিকৃত খাস ভূমির জন্য ৫ ধারার অধীননির্ধারিত মোট যথাযথ ও ন্যায়সংগত খাজনা নিয়া ঐখাজনাপ্রাপকের মোট আয় গঠিতহইয়াছে বলিয়া গণ্য করা হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো (মধ্যস্বত্বেরঅধিকারী) বা রায়তঅধীনস্থ রায়ত অথবা অকৃষি প্রজার ক্ষেত্রে ২৪, ২৫, ২৫ক ও ২৮ধারায় নীতিসমূহ মোতাবেক৪৬ (ক) ধারার (২) উপধারায় কোনো ভূমির জন্য নিধারিতখাজনাকে এই অনুচ্ছেদেরউদ্দেশ্যপূরণের জন্য ঐ ভূমির জন্য ঐ রায়ত, অধীনস্থরায়ত অথবা অকৃষি প্রজা কর্তৃক ঐবত্সরের জন্য প্রদানযোগ্য খাজনা বলিয়াধরিয়া লওয়া হইবে । ”

ধারা-৪৬ঘ(৫ম-ক অধ্যায়ের অধীন অবাধ্য মালিকের প্রকৃত আয়)

৪৬ গ ধারার (গ) অনুচ্ছেদে যাহা কিছু বলাথাকুক না কেন, অস্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দেওয়াব্যক্তিগত সম্পত্তির অবাধ্যমালিকের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখেরঅব্যবহিতআগের বত্সরে উক্তমালিককে প্রদত্ত মালিকানাকে উক্ত অনুচ্ছেদ অনুযায়ীহিসাবকৃত উক্ত মালিকেরপ্রকৃত আয় বলিয়া গণ্য করা হইবে ।

ধারা-৪৬(ঙ) পঞ্চম-ক অধ্যায়ের অধীন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীচূড়ান্ত প্রকাশনার ফলাফল-

 দ্বিতীয় অধ্যায়ে যাহা কিছু বলা থাকুক নাকেন, ৪৩ধারার (২) উপধারার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী চূড়ান্তভাবে প্রকাশকরা হইয়াছে এইমর্মে ঘোষণা দিয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রেক্ষিতে ।

উপধারা-(১)ধারা-৩এর (৪) উপধারার ঙ অনুচ্ছেদের অধীন যে সমস্ত প্রজা সরকারেরসরাসরি প্রজাহিসাবে গণ্য হয় তাহারা ঐ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার তারিখের অব্যবহিতপরবর্তীকৃষি বত্সরের প্রথম দিন হইতে কার্যকর তাহাদের অধিকৃত ভূমির জন্যএইঅধ্যায়ের অধীন নির্ধারিত হারে সরকারকে খাজনা প্রদান করিবে ।

উপধারা-(২)ঐবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার তারিখে পরবর্তী কৃষি বত্সরেরপ্রথম দিন হইতেকার্যকর খাজনা প্রাপকের স্বার্থ বা ভূমির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিরসহিতসম্বন্ধযুক্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীতে ধার্যকৃত ক্ষতিপূরণের জন্য ৬অথবা ৬ক ধারামোতাবেক প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন অর্থ প্রদানের তারিখ হইতেবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিতহওয়ার কৃষি বত্সরের শেষ দিন পর্যন্ত সময়ের জন্য ঐবিবরণীতে বর্ণিত স্বার্থ বাভূমির জন্য নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থের শতকরা ৩ভাগ পরিমাণ অর্থ ঐ ক্ষতিপূরণেরঅর্থ হইতে বাদ যাইবে ।

উপধারা-(৩)ঐবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার তারিখের অব্যবহিত পরবর্তী কৃষিবত্সরের প্রথম দিনহইতে কার্যকর খাস দখলীয় সকল ভূমিতে খাজনা প্রাপকের স্বার্থ যাহাসে ২০ ধারামোতাবেক দখলে রাখার অধিকারী নহে অথবা যাহার জন্য ক্ষতিপূরণনির্ধারণবিবরণীতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হইয়াছে যদি তাহা ৩ (২) ধারানুসারেইতিপূর্বে অধিগৃহীতনা করা হইয়া থাকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হইয়াছেবলিয়া ধরিয়া লওয়া হইবে ওসম্পর্ণ দায়মুক্ত অবস্থায় চূড়ান্তভাবে সরকারেরর উপরবর্তাইবে ।

ধারা-৪৭ রাজস্ব ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ-অত্রআইনের এই খণ্ডের উদ্দেশ্যে  নিম্নলিখিত কর্তৃপক্ষ থাকিবে:

(ক)স্টেট পার্চেজ কমিশনার;

(খ)ল্যাণ্ড রেকর্ডস এণ্ড সার্ভেস- এর ডাইরেক্টর;

(গ)সেটেলমেন্ট অফিসারগণ ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারগণ;

(ঘ)অন্যান্য রাজস্ব অফিসারগণ;

(ঙ)বিশেষ জজগণ ।

ধারা-৪৮ নিয়োগ ও ক্ষমতাসমূহ-

উপধারা-(১)স্টেট পার্চেজ- এরকমিশনার সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন ।

উপধারা-(২)স্টেটপার্চেজ- এর কমিশনার সমস্ত বাংলাদেশের ক্ষেত্রেঅত্র আইন ও অত্র আইনেরঅধীনে প্রণীত বিধিমালায় প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ওঅর্পিত কর্তব্য সম্পাদনকরিবেন । তিনি ল্যাণ্ড রেকর্ডস এণ্ড সার্ভেস-এর ডাইরেক্টর ওতাহার মাধ্যমেতাহার অধীনস্থ অপরাপর সকল অফিসারগণের উপর পরিদর্শন ও নিয়ন্ত্রণসম্বন্ধীয়সাধারণ ক্ষমতাসমূহ প্রয়োগ করিবেন ।

উপধারা-(৩)ডাইরেক্টরঅবল্যাণ্ড রেকর্ড এণ্ড সার্ভে-অাইনের অধীনে ডাইরেক্টর অত্র আইনেরঅধীনে অথবাইহার অধীনে প্রণীত বিধিমালা মোতাবেক সেই সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্যপালনকরিবেন যে সমস্ত ক্ষমতা ও কর্তব্য তাহাকে প্রদান করা হইবে অথবা তাহারউপরন্যস্ত করা হইবে ।

উপধারা-(৪)জেলাজজ অথবা অধীনস্থ জজের ক্ষমতা প্রয়োগ করিয়াছেন এমন একঅথবা একাধিক ব্যক্তিকেএই আইনের অধীনেতাঁহার বা তাহাদের কাছে দায়েরকৃত আপিলেরশুনানীর উদ্দেশ্যেঅথবা ৪২ ধারা অনুযায়ী প্রকাশিত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীরক্ষতিপূরণের টাকাপাওয়ার অধিকার সংক্রান্ত বিরোধ সমূহের তদন্ত করার জন্য অথবা ৪২ধারার অধীনকোনো ক্ষতিপূরণ বন্টনের জন্য ৬০ ধারার অধীন প্রেরিত বিষয়সমূহেরনিষ্পত্তিরজন্য সরকার বিশেষ জজ নিয়োগ করিতে পারিবেন ।

 

ক্ষতি পূরণ নির্ধারণ বিবরণীর রিভিশন এবং ক্ষতিপূরণ সম্বন্ধেবিরোধসমূহের নিষ্পত্তি

ধারা-৪৯(ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী পরিমার্জন)

কমিশনার, জেলার জয়েন্ট ডেপুটি কমিশনারেরপদমর্যাদার নীচে নন এমন কোনো অফিসার বাঅনুরূপ ক্ষমতাপ্রাপ্ত সেটেলমেন্টঅফিসার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী তৈরী করার সময়আবেদনক্রমে কোনো ক্ষতিপূরণনির্ধারণ বিবরণী বা উহার অংশবিশেষ এবং বিবরণীর উপর ভিত্তিকরিয়াপ্রস্তুতকৃত কোনো খতিয়ান অথবা খতিয়ানের কোনো অংশ পুনঃ পরীক্ষণ করারঐরূপনির্দেশ দিতে পারিবেন, কিন্তু ৪১ ধারার অধীনে উর্ধ্বতন রাজস্বকর্তৃপক্ষের আদেশ অথবা৫১ ধারা বা ৫২ ধারার (৪) উপধারার অধীনে বিশেষ জজেরআদেশ ইহার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তহইবে না ।

তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে এইবিষয়ে উপস্থিত হইবারও শুনানীর জন্য ১৫ দিনের কম নয় সময়ের নোটিশ প্রদান নাকরিয়া ঐরুপ নির্দেশ জারি করাযাইবে না ।

ধারা-৫০( রাজস্ব অফিসার কর্তৃক ভুল সংশোধন)

৫৮ ধারারঅধীনে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীঅনুসারে রাজস্ব অফিসার যে কোনো সময় আবেদনক্রমে অথবাস্বেচ্ছায় ক্ষতিপূরণনির্ধারণ বিবরণীর সহিত সম্পর্কযুক্ত এলাকার নিমিত্ত ৪র্থঅধ্যায়ের অধীনেপ্রস্তুতকৃত পুনঃপরীক্ষিত এবং চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানে অথবাক্ষতিপূরণনির্ধারণ বিবরণীতে যে কোনো লিখনি যদি তিনি সন্তুষ্ট হন যে, উক্তলিখনিপ্রকৃত ভুলের প্রজার স্বার্থ উত্তরাধিকারের উপর বর্তানোর ফলে অথবাহস্তান্তরের কারণেউক্ত লিখনি শুদ্ধকরণ প্রয়োজন তবে সংশোধন করিতে পারিবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, ঐরুপ লিখনির বিরুদ্ধে যদি৫১ অথবা ৫৩-ধারারঅধীন কোনো আপিল করা হইয়া থাকে বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকেশুনানির সুযোগ দিবার জন্য হাজিরহইবার যথাযথ নোটিশ না দিয়া ঐরূপ শুদ্ধাকরণকরা যাইবে না ।

ধারা-৫১ ( বিশেষ জজের নিকট আপিল)

উপধারা-(১)কোনোব্যক্তি৪১ ধারার অধীন উধ্বর্তন রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অথবা ৪৯ ধারার অধীন কমিশনারঅথবাঅপর অফিসারের আদেশ দ্বারা ক্ষুদ্ধ হইলে সে ৪৮ (৪) ধারার অধীন নিযুক্তবিশেষ জজেরকাছে ঐরূপ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সহিত সম্বন্ধযুক্ত ক্ষতিপূরণনির্ধারণ বিবরণী ৪২ধারার অধীন প্রকাশিত হওয়ার ৬০ দিনের ভিতর বা যে আদেশেরবিরুদ্ধে আপিল করা হইয়াছে উহাপ্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে যাহাই পরে ঘটে, আপিলকরিতে পারিবে ।

উপধারা-(২)যেক্ষেত্রেক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী অনুযায়ীক্ষতিপূরণ গ্রহণ করিবার স্বত্ব সম্বেন্ধঅথবা ক্ষতিপূরণের অংশবিশেষের বন্টন সম্বন্ধেউদ্ভুত বিবাদের ব্যাপারটিরাজস্ব অফিসার ৬০ ধারার অধীন বিশেষ জজের কাছেপ্রেরণ করেন সেইক্ষেত্রে উক্তবিশেষ জজ ঐ বিবাদের বিষয় অনুসন্ধান করিয়া সিদ্ধান্তগ্রহণ করিবেন এবং তাহারসিদ্ধান্ত ৫২ ধারার শর্তসাপেক্ষে চূড়ান্ত হইবে ।

ধারা-৫২( বিশেষ জজ কর্তৃক হাইকোর্টে মামলার বিবরণী প্রেরণ)

উপধারা-(১)বিশেষজজের দ্বারাসংক্ষুদ্ধ কোনো পক্ষ ঐ রূপ আদেশ প্রদানের৬০ দিনের ভিতরনির্ধারিত ফরমে তদসহ ৫০ টাকা ফিস প্রদান করিয়া, যেক্ষেত্রে দরখাস্তটি, সরকার ছাড়া অন্য কেহ করে, দরখাস্তের মাধ্যমে বিশেষ জজকে ঐরূপ আদেশ হইতেউদ্ভুত কোনোআইনের প্রশ্ন হাইকোর্টেপ্রেরণের জন্য অনুরোধ জানাইতে পারিবেন ওউক্ত দরখাস্ত প্রাপ্তির ৯০ দিনের মধ্যেবিশেষ জজ উক্ত মোকদ্দমার বিবরণপ্রস্তুত করিয়া ইহা হাইকোর্টে প্রেরণ করিবেন ।

তবে শর্ত থাকে যে, (২) উপধারার অধীনে যদিবিশেষ জজ সরকার ছাড়াঅন্য কোনো পক্ষ কতৃর্ক দরখাস্ত মোকদ্দমার বিবরণ দিতেঅস্বীকার করেন তবে ঐরূপ পক্ষমোকদ্দমার বিবরণ প্রদানের অস্বীকৃতির নোটিশপ্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে তাহার দরখাস্তপ্রত্যাহার করিয়া নিতে পারিবে এবংযদি সে এইরূপ করে তবে তাহার প্রদত্ত ফেরত্ দেওয়াহইবে ।

উপধারা-(২)উপধারার-১এর অধীন দরখাস্ত দাখিলের পর যদি কোনো আইনেরপ্রশ্ন উদ্ভুত হয় নাই এইহেতুতে উক্ত বিশেষ মামলার বিবরণ প্রদান করিতে অস্বীকারকরেন, তবেদরখাস্তকারী পক্ষ প্রত্যাখ্যানের নোটিশের ৬০ দিনের ভিতর হাইকোর্টে আবেদনপেশকরিতে পারিবে এবং যদি হাইকোর্ট বিশেষ জজের সিদ্ধান্তের শুদ্ধতাসম্বন্ধেসন্তুষ্ট না হন তবে মামলার বিবরণ প্রস্তুত করিবার ও উহা হাইকোর্টপাঠাইবার জন্যবিশেষ জজকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন । বিশেষ জজ ঐরূপনোটিশ প্রাপ্তির পরযথাযথভাবে মোকদ্দমার বিবরণী তৈরী করিয়া উহা হাইকোর্টেপ্রেরণ করিবেন ।

উপধারা-(৩)এইধারার অধীনে প্রেরিত মোকদ্দমার বিবরণ উদ্ভুত প্রশ্ননির্ধারণ করিবার জন্যযথেষ্ট এই মর্মে যদি হাইকোর্ট সন্তুষ্ট না হন তবে এই উদ্দেশ্যেহাইকোর্টনির্দেশিত বিষয় অন্তর্ভূক্ত অথবা পরিবর্তন করিবার জন্য পুনরায় উক্তমোকদ্দমানির্দেশিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত অথবা পরিবর্তন করিবার জন্য পুনরায়উক্তমোকদ্দমা বিশেষ জজের কাছে ফেরত্ পাঠাইতে পারিবেন ।

উপধারা-(৪)উক্তমোকদ্দমার শুনানীর পর হাইকোর্ট উদ্ভুত আইনেরপ্রশ্নসমূহের বিষয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণ করিবেন এবং যে সকল হেতুর উপর ভিত্তি করিয়াসিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইয়াছেউহা বর্ণনা করিয়া ইহার রায় প্রদান করিবেন এবং যে সকলহেতুর উপর ভিত্তিকরিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইয়াছে উহা বর্ণনা করিয়া ইহার রায়প্রদান করিবেন ওকোর্টের সীলমোহরকৃত এবং সীলমোহরকৃত এবং রেজিস্ট্রার কর্তৃকস্বাক্ষরিত উক্তরায়ের একটি কপি বিশেষ জজের কাছে প্রেরণ করিবেন যিনি উক্ত রায়েরসহিত মিলরাখিয়া এইরূপ আদেশ দিবেন যাহা মোকদ্দমা নিষ্পত্তির নিমিত্তে প্রয়োজন হয় ।

উপধারা-(৫)যেক্ষেত্রে হাইকোর্টে কোনো রেফারেন্স করা হয় সেইক্ষেত্রেখরচ আদালতের বিবেচনাধীন অন্তর্ভুক্ত হইবে ।

ধারা-৫৩( বিশেষ জজের নিকট আপিল)

কোনো ভূমির খাজনানির্ধারণ অথবা দখলেরাস্বত্বলিপি তৈরির বেলায় আপিলের প্রেক্ষিতে ১৯ (২) ধারার অধীনরাজস্বঅফিসারের প্রদত্ত আদেশ দ্বারা বা ভূমির খাজনা নির্ধারণ অথবা দখলেরখতিয়ানসম্বন্ধীয় ৩১ (২) ধারার অধীন খতিয়ানের কোনো লিখনি দ্বারা বা ৪৬কধারার (২) উপধারারঅধীন খতিয়ানের কোনো লিখনি দ্বারা বা ৪৬ক ধারার (২)উপধারার অধীন কোনো ভূমির ন্যায্য ওন্যায়সংগত খাজনা নির্ধারণের নিমিত্তেআদেশ দ্বারা ক্ষুদ্ধ ব্যক্তি ঐরূপ আদেশ বা লিখনির বিরুদ্ধে আপিলের সহিতসম্বন্ধযুক্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী ৪২ ধারাঅনুযায়ী প্রকাশের তারিখহইতে ৩ মাসের ভিতর ৪৮ (৪) ধারার অধীন নিযুক্ত বিশেষ জজেরকাছে আপিল দায়েরকরিতে পারিবে । ৫২ ধারায় ভিন্নরূপ যাহা কিছু থাকুক না কেন, উক্তআপিলে বিশেষজজের রায় চূড়ান্ত হইবে ।

ধারা-৫৪( ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী শুদ্ধকরণ)

৪৯ ধারার অধীন কমিশনার অথবা অন্য অফিসারপ্রদত্ত নির্দেশ বা ৫১, ৫৩ অথবা ৫২ ধারার (২)উপধারার অধীন বিশেষ জজ প্রদত্তআদেশ বা কোনো ভূমির মালিকানা অথবা দখল ঘোষণা করিয়াকোনো মামলা, আপিল অথবাকার্যক্রমে কোনো দেওয়ানী আদালতের অথবা হাইকোর্টেরচূড়ান্ত আদেশ অথবাডিক্রী কার্যকর করিবার নিমিত্তে যেমন প্রয়োজন হইবে রাজস্বঅফিসারস্বত্বলিপির অথবা ক্ষতিপূরণ বিবরণী সেইরূপ পরিবর্তন করিবেন ।

ধারা-৫৫( বিশেষ জজের কাছে আপিল ও বিশেষ জজ কর্তৃকঅনুসন্ধানের ক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধির প্রয়োগ)

৫১ (১)ধারার অধীনে বিশেষজজের কাছে দায়েরকৃতআপিলের ক্ষেত্রে বা ৫১ (২) ধারার অধীন বিশেষ জজের কাছে দায়েরকৃতআপিলেরক্ষেত্রে বা ৫১ (২) ধারার অধীন তত্কর্তৃক পরিচালিত অনুসন্ধানেরক্ষেত্রে১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির বিধানাবলী যতটুকু সম্ভব প্রযোজ্যহইবে ।

ধারা-৫৬ ( কতিপয় বিচার্য বিষয় উত্থাপনে বাধা)

অত্র আইনেরঅন্যত্র যাহা কিছু থাকুক না কেন, কোনো দেওয়ানী আদালতে অথবা হাইকোর্টে ভূমি সম্পর্কেমামলা, আপিল অথবাকার্যক্রমের কোনো পক্ষ ১৯, ৪০, ৪৯, ৫১, ৫৩ অথবা ৬০ ধারার অধীন কোনোরাজস্বঅফিসার, রাজস্ব কর্তৃপক্ষ, বিশেষ জজ অথবা কমিশনার অথবা অপর কোনো অফিসারেরকাছেউক্ত ভূমি সম্পর্কিত কোনো ইস্যু যাহা ঐরূপ মামলা, আপিল অথবাকার্যক্রমে মূলত বিচার্যবিষয় উত্থাপন করিতে পারিবে না ।

ধারা-৫৭( ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদানযোগ্য অর্থের সীমা ওপরিমাণ )

উপধারা(১)এইআইনের অন্যত্র বা ৫৪ ধারার অধীন চূড়ান্তভাবে সংশোধিতক্ষতিপূরণ নির্ধারণবিবরণীতে যাহা কিছু বলা থাকুক না কেন, কোনো খাজনাগ্রহীতা তাহারবাংলাদেশঅধিকৃত সকল এস্টেট, রায়তীস্বত্ব, জোত ও প্রজাস্বত্বে নিহিত সকলখাজনাগ্রহণের স্বার্থ হইতে আগত মোট প্রকৃত আয়ের উপর ৩৭ ধারা অনুযায়ীপ্রযোজ্য হারেগণনাকৃত খাজনা গ্রহণের স্বার্থ অধিগ্রহণের জন্য ক্ষতিপূরণঅপেক্ষা অতিরিক্ত অর্থগ্রহণের অধিকারী হইবে না ।

উপধারা-(২)যখনকোনো খাজনাগ্রহীতা বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত খাজনাগ্রহণের স্বার্থ অধিকারেরাখে, তখন রাজস্ব কর্মকর্তা কোনো এলাকায় অবস্থিত খাজনাগ্রহণের স্বার্থঅধিগ্রহণের জন্য ৫৪ ধারাআ অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে সংশোধিত ক্ষতিপূরণনির্ধারণবিবরণী অনুযায়ী প্রদানযোগ্য ক্ষতিপূরণ ৫৮ ধারা অনুযায়ী পূর্বে ঐখাজনাগ্রহীতাকে এলাকা বা এলাকাসমূহে অবস্থিত খাজনা গ্রহণের স্বার্থঅধিগ্রহণের জন্যক্ষতিপূরণ হিসাবে (১) উপধারা অনুযায়ী অনুমোদিত অর্থেরঅতিরিক্ত অর্থ প্রদান করাহইয়াছে কিনা তাহার নিশ্চয়তা বিধান করিবেন, এবং যদিদেখা যায় অতিরিক্ত অর্থ প্রদানকরা হইয়াছে, তাহা হইলে ঐ স্বার্থ অধিগ্রহণেরজন্য বিবরণী অনুযায়ী প্রদানযোগ্যক্ষতিপূরণের অর্থ হইতে ঐ অতিরিক্ত অর্থকাটিয়া রাখা হইয়াছে ।

তবে শর্ত থাকে যে, ঐ খাজনাগ্রহীতাকে এইব্যাপারে উপস্থিতহওয়ার জন্য ও শুনানীর জন্য যুক্তিসঙ্গত নোটিশ প্রদান নাকরিয়া ঐ অর্থ কাটিয়া রাখাযাইবে না ।

আরো শর্ত থাকে যে, ঐ অর্থ কাটিয়া নেওয়ারজন্য প্রদত্ত আদেশেরত্রিশ দিনের মধ্যে ঐ আদেশের বিরুদ্ধে নির্ধারিতউর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষের নিকটআপিল করা যাইবে যাহার আদেষ চূড়ান্ত বলিয়াগণ্য হইবে ।

উপধারা-(৩)যেক্ষেত্রেখাজনা গ্রহণের স্বার্থ অধিগ্রহণের জন্যক্ষতিপূরণ নির্ধারন বিবরণী অনুযায়ীপ্রদেয় ক্ষতিপূরণের অর্থ হইতে (২) উপধারার অধীন কোনো অর্থ কাটিয়া রাখার পরযাহা অতিরিক্ত অর্থ থাকে তাহা ৫৮ ধারার উদ্দেশ্যে ঐবিবরণীর শর্তসমূহমোতাবেক ঐ স্বার্থসমূহের জন্য খাজনা প্রাপককে দেয় ক্ষতিপূরণ হিসাবেধরিয়ালওয়া হইবে ।

ধারা ৫৮ ক্ষতিপূরণ প্রদানের পদ্ধতি

যেক্ষেত্রে ৫১ধারা অথবা ৫৩ ধারার অধীনক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীতে কোনো এন্ট্রি বা লিখনি বাদসম্পর্কে আপিলদায়ের করার সময় অতিবাহিত হয় এবং যেক্ষেত্রে ৫১ ধারার অধীন ঐ আপিলদায়েরেরক্ষেত্রে ঐ আপিলের সংগে সম্পর্কযুক্ত বিশেষ জজ কর্তৃক প্রদত্ত কোনোআদেশসম্পর্কে ৫২ ধারার অধীন হাইকোর্টে রেফারেন্স করার সময় অতিবাহিত হয় এবংআপিলসম্পর্কে ৫২ ধারার অধীন সকল রেফারেন্সের নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয় এবং ঐরেফারেন্স হইতেউদ্ভুত ঐ ধারার (৪) উপধারার অধীন সকল আদেশ প্রদান করা হইয়াছেএবং যেক্ষেত্রে ৫৩ধারায় দায়েরকৃত আপিলের নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয় সেক্ষেত্রেরাজস্ব অফিসারস্বত্বাধিকারী, মধ্যস্বত্বের অধিকারীগণ বা অন্যান্য খাজনাপ্রাপকগণকে ও চাষী রায়তগণ, অধীন রায়তগণ ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গকে ক্ষতিপূরণপ্রদান করিতে শুরু করিবেন, যাদ্ধারা৫৪ ধারা মোতাবেক চূড়ান্তভাবেসংশোধিতকৃত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীতে ঐ বিবরণীরশর্ত মোতাবেক দোষক্ষতিপূরণের অর্থ হইতে কালেক্টরের আদেশে ৩ ধারার (৪) নং উপধারারখ,গ, ঘ, ঘঘঅনুচ্ছেদ অথবা ৪৪ ধারার ৫, ৬, ৬ক বা ৭অনুচেছদ মোতাবেক নির্ধারিত পরিমাণঅর্থকাটিয়া রাখার পরও ৪৪ ধারার ৮ অনুচ্ছেদ অথবা ৪৬ঙ ধারার ২ অনুচ্ছেদ বা ৭৬খধারারঅধীন নির্ধারিত অর্থ কাটিয়া রাখার পরও ১০ম অধ্যায় অনুসারে নির্ধারিতঅর্থ আদায় করারপর খাজনা প্রাপক যদি এই আইনের ১০ম অধ্যায় অনুসারে তাহার ঋণপরিশোধ করিয়া লইবার জন্যআবেদন করে, তবে ক্ষতিপূরণ বিবরণী মোতাবেক তাহাকেদেয় ক্ষতিপূরণের অর্থের শুধুমাত্রঅর্ধেক অর্থ হইতে ৩ ধারার (৪) উপধারার খ, গ, ঘ বা ঘঘ অনুচ্ছেদ অথবা ৪৪ ধারার ৫, ৬, ৬ক, ৭ বা ৮ অনুচ্ছেদ অথবা ৪৬ঙধারার অনুচ্ছেদ অথবা ৭৬ক ধারার অধীন কর্তনযোগ্য অর্থবাদ দিয়া প্রদান করাহইবে এবং ঐ আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাকী অর্ধেক অর্থপ্রদান স্থগিতথাকিবে এবং ঐ ধারা মোতাবেক যে সকল ঋণ ঐ ক্ষতিপূরণের অর্থ হইতেআদায়যোগ্যহইবে তাহা ৭১ (৭) ধারার বিধানাবলী অনুযায়ী আদায় না হওয়া পর্যন্তস্থগিতরাখিতে হইবে ।

তবে শর্ত থাকে যে, পাকা বাসভবনসহ ভূমির জন্যক্ষতিপূরণনির্ধারণ বিবরণী মোতাবেক ঐ ব্যক্তিকে দেয় ক্ষতিপূরণ নির্ধারণবিবরণী মোতাবেক ঐব্যক্তিকে দেয় ক্ষতিপূরণ সরকার ঐ ভূমির ও পাকা বাসভবনেরখাস দখল না লওয়া পর্যন্তপ্রদান করা হইবে না ।

উপধারা-(২)দেয়ক্ষতিপূরণের অর্থ নগদ অর্থ দ্বারা বা বণ্ডসমূহ দ্বারাবা আংশিক নগদ ও আংশিকবণ্ডসমূহ দ্বারা প্রদান করা হইবে। বণ্ডগুলি হস্তান্তর অযোগ্যদলিল হইবে ওউহাতে বর্ণিত ব্যক্তি বা স্বার্থের উত্তরাধীকে ৪০ কিস্তির বেশি নহেএইরূপবার্ষিক কিস্তিতে প্রদান করা হইবে এবং উহা প্রদান করার তারিখ হইতেবার্ষিকতিন টাকা হারে সুদ প্রদান করা হইবে ।

উপধারা-(৩)যদিকোনো এষ্টেট, মধ্যস্বত্ব বা জোত বা উহার অংশ অথবা কোনোভূমি সম্পর্কিত ঐক্ষতিপূরণ গ্রহণ করার অধিকারী ব্যক্তির ঐ এষ্টেট, ‌মধ্যস্বত্ব, জোত বাতাহার অংশ অথবা কোনো ভূমি হস্তান্তর করার ক্ষমতা না থাকিত বাক্ষতিপূরণগ্রহণের মালিকানা অথবা উহার বন্টন সম্পর্কিত কোনো বিবাদ দেখা দেয়তবে রাজস্ব অফিসারক্ষতিপূরণের অর্থ বা বণ্ডসমূহ যাহার মাধ্যমে উহা প্রদানকরা হয়, জেলার কালেক্টরেরনিকট জমা রাখিবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, এখানে বর্ণিত কোন কিছুইএই ধারা মোতাবেকক্ষতিপূরণের সমস্ত বা অংশ বিশেষের অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তিরবৈধভাবে অধিকারীর নিকট ঐঅর্থ প্রদানের দায়িত্ব ক্ষুন্ন হইবে না।

উপধারা-(৪)(২)ও (৩) উপধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ৩৭ ধারার ৩দফা অথবা ৩৯ ধারার (১ক)উপধারায় উল্লেখিত বার্ষিক বৃত্তি, ওয়াকফ অথবাআল-আল-আওলাদ-এর ক্ষেত্রেওয়াকফ্ কমিশনারের নিকট ও অন্য কোনো ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যেসরকার কর্তৃকনিযুক্ত ট্রাষ্টির নিকট প্রদান করিতে হইবে ।

উপধারা-(৫)যদি(১) উপধারার অধীনে অনুমোদিত অর্থ অপেক্ষা অতিরিক্তক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়বা যদি আইনগতভাবে অধিকারী নয় ঐরূপ কোনো ব্যক্তিক্ষতিপূরণেরঅর্থ গ্রহণ করেতবে কালেক্টর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে ঐ অর্থফেরত্‍ প্রদানেরনির্দেশ দিবেন । যদি ঐ ব্যক্তি ফেরত্ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে ঐঅর্থ সরকারীদাবীবলিয়া গণ্য হইবে ও উহা সরকারী দাবী হিসাবে ১৯১৩ সালের সরকারী দাবীআদায়আইনের১ নং তফ্সিলের ৪ (১) অনুচ্ছেদ ঐ ব্যক্তির নিকট হইতে আদায় করা হইবে।তবে শর্ত থাকে যে, এখানে বর্ণিত কোনো কিছুই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরঅপরাধজনকদায়িত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না ।

ধারা ৫৯হস্তান্তর করার অযোগ্য ব্যক্তির অধিকারেএস্টেটসমূহ রায়তীস্বত্বসমূহ, জোতসমূহ বা ভূমিসমূহ সম্পর্কিত ক্ষতিপূরণের অর্থ তকবাবণ্ড জমা

উপধারা-(১)যদি৫৮ (৩) ধারার অধীন বণ্ড অথবা নগদে প্রদত্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ জেলারকালেক্টরের নিকট জমা দেওয়া হয় ও কালেক্টরের নিকট প্রতীয়মানহয় যে, নির্ধারিতক্ষতিপূরণের সংগে সম্পর্কযুক্ত এস্টেট মধ্যস্বত জোত অথবা উহারঅংশবিশেষঅথবা কোনো ভূমি এমন ব্যক্তি কর্তৃক অধিকৃত হয় যাহার উহা হস্তান্তরকরিবারক্ষমতা ছিল না তাহা হইলে কালেক্টর যেক্ষেত্রে নগদ অর্থ জমা দেওয়া হয়, যেরুপযথাযথ মনে করিবেন ঐরূপ সরকারী বা অন্য কোনো অনুমোদিত ঋণপত্র ক্রয়করিয়া উক্ত অর্থবিনিয়োগ করার আদেশ প্রদান করিবেন ও বণ্ড সমূহের সুদ অথবা ঐবিনিয়োগকৃত অর্থের সুদবিনিয়োগ হইতে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ঐ ব্যক্তি অথবাব্যক্তিবর্গকে প্রদান করার নির্দেশদিবেন যে বা যাহারা আপাতত ঐ এষ্টেট, রায়তীস্বত্ব, জোত বা উহার অংশ অথবা অন্যান্যভূমিতে নিহিত স্বার্থ, যেখানেযাহা প্রযোজ্য হয়, যদি ঐ স্বার্থ ৩ ধারা অথবা ৪৪ধারার অধীন সরকারের উপর নাবর্তাইয়া থাকে ইহার অধিকারী হইয়াছেন এবং ঐ বণ্ড বাঋণপত্র জমাকৃত অবস্থায়থাকিবে যতদিন পর্যন্ত না-

(ক)ঐগুলি চূড়ান্ডভাবে অধিকারী ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিগণের নিকটহস্হান্তর করা হয়; বা

(খ)ঐগুলি প্রদানযোগ্য হয় ।

উপধারা-(২)যদিঐ বণ্ডসমূহ বা জামানতগুলি প্রদানযোগ্য হয় এবং হওয়ারকালে কোনো ব্যক্তি বাব্যক্তিগণ চূড়ান্তভাবে ঐগুলির অধিকারী না হয় তবে কালেক্টর ঐবণ্ডসমূহ বাঋণপত্রগুলির বিক্রয়লবদ্ধ অর্থ যেইরূপ যথাযথ মনে করিবেন এইরূপ সরকারীঅথবাঅন্য কোনো অনুমোদিত ঋণপত্র ক্রয় করিয়া ঐ অর্থ বিনিয়োগ করার আদেশপ্রদানকরিবেন এবং (১) উপধারার বিধানসমূহ ঐরূপ বিনিয়োগ ও বিনিয়োগের এবংবিনিয়োগ হইতেবিক্রয়লব্ধ অর্থের বেলায় প্রযোজ্যহইবে যেভাবে ঐগুলি ৫৮ (৩)ধারার অধীন কালেক্টরের নিকট জমাকৃত ক্ষতিপূরণের অর্থ (১)উপধারা অধীনবিনিয়োগ, ঐ বিনিনয়োগের সুদ এবং বিনিয়োগ হইতে বিক্রয়লব্ধ অর্থেরক্ষেত্রেপ্রযোজ্য হইব ।

উপধারা-(৩)এইধারা মোতাবেক প্রযোজ্য সকল অর্থ, বণ্ড ও অন্যান্যক্ষেত্রে জেলার কালেক্টরনিম্নলিখিত বিষয়সহ সকল ন্যায়সংগত চার্জ এবং আনুসঙ্গিক খরচসরকার কর্তৃকপ্রদান করার জন্য আদেশ প্রদান করিবেন, যথা:

(ক)উপরোল্লিখিতঐ বিনিয়োগসমূহের ব্যয়; (খ) যাহার উপর ভিত্তিকরিয়া সাময়িক কালের জন্য অর্থবিনিয়োগ করা হইয়াছে ঋণপত্রের সুদ বা ঋণপত্রেরবিক্রয়লব্ধ অর্থ বা বণ্ড সমূহবা অন্যান্য সেই ঋণপত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দাবীদারগণেরমধ্য সংঘটিত মামলাছাড়া অন্যান্য কার্যক্রমের অর্থ প্রদানের আদেশের জন্য ব্যয় । 

উপধারা-(৪)যেক্ষেত্রেকোনো বার্ষিক বৃত্তি ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৫৮ ধারার(৪) উপধারায় ওয়াকফ্কফিশনারের নিকট প্রদান করা হয় সেক্ষেত্রে তিনি ঐ অর্থক্ষতিপূরণের সংগেসম্পর্কযুক্ত ঐ ওয়াকফ্ সম্পত্তি দখলের অধিকারী মুতওয়াল্লী অথবাকোনোব্যক্তি বা ব্যক্তিগণের নিকট প্রদান করিবেন, এবং যেক্ষেত্রে কোনো বার্ষিকবৃত্তিক্ষতিপূরণ হিসাবে ঐ উপধারা মোতাবেক এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃকনিযুক্ত কোনো ট্রাষ্টি-এর নিকট প্রদান করা হয় সেক্ষেত্রে ঐ ক্ষতিপূরণেরসংগে সম্পর্কযুক্ত ঐ সময় ট্রাষ্টসম্পত্তি দখলের অধিকারী সেবায়েত্ অথবা অন্যকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণের নিকট প্রদানকরিবেন, এবং এই উপধারা মোতাবেকপ্রত্যেকটি বৃত্তি প্রদানের সকল খরচ সরকার কর্তৃকবহন করা হইবে ।

তবে শর্ত থাকে যে, ওয়াকফ কমিশনার অথবা অন্যট্রাষ্টি ঐবৃত্তির সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ অর্থ প্রদান স্থগিত রাখিতে পারিবেনযতক্ষণ পর্যন্ততিনি সন্তুষ্ট না হয় যে, ৫৮ ধারার (৪) উপধারা মোতাবেকপূর্ববর্তী বত্সরের প্রদত্তবার্ষিক বৃত্তির অর্থ যে উদ্দেশ্য প্রদান করাহইয়াছিল তাহা খরচ করা হইয়াছে ।

ধারা ৬০( স্বত্ব অথবা ভাগ বাটোয়ারা প্রশ্নে বিরোধ)

যেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীমোতাবেক প্রদেয় ক্ষতিপূরণ কোনো ব্যক্তির গ্রহণ করিবার স্বত্ব নিয়া বা ঐরূপক্ষতিপূরণ অথবা উহার অংশ বিশেষের বন্টন নিয়া কোনোবিরোধ দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার ৪৮ (৪) ধারার অধীন নিযুক্ত বিশেষ জজেরকাছে বিবাদসম্বন্ধে তদন্ত করিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিষয়টি প্রেরণ করিবেন ।

ধারা ৬০ক(কতিপয় ধারা ভবিষ্যৰ অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেঅপ্রযোজ্য )

১৯৫৬ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ প্রজাস্বত্ব(সংশোধনী) অধ্যাদেশকার্যকর হওয়ার তারিখে অথবা উহার পরে খাজনা গ্রহণেরস্বার্থে অধিগ্রহণের বেলায় ৩ (৪)ধারার (গ) অনুচ্ছেদ, ৪৪ ধারার (৭) অনুচ্ছেদএবং হইতে ৬৮ ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্যহইবে না ।

ধারা ৬১( বকেয়ার সংজ্ঞা)

৩ ধারার (৪) উপধারার (গ)অনুচ্ছেদ বা ৪৪ধারার ৭ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বকেয়াসমূহ বলিতে উক্ত অনুচ্ছেদেউল্লেখিততারিখে বা দিনে ক্ষেত্র বিশেষ যাহাই হউক, যে বকেয়ার বিষয়েমোকদ্দমাবিচারাধীন আছে সেই বকেয়া অন্তর্ভুক্ত বা উল্লেখিত তারিখের পূর্বেখাজনা বা অর্থেরজন্য যে সকল ডিক্রি পাওয়া গিয়াছে কিন্তু উহা বাতিল বাতামাদি বারিত হয় নাই, সেই সকলডিক্রির দরুন অনুমোদিত খরচ উক্ত বকেয়ারঅন্তর্ভুক্ত হইবে ।

ধারা ৬২( বকেয়া পরিশোধ এবং আদায়)

উপধারা-(১)এইআইনের ৩ধারার (৪) উপধারার (গ) অনুচ্ছেদ বা ৪৪ ধারার (৭) দফায় সরকারের উপরন্যস্ত হইয়াছেএইরুপ বকেয়া খাজনা, সকল কর ও সুদ সরকারকে প্রদান করিতে হইবে, অপর কাহাকেও নহে, এবংএই উপধারার বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো খাজনা প্রদান করাহইলে উহা বৈধ হইবে না ।

উপধারা-(২)৬৩, ৬৪ এবং ৬৫ ধারার বিধানাবলী সাপেক্ষে এইরূপ সকলবকেয়া খাজনা এবং কর ও সুদএবং ৩৪ ধারার (খ) দফায় বা ৪৪ ধারার (৫) নং দফায় উল্লেখিতসমস্ত বকেয়ারাজস্ব, কর ও সুদ আদায়ের অন্যান্য পদ্ধতির হানিকর কিছু না করিয়ারাজস্বঅফিসার কর্তৃক ১৯১৩ সালের সরকারী দাবি আদায় আইনের বিধানাবলী মোতাবেকআদায়যোগ্য হইবে ।

ধারা ৬৩( বিচারাধীন মোকদ্দমা এবং কার্যক্রম সম্পর্কিতবিধান )

যদি ৩ (৪) ধারার (গ) দফায় বা ৪৪ ধারার (৭)দফা অনুসারে সরকারের উপরবর্তাইয়াছে এইরূপ কোনো বকেয়া আদায়ের জন্য কোনোখাজনা প্রাপক বা খাজনা প্রাপকগণ কোনোমামলা বা এইরূপ কোনো বকেয়া আদায়েরনিমিত্তে কোনো ডিক্রি জারীর কার্যক্রম উক্ত তারিখেবা দিনে, যেখানে যেমনপ্রযোজ্য হয়, আদালতে রুজু থাকে তাহা হইলে খাজনা প্রাপকযদিএকক ভূস্বামী হনবা এরূপ সকল অংশীদার খাজনা প্রাপকগণ যদি একটি পূর্ণ সহ-শরীকজমিদারিত্বসৃষ্টি করে; তবে ঐরূপ মামলা অথবা কার্যক্রম আর অধিক অগ্রসর করা যাইবে নাএবংউহা প্রত্যাহার করা হইয়াছে বলিয়া ধরিয়া লওয়া হইবে । ১৯৯৩ সালের সরকারীদাবি আদায়আইনের অধীনে দায়েরকৃত কোন সার্টিফিকেটের মত এইরূপ কোনো ডিক্রিজারী করা যাইতে পারে ।

ধারা ৬৪( সরকারের অধীনে প্রজাগণ কর্তৃক দখলকৃত ভূমির বকেয়াখাজনা আদায়)

উপধারা-(১)যেবকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ প্রযোজ্যসেই বকেয়া খাজনাআদায়ের জন্য কোনো সার্টিফিকেট বা ডিক্রিভুক্ত বকেয়া এইরূপ কোনোপ্রজারকোনো জোত বা ভূমি সম্পর্কিত, উক্ত সার্টিফিকেট দেনাদার বা সাব্যস্তখাতককেগ্রেপ্তার ও দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা বা এইরূপ বকেয়ার সহিতসম্পর্কযুক্ত নয় এমনঅবস্থান বা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়ের দ্বারা, বকেয়ার সহিত সম্পর্কযুক্ত (জোতবা ভূমি) ব্যতীত, বাস্তবায়ন করা চলিবে না ।

উপধারা-(২)যদিএইরূপ বকেয়ার সহিত সম্পর্কযুক্ত জোত বা ভূমি ঐরূপসার্টিফিকেট বা ডিক্রিজারির পূর্বে অন্য কোনো ডিক্রি বা সার্টিফিকেটমূলে বিক্রি করাহয় । তবেআপাতত বলবত্‍ অন্য কোনো আইনের ভিন্নরূপ কোনো কিছু থাকা সত্ত্বেও ঐরূপবকেয়ারজন্য উক্ত জোত বা ভূমির উপর চার্জ সৃষ্টি হইবে ।

ধার ৬৫ ( সরকারের অধীন প্রজা কর্তৃক অধিকৃত জমি বকেয়াআদায়ের জন্য বিক্রয়)

যেক্ষেত্রে এই অধ্যায়ের কোনো সার্টিফিকেটদেনাদার অথবাডিক্রি সরকারের অধীনস্থ প্রজা হিসাবে সার্টিফিকেট অথবাসাব্যস্ত খাতক কর্তৃক অধিকৃতকোনো ভূমি ক্রোক এবং বিক্রীর মাধ্যমে কার্যকরকরা হয় সেক্ষেত্রে ঐরূপ বিক্রয়, (যেইএলাকায় ৫ম খণ্ড প্রযোজ্য হয় ঐ এলাকারক্ষেত্রে), ৯০ ধারার বিধানসমূহ সাপেক্ষেকার্যকর হইবে ।

ধারা ৬৫( সরকারের অধীনে প্রজা কর্তৃক অধিকৃত জমি বকেয়াআদায়ের জন্য বিক্রয়)

যেক্ষেত্রে এই অধ্যায়ের অধীনে কোনোসার্টিফিকেট দেনাদারঅথবা ডিক্রি সরকারেরর অধীনস্থ প্রজা হিসাবেসার্টিফিকেট অথবা সাব্যস্ত খাতককর্তৃক অধিকৃত কোনো ভূমি ক্রোক এবং বিক্রীরমাধ্যমে কার্যকর করা হয় সেক্ষেত্রে ঐরূপবিক্রয়, (যেই এলাকায় ৫ম খণ্ডপ্রযোজ্য হয় ঐ এলাকার ক্ষেত্রে), ৯০ ধারারবিধানসমূহসাপেক্ষে কার্যকর হইবে ।

ধারা ৬৬ ( কিস্তিমঞ্জুর এবং জারী স্থগিত করিবার ক্ষমতা)

এই অধ্যায়ের অধীনে কোনো সার্টিফিকেটঅথবাডিক্রিজারী করিবার জন্য সার্টিফিকেট কর্মকর্তা ঐরূপ সার্টিফেকেট অথবাডিক্রির অর্থআদেশ প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক তিন বত্সর সময়ের মধ্যেকিস্তিতে সার্টিফিকেটদেনাদার অথবা সাব্যস্ত খাতক কর্তৃক পরিশোধ করারনিমিত্ত আদেশ প্রদানের এবং ঐরূপসময়ের জন্য সার্টিফিকেট অথবা ডিক্রি কার্যকরকরা স্থগিত করিতে ক্ষমতাবান হইবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো কিস্তির পরিশোধে ব্যর্থ হইলে ঐ সমস্তবাকী অর্থের জন্য সার্টিফিকেট বা ডিক্রিজারীতে দেওয়া হইবে ।

ধারা ৬৭ ( বিদায়ী খাজনা প্রাপকগণকে অর্থ পরিশোধ)

উপধারা-(১)ধারা৩ এর (৪) উপধারার (গ) দফা অথবা ৪৪ ধারার (৭) দফার সরকারের উপর বর্তাইয়াছেএমন কোনো বকেয়া খাজনা, সেস এবং সুদ যাহা উক্ত দফাসমূহে বর্ণিত তারিখে বাদিনের, যেখানে যাহা প্রয্যেজ্য হয়, অব্যবহিত আগে খাজনা প্রাপকগণের পাওনাছিল উহার জন্য সরকার নির্ধারিত উপায়ে গণনাকৃতশতকরা পঞ্চাশ ভাগ অর্থ, সুদব্যতীত, ক্ষতিপূরণ হিসাবে উক্ত তারিখ বা দিন হইতে অনধিক৪ বত্সরের মধ্যেনির্ধারিতভাবে ও নির্ধারিত কিস্তিতে উক্ত বিদায়ী খাজনা প্রাপককেপরিশোধকরিবেন ।

তবে শর্ত থাকে যে, বিদায়ী খাজনা প্রাপককেশুনানীর সুযোগপ্রদানের পর ঐরূপ খাজনা প্রাপকের কাছে সরকারের কোন ঋণ বাপাওনা থাকিলে উক্ত অর্থপ্রদানের পূর্বে সরকার উহা কাটিয়া রাখিতে পারিবেন।

উপধারা-(২)সরকার(১) উপধারার অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে ঐউপধারার অধীন প্রদেয়ক্ষতিপূরণের পরিবর্তে ঐরূপ বকেয়াসমূহ হইতে সরকার কর্তৃকপ্রকৃতপক্ষে আদায়কৃতসর্বমোট অর্থের শতকরা ৭০ ভাগের সমপরিমাণ অর্থ নির্ধারিত সময়েনির্ধারিতনিয়মে বিদায়ী খাজনা প্রাপককে প্রদান করিবেন এবং (১) উপধারার অনুবিধিরবিধানএইরূপ অর্থ প্রদানের বেলায়ো প্রযোজ্য হইবে ।

উপধারা-(৩)কালেক্টর(২) উপধারার অধীন প্রদেয় অর্থ এখতিয়ারের অধিকারীমুন্সেফের নিকট নির্ধারিতনিয়মে জমা দিবেন, কালেক্টর কর্তৃক বর্ণিত যে ব্যক্তিঅর্থপ্রাপ্ত হইবেনমুন্সেফ অতঃপর উহার বিবরণসমূহ প্রকাশ করিবেন এবংঐ অর্থের বিরুদ্ধেউক্তব্যক্তির সহ-শরীকগণ ও উর্ধ্বতন মালিকের, যদি থাকে, নিকট হইতে দাবীআহবানকরিবেন এবং তত্পর একটি রোয়েদাদ তৈরী করিবেন তত্পর যাহাদের বৈধ দাবিআছে বলিয়া তিনিদেখেন তাহাদের মধ্যে বিতরণ করিবেন ।

ধারা ৬৮( তামাদি মেয়াদ গণনা)

আপাতত বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে যাহাকিছুথাকুক না কেন, এই অধ্যায় মোতাবেক বকেয়া আদায়ের জন্য তামাদির মেয়াদ গণনারবেলায়, ৩ (৪) ধারার (গ) দফা অথবা ৪৪ ধারার (৭) নং দফার অধীনে সরকারের উপরবর্তানো বকেয়াপাওনাসমূহ উক্ত দফার অধীন বকেয়া পাওনাসমূহ বর্তানোর তারিখেঅথবা দিনে বা তারিখ বাদিন হইতে, যেখানে যেমন প্রযোজ্য হয়, ১০ বত্সর সময় এবংযেক্ষেত্রে ৬৩ ধারায় বর্ণিতঐ বকেয়াসমূহ আদায়ের নিমিত্ত দায়েরকৃত কোনোমোকদ্দমা অথবা কার্যক্রম কোনো আদালত স্থগিতথাকে সেক্ষেত্রে উক্ত মোকদ্দমাবা কার্যক্রম স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দেওয়া হইবে ।

ধারা ৬৮ক( এই অধ্যায়ের প্রয়োগ)

এই অধ্যায়ের বিধানাবলী ১৯৫৬সালের রাষ্ট্রীয়অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব সংশোধনী অধ্যাদেশ বলবত্‍ হওয়ার তারিখেঅথবাতারিখের পরে খাজনা প্রাপকের অধিগ্রহণের বেলায় প্রযোজ্য হইবে ।

ধারা ৬৮খ( সার্টিফিকেট কর্মকর্তার নিকট বিচারাধীন মোকদ্দমাসম্পর্কে অস্থায়ী বিধানাবলী)

উপধারা-(১)বকেয়াখাজনা আদায়ের সকল রিকুইজিশন ও নবম -কঅধ্যায়ের বিধানাবলীর অধীন সার্টিফিকেটকর্মকর্তা কর্তৃক বকেয়া খাজনা আদায়ের নিমিত্তডিক্রি জারী করিবার আবেদনযাহা ১৯৫৭ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব (২য়সংশোধনী) অধ্যাদেশকার্যকর হওয়ার তারিখে সার্টিফিকেট কর্মকর্তার নিকট রুজু রহিয়াছেউহা উক্তবলবত্‍ হওয়ার তারিখের সাথে সাথে রিকুইজিশন অথবা আবেদনের সাথেসম্পর্কযুক্তবকেয়া খাজনা আদায়ের মামলা শুনানীর এখতিয়ারসম্পন্ন দেওয়ানীআদালতে স্থানান্তরিত হইবে । 

উপধারা-(২)উক্তরূপস্থানান্তরিত হওয়ার প্রেক্ষিতে উক্তরিকুইজিশন অথবা আবেদনকে ১৯০৮ সালেরকার্যবিধির অর্থে আরজী অথবা ডিক্রি কার্যকর করিবার নিমিত্ত আবেদন হিসাবেগণ্য হইবে ও মোকদ্দমা অথবা আবেদন বকেয়া আদায় অথবাডিক্রি কার্যকর করিবারনিমিত্ত আপাতত বলবত্‍ বিধানসমূহ মোতাবেক পরিচালিত হইবে। 

তবে শর্ত থাকে যে, যে আদালতে উক্ত রিকুইজিশনঅথবা আবেদনস্থানান্তরিত হইয়াছে সেই আদালত উক্ত মামলা অথবা আবেদনেরকার্যক্রম পরিচালনার পূর্বেউক্ত রিকুইজিশন অথবা আবেদনের নিমিত্তসার্টিফিকেট কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত কোর্ট ফিও উক্ত আদালতে উক্ত আরজী অথবাআবেদনের জন্য প্রদানযোগ্য কোর্ট ফির মধ্যে যেপার্থক্য রহিয়াছে সেই পরিমানঅর্থ আদায় করিবেন ।

ধারা ৬৮গ( খাজনা প্রাপকের নিকট বকেয়া খাজনা, সেস এবংকর আদায় ও ঐ বকেয়ার নিমিত্ত ডিক্রি)

সুদসহ সমস্ত বকেয়া খাজনা এবং সেস যাহাখাজনাপ্রাপকের স্বার্থ এই আইনের অধীন অধিগ্রহণের তারিখ তাহার পাওনা ছিল এবংযাহা তামাদিহয় নাই এবং উক্ত অধিগ্রহণের আগে বা পরে এইরূপ বকেয়া আদায়েরনিমিত্ত ডিক্রিসম্পর্কীয় সমস্ত পাওনাদি, তাহা খাজনার ডিক্রি হউক অথবা অর্থডিক্রি হউক, এবং উহাঅধিগ্রহণের আগে বা পরে যখনই পাওনা হউক না কেন এবং যাহাজারী দেওয়া তামাদি আইনেবারিত হয় নাই তাহা আপোস অথবা দেওয়ানী আদালতেরমাধ্যমে দেনাদারের নিকট হইতেআদায়যোগ্য হইবে ।

ধারা ৬৮-ঘ( কতিপয় শর্তসাপেক্ষে সরকারের মাধ্যমেবকেয়াসমূহ আদায়ের জন্য মতামত)

উপধারা-(১)কোনোখাজনাপ্রাপক কালেক্টরের কাছে আবেদনক্রমেতামাদি হইয়া যায় নাই বকেয়া পাওনাএবং উহার সুদ, প্রকৃত আদায়কৃত অর্থের অর্ধাংশসরকারকে প্রদান করিয়া সরকারেরমাধ্যমে আদায়ের জন্য মতামত প্রকাশ করিতে পারিবেন ।

উপধারা-(২)লিখিত কারণসমূহ রেকর্ড করিয়া কালেক্টর উক্ত দরখাস্তপ্রত্যাখান করিতে পারিবেন ।

উপধারা-(৩)কালেক্টরযদি দরখাস্ত মঞ্জুর করেন তবে উক্ত বকেয়া পাওয়াএবং সুদ যেন সরকারী পাওনাএইরূপভাবে অথবা সরকার যেন খাজনা প্রাপক এইরূপ অপর কোনোপদ্ধতিতে ঐ বকেয়াআদায় করার জন্য সরকার অধিকারী হইবে ।

উপধারা-(৪)কালেক্টরসময় সময় নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী উপরে বর্ণিতবকেয়া পাওনা এবং সুদের প্রকৃতআদায়ের হিসাব খাজনা প্রাপকের কাছে পাঠাইবেন ও উক্তআদায়কৃত অর্থের অর্ধাংশখাজনা প্রাপককে প্রদান করিবেন এবং অবশিষ্ট অর্থকে সরকারেরজন্য রাখিবেন এবংউক্ত হিসাব চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে ও এই ব্যাপারে কোনো প্রশ্নউত্থাপন করাচলিবে না ।

উপধারা-(৫)উক্ত বকেয়া এবং উহার সুদের সম্পূর্ণ অথবা কোনো অংশ বিশেষআদায় করিতে ব্যর্থ হইলে সরকার দায়ী হইবে না ।  

ধারা ৬৮-ঙ( তামাদি মেয়াদ গণনা)

আপাতত বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে যাহাকিছুথাকুক না কেন ? এইরূপ কোনো বকেয়া আদায়ের নিমিত্ত বা এইরূপ বকেয়া সম্বন্ধীয়কোনোডিক্রী জারী করার জন্য তামাদি মেয়াদ গণনার বেলায় উক্ত এলাকার সহিতসম্পর্কযুক্তখাজনা প্রাপকের স্বার্থ এই আইনের অধীন অধিগ্রহণের তারিখ অথবাতারিখ হইতে ৪৮ মাস বাদদেওয়া হইবে ।

ধারা ৬৯ ( খাজনা প্রাপকদের ঋণ আদায়ের জন্য কতিপয় ডিক্রি এবংআদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা)

উপধারা-(১)এইআইন বলবত্‍ হওয়ার পর কোনো দেওয়ানীআদালত ৭০ ধারার অধীন হ্রাস পাওয়ার যোগ্যকোনো ঋণ আদায়ের জন্য কোনো খাজনা প্রাপকের কোনোসম্পত্তির বিরুদ্ধে কোনোমামলা গ্রহণ অথবা কোনো ডিক্রী বা আদেশ কার্যকর করিবেন না, যে পর্যন্তনাউক্তরূপ খাজনা প্রাপকের যে সমস্ত স্বার্থ সরকার কর্তৃক এই আইনেঅধিগ্রহণযোগ্যতাহা অধিগ্রহণ করা হয় ও খাজনা প্রাপককে উক্ত স্বার্থসমূহেরজন্য ক্ষতিপূরণপরিশোধ করা হয় বা এই আইনের বিধান অনুযায়ী কালেক্টরের নিকটজমা দেওয়া হয়।

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো খাজনা প্রাপক যদি৭০ ধারার (১) উপধারায়বর্ণিতনির্ধারিত সময়ের ভিতর উক্ত ঋণ পরিশোধ করিয়ালইবার জন্য দরখাস্ত দিতে ব্যর্থ হয় তবেঐ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর উপধারারবিধান প্রযোজ্য হইবে না ।

উপধারা-(২)আপাততবলবত্‍ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনোডিক্রী অথবা আদেশজারী দেওয়ার জন্য মোকদ্দমা, অথবা দরখাস্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতামাদি মেয়াদগণনা করিতে যাইয়া কোনো মোকদ্দমা দায়ের অথবা কোনো ডিক্রী অথবাআদেশেরকার্যকারিতা (১) উপধারার অধীন তামাদি হওয়ার সময় বাদ দেওয়া হইবে ।

উপধারা-(৩)যেক্ষেত্রেকোনো ঋণ ৭০ ধারার অধীনে হ্রাস করা হইয়াছে যেঅর্থ দ্বারা উক্ত ঋণ হ্রাসকরা হইয়াছে সেই অর্থ (১) উপধারা অনুযায়ী প্রয়োগের বেলায়বারিত হইয়াছে এইরূপডিক্রী অথবা আদেশ মোতাবেক হ্রাস করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইয়াছে ।

ধারা ৭০ (ঋণ হ্রাস ও উহা আদায়)

 উপধারা-(১)এইআইন অনুযায়ী কোনো জেলা, জেলার অংশে অথবা স্থানীয় এলাকার অবস্থিত প্রাপকেরস্বার্থ অধিগ্রহণের বকেয়া রাজস্বও সেস ছাড়া সরকারের নিকট অথবা সমবায়সমিতির নিকট প্রদানযোগ্য কোনো টাকা বা পাওনা ছাড়া(চা শিল্পের জন্য আর্থিকঋণ ব্যতীত) ১৯৪৮ সালের ৭ই এপ্রিলের পূর্বে খাজনা প্রাপকেরঅন্য কোনো ঋণআপাতত বলব্ত্‍ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছু থাকুক না কেন, নিম্নলিখিতনিয়মেহ্রাস করা হইবে যদি খাজনা প্রাপক নির্ধারিত নিয়মে নিয়মে ঋণ-হ্রাসেরজন্য ৭১ (১)ধারার অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত রাজস্ব অফিসারের নিকট ৩ ধারা অথবা ৪৪ধারা অনুযায়ীস্বার্থ বা ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণবিবরণী ৪২ ধারা মোতাবেকপ্রকাশের ৩ মাসের মধ্যে আবেদন করিয়া থাকে

(ক)এইআইনের বিধানাবলীর অধীন অধিগ্রহণ করা হইয়াছে এইরূপখাজনা প্রাপকের স্বার্থবন্ধক রাখিয়া বা দায়বদ্ধ করিয়া গৃহীত ঋণের সংশ্লিষ্টস্বার্থ অধিগ্রহণেরদরুণ ক্ষতিগ্রস্ত খাজনা প্রাপকের প্রকৃত আয় হ্রাসের আনুপাতিকহারেঐ হ্রাসকরা হইবে;

(খ)এইআইনের বিধানাবলীর অধীন অধিগ্রহণ করা হইয়াছে এইরূপ খাজনাপ্রাপকের স্বার্থেরঅংশবিশেষ বন্ধক রাখিয়া, দায়বদ্ধ করিয়া ও এই আইনের বিধানাবলীরঅধীনঅধিগ্রহণ করা হয় নাই এইরূপ সম্পত্তির অংশবিশেষ বন্ধক রাখিয়া বাদায়বদ্ধকরিয়া গৃহীত ঋণের ক্ষেত্রে, অধিগ্রহণ করা হইয়াছে এইরূপ বন্ধকীকৃত ওদায়বদ্ধ স্বার্থহইতে ঐ খাজনা প্রাপকের বার্ষিক প্রকৃত আয় ও অধিগ্রহণ করা হয়নাই এইরূপ বন্ধকীকৃত ওদায়বদ্ধ স্বার্থ হইতে ঐ খাজনা প্রাপকের বার্ষিকপ্রকৃত আয়ের অনুপাতে ঐ ঋণ নির্ধারিতনিয়মে দুইভাগে বিভক্ত করা যাইবে এবং ঐঅধিগ্রহণ করা হইয়াছে এইরূপ স্বার্থ হইতে আগতবার্ষিক প্রকৃত আয়ের অনুপাতে ঐঋণের অংশ হ্রাস করা হইবে । সংশ্লিষ্ট স্বার্থঅধিগ্রহণ করার ফলে ক্ষতিগ্রস্থখাজনা প্রাপকের প্রকৃত আয়ের হ্রাসের আনুপাতিক হারে।

তবে শর্ত থাকে যে, খাজনা প্রাপকের ঋণেরকোনো অংশে হ্রাস করাহইবে না যদি অধিগ্রহণকৃত খাজনা প্রাপকের স্বার্থ বাভূমির উপর ক, খ ও গ দফার অধীনআনুপাতিক হারে ঋণের পরিমাণ খাজনা প্রাপকেরপ্রদানযোগ্য ক্ষতিপূরণের মোট অর্থের .২৫অংশের কম হয় ।

আরো শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীন হ্রাসকৃত ঋণ ক্ষতিপূরণের মোটঅর্থের .২৫ অংশের কম হইলে তাহা হ্রাস করা হইবে না।

(১ক) (১)উপধারায় যাহা কিছু থাকুক না কেন, একজন খাজনা প্রাপকযাহার স্বার্থ সম্পর্কে ৪২ ধারার অধীন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণবিবরণী ১৯৫৫ সালের ১৫ইমার্চ তারিখের বা উহার পূর্বে তাহার ঋণ হ্রাস করারজন্য ১৯৫৬ সালের পূর্ববংগরাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজস্বত্ব (সংশোধনী)অধ্যাদেশ বলবত্‍ হইবার ৩ মাসের মধ্যে ঐউধারায় বর্ণিত নিয়মে আবেদন করিতেপারিবেন । 

(১খ) (১) উপধারায় অথবা (১ক) উপধারায় যাহাকিছুই থাকুক না কেন, খাজনাপ্রাপক যাহার সম্পত্তি ১৯৭৯ সালের কোর্ট অবওয়ার্ডস আইন মোতাবেক কোর্ট অবওয়ার্ডসের ব্যবস্থাধীন ছিল ও যাহার স্বার্থসম্পর্কে ৪২ ধারার অধীন ক্ষতিপূরণনির্ধারণ বিবরণী ১৯৫৬ সালের পূর্ববঙ্গরাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব (সংশোধনী)অধ্যাদেশ বলবত্‍ হওয়ার তারিখেরআগে প্রকাশিত হইয়াছে তাহার ঋণ হ্রাস করার জন্য (১)উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতিতে ঐতারিখ হইতে ৩ মাসের ভিতর আবেদন করিতে পারিবে ।

(২) কোনো খাজনা প্রাপক যদি এই আইন অনুযায়ীযেগুলি অধিগ্রহণ করাযাইবে না যেইগুলি কোনো ভূমি বা স্থাবর সম্পত্তিবিভিন্ন এলাকায় অধিকারে রাখেসেক্ষেত্রে এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার অধীনে ঋণ হ্রাস করিবার জন্যকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইবে নাযতক্ষণ পর্যন্ত না (এই আইন মোতাবেক) ঐ এলাকাগুলিসম্পর্কে ক্ষতিপূরণনির্ধারণ বিবরণী অথবা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীসমূহ তৈরী করাহয় এবং ৫৪ধারার অধীন চূড়ান্তভাবে সংশোধিত হয় ।

(৩) (১) উপধারার ক, খ ও গ দফায় বর্ণিত খাজনাপ্রাপকের আয়হ্রাসের পরিমাণ এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধানাবলীঅনুযায়ী নির্ধারিত হইবে ।

(৪) (১) উপধারার খ ও গ দফায় বর্ণিত এই আইনঅনুযায়ী অধিগ্রহণকরা হয় নাই এইরূপ সম্পত্তি হইতে আগত বার্ষিক প্রকৃত আয় এবংঅন্যান্য উত্স হইতে আগতআয় এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিমালাঅনুসারে গণনা করা হইবে ।

(৫) আপাতত বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে বা চুক্তিতে ভিন্নরূপ কিছু থাকাসত্ত্বেও,

(ক) (১) উপধারার (ক) দফায় বর্ণিত ঋণের সহিতসম্পর্কযুক্ত উক্তউপধারার অধীন হ্রাসকৃত ঋণ অপেক্ষা অতিরিক্ত অর্থ আদায়করিবারঅধিকারী হইবে না ।

(খ) এই আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণ করা হইয়াছেএইরূপ খাজনা প্রাপকেরস্বার্থ হইতে (১) উপধারার (খ) ও (গ) দফা অনুযায়ীবিভক্ত হইয়াছে অনুরূপ কোনোঋণেরঅংশবিশেষ সংগে সম্পর্কযুক্ত ঋণদাতা (১)উপধারার খ ও গ দফা হ্রাসকৃত অংশবিশেষ অপেক্ষাঅতিরিক্ত অর্থ আদায় করারঅধিকারী হইবে না; ও ঐ ঋণের অংশবিশেষ উদ্বৃত্ত অর্থেরপ্রাপকের দায়িত্বেরসমাপ্তি ঘটিবে।

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন অনুসারে সকলস্বার্থের অধিগ্রহণেরজন্য প্রদানযোগ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ হইতে ১ উপধারার ক, খ, গ দফা অনুযায়ী-হ্রাসকৃতখাজনা প্রাপকের সকল ঋণের আদায়যোগ্য হইবে।

আরও শর্ত থাকে যে, অধিগ্রহণ করা হয় নাইএইরূপ সম্পত্তি হইতে(১) উপধারার খ ও গ দফার অধীন বিভক্ত খাজনা প্রাপকেরঋণের কোন অংশ ও ঐ সম্পত্তিবন্ধক রাখিয়া বা দায়বদ্ধ করিয়া লওয়া কোনো ঋণেরঅংশে এই আইন অনুযায়ী ঐ খাজনা প্রাপকেরপ্রদানযোগ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ হইতেআদায়যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবে না ।

(গ) (খ) দফার অনুবিধানসাপেক্ষে ক্ষতিপূরণেরঅর্থ হইতে ঋণআদায়ের ব্যাপারে কোনো ভূমি বা অন্য স্থাবর সম্পত্তিতে নিহিতখাজনা প্রাপকের স্বার্থবন্ধক রাখিয়া বা দায়বদ্ধ করিয়া লওয়া ঋণ বন্ধক নারাখিয়া বা দায়বদ্ধ না করিয়া গৃহীতঋণের অপেক্ষা অগ্রাধিকার পাইবে এবং ঐবন্ধকীকৃত ও দায়বদ্ধ ঋণ পরিশোধের পর যদি কোনোঅর্থ থাকে তাহাঅাদায়বদ্ধ ঋণপরিশোধের ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে বন্টন করা হইবে ।

ধারা ৭১ ( সরকার কর্তৃক রাজস্ব অফিসারকে ৭০ ধারার অধীন ব্যবস্থাগ্রহণের ক্ষমতা প্রদান)

উপধারা-(১)৭০ধারার অধীনে যে কোনো এলাকায় খাজনা প্রাপকের ঋণ হ্রাসকরার নিমিত্ত সরকারযে কোনো রাজস্ব অফিসারকে ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবেন এবং তিনিতদানুসারে ঐধারার অধীনে প্রয়োজনীয় বা অনুমোদিত অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিতেপারিবেন ।

উপধারা-(২)(১)উপধারায় ভারপ্রাপ্ত কোনো রাজস্ব অফিসার প্রত্যেকঋণদাতাকে নির্ধারিত সময়েরমধ্যে এবং নির্ধারিত ফরমে বিবরণী দাখিল করিবার জন্যনির্ধারিত নিয়মে নোটিশপ্রদান করিবেন এবং উক্ত বিবরণীতে ৭০ (১) ধারায় বর্ণিত সকলপ্রকার ঋণেরনিমিত্ত ঐ এলাকায় দায়গ্রস্ত খাজনা প্রাপক যাহার স্বার্থ ৩ ধারা অথবা ৪৪ধারামোতাবেক অধিগ্রহণ করা হইয়াছে ও যে ৭০ ধারার (১) উপধারা অনুযায়ী ঋণহ্রাসেরজন্য দরখাস্ত দিয়াছে এই সমস্ত বিষয় এবং অন্যান্য নির্ধারিত বিবরণপ্রদর্শন করিতেহইবে ।

উপধারা-(৩)(২)উপধারা অনুযায়ী উহাতে উল্লেখিত নির্ধারিত মেয়াদেরভিতর ঋণদাতা ৭০ ধারার (১)উপধারায় বর্ণিত ধরনের ঋণ সম্বন্ধীয় বিবরণী দাখিল করিতেব্যর্থ ঋণগ্রহীতারঋণ পরিশোধের দায়িত্ব উক্ত সময়ে আপাতত বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে যাহাকিছুইথাকুক না কেন, পরিসমাপ্তি হইয়াছে বলিয়া গণ্য করা হইবে ।

উপধারা-(৪)(২)উপধারায় সময়ের পরিসমাপ্তি অন্তে রাজস্ব অফিসার উক্তধারার অধিন দাখিলী ঋণএবং অন্যান্য বর্ণনা সম্বন্ধীয় বিবরণ পরীক্ষা করিবেন ও ঋণগ্রহীতাগণকেশুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া এবং যাহা তিনি উপযুক্ত মনে করিবেনঐরূপঅনুসন্ধানান্তে উক্ত বিবরণ প্রয়োজনীয় সংশোধন করিবেন ।

উপধারা-(৫)উপধারা(৪) এর অধীনে ঋণের বিবরণপত্র পরীক্ষা এবংপ্রয়োজনীয় সংশোধন করার পর রাজস্বঅফিসার ৭০ ধারার বিধান মতে সংশোধিত এইরূপেবিবরণপত্রে প্রদর্শিত সকল ঋণেরপরিমাণ হ্রাসকরণের কাজ শুরু করিবেন এবং এই ধরনেরঋণের ক্ষেত্রে ঐ ধারায়প্রয়োজনীয় বা অনুমোদিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং এই কাজকরিতে এবং এইঅধ্যায়ের বিধানমতে প্রয়োজনীয় বা বা অনুমোদিত অন্যান্য সকল ব্যবস্থ্যগ্রহণেরসময় রাজস্ব অফিসার এই বিষয়ে সরকার কর্তৃক কার্যপদ্ধতি ও অপরাপরব্যাপারেপ্রণীত বিধি অনুসরণ করিবেন ।

উপধারা-(৬)এইধারার অধীনে রাজস্ব অফিসারের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধেনির্ধারিত সময়ের ৪৮ (৪)ধারার অধীনে নিযুক্ত বিশেষ জজের নিকটে আপিল করা যাইবে এবংবিশেষ জজেরসিদ্ধান্ত এবং শুধুমাত্র এই সিদ্ধান্তসাপেক্ষে রাজস্ব অফিসারেরসিদ্ধান্ত ওআদেশ চূড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে ।

উপধারা-(৭)এইঅধ্যায়ের অধীনে আদায়যোগ্য কোনো ঋণ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণতালিকা বাতালিকাসমূহের অধীনে খাতককে(ঋণ গ্রহীতাকে) দেয় ক্ষতিপূরণেরসর্বমোট অর্থ হইতেনির্ধারিতপন্থায় আদায় করা যাইবে ।

একাদশ অধ্যায়

বিবিধ

ধারা-৭২( কতিপয় বিষয়ে দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ারের উপরবাধা-নিষেধ)

এই খণ্ডে প্রকাশ্যভাবে উল্লিখিত বিষয় ছাড়া৫ম ও ৫ম ক অধ্যায়অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী অথবা উহার অংশেরপ্রস্তুতি, স্বাক্ষর এবংপ্রকাশনা সম্বন্ধে বা উক্ত বিবরণী অথবা উহার অংশেরপ্রস্তুতি, স্বাক্ষর এবং প্রকাশনাসম্বন্ধে বা উক্ত বিবরণীতে কোনোঅন্তর্ভুক্তি অথবা উক্ত বিবরণী থেকে কোনো কিছু বাদ পড়াসম্বন্ধে বা ৫ম হইতে১০ম অধ্যায়ের অধীনে দরখাস্ত অথবা কার্যক্রমের কোনো বিষয় সম্বন্ধেউক্তঅধ্যায়সমূহের অধীনে দেওয়া আদেশ সম্বন্ধে দেওয়ানী আদালতে মামলা করা চলিবে না।

ধারা-৭৩( ভূমিতে প্রবেশ এবং জরিপ করার ক্ষমতা)

 অত্রআইনের অধীন প্রণীত বিধিমালাসাপেক্ষেরাজস্ব অফিসার ও কর্মচারীসহ সূর্যদয় ওসূর্যাস্তের মধ্যে যে কোনো সময়ে যেকোনো জমিতে প্রবেশ করিতে পারিবেন অথবা উহার পরিমাপকরিতে অথবা অত্র আইনেরঅধীনে তাহার কর্তব্য পালন করিতে গিয়া যাহা তিনি প্রয়োজন মনেকরিবেন ঐরূপ অপরযে কোনো কার্য করিতে পারিবেন ।

ধারা-৭৪( বর্ণনা ও দলিলপত্র দাখিল করার জন্য বাধ্য করারক্ষমতা)

উপধারা-(১)এইআইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা সাপেক্ষে এই আইনের উদ্দেশ্যসাধনার্থে রাজস্বঅফিসার কোনো ব্যক্তিকে নোটিশের মাধ্যমে নোটেশে উল্লেখিত সময়ে এবংস্থানেকোনো এস্টেট মধ্যস্বত্ব জোত, অথবা ভূমি সম্বন্ধীয় বিবরণী তৈরী এবংহস্তান্তরএবং তাহার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকা নথিপত্র অথবা দলিল দাখিল করারআদেশ দিতে পারিবেন ।

উপধারা-(২)এইধারার অধীনে একটি বিবরণী তৈরী এবং প্রদান করিতে বানথিপত্র অথবা দলিলাদিদাখিল করিতে বাধ্য প্রত্যেক ব্যক্তি দণ্ড বিধির ১৭৫ এবং ১৭৬ধারার অর্থঅনুসারে আইনসংগতভাবে বাধ্য বলিয়া গণ্য হইবে ।

ধারা-৭৫( সাক্ষীগণের উপস্থিত ও দলিল দাখিল করিতে বাধ্যকরার ক্ষমতা)

অত্র আইনের অধীনে কোনো তদন্তের উদ্দেশ্যেরাজস্ব অফিসারসাক্ষীগণকে অথবা কোনো সম্পত্তি, মধ্যস্বত্ব, জোত অথবা ভূমিতেস্বার্থবান এমনকোনো ব্যক্তিকে সমন করিতে ও উপস্থিত হইতে বা দলিল-দস্তাবেজদাখিল করিতে বাধ্যকরিতে ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির অনুসারেএতদসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো দেওয়ানী আদালতেযে ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারেন সেইক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন ।

ধারা-৭৫ক(কোর্ফা পত্তনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ)

উপধারা-(১)১৭ধারার (৩) উপধারার অধীনে বা ৩১ ধারার (১) উপধারার অধীনে যেদিন নোটিফিকেশনপ্রকাশিতহইয়াছে সেই দিন হইতে কোনো ব্যক্তি তাহার দখলীয় খাস ভূমি কোর্ফাপত্তন দিতে পারিবেনা । 

উপধারা-(২)(১)উপধারার পরিপন্থী কোনো কোর্ফা পত্তন করা হইলে উহাবাতিল হইবে এবং উক্তরূপেযে ভূমি কোর্ফা পত্তন করা হইয়াছে উহা বাজেয়াপ্ত হইবে এবংসরকারের উপরন্যস্ত হইবে ।

উপধারা-(৩)৩৯ধারার নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে ৩ধারার (২) উপধারায়তাহার কোনো খাস ভূমি অধিগ্রহণ করার জন্য যে কোনো সময় সরকারের কাছেদরখাস্তদিতে পারিবেন ।

ধারা-৭৫খ( তদন্তের দরখাস্তের জন্য ফি)

অত্র আইনমোতাবেক স্বত্বলিপি অথবা ক্ষতিপূরণনির্ধারণ বিবরণী প্রণয়নের সময় নূতন করিয়াতদন্তের দরখাস্তের সঙ্গে নির্ধারিতফি জমা দিতে হইবে ।

ধারা-৭৬( সরকারের উপর বর্তানো ভূমির বন্দোবস্ত এবং ব্যবহার)

এই আইনের প্রকাশ্যভাবে বর্ণিত বিধানসমূহসাপেক্ষে এই আইনের যে কোনো বিধানবলীদ্বারা সরকারের উপর ন্যস্ত ভূমিসরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকিবে; এবং এইউদ্দেশ্যে তৈরী বিধিমালাঅনুযায়ী সরকার ঐ সমস্ত ভূমি বন্দোবস্ত দিবার অথবা উহা যেমনউপযুক্ত মনেকরিবেন সেইরূপ নিয়মে ব্যবহার অথবা অপর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিতেক্ষমতাবানহইবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তির কাছে ভূমি বন্দোবস্ত দেওয়াহইবে না যদি না ৯০ ধারার অধীন ঐ ব্যক্তির নিকট ভূমি হস্তান্তর করা যায় ।

আর ও শর্ত থাকে যে, চাষাবাদযোগ্য ভূমিবন্দোবস্ত দেওয়ার সময়বন্দোবস্তের জন্য ঐরূপ দরখাস্তকারীকে অগ্রাধিকারপ্রদান করা হইবে যে নিজে অথবাপরিবারের সদস্যগণের দ্বারা ভূমি চাষ করে অথবাকরায় ও চাষাবাদযোগ্য ভূমি অধিকারে রাখেযাহার পরিমাণ পরিবারের অন্যান্যসদস্যগণের অধিকৃত ভূমি যদি থাকে, এর সহিত যুক্ত হইয়া ৩ একরের কম হইবে ।

(২) (১) উপধারা অনুসারে কোনো সরকারীকর্মকর্তা কর্তৃক ভূমিবন্দোবস্ত সম্বন্ধে কোনো দেওয়ানী আদালতে কোনো আবেদনঅথবা মামলা গ্রহণ করা যাইবে না ।

ধারা-৭৬ক( পৃথক এস্টেটের সৃষ্টি এবং রাজস্ব বণ্টন)

আপাতত বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে অথবা চুক্তিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন

উপধারা-(১)যেক্ষেত্রেকোনো ভূ-সম্পত্তির অংশে বা খণ্ডে খাজনা প্রাপকঅথবা খাজনা প্রাপকগণের অর্থসমূহ ৩ ধারার (১) উপধারায় বা ৪৪ ধারার (১) দফায় অধিগ্রহণ করা হয়সেক্ষেত্রে ১৮৫৯সালের বঙ্গীয় ভূমি রাজস্ব বিক্রয় আইন বা ১৮৮৬ সালের আসামভূমি এবং রাজস্বরেগুলেশন-এর ৫ম অধ্যায়ের কোনো কিছুই উক্ত অংশ বা খণ্ডউপরোল্লিখিত আইন অথবারেগুলেশনের উদ্দেশ্যে ভিন্ন এস্টেট বা ভূ-সম্পত্তিহিসাবে গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্যহইবে, এবং

উপধারা-(২)মূলভূসম্পত্তির জন্য প্রদানযোগ্য ভূমি রাজস্ব ও সসকর, অধিগ্রহণ করা হইয়াছেঐরূপ অংশ বা খণ্ড এবং (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত পৃথক ভূ-সম্পত্তিরবাএস্টেটের নিম্নলিখিত নীতিসমূহ মোতাবেক হারাহারিভাবে বন্টন করা হইবে,

যথা :

(ক)যেক্ষেত্রেঅধিগৃহীত অংশ ভিন্ন হিসাবসমূহ দ্বারা গঠিত হয়সেক্ষেত্রে উক্ত পৃথকভূ-সম্পত্তির বা এস্টেটের ভূমি রাজস্ব ও সেসকর মূল ভূ-সম্পত্তিবা এস্টেটেরজন্য প্রদেয় ভূমি রাজস্ব ও সেসকর এবং অধিকৃত পৃথক হিসাব বা হিসাবসমূহেরজন্যনির্ধারিইত ভূমি রাজস্ব ও সেসকরের মধ্যে বিরাজমান ব্যবধানের সমপরিমাণঅর্থপাইবে ।

(খ)যেক্ষেত্রেঅধিগ্রহণকৃত অংশ পৃথক হিসাব নিয়া গঠিত নহে, সেক্ষেত্রে পৃথক ভূসম্পত্তি বাএস্টেটের ভূমি রাজস্ব ও সেসকর মূল ভূ-সম্পত্তি বাএস্টেটের ভূমি রাজস্ব এবংসেস করের যেই পরিমাণ অংশ বহন করে সেই পরিমাণ ভিন্নএস্টেটের অংশ মূলভূ-সম্পত্তির সংগে অন্তভূর্ক্ত থাকে ।

(গ)যেক্ষেত্রেঅধিগ্রহণকৃত অংশ এস্টেটের ভূমির অংশবিশেষলইয়া গঠিত হয় এবং পৃথক হিসাববিহীনহয় বা যেক্ষেত্রে একটি এস্টেট আংশিক অধিগ্রহণকৃত হয়সেক্ষেত্রে পৃথক পৃথকএস্টেটের ভূমি রাজস্বও সেস কর মূল এস্টেটের ভূমি রাজস্ব এবংসেস করের সেইপরিমাণ অংশ বহন করে যেই পরিমাণ পৃথক এস্টেটের ভূমির এলাকা মূলএস্টেটেরভূমির এলাকা মূল এস্টেটের সমস্ত ভূমির এলাকার সংগে জড়িত থাকে ।

উপধারা-(৩)যেক্ষেত্রেঐ আইন দ্বারা রায়তী জোত অথবা অন্যান্যপ্রজাস্বত্বের অংশের কোনো স্বার্থঅধিগ্রহীত হয় এবং উক্ত খণ্ড নির্দিষ্ট কোনো অংশলইয়া গঠিত হয় সেক্ষেত্রেউক্ত রায়তী স্বত্ব, জোত অথবা প্রজাস্বত্বের খাজনা উক্ত অংশেরঅধিগৃহীত ওঅনধিগৃহীত খণ্ডের মধ্যে হরাহারি বন্টন করা হইবে কিন্তু যেক্ষেত্রে উহাকোনোনির্দিষ্ট অংশ নিয়ে গঠিত নহে সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার উক্ত রায়তিস্বত্ব, জোতঅথবা প্রজাস্বত্বের নির্দিষ্ট অধিগৃহীত ও অনধিগৃহীত খণ্ডের মধ্যে এলাকাবা মূল্যযাহা তাহার কাছে উপযুক্ত ও ন্যায়সংগত মনে হইবে উহার উপর ভিত্তিকরিয়া হারাহারিবন্টন করিতে হইবে ।

ধারা-৭৬খ( বিদায়ী খাজনা প্রাপক কর্তৃক আদায়কৃত অগ্রিমখাজনা অথবা নিলামের অর্থ পুনরুদ্ধার)

যেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার সন্তুষ্ট হন যে, যাহার স্বার্থ অত্র আইন মোতাবেক অধিগ্রহণ করা হইয়াছে ঐরূপ খাজনা প্রাপকউক্তস্বার্থ সম্বন্ধীয় কোনো খাজনা অথবা নিলামের অর্থ বিনিময়ের অর্থ উক্তঅধিগ্রহণের পরেআদায় করিয়াছে সেক্ষেত্রে তিনি উক্ত অথবা উহার অংশবিশেষ খাজনাপ্রাপকের নিকট থেকেসরকারী দাবী হিসাবে পুনরুদ্ধার করিতে পারিবেন ।

ধারা-৭৭(এই আইনের অধিন গৃহীত কার্যক্রম সংরক্ষণ)

উপধারা-(১) এইআইনের অধীনে অথবা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী কোনোব্যক্তিসরল বিশ্বাসে কোনো কিছু করিয়া অথবা করিবার অভিপ্রায় প্রকাশ করিয়াথাকিলে তাহারবিরুদ্ধে কোনো মামলা রুজু বা অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম গ্রহণকরা যাইবে না ।

উপধারা-(২)এইআইনে অন্য কোনো সুস্পষ্ট বিধান ছাড়া এই আইনের কোনো বিধানদ্বারা কোনোক্ষতি করা হইলে অথবা ক্ষতির পর্যায়ে গেলে অথবা আঘাত করা হইলে অথবাআঘাতেরপর্যায়ে গেলে বা এই আইন বা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা অনুসারে কোনোকিছুসরল বিশ্বাসে করা হইলে বা করিবার ইচ্ছা প্রকাশ করিলে সরকারের বিরুদ্ধেকোনো মামলাঅথবা আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না ।

ধারা-৭৭ক(সরকারের ক্ষমতা অর্পণ)

অত্র আইন অনুসারেসরকারের উপর প্রদত্ত ক্ষমতাএবং ইহার উপর অর্পিত দায়িত্ব বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিতঅবস্থায় এবং শর্ত অনুসারেইহার অধীনস্থ যে কোনো অফিসার অথবা কর্তৃপক্ষ প্রয়োগ করিবারজন্য সরকারবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন ।

ধারা ৭৮( বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা)

উপধারা-(১)এই আইনের ২য়, ৩য়ও ৪র্থ খণ্ডের উদ্দেশ্য সাধন করার উদ্দেশ্যে পূর্বে প্রকাশ করার পর, সরকার বিধিমালাপ্রণয়ন করিতে পারিবেন ।

উপধারা-(২)উপরের সাধারণ ক্ষমতার পরিপন্থী কোনো কাজ না করিয়া ঐবিধিমালা নিম্নলিখিত বিষয় সম্পর্কিত হইবে যথা:

(ক) ৩ (৩) ধারায় বর্ণিত বিজ্ঞপ্তির ফরম ও ঐ বিজ্ঞপ্তিরবিবরণসমূহ;

(খ) ৪ (১) ধারায় বর্ণিত নোটিশ প্রদানের নিয়ম ও বিবরণসমূহ;

(গ) ৬ ধারার (১) ও (২) উপধারায় বর্ণিত অন্তর্বর্ন্তীকালীনঅর্থ গ্রহণের সময় ও নিয়ম;

(ঘ) ৬ (৪) ধারায় বর্ণিত অর্থ বাদ দেওয়ার নিয়ম নির্ধারণ;

(ঙ) ৭ ধারায় বর্ণিত আপিল দাখিল করার নিয়ম ও সময়;

(চ) ৮ ধারায় বর্ণিত জরিমানা উদ্ধারের নিয়ম;

(ছ) বাতিল;

(জ) ১৫ ধারায় বর্ণিত আবেদনের ফরম, ঐ আবেদনের বিবরণসমূহ এবংআবেদনের সংগে সংযুক্ত প্রসেস ফী ;

(ঝ) ১৭ ধারার অধীন স্বত্বলিপি প্রণয়নকরণঅথবা পরিমার্জনেরনিয়ম ও ঐ স্বত্বলিপি প্রণয়নকরণের অথবা পরিমার্জনেরক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার কর্তৃকঅনুসৃত পদ্ধতি এবং প্রয়োগযোগ্য ক্ষমতাসমূহ;

(ঞ) ১৭ ধারার অধীন প্রণয়ণকৃত বা পরিমার্জিত স্বত্বলিপিরেকর্ডভুক্ত বিবরণসমূহ;

(ট) ১৯ (১) ধারার অধীন খসড়া স্বত্বলিপিসমূহ প্রকাশের নিয়ম ওসময়;

(ঠ) যে রাজস্ব অফিসারের কাছে যে নিয়মে ও যে সময়ের ভিতর ১৯ধারার (২) উপধারার অধীন আপীল দায়ের করা যাইতে পারে;

(ড) ১৯ ধারার অধীন আপত্তি ও আপিলসমূহের নিষ্পত্তি;

(ঢ) ১৯ ধারার (৩) উপধারার অধীন স্বত্বলিপি প্রকাশের নিয়ম;

(ণ) ২০ (৩) ধারার অধীন ইচ্ছা প্রয়োগের সময় ও যখন ইচ্ছা প্রয়োগনা করা হয় তখন ঐ ধারার অধীন ভূমিসমূহ বন্টন;

(ত) ২০ ধারার (৫) উপধারায় (আ) অনুচ্ছেদের ভূমি নির্ধারণেরউপায় যাহা ঐ উপধারার (অ) অনুচ্ছেদের (গ) উপ-অনুচ্ছেদের আওতায় আসিবে ;

(থ) ৩১ ধারার (২) উপধারায় বর্ণিতবিবরণসমূহের পরিমার্জন করারউপায় ও পদ্ধতি এবং এই উদ্দেশ্যে রাজস্ব অফিসারকর্তৃক প্রয়োগযোগ্য ক্ষমতাসমূহ;

(দ) ৩৩ ধারার অধীন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরনীর ফরম, উহারপ্রস্তুতের উপায় ও উহাতে বর্ণিত বিবরণসমূহ;

(ধ) ৩৫ ধারার (২) উপধারায় বর্ণিত অর্থ গণনার রীতি ও ব্যয় ওদায় নির্ধারণ;

(ন) ৩৭ ধারার (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অস্থায়ীরায়তীস্বত্ব অথবাপ্রজাস্বত্বের অধিকারী ও তাহার তাত্ক্ষণিক উর্ধ্বতন ভূমিরমালিকের মধ্যে ক্ষতিপূরণবন্টনের ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতি;

(প) ৩৮ ধারার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী ও ক্ষতিপূরণগণনার রীতি ও পদ্ধতি;

(ফ) ৩৯ ধারার (১) উপধারার টেবিলের (ঙ) ও (চ)দফাদমূহের বর্ণিতভূমির বার্ষিক ভাড়ার মূল্য নির্ধারণের নিয়ম(manner)ও (চ)দফার প্রকৃত নির্মাণ খরচ এবং অপচয়নির্ধারণ করার নিয়ম;

(ব) ৩৯ ধারার (৩) নং উপধারার (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভূমিরবার্ষিক স্বাভাবিক উত্পাদন নির্ধারণ করার নিয়ম;

(ভ) ৩৯ ধারার (৩) উপধারার (খ) অনুচ্ছেদের (অ) উপ-অনুচ্ছেদেবর্ণিত আবাদের খরচ নির্ধারণ করার নিয়ম;

(ম) ৩৯ ধারার (৪) উপধারায় বর্ণিত মত্স খামার হইতে আগতবার্ষিক প্রকৃত আয় নির্ধারণ করার নিয়ম;

(য) ৩৯ (৫) ধারায় বর্ণিত ক্ষতিপূরণ বন্টন করার ক্ষেত্রেঅনুসৃত নিয়ম;

(যক) ৪০ ১ ধারার অধীন খসড়া ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণীপ্রকাশের নিয়ম ও সময় এবং ঐ উপধারা অনুযায়ী আপত্তিসমূহের নিষ্পত্তি;

(যখ) ৪১ ধারার অধীন যে রাজস্ব কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল দায়ের করাহইবে ঐ ধারার অধীন আপিলসমূহের নিষ্পত্তি;

(যগ) ৪২ ধারার অধীন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বিবরণী প্রকাশের নিয়ম;

(যম) ৪৫ নং ধারা অনুযায়ী ঘোষণা প্রকাশের নিয়ম;

(যঙ) ৪৬ (১) ধারায় বর্ণিম স্বত্বলিপির সংগেসম্পর্কযুক্তএলাকার ক্ষেত্রে জেলার রাজস্ব বিবরণীতে চিহ্নিত ঐ উপধারাঅনুযায়ী সংখ্যায়এসাইন্টমেন্ট ও ঐ ধারার (২) উপধারা অনুযায়ীস্বত্বলিপিসমূহের অনুলিপি বন্টন করারনিয়ম;

(যচ) ৪৮ (২) ধারায় বর্ণিত কমিশনার অভ স্টেট পার্চেজেরক্ষমতাসমূহ ও কর্তব্যসমূহ;

(যছ) ৪৮ ধারার (৩) উপধারায় বর্ণিত ডাইরেক্টর অভ্ ল্যাণ্ডরেকর্ডস ও সার্ভিসের ক্ষমতাসমূহ ওকর্তব্যসমূহ;

(যজ) ৫৭ ধারার (২) উপধারা অনুযায়ী অতিরিক্তঅর্থ প্রদান এবং ঐধারার দ্বিতীয় শর্তাবলীতে বর্ণিত উর্ধ্বতন রাজস্বকর্তৃপক্ষ নির্ধারণের নিয়ম;

(যঞ) ৬৭ ধারায় বর্ণিত অর্থ গণনার নিয়ম ও ঐ ধারার অধীন বিদায়ীখাজনা প্রাপককে কিস্তিতে অর্থ প্রদানের নিয়ম;

(যট) ৭০ (৩) ধারায় বর্ণিত প্রকৃত আয় হ্রাসের পরিমাণ নির্ধারণকরার নিয়ম;

(যঠ) ৭০ (৪) ধারায় বর্ণিত প্রকৃত বার্ষিক আয় ও আয় গণনা করারনিয়ম;

(যড) ৭১ ধারার (২) উপধারা অনুসারে নোটিশপ্রকাশের নিয়ম ও ঐউপধারায় বর্ণিত ফরম ।- এ ও সময়ের মধ্যে দাখিলযোগ্যস্টেটমেন্ট ও ঐস্টেটমেন্টের বিবরণসমূহ;

(যঢ) ১ (৫) ধারায় বর্ণিত বিধিসমূহ:

(যণ) ৭১ ধারার (৬) উপধারারঅধীন আপীল দায়েরের সময়;

(যথ) ৭৩ ধারায় বর্ণিত রাজস্ব অফিসারগণ, কর্মচারীগণেরআচার-আচরণের পদ্ধতি;

(যদ) স্টেটমেন্ট প্রস্তুত এবং হস্তান্তর ও রেকর্ড বা দলিলপ্রণয়ন বলবত্ করার জন্য ৭৪ ধারার (১) উপধারা অনুযায়ী ক্ষমতাসমূহ প্রয়োগ,

(যধ) ৭৬ ধারায় বর্ণিত ভূমি বন্দোবস্তের জন্য বিধিমালা ।

 

ধারা-৭৯( এই অংশের শুরু)

এই অংশের শুরু। অত্র খণ্ডঅথবা ইহার অংশবিশেষঐ সমস্ত এলাকায় ঐ সকল তারিখে ও ঐ পরিমাণে কার্যকর হইবে যাহাসরকারবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করিবেন ও এই খণ্ডের যে কোন অংশ যখনবলবত্হয় তখন ঐ অংশের বিধানসমূহ উক্ত সময় অন্য কোন আইন যাহা কিছুই থাকুক নাকেন, উক্তএলাকায় বলবত্ হইবে।

ধারা ৮০(বাতিল )

এই খণ্ডের সম্পূর্ণ কোনো এলাকায়কার্যকরহওয়ার তারিখে অথবা তারিখ হইতে তফসিলে, উল্লেখিত আইনসমূহ তফসিলের ৪র্থকলামেবর্ণিত পরিমাণ উক্ত এলাকায় বাতিল হইবে ।

ধারা ৮১(কৃষি প্রজাগণের শ্রেণী এবং উহাদের অধিকার ওদায়িত্বসমূহ নিয়ন্ত্রণ)

এই খণ্ডের সম্পূর্ণ কোনো এলাকায় কার্যকরহওয়ার তারিখেঅথবা তারিখ হইতে উক্ত এলাকায় কেবলমাত্র কৃষি ভূমির এক শ্রেণীরঅধিকারী থাকিবে যথা: মালিকগণ ও উক্ত অধিকারীর অধিকারসমূহ এবংদায়িত্বসমূহঅত্র খণ্ডের বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে ।

তবে শর্ত থাকে যে, অত্র ধারা উক্ত কোনোমালিককে তাহার জোতেরখনির কোনো অধিকারসহ মাটির নিচের অংশে লুকায়িতস্বার্থের উপর কোনো অধিকার প্রদান করিবেনা ।

আরও শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে সরকারনির্দিষ্ট সময়ের নিমিত্তকোনো ভূমি ইজারা প্রদান করে সেক্ষেত্রে উক্তইজারাগ্রহীতার অধিকার ও দায়িত্বসমূহইজারার শর্তাবলী অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিতহইবে ।

ধারা ৮১-ক ( অকৃষি প্রজার অধিকার ও দায়িত্বসমূহ)

উপধারা-(১)অত্রখণ্ডে অন্য কোনোরূপ ব্যবস্থা থাকা ছাড়া অকৃষি দখলকার যিনি এই আইনেরবিধানসমূহের অধীনে এইরূপ জমির উপস্থিত স্বত্ব দখলকার হওয়ার দরুন সরকারেরঅধীনেপ্রজা হইয়াছেন, অধিকার ও দায়-দায়িত্বসমূহ সেখানে এইরূপ অধিগ্রহণের সময়পূর্ব বঙ্গীয়অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর বিধানসমূহ এইরূপ জমিরক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় সেখানেসেই আইনের বিধানসমূহ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হইবে ।

উপধারা-(২)অপরাপরঅকৃষি প্রজাগণের অধিকার ও দায়িত্ব, খাজনা বৃদ্ধিবা হ্রাসকরণ ছাড়া ইজারারচুক্তি ও সম্পত্তির হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর বিধানসমূহমোতাবেক পরিচালিত হইবে।

তবে শর্ত থাকে যে, অত্র আইন বা আপাতত বলবত্‍অন্য কোনো বিধানকিংবা চুক্তিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে কোনোচুক্তি বা শর্ত যাহাই হউক, কোনোঅকৃষি প্রজা তাহার প্রজাস্বত্বের সমস্ত বাযে কোনো অংশ কোর্ফা পত্তন দিতে পারিবেন নাএবং যদি কোনো প্রজাস্বত্ব অথবাপ্রজাস্বত্বের যেকোনো অংশ এই বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোর্ফাপত্তন দেওয়া হয়তাহা হইলে অকৃষি প্রজার প্রজাস্বত্ব অথবা প্রজাস্বত্বের যে অংশেরকোর্ফাপত্তন দেওয়া হয়, সে যাহাই হউক, স্বার্থ বিলুপ্ত হইবে এবং উক্তপ্রজাস্বত্বেরঅংশটুকু এরুপ কোর্ফা পত্তনের তারিখ হইতে সকল দায়-দায়িত্বমুক্তঅবস্থায় হইয়াসরকারের উপর বর্তাইবে ।

ধারা৮১-খ ( ইজারা দলিল নিবন্ধন)

৮১ বা ৮১ক ধারায়অথবা আপাতত বলবত্‍ অন্যকোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি সরকারী খাস জমি ইজারাদিবারউপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা এই উদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত গেজেটেড কর্মকর্তাকর্তৃকইজারা দলিল সম্পাদিত এবং ১৯০৮ সালের রেজিষ্টেশন আইনের ১৭ (১) ধারার(খ) অনুচ্ছেদেরবিধানানুসারে রেজিস্ট্রিকৃত না হয় তাহা হইলে কৃষি অথবা অকৃষিকোনো প্রকারপ্রজাস্বত্ব সৃষ্টি হইবে না বা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে নাএমনকি ইজারাগ্রহীতার নিকটসেলামী বা খাজনা গ্রহণ করা হইলেও ।

ধারা৮২ ( ব্যাখ্যা )এই খণ্ডে -

উপধারা-(১)“প্রকৃতচাষী”বলিতে এমন কোনো ব্যক্তিকে বুঝায় যে নিজে অথবাতাহার পরিবারের সদস্যেরসাহায্যে বা চাকর বা শ্রমিকের দ্বারা অথবা অংশীদার বাবর্গাদারের মাধ্যমেভূমি চাষ করে এবং ইহা একজন অকৃষি শ্রমিককেও অন্তর্ভূক্ত করে;

উপধারা-(২)“রায়ত”বলিতেএমন ব্যক্তিকে বুঝায় যে নিজে অথবা তাহারপরিবারের সদস্যের দ্বারা অথবা চাকরবা শ্রমিকগণ দ্বারা বা সহায়তায় অথবা অংশীদার বাবর্গাদারগণ কর্তৃক বাসহায়তায় চাষ করার নিমিত্ত ৪৪ ধারা বা অন্যভাবে সরকারের সরাসরিঅধীনে ভূমিদখলে রাখিবার অধিকার অর্জন করিয়াছেন ও যে ব্যক্তিগণ ঐরূপ অধিকারঅর্জনকরিয়াছে ইহা তাহাদের স্বার্থের উত্তরাধিকারীগণকেও অন্তর্ভূক্ত করে;

 

উপধারা-()রায়তেরপরিবার তাহার সংগে একই অন্নে বসবাসরত এবং তাহারউপর নির্ভরশীল সকলব্যক্তিগণকে অন্তর্ভূক্ত করে; কিন্তু ইহা কোনো চাকর বাশ্রমিককেঅন্তর্ভূক্ত করে না ।

(৪), (৫) এবং (৬) *১৯৬৪ সালের ১৭ নং অধ্যাদেশের ৩ ধারা বলে ৮/৯/৬৪ তারিখে বাদ দেওয়া হয় ।

উপধারা-(৭)অন্যভাবে প্রকাশ্য বিধান ছাড়া̔হস্তান্তর̕কোনো ব্যক্তিগত বিক্রয়, বন্ধক, দান অথবা কোনো চুক্তি বাএগ্রিমেন্টকে অন্তর্ভূক্ত করে এবং

উপধারা-(৮)এইখণ্ডের সম্পূর্ণ কোনো এলাকায় কার্যকর হওয়ার তারিখে অথবাতারিখ হইতে ঐএলাকায় এই খণ্ডের বিধানসমূহ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে কৃষি ভূমিরসহিতসম্বন্ধযুক্ত এই খণ্ডে ঐ শব্দগুলি ব্যবহারেরক্ষেত্রে̔মালিক̕ শব্দটি ̔রায়ত̕ অথবা  ̔টেন্যান্ট̕ শব্দেরএবং ̔ভূমিরাজস্ব̕ শব্দটি ̔রেন্ট̕ শব্দের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় বলিয়া গণ্যকরা হইবে এবংযেক্ষেত্রে কোনো ইজারা, কবুলিয়ত, চুক্তি বা অন্যান্য চুক্তিরশর্তসমূহ মোতাবেক খাজনাসরকারকে প্রদেয় হয় সেক্ষেত্রে ইহা এইরূপভাবে আদায়করা হইবে যেন ইহা ভূমি রাজস্ব ছিল ।

ধারা-৮৩ (রায়তগণের ভূমি ব্যবহার সম্পর্কে অধিকার)

কোনোরায়তের জোতের অন্তর্ভূক্ত ভূমি তাহার ইচ্ছা অনুযায়ী সে যে কোনোভাবে ভোগ-দখলে রাখারঅধিকারী থাকিবে ।

ধারা-৮৪( কোনো রায়তের মৃত্যুতে জোতের উত্তরাধিকার বর্তন)

কোনো রায়ত যদি উত্তরাধিকারবিহীন অবস্থায়পতিত হয় তবে তাহার এই আইনের বিধানসাপেক্ষেএবং এই আইনের সংগেঅসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপভাবে তাহার অপরাপর স্থাবর সম্পত্তিযেভাবেবর্তাইবে ইহাও সেইভাবে বর্তাইবে । তবে শর্ত থাকে যে, যে উত্তরাধিকার আইনকোনোরায়তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সেই উত্তরাধিকার আইনে তাহার অপরাপর সম্পত্তিরাষ্ট্রীয়মালিকানায় চলিয়া গেলে জোতে তাহার স্বার্থ বিলুপ্ত হইবে ।

ধারা-৮৫( রায়ত উচ্ছেদের কারণ)

কোনো রায়তকে তাহার জোতবা উহার অংশবিশেষহইতে উচ্ছেদের জন্য প্রদত্ত ডিক্রি কার্যকর ছাড়া তাহার জোত অথবাউহার অংশবিশেষ হইতে উচ্ছেদের জন্য প্রদত্ত ডিক্রিকার্যকর ছাড়া তাহার জোত অথবা উহারঅংশবিশেষ হইতে উচ্ছেদ করা যাইবে না ।

ধারা-৮৬( সিকস্তির কারণে খাজনা হ্রাস এবং পরিবৃদ্ধিরকারণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জমিতে অধিকারের নিশ্চয়তা)

উপধারা-(১)যদিজোতের অন্তর্ভূক্ত জমিবা জমির অংশবিশেষ নদীগর্ভে সিকস্তি হইয়া যায় তাহাহইলে রাজস্ব অফিসারের নিকট প্রজাকর্তৃক নির্ধারিত ফরমে আবেদন করা হইলেআবেদন করা হইলে বা তাহাকে সংবাদ দেওয়া হইলে ঐজোতের খাজনা বা উন্নয়ন করকতটুকু হ্রাস করা বা মওকুফ করা হইবে যতটুকু রাজস্বকর্মকর্তা এই উদ্দেশ্যেসরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথ ও ন্যায়সংগতবলিয়া বিবেচনাকরিবেন এবং সিকস্তির কারণে যে ক্ষতি হইবে তাহা এই বিধি অনুযায়ীলিপিবদ্ধ করাহইবে যাহা পরবর্তীতে উক্ত ভূমি যথাস্থানে পুনঃউদ্ভব হইলে তখন উক্তভূমিতেস্বত্বের প্রমাণ হিসাবে গণ্য হইবে ।

 

উপধারা-(২)সাময়িকভাবেবলবত্‍ অন্য কোনো আইনে অন্য কোনো কিছু বলা থাকাসত্ত্বেও কোনো প্রজা বাতাহার উত্তরাধিকারীর ঐ জমিতে বা জমির অংশে স্বত্ব, স্বার্থএবং অধিকারসিকস্তির কারণে জমি অবলুপ্তির সময়ে বর্তমান থাকিবে যদি উক্ত জমিঅবলুপ্তির৩০ বছরের মধ্যে পূর্ব স্থানে পুনঃউদ্ভব হয় ।

উপধারা-(৩)অধিকার, স্বত্ব এবং স্বার্থ সম্পর্কে (২) উপধারার যাহা বলাআছে তাহা থাকা সত্ত্বেও, পুনঃউদ্ভাবিত জমিতে তাত্ক্ষনিক দখলাধিকার প্রথমে কালেক্টরনিজ উদ্যোগে বাযাহার জমি অবলুপ্ত হইয়া গিয়াছিল সেই প্রজা বা তাহার উত্তরাধিকারীকর্তৃক বাঅন্য কাহারো মাধ্যমে লিখিতভাবে সংবাদ পাইবার পর প্রয়োগ করিবেন ।

উপধারা-(৪)এইআইনের অন্যত্র কোনো কিছু বলা থাকা সত্ত্বেও কালেক্টরঅথবা রাজস্বকর্মকর্তা এই ধরনের জমিতে দখল লইবার পর এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃকপ্রণীতবিধিমালা অনুযায়ী দখল লওয়া সম্পর্কে জনগণকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাইবেনএবংপুনঃউদ্ভাবিত জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে জরিপ করিবেন এবং ইহার ভিত্তিতেম্যাপ প্রস্তুতকরিবেন ।

উপধারা-(৫)কালেক্টরউপধারা (৪) অনুযায়ী সার্ভে জরীপ এবং ম্যাপপ্রস্তুত করিবার ৪৫ দিনের মধ্যেসিকস্তির কারণে যাহার জমি অবলুপ্ত হইয়া গিয়াছেতাহাকে অথবা যেইক্ষেত্রেতাহার উত্তরাধিকারকে এই পরিমাণ জমি বন্দোবস্তকৃত জমিরপরিমাণ এইরূপ হইবেযাহা ইতিপূর্বে ঐ ব্যক্তির বা তাহার উত্তরাধিকারী কর্তৃক অধিকৃতজমির সংগেসংযুক্ত হইয়া ৬০ বিঘার অতিরিক্ত না হয় এবং উক্ত প্রজা বা তাহারউত্তরাধিকারীযদি উক্ত বন্দোবস্তের পর কোনো অতিরিক্ত ভূমি থাকে তবে তাহা সরকারেরউপরন্যস্ত হইবে এবং সরকারের কর্তৃত্বাধীনে থাকিবে ।

উপধারা-(৬)(৫)উপধারা অনুযায়ী বন্দোবস্তকৃত জমি সালামী মুক্ত হইবেকিন্তু এই শর্তসাপেক্ষেহইবে যে প্রজা বা তাহার উত্তরাধিকারী রাজস্ব অফিসার কর্তৃকযথাযথ ওন্যায়সংগত বলিয়া ধার্যকৃত কর এবং ভূমি উন্নয়ন কর দিতে বাধ্য থাকিবে।

উপধারা-(৭)সরকারকর্তৃক বা কোন আইনের উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্যক্ষমতাপ্রাপ্ত বাকর্তৃকপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত উন্নয়নমূলক কাজের ফলশ্রুতিতেকৃত্রিমবা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুনঃউদ্ভব প্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে এই ধারারবিধানপ্রযোজ্য হইবে না।

ধারা-৮৬-ক(নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মামলা দায়েরে বাধা)

এই ধারা অনুযায়ী কার্যক্রম যাহাতে কালেক্টরসম্পন্ন করিতে পারেন, সেই জন্য ৮৬ধারার আওতাভুক্ত কোনো জমির ব্যাপারেকোনো মামলা, আবেদন অথবা অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম৮৬ (৪) ধারা অনুযায়ীজনগণের জ্ঞাতার্থে নোটিশ জারির পর ১২ মাসের মধ্যে দায়ের করাযাইবে না ।

ধারা-৮৭(নদী বা সমুদ্র দূরে সরিয়া যাওয়ার কারণেবৃদ্ধিপ্রাপ্ত জমির অধিকার)

 

উপধারা-(১) সাময়িকভাবেবলবত্‍ কৃত অন্য কিছু বলা থাকাসত্ত্বেও নদী বা সমুদ্র দূরে সরিয়া যাওয়ারকারণে যখন, কোনো জমি বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়, তখন ইহা সংযুক্ত জোতেরপরিবৃদ্ধিপ্রাপ্ত জমি হিসাবে গণ্য করা যাইবে না, কিন্তু উহাচূড়ান্তভাবেসরকারের উপর ন্যস্ত হইবে এবং উহার কর্তৃত্ব সরকারের হাতে থাকিবে ।

উপধারা-(২)উপধারা(১)-এর বিধানাবলী ঐ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সকল জমিরক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে তাহা১৯৭২ সালের ২৮শে জুনের পূর্বে বা পরে পরিবৃদ্ধিপ্রাপ্তহউক না কেন, কিন্তুউহা ঐ তারিখের পূর্বে কোনো জমির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না যদিজোতেরপরিবৃদ্ধিপ্রাপ্ত জমি মালিকের দখলে রাখার অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব(ষষ্ঠসংশোধনী) আদেশ (পি. ও. ১৩৭/১৯৭২) শুরু হওয়ার পূর্বে বলবত্‍ কৃত আইনেস্বীকৃত বাঘোষিত হইয়া থাকে ।

উপধারা-(৩)কোনোনদী বা সমুদ্র দুরে সরিয়া যাওয়ার কারণে জোতের সংলগ্নবৃদ্ধিপ্রাপ্ত জমিঅধিকার রাখার দাবী সম্পর্কিত সকল মামলা, আবেদন, আপিল বা অন্যান্যকার্যক্রম ঐআদেশ কার্যকরী হওয়ার তারিখে কোনো আদালতে বা কর্তৃপক্ষের নিকটস্থগিতঅবস্থায় থাকিলে তাহা আর চলিতে পারিবে না এবং তাহা বাতিল হইয়া যাইবেএবং ঐ দাবীসম্পর্কিত কোনো মামলা, আবেদন বা আইনগত কার্যক্রম কোনো আদালতগ্রহণ করিবে না ।

ধারা-৮৮ রায়তের জোতজমি হস্তান্তর যোগ্যতা

অপরাপর স্থাপরসম্পত্তি যে নিয়মে এবং যতখানিহস্তান্তর করা যায় সেইভাবে রায়তের জোত বা উহারঅংশবিশেষ অত্র আইনেরবিধানসাপেক্ষে হস্তান্তরযোগ্য হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, ২০ ধারার (২) উপধারাঅনুযায়ী অধিকৃত চাবাগানের খাসজমি বা উহার অংশবিশেষ ডেপুটি কমিশনারের লিখিতপূর্ব অনুমোদন ছাড়াহস্তান্তর করা যাইবে না এবং প্রস্তাবিত হস্তান্তর কোনোভাবেই বাগানের অস্তিত্ব বিনষ্টকরিবে না অথবা অধিকৃত ভূমিতে চা চাষের ক্ষতিসাধন করিবে না ।

ধারা-৮৯( হস্তান্তর পদ্ধতি)

উপধারা-(১)উইল, ডিক্রীজারী মূলে নিলাম/বিক্রিঅথবা ১৯১৩ সালের সরকারী দাবী আইনের অধীনেকোনোসার্টিফিকেট জারি ব্যতীত ঐরূপ প্রত্যেক হস্তান্তর রেজিষ্ট্রি দলিলেরমাধ্যমেহস্তান্তর করিতে হইবে এবং রেজিষ্ট্রি অফিসার ঐরূপ কোনো দলিলরেজিষ্ট্রি করার জন্যগ্রহণ করিবেন না, যদি না হস্তান্তরিত সম্পত্তিরবিক্রয়মূল্য এবং যেক্ষেত্রেবিক্রয়মূল্য নাই সেক্ষেত্রে হোল্ডিং বা উহারখণ্ড অথবা অংশের মূল্য দলিলে উল্লেখথাকে এবং যদি না ইহার সংগে সংযুক্ত করাহয়-

(ক)রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে পাঠাইবার জন্য নির্ধারিত প্রসেসফি-সহ নির্ধারিত ফরমে হস্তান্তরের বিবরণসহ একটি নোটিশ; এবং

(খ)(৪) উপধারা অনুযায়ী যে নোটিশসমূহের ও প্রসেস ফিসমূহেরপ্রয়োজন উহা ।

উপধারা-(২)ঐরূপএকটি হোল্ডিং বা উহার খণ্ড অথবা অংশের উইলের ক্ষেত্রেকোনোআদালত̔প্রবেট̕অথবা লেটার্স অভ এডমিনিষ্ট্রেশন মঞ্জুর করিবেন না, যেপর্যন্ত R/F দরখাস্তকারী (১)উপধারার (ক) বর্ণিত একই রকমের নোটিশ ও একইঅংকের প্রসেস ফি দাখিল করে ।

উপধারা-(৩)যেপর্যন্ত না ক্রেতা বন্ধকগ্রহীতা, সে যাহাই হউক, (১)উপধারায় বর্ণিত একইরকমের নোটিশ বা নোটিশসমূহ এবং একই অংকের প্রসেস ফি সমূহ জমা দেয়কোনো আদালতঅথবা রাজস্ব কর্তৃপক্ষ ডিক্রী জারীমূলে বা ১৯১৩ সালের সরকারী দাবীআদায়আইনের অধীনে সার্টিফিকেট মূলে ঐরূপ কোন, হোল্ডিং বা উহার খণ্ড অথবাঅংশের বিক্রয়অনুমোদন করিবেন না এবং কোন আদালত ঐরূপ কোন হোল্ডিং বা উহারখণ্ড অথবা অংশের কোনোবন্ধক সম্বন্ধে কোনো ফোরক্লোজারের চূড়ান্ত ডিক্রীবা আদেশ দিবেন না ।

উপধারা-(৪)যদিঐরূপ একটি হোল্ডিং-এর খণ্ড অথবা অংশের হস্তান্তর এমনহয় যাহার ক্ষেত্রে ৯৬ধারার বিধান প্রযোজ্য হয় সেক্ষেত্রে উক্ত হোল্ডিং-এর সকল সহ-শরীক প্রজাগণেরউপর জারীর জন্য এবং উহার এক কপি রেজিষ্টারিং অফিসারের অফিসেঅথবা আদালতভবনে অথবা রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অফিসে, যেখানে যেমন প্রযোজ্য হয় ঝুলাইবারজন্যনির্ধারিত প্রসেস সমূহসহ হস্তান্তরের বিবরণাদিসহ নির্ধারিত ফরমেনোটিশসমূহে জমাদিতে হইবে ।

উপধারা-(৫)আদালত, রাজস্ব কর্তৃপক্ষ অথবা রেজিষ্টারিং অফিসার, যেযেখানে প্রযোজ্য হয়, (১)উপধারার (ক) অনুচ্ছেদে বর্ণিত নোটিশ রেভিনিউ অফিসারের কাছেপাঠাইবেন এবং (৪)উপধারায় বর্ণিত নোটিশ রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে সহশরীক প্রজাগণের উপরজারীকরিবেন এবং নোটিশের এক কপি আদালত ভবনে অথবা রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অফিসেঅথবারেজিষ্টারিং অফিসারের অফিসে, যেমন প্রযোজ্য হয়, ঝুলাইবেন ।

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ নোটিশ জারী সরকারবা হোল্ডিং-এর কোনোসহশরীক প্রজা যাহাদের উপর এরূপ নোটিশ জারী হইয়াছেদ্বারা খাজনার পরিমাণ বা এইরূপহোল্ডিং-এর পরিসীমার স্বীকৃত হিসাবে প্রয়োগকরা হইবে না । সরকার অথবা এইরূপ সহ-শরীকপ্রজার হোল্ডিং-এর বিভাজন অথবা উহারজন্য দেয় খাজনা বণ্টনের ব্যক্ত সম্মতি হিসাবেনেওয়া হইবে না ।

আরও শর্ত থাকে যে, যাহাতে রাজস্ব অফিসারপক্ষ নন এমন কোনো মামলা, আপিল বা অন্যবিধ কার্যক্রমের মাধ্যমে একটিউপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরবর্তী সময়েযদি কোনো হস্তান্তর বাতিল বাসংশোধিত হয় তবে যে কর্তৃপক্ষের কাছে সর্বপ্রথম যথাযথমামলা বা কার্যক্রমরুজু করা হইয়াছিল সেই কর্তৃপক্ষ এইরূপ আদেশের কপি রাজস্বঅফিসারের কাছেপ্রেরণ করিবেন ।

উপধারা-(৬)এই ধারায়-

(ক) হস্তান্তরগ্রহীতা, ক্রেতা এবং বন্ধক গ্রহীতা বলিতেতাহাদের স্বার্থের স্থলাবর্তীগণকেও বুঝাইবে; এবং

(খ) 'হস্তান্তর' বলিতে বাটোয়ারা বা, যেপর্যন্ত না একটি ডিক্রীঅথবা ফোরক্লোজারে কোনো চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়, সরলবা খাই খালাসী বন্ধক বাশর্তসাপেক্ষে বিক্রয়ের বন্ধককে অন্তর্ভূক্ত করিবে না।

 

ধারা-৯০ ( জোতজমি হস্তান্তরের সীমাবদ্ধতা)

উপধারা-(১)আপাততবলবত্‍ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই খণ্ড বলবত্‍ হওয়ার পরএই খণ্ডের বিধানব্যতীত কোনো ব্যক্তিবিশেষ এই পরিমাণ ভূমি ক্রয় করিতে বাঅন্য কোনোভাবে অর্জন করিতেপারিবে না যাহা তাহার নিজের ও পরিবারের জন্যঅধিকৃত মোট ভূমির সংগে যুক্ত হইলে ৩৭৫বিঘার অধিক হইবে ।

উপধারা-(২)আপাততবলবত্‍ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো রায়তের জোত বাউহার কোনো অংশ বা খণ্ড বিক্রয়, দান বা উইলমূলে বা অন্যকোনো বাডিক্রীজারীমূলে বা ১৯১৩ সালের সরকারী দাবী আইনের অধিনে কোনো সার্টিফিকেটজারিমূলেপ্রকৃত কৃষক ছাড়া অন্য কাহারো নিকট হস্তান্তর করা যাইবে না এবংএরূপ কোনপ্রজাস্বত্ব বা উহার কোন বা খণ্ড ঐরূপ কোন উপায়ে কোনো ব্যক্তিরনিকট হস্তান্তর করাযাইবে না যদি না সে নিজের ও পরিবারের জন্য আপাতত ৩৭৫বিঘার কম জমির অধিকারী হয় এবংঐরূপ কোনো হস্তান্তর বৈধ হইবে না যদিহস্তান্তরের সময় হস্তান্তর গ্রহীতার অধিকৃতভূমির সহিত উক্ত হস্তান্তরিতভূমি যুক্ত হইলে ৩৭৫ বিঘার সীমা অতিক্রম করে ।

 তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি বা সমবায়সমিতির নিকটহস্তান্তর করা হইলে, ঐরূপ ব্যক্তি বা সমবায় সমিতির মোট জমিরপরিমাণ ৩৭৫ বিঘার বেশীহইলেও (১) এবং (২) উপধারার বিধানের অধীনে হস্তান্তরবাতিল হইবে না, যদি-

(ক)নির্ধারিতরাজস্ব কর্তৃপক্ষ এইরূপ ব্যক্তিকে শক্তিচালিতযন্ত্রপাতির সাহায্যেবৃহাদায়তন কৃষি খামার প্রতিষ্ঠান উপায় অবলম্বন করিয়াছে বলিয়াসার্টিফিকেটদিয়া থাকে; এবং

(খ)সমবায়সমিতির ক্ষেত্রে নির্ধারিত রাজস্ব কর্তৃপক্ষ যদি এইমর্মে সার্টিফিকেট দেয়যে, ঐরূপ সমিতি দলবদ্ধভাবে চাষী জমির মালিকগণ উত্কৃষ্ট ফসলউত্পাদনের জন্যসংগঠিত হইয়াছে, তাহারা শক্তিচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করুক বা নাকরুক এবংনিঃশর্তভাবে প্রত্যেকের জমির মালিকানা সমিতির নিকট হস্তান্তর করুক বানাকরুক, উভয়ক্ষেত্রেই এইরূপ হস্তান্তরের সীমা রাজস্ব কর্তৃপক্ষেরমঞ্জুরকৃতসার্টিফিকেটে বর্ণিত থাকিবে ।

আরও শর্ত থাকে যে, (১) ও (২) উপধারার কোনোবিধান কোনো ব্যক্তিযে প্রকৃতপক্ষে চায়ের চাষ করিতেছে, বা কোনো সমবায়সমিতি বা কোনো কোম্পানী যাহাপ্রকৃতপক্ষে উক্ত সমবায় সমিতি অথবা কোম্পানীকর্তৃক চিনি উত্পাদনের নিমিত্ত আখেরচাষ করিতেছে বা অপর কোনো কোম্পানীযাহার উদ্দেশ্য কোনো পণ্যদ্রব্য উত্পাদনের দ্বারাশিল্পের উন্নতি সাধন করাতাহার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না ।

উপধারা-(৩)(১)ও (২) নং উপধারায় ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও, খাঁটিচাষী নহে এমন কোনোব্যক্তিও নির্ধারিত রাজস্ব কর্তৃপক্ষের পূর্ব লিখিত অনুমতি লইয়াঅনুমতিপত্রেবর্ণিত পরিমাণ ভূমি ভোগদখল করিতে ও বাণিজ্যিক শিল্পের উদ্দেশ্যেঅথবাদাতব্য এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ভূমি খরিদ এবং ভোগ-দখল করিতে পারিবে ।

উপধারা-(৪)(১)ও (২) উপধারায় ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও প্রকৃতচাষী নহে এমন ব্যক্তিনির্ধারিত রাজস্ব কর্তৃপক্ষের পূর্ব লিখিত অনুমতিক্রমেঅনুমতিপত্রে উল্লেখিতপরিমাণ ভূমি তাহার পরিবারের বসতবাড়ি প্রস্তুতের নিমিত্ত অথবাসে নিজে বাতাহার পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা অথবা চাকরদের অথবা শ্রমিকদের দ্বারাবাসাহায্যে অথবা অংশীদারগণের বা বর্গাদারগণের সাহায্যে উক্ত ভূমি চাষকরিবার নিমিত্তখরিদ অথবা অন্য উপায়ে অর্জন করিতে পারিবে এবং উক্ত অর্জিতভূমি সরকারের প্রজা হিসাবেঅধিকারে রাখিতে পারিবে ।

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে (১) উপধারায় নির্ধারিতভূমির বেশী পরিমাণ ভূমি অধিকারে রাখিতে দেওয়া হইবে নাঃ

আরও শর্ত থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি অথবাপরিবারের সদ্স্যগণেরজন্য বসতবাড়ি তৈরীর নিমিত্ত তদকর্তৃক অধিকৃত ভূমিরক্ষেত্রে যদি অধিকার অর্জনেরতারিখ হইতে পাঁচ বত্সরের ভিতর উক্ত ভূমির উপরবসতবাড়ি প্রস্তুত না করা হয়তবে উক্ত জমিতে উক্ত ব্যক্তির অধিকারের বিলুপ্তিঘটিবে এবং উক্ত ভূইম সরকারের উপরবর্তাইবে ।

উপধারা-(৫)অত্রধারার বিধান লংঘন করিয়া কোনো জোত বা প্রজাস্বত্ব বাউহার অংশ বা খণ্ডেরহস্তান্তর করিলে উহা বাতিল হইয়া যাইবে এবং উহা দায়যুক্ত অবস্থায়সরকারের উপরচূড়ান্তভাবে অর্পিতহইবে ।

ধারা-৯১ ( উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তিত অতিরিক্ত ভূমিরঅধিগ্রহণের ক্ষমতা)

আপাতত বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুইথাকুক না কেনযেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পূর্ব দখলকৃত মোট ভূমির সহিতউত্তরাধিকারের মাধ্যমে তাহারপ্রাপ্ত ভূমি সংযুক্ত হইয়া ৯০ ধারায় নির্ধারিতসীমা অতিক্রম করে সেক্ষেত্রে উক্তব্যক্তির পছন্দ অনুযায়ী নির্বাচিতঅতিরিক্ত ভূমির জন্য ৩৯(১) ধারায় উল্লেখিত হারেক্ষতিপূরণ প্রদানের পর উহাঅধিগ্রহণ করা সরকারের জন্য আইনানুগ হইবে ।

ধারা-৯২(কতিপয় ক্ষেত্রে রায়তের স্বার্থের বিলোপ)

উপধারা-(১)জোতে কোন রায়তের স্বত্বের পরিসমাপ্তি ঘটিবে-

(ক)যেক্ষেত্রেতিনি যে আইনের অধীনে হউক সেই আইনের বিধানঅনুযায়ী সম্পত্তি পাইবার জন্যউত্তরাধিকারী না রাখিয়া বা সম্পত্তির জন্য কোনো প্রকারউইল সম্পাদন নাকরিয়া মারা যান ।

(খ)যেক্ষেত্রেতিনি কোনো কৃষি বত্সরের শেষে নির্ধারিত ফরমে, নির্ধারিত নিয়মে, নির্দিষ্টসময় মধ্যে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে রাজস্ব প্রদানেরমাধ্যমে রাজস্ব অফিসারেরকাছে তাহার জোত সমর্পণ করিয়া ইস্তফা দেন;

(গ)যেক্ষেত্রেবকেয়া খাজনা পরিশোধের কোনো ব্যবস্থা না রাখিয়াস্বেচ্ছায় বাসস্থান ত্যাগকরেন ও নিজে বা তাহার পরিবারের সদস্যগণ দ্বারা বা কর্মচারীঅথবা শ্রমিকদ্বারা বা অংশীদার অথবা বর্গাদারের সাহায্যে এক নাগাড়ে তিন বত্সরকালপর্যন্ততাহার জোত চাষাবাদ করা হইতে বিরত থাকেন;

(ঘ)যেক্ষেত্রেযে আইনের অধীন আইন অনুযায়ী কোনো রায়তের উপর কোনোভূমির স্বত্বউত্তরাধিকার সূত্রে ন্যস্ত হয়, যিনি নিজে প্রকৃত চাষী নহেন ও যিনি নিজেঅথবাতাহার পরিবারের লোকজন, কর্মচারী বা বর্গাদারগণের সহায়তায় একনাগাড়েপাঁচবত্সরকাল যাবত্‍ চাষাবাদ করিতে ব্যর্থ হন বা ঐরূপ চাষাবাদ না করার কোনোসন্তোষজনক কারণ নাই;

উপধারা-(২)যেক্ষেত্রে(১) নং উপধারায় কোনো জোত কোনো রায়তের স্বার্থেরপরিসমাপ্তি ঘটেসেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার উক্ত জোতে প্রবেশ করিতে পারিবেন এবং যেতারিখেরাজস্ব অফিসার উক্ত জোতে প্রবেশ করেন সেই তারিখ হইতে জোতটি উক্ত উপধারারকঅনুচ্ছেদের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দায়মুক্ত অবস্থায়সরকারেরউপর ন্যস্ত হইবে । কিন্তু জোতসমূহে যে সমস্ত ব্যক্তিগণের স্বার্থউক্ত (খ), (গ) ও(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিলুপ্ত হয় তাহারা উক্ত জোতসমূহের উপরসৃষ্ট দায়সমূহের টাকারজন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকিবন ।

উপধারা-(৩)(২)উপধারা অনুযায়ী কোনো জোতে প্রবেশের পূর্বে রাজস্বঅফিসার উক্ত জোতে প্রবেশকরার তাহার ইচ্ছা ও ইহার কারণ জোতে স্বার্থ আছে এমন সকলব্যক্তির নিকটনোটিশে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আপত্তি আহবান করিয়া নির্দিষ্ট নিয়মেনোটিশেপ্রদান করিবেন এবং সিদ্ধান্ত রেকর্ড করিবেন ।

উপধারা-(৪)(১)উপধারার ঘ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জোতে স্বার্থ বিলুপ্তির কোনো রায়তের আপত্তিরপর (৩) উপধারায় রাজস্ব অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশে ক্ষুব্ধ কোনোব্যক্তি১৪৭ ধারায় আপিল না করিয়া ঐরূপ আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানী আদালতে মামলাদায়েরকরিতে পারিবে ।

আপাতত বলবত্ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুকনা কেন ঐরূপ মামলারাজস্ব অফিসার কর্তৃক (৩) উপধারায় প্রদত্ত আদেশের তারিখহইতে ৯০ দিনের মধ্যে দায়েরকরিতে হইবে।

উপধারা-(৫)(১)উপধারায় জোতে কোনো রায়তের স্বার্থ বিলুপ্ত হইলে তাহারনিকট হইতে প্রাপ্যউক্ত জোতের সমস্ত বকেয়া খাজনা অনাদায়যোগ্য বলিয়া গন্য হইবে ।

ধারা-৯৩( কোর্ফা পত্তনের উপর বিধি-নিষেধ)

উপধারা-(১)কোনোরায়ত তাহার সমগ্র জোত অথবা উহার কোনো মেয়াদ অথবা শর্তে কোর্ফা পত্তন দিতে পারিবে না ।

উপধারা-(২)এইধারার বিধানসমূহ অমান্য করিয়া কোনো জোত অথবা উহার অংশযদি কোর্ফা পত্তনদেওয়া হয় তবে উক্ত জোত অথবা উহার অংশে রায়তের স্বার্থের বিলুপ্তিঘটিবে এবংউক্ত জোত অথবা উহার অংশ, উহা যাহাই হউক, কোর্ফা পত্তনের তারিখ হইতেসম্পূর্ণদায়মুক্ত অবস্থায় সরকারের উপর বর্তাইবে ।

ধারা-৯৪( কতিপয় ক্ষেত্রে দায় হস্তান্তর)

আপাতত বলবত্‍ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুইথাকুকনা কেন ৯০ ধারার (৫) নং উপধারায় অথবা ৯০ ধারায় (২)উপধারায় উল্লেখিত দায়সংশ্লিষ্ট ভূমির হস্তান্তর অথবা অধীনস্থ ইজারার তারিখহইতেনির্ধারিতবিধিমালা অনুযায়ী রাজস্ব অফিসার কর্তৃক বাছাইকৃতহস্তান্তরকারীঅথবাইজারাদাতার অপরাপর জমির সংগে হস্তান্তরিত অথবা যুক্তহইয়াছে বলিয়া ধরিয়ানেওয়া হইবে; এবং তত্পর উক্ত হস্তান্তর অথবা অধীনস্থইজারা সম্পন্ন হইবার আগে তাহার মূলভূমিতেদায় প্রাপকের যে অধিকার নিহিত ছিলসেই একই অধিকার ঐ সমস্ত জমির উপর চলিতেথাকিবে । হস্তান্তরকারী অথবাইজারাদাতা, যেক্ষেত্রে যাহা প্রযোজ্য উক্ত দায়সৃষ্টির মাধ্যমেগৃহীত অর্থেরজন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকিবে ।

ধারা-৯৫( রায়তি জোতের বন্ধকের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা)

উপধারা-(১)আপাততবলবত্‍ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো রায়ত তাহার জোতঅথবাউহার অংশবিশেষ সম্পর্ণ খাইখালাসী বন্ধক ছাড়া অন্য কোনো রকম বন্ধকাবদ্ধহইবে না এবংঐরূপ প্রত্যেক সম্পূর্ণ খাইখালাসী বন্ধক ৯০ ধারার অধীন কোনোরায়তের জোত বা উহারঅংশবিশেষ হস্তান্তর ক্ষেত্রে ৯০ ধারায় যে সীমাবদ্ধতাআরোপ করা হইয়াছে ঐরূপ প্রত্যেকসম্পর্ণ খাইখালাসী বন্ধক ও একইসীমাবদ্ধতাসাপেক্ষ হইবে এবং যে সময়ের জন্য রায়ত ঐরূপসম্পূর্ণ খাইখালাসীবন্ধকাবদ্ধ হইয়াছে উহার মেয়াদ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন চুক্তিদ্বারা সাতবত্সরের বেশী হইবে না ।

তবে শর্ত থাকে যে, ঐরূপ কোনো খাইখালাসীবন্ধক উক্ত মেয়াদ শেষহইবার পূর্বে যে কোনো সময় বন্ধকের মেয়াদের বাকী সময়েরজন্য সরাসরিভাবে বন্ধকের টাকাপ্রতার্পণ করিয়া বন্ধকী ভূমি দায়মুক্ত করিয়ালইতে পারিবে ।

উপধারা-(২)১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইন অনুযায়ী ঐরূপ প্রত্যেক সম্পর্ণখাইখালাসী বন্ধক রেজিষ্ট্রিকৃত হইতে হইবে ।

উপধারা-(৩)কোনোরায়ত যদি (১) উপধারায় নির্ধারিত শর্তাবলী পূরণ নাকরিয়া কোনো সম্পূর্ণখাইখালাসী বন্ধকাবদ্ধ হয় অথবা (২) উপধারার অধীনে উহা নিবন্ধনকৃতনা হয় তবেউহা বাতিল হইবে ।

উপধারা-(৪)আপাততবলবত্‍ অপর কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদিবন্ধকগ্রহীতা (১) নংউপধারার বিধান অনুসারে বন্ধক মুক্তকরণের ক্ষেত্রে বাধা দান করেঅথবাঅস্বীকার করে তবে বন্ধকদাতা মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেটের (বর্তমানেথানাম্যাজিষ্ট্রেটের) নিকট বা এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্তঅফিসারের নিকটআবেদন করিতে পারিবে এবং ঐ আবেদন করার পরও বন্ধক মুক্তকরণেরক্ষেত্রে ঐ বিধান অনুযায়ীবন্ধকগ্রহীতার প্রাপ্য অর্থ দরখাস্তকারী কর্তৃকপ্রদান করার পর থানা ম্যাজিষ্ট্রেটঅথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অফিসারের আদেশেনির্ধারিত তারিখের মধ্যে অথবা কর্তৃত্বে অবস্থিতবন্ধকী জমি সম্পর্কিত সকলদলিলপত্র প্রদান করিবার নিমিত্ত আদেশ প্রদান করিবেন ।

উপধারা-(৫)যদিবন্ধকগ্রহীতা (৪) উপধারার অধীন নির্ধারিত তারিখেবন্ধকী জমির দখলবন্ধকদাতার নিকট ফেরত্‍ না দেয় তবে বন্ধক দাতার আবেদনের প্রেক্ষিতেথানাম্যাজিষ্ট্রেট অথবা এই উদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অফিসার ঐবন্ধকগ্রহীতাকেউচ্ছেদ করিয়া দরখাস্তকারীকে ঐ জমির দখল প্রদান করিবেন ওপ্রয়োজনবোধে উচ্ছেদেরনিমিত্ত বলপ্রয়োগ করিবেন অথবা প্রয়োগের ব্যবস্থাকরিবেন ।

ধারা ৯৫-ক ( কতিপয় হস্তান্তর খায়খালাসী বন্ধক হিসাবে গণ্যকরা )

আপাতত বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুইথাকুক না কেন যদি কোনো জোত বাউহার অংশবিশেষ কবলা মূল্যে পুনঃফেরতেরচুক্তিসহ হস্তান্তর করা হয় অথবা যে ক্ষেত্রেহস্তান্তরকারী হস্তান্তরগ্রহীতার নিকট হইতে কোনো মূল্য গ্রহণ করে এবংহস্তান্তরগ্রহীতা দখল করার ওউত্পাদিত ফসল ভোগ করার অধিকার অর্জন করে সেইক্ষেত্রেএইরূপ জোত বা উহার অংশএকটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঐরূপ মূল্যের পরিবর্তে হইলেহস্তান্তর দলিলেঅন্যরূপ কিছু থাকিলেও উহাকে অনধিক ৭ বত্সরের পূর্ণ খাইখালাসীবন্ধক হিসাবেধরিয়া লওয়া হইবে এবং এইরূপ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ৯৫ ধারার বিধানাবলীপ্রযোজ্য হইবে, ইহা রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন (দ্বিতীয়সংশোধনী আদেশ)১৯৭২ কার্যকর হওয়ার তারিখের আগেই হউক বা পরেই হউক ।

ধারা-৯৬( অগ্রক্রয়ের অধিকার-)

উপধারা-(১)যদিকোনো প্রজার জোতের খণ্ড অথবা অংশ হস্তান্তর করা হয় তবে ঐ হোল্ডিং-এর একবাএকাধিক সহ-শরীক প্রজাগণ ৮৯ ধারা অনুযায়ী নোটিশ জারীর চার মাসের মধ্যেবা ৮৯ ধারাঅনুযায়ী যদি কোনো নোটিশ জারী না করা হয় তবে হস্তান্তরসম্বন্ধে অবগত হইবার তারিখহইতে চার মাসের মধ্যে তাহার অথবা তাহাদের ঐ ভূমিখণ্ড অথবা অংশ হস্তান্তরের জন্যআদালতে আবেদন পেশ করিতে পারে ও কোনো জোতঅথবা খণ্ড বা অংশ হস্তান্তর করা হইলে ঐহস্তান্তর করা ভূমির সংলগ্ন ভূমিদখলকার প্রজা অথবা প্রজাগণ ঐ হন্তান্তর সম্বন্ধেঅবগত হওয়ার তারিখ হইতে চারমাসের মধ্যে তাহার অথবা তাহাদের নিকট ঐ হোল্ডিং অথবাখণ্ড বা অংশহস্তান্তরের জন্য আদালতে দরখাস্ত দাখিল করিতে পারে ।

তবে শর্ত থাকে যে, কোনোসহ-শরীক প্রজার বা হস্তান্তরিত ভূমির দখলদারপ্রজার অত্র ধারা অনুবলে খরিদ করারঅধিকার থাকিবে না-যদি না সে এমন ব্যক্তিহয় যাহার কাছে জোত অথবা উহার খণ্ড বা অংশ, সে যাহাই হউক, ৯০ ধারা অনুযায়ীহস্তান্তরযোগ্য ।

উপধারা-(২)একজনসহ-শরীক প্রজা বা সহ-শরীক প্রজাগণ (১) উপধারা অনুযায়ী দরখাস্ত দাখিলকরিলেউক্ত দরখাস্তে জোতের অপর সমস্ত সহ-শরীক প্রজাগণকে ও হস্তান্তরগ্রহীতাকে পক্ষভুক্তকরিতে হইবে ও হস্তান্তরিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির দখলদারপ্রজা দরখাস্ত করিলে ঐ দরখাস্তেহস্তান্তরিত জোতের সমস্ত সহ-শরীক প্রজাগণকেও হস্তান্তরিত ভূমির সংলগ্ন ভূমিরদখলদার সমস্ত প্রজাগণকে এবং ক্রেতাকেপক্ষভুক্ত করিতে হইবে ।

উপধারা-(৩)(ক) (১)উপধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত দরখাস্ত খারিজ হইবে যদি দরখাস্তকারীঅথবাদরখাস্তকারীগণ উহা দায়ের করার সময় মূল্যের অর্থ অথবা হস্তান্তরিত জোতবা জোতেরখণ্ড অথবা অংশের মূল্য হস্তান্তর দলিলে বা ৮৯ ধারার অধীনে নোটিশবর্ণিত, সে যাহাইহউক, মূল্যের অর্থ তত্‍সহ উহার শতকরা বার্ষিক দশ টাকা হারেক্ষতিপূরণ আদালতে জমা নাদেয় ।

(খ) উক্তরূপ জমাসহ দরখাস্তপাওয়ার পর আদালত ক্রেতা ও (২) নং উপধারারঅধীনে দরখাস্তের পক্ষভুক্ত অপরাপরব্যক্তিগণকে আদালতে যে সময় ধার্য করেন সেসময়ের মধ্যে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশপ্রদান করিবেন ও হস্তান্তর বাবদ যেমূল্যের টাকা প্রকৃতপক্ষে দেওয়া হইয়াছে তাহাবর্ণনার জন্য এরূপ ব্যক্তিকেনির্দেশ প্রদান করিবেন । হস্তান্তরের তারিখ হইতে খাজনাবাবদ সে আরও কত টাকাপরিশোধ করিয়াছে ও জোত অথবা অংশের দায়মুক্ত করার নিমিত্ত এবংঅপর কোনোউন্নয়ন কার্য্য বাবদ সে আর ও কত টাকা খরচ করিয়াছে উহা বলার নিমিত্তক্রেতাকেনির্দেশ প্রদান করিবেন । আদালত তখন সমস্ত পক্ষগণকে শুনানীর সুযোগপ্রদানকরিয়া প্রকৃত মূল্যের টাকা, খাজনা পরিশোধ ও হস্তান্তরিত সম্পত্তিরদায়মুক্তি বাউন্নয়ন বাবদ ক্রেতার খরচ সম্বন্ধে অনুসন্ধান করিবেন ।প্রয়োজনবোধে আদালত যাহাযথার্থ মনে করেন সেই সময়ের মধ্যে আরও অর্থ জমাদেওয়ার নিমিত্ত দরখাস্তকারী বাদরখাস্তকারীদিগকে নির্দেশ প্রদান করিবেন ।

তবে শর্ত হইল যে, ক্রেতাকোনো অবস্থাতেই হস্তান্তর দলিলে বর্ণিত অর্থের চাইতে বেশী মূল্যের অর্থ দাবী করিতে পারিবে না ।

উপধারা-(৪)যখন (১)উপধারার অধীনে কোনো দরখাস্ত দাখিল করা হয় তখন ক্রেতা, তাহাদের মধ্যেযদিকেহ থাকে তাহাকে সহ যে কোনো অবশিষ্ট সহ-শরীক প্রজা ও হস্তান্তরিতসম্পত্তিরসংলগ্ন ভূমির দখলকার প্রজাগণ (১) উপধারায় বর্ণিত সময়ের মধ্যে বা(৩) উপধারার খঅনুচ্ছেদ অনুযায়ী দরখাস্তের নোটিশ জারীর তারিখ হইতে দুইমাসের মধ্যে, যাহা আগেঘটিবে, ঐ দরখাস্তে যোগদানের জন্য দরখাস্ত দিতেপারিবে; কোন সহ-শরীক বা হস্তারিতসম্পত্তির লাগা ভূমির দখলদার প্রজা যে (১)উপধারা বা অত্র উপধারা অনুযায়ী দরখাস্তকরে নাই অত্র ধারা অনুযায়ী তাহারখরিদ করার আর কোনো অধিকার থাকিবে না ।

উপধারা-(৫)(ক) (অ) যদি কোনো সহ-শরীক প্রজা, যাহার স্বত্ব ওয়ারীশসূত্রে উদ্ভব হইয়াছে;

(আ) কোনো সহ-শরীক প্রজাযাহার স্বত্ব খরিদসূত্রে উদ্ভব হইয়াছে এবং

(ই) যদি অত্র ধারা মোতাবেকহস্তান্তরিত সম্পত্তির সংলগ্ন ভূমির দখলকারপ্রজ্ঞা আবেদন করে এবং উহার শর্তাবলীপালন করে তাহা হইলে আবেদনকারী বাআবেদনকারীরা অত্র ধারায় বর্ণিত ক্রমানুসারে খরিদকরিবার অগ্রাধিকার পাইবে ।

(খ) যদি অত্র ধারা মোতাবেকহস্তান্তরিত সম্পত্তির সংলগ্ন ভূমির দখলদারপ্রজা আবেদন করে তবে আদালত এইরূপপ্রজাগণের মধ্যে নিম্নলিখিত বিবেচনায়অগ্রাধিকার ক্রমিক অনুযায়ী নির্ধারণ করিবেন-

(অ) দরখাস্তকারী প্রজাদেরপ্রত্যেকের দখলে থাকা মোট জমির পরিমাপ;

(আ) প্রজার সংলগ্ন ভূমি বসতবাড়ীর ভূমি অথবা অন্য প্রকারের ভূমি কিনা;

(ই) সংলগ্নতার বিস্তৃতি;

(ঈ) আবেদনকারীর সংলগ্নভূমির দখল লাভের প্রয়োজনীয়তা কতখানি; এবং

(উ) আবেদনকারীর ইজমেন্টেরঅধিকার, যদি কিছু থাকে ।

উপধারা-(৬)(ক) (৪)উপধারা অনুযায়ী যে সময়ের মধ্যে আবেদন দাখিল করা যাইতে পারে সে সময়অতিবাহিতহইবার পর অত্র ধারার শর্তাবলী অনুসারে আদালত নির্ধারণ করিবেন যে, (১) উপধারা বা (৪)উপধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত আবেদনসমূহের মধ্যে কোনটিরঅনুমতি প্রদান করিবেন;

(খ) যদি আদালত দেখিতে পানযে, অত্র ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত দরখাস্তসমূহেরঅনুমতির আদেশ একাধিক দরখাস্তকারীরঅনুকূলে দিতে হইবে তবে আদালত এইরূপপ্রত্যেক দরখাস্তকারী কতৃক যেই পরিমাণ অর্থপরিশোধ করিতে হইবে তাহা নিরূপণকরিবেন ও অর্থ ন্যায়ানুগতভাবে ভাগ করিবার পর আদেশপ্রদান করিবেন যে, দরখাস্তকারী অথবা দরখাস্তকারীগণ যাহারা (৪) উপধারা মোতাবেক মূলদরখাস্তেযোগদান করিয়াছেন তাহার বা তাহাদের দ্বারা পরিশোধযোগ্য অর্থ আদালতযেমনসঙ্গত মনে করিবেন তেমন সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য আদেশ দিবেন এবংএইরূপ কোনোদরখাস্তকারী যদি উক্ত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা না দেয় তাহা হইলেতাহার দরখাস্ত খারিজহইয়া যাইবে ।

উপধারা-(৭)(ক)(৬) উপধারার (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ীযে সময়ের মধ্যে জমা, যদি কিছু থাকে, দিতেহইবে সেই সময় অতিবাহিত হইলে আদালত অত্রধারা মোতাবেক খরিদ করিবার অধিকারী ওইহার শর্তাবলী পালন করিয়াছে এইরূপ আবেদনকারীঅথবা আবেদনকারীগণ দ্বারাদায়েরকৃত আবেদন অথবা আবেদনসমূহ অনুমোদন করিয়া আদেশ প্রদানকরিবেন এবংযেক্ষেত্রে এইরূপ আদেশ একাধিক আবেদনকারীর অনুকূলে প্রদান করিতেহয়সেক্ষেত্রে জোতটি অথবা জোতের খণ্ড অথবা অংশকে তাহাদের মধ্যে এইরূপভাবেভাগ করিবেনযাহা আদালতের কাছে ন্যায়সংগত বলিয়া গণ্য হয় এবং (১) উপধারার অধীনযদি আবেদনকারী বাআবেদনকারীগণ কোন অর্থ ফেরত পাইবে বলিয়া প্রতিপন্ন হয় তাহাহইলে (৬) উপধারারঅনুচ্ছেদ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আবেদনকারী বা আবেদনকারীগণকর্তৃক দেওয়া জমার অর্থ হইতেফেরত পাইবে ।

(খ) হস্তান্তরের জন্য ক্রেতা কর্তৃকপরিশোধিত মূল্যের টাকা, এইরূপ টাকার উপর শতকরা বার্ষিক দশ টাকা হারেক্ষতিপূরণসহ, হস্তান্তরের তারিখ হইতেজোতের অথবা খণ্ডের অথবা অংশের খাজনাবাবদ তত্‍কর্তৃক পরিশোধিত টাকা, যদি কিছু থাকে, এবং এইরূপ জোত অথবা খণ্ডেরবা অংশের দায়মুক্তি বা উন্নয়নের জন্য তত্কর্তৃক ব্যয়িতটাকা, যদি কিছু থাকে, (৩) উপধারা মোতাবেক দেওয়া জমা হইতে ক্রেতাকে পরিশোধ করার জন্যআদালত একইসময় নির্দেশ প্রদানপূর্বক আদেশ দান করিবেন ।

উপধারা-(৮)(৭) উপধারা মোতাবেক কোনো বিভাগাদেশ জোতের বিভাজন হিসাবেগণ্য হইবে না ।

উপধারা-(৯)(৭)উপধারা মোতাবেক আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে -(ক)হস্তান্তরের দরুন জোত অথবাখণ্ডে বা অংশে ক্রেতার উদ্ভুত অধিকার, স্বত্ব স্বার্থউক্ত উপধারা অনুযায়ীপ্রদত্ত যে কোনো আদেশের সাপেক্ষে সমস্ত দায়, যাহা হস্তান্তরেরতারিখের পরেসৃষ্ট হইয়াছে, মুক্ত হইয়া, অবস্থাভেদে সহ-শরীক প্রজা বাহস্তান্তরিতসম্পত্তির সংলগ্ন ভূমির দখলকার প্রজা বা হস্তান্তরিত সম্পত্তিরসংলগ্ন ভূমির দখলকারপ্রজাগণের, যাহাদের খরিদ করিবার আবেদন (৭) উপধারামোতাবেক মঞ্জুর হইয়াছে, তাহাদেরউপর ন্যস্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) ক্রেতার হোল্ডিং অথবা খণ্ডের বা অংশেরখাজনা বাবদ দায়হস্তান্তরের তারিখ হইতে লোপ পাইবে এবং সহ-শরীক প্রজাগণ অথবাহস্তান্তরিত সম্পত্তিসংলগ্ন ভূমির দখলকার প্রজাগণের যাহাদের খরিদ করিবারআবেদন এইরূপে মঞ্জুর হইয়াছেতাহারা ক্রেতার কাছে প্রাপ্য এইরূপ যে কোনোখাজনার নিমিত্ত দায়ী থাকিবে ।

(গ) আদালত এইরূপ আবেদনকারী বা আবেদনকারীগণেরদরখাস্তেরপ্রেক্ষিতে তাহার অথবা তাহাদের উপর অর্পিত সম্পত্তির দখলে তাহাকেঅথবা তাহাদিগকে, সে যাহাই হউক, বহাল করিতে পারিবেন ।

উপধারা-(১০)অত্র ধারার কোনো কিছুই প্রয়োগ করা যাইবে না-

(ক) জমার কোনো সহ-শরীক, যাহার স্বার্থ খরিদসূত্রে ছাড়া অন্যউপায়ে উদ্ভব হইয়াছে, এইরূপ সহ-শরীকের কাছে ভূমি হস্তান্তর করা হইলে; বা

(খ) বিনিময় অথবা বাটোয়ারামূলে, হস্তান্তর করা হইলে; বা

(গ) উইল অথবা দানমূলে স্বামী অথবা স্ত্রীরউইলকারী অথবা দাতাতাহার আনুকূলে বা কোনো উইলকারী অথবা দাতা তাহার তিনডিক্রির মধ্যে কোনো রক্তেরসম্পর্কিত আত্নীয়ের অনুকূলে, (দান অথবাহেবামূলে, আর্থিক বিনিময়ের হেবা বিল এওয়াজছাড়া) হস্তান্তর করিলে; বা

(ঘ) সরল বা সম্পূর্ণ খাই খালাসী বন্ধক বা, যতক্ষণ পর্যন্তবন্ধক মুক্তকরণের অধিকার হরণের চূড়ান্ত আদেশ অথবা ডিক্রিপ্রদান করা না হয়, কোনোবন্ধক দ্বারা শর্তাধীন বিক্রয় করা হইলে; বা

(ঙ) মুসলিম আইনের বিধান মোতাবেক সৃষ্ট ওয়াকফ; অথবা

(চ) কোনো ব্যক্তির জন্য আর্থিক সুবিধা সংরক্ষণ ছাড়া কোনো ধর্মীয়অথবা দাতব্য উদ্দেশ্য উত্সর্গ করা হইলে ।

উপধারা-(১১)অত্র ধারা কোনো কিছুই মুসলিম আইনের অধীন কোনো অগ্রক্রয়েরঅধিকার হইতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করিতে পারিবে না ।

উপধারা-(১২)যেআদালতে সংশ্লিষ্ট ভূমির দখল সংক্রান্ত মামলা গ্রহণ ওনিষ্পত্তি করারএখতিয়ার আছে, সেই আদালতে এই ধারার অধীনে দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে ।

উপধারা-(১৩)অত্রধারাবলে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত যে কোনো আদেশেরবিরুদ্ধে সাধারণ দেওয়ানীআপিল আদালতে আপিল দায়ের করা চলিবে । কিন্তু অন্য কোনো আইনেআপাততঅন্যরূপ কিছু বলবত্‍ থাকিলেও প্রথম আপিল আদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আপিলদায়েরকরা চলিবে না ।

ধারা ৯৭ ( আদিবাসী বা উপজাতীয়দের দ্বারা ভূমি হস্তান্তরেবিধি-নিষেধ )

উপধারা-(১)সরকারসময় সময় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করিতে পারিবেন যে, এইধারার বিধানাবলীকোনো জেলা অথবা স্থানীয় এলাকার নিম্নলিখিত আদিবাসী সমাজ অথবাগোত্রেরক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে এবং এইরূপ সমাজ এবং গোত্র এই ধারারউদ্দেশ্যেআদিবাসী হিসাবে গণ্য হইবে এবং এইরূপ বিজ্ঞপ্তির প্রকাশ চূড়ান্তপ্রমাণ হইবে যে, এই ধারার বিধানাবলী এইরূপ সমাজ ও গোত্রের বেলায় প্রযোজ্যহইয়াছে যথা: সাঁওতাল, বানিয়াস, ভুঁইয়াম ভূমিজ, দালুস, গণ্ডা, হাদী, হাজং, হো,খারিয়া, খারওয়ার, কোরা, কোচ (ঢাকাবিভাগ), মগ (বাখেরগঞ্জ জেলা), মাল ওসুরিয়া, পাহাড়িয়া, মাচ, মাণ্ডা, মণ্ডিয়া, ওড়াংও তোড়ি ।

উপধারা-(২)অত্রধারার যেরূপ বিধান রাখা হইয়াছে উহা ব্যতীত কোনোআদিবাসী রায়ত কর্তৃক তাহারজোত বা উহার অংশে তাহার স্বত্বের কোনো হস্তান্তর বৈধ হইবেনা যদি ইহাবাংলাদেশের ডমিসাইল্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী আদিবাসী যাহার কাছে এইরূপজোতঅথবা উহার অংশ ৮৮ ও ৯০ ধারা অনুযায়ী হস্তান্তর করা যায় তাহার কাছেহস্তান্তর করানা হইলে ।

উপধারা-(৩)যদিকোনো ক্ষেত্রে আদিবাসী রায়ত অপর কোনো ব্যক্তি যে এইরূপআদিবাসী নহে তাহারকাছে জোত অথবা উহার খণ্ড প্রাইভেট বিক্রি, দান বা উইল মাধ্যমেহস্তান্তরকরিলে ইহার স্বপক্ষে অনুমতির জন্য যে রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট আবেদনকরিতেপারিবে ও রাজস্ব কর্মকর্তার ৮৮ ও ৯০ ধারার বিধানাবলী বিবেচনায় রাখিয়াদরখাস্তের উপরযাহা যথাযথ মনে করিবেন সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবেন ।

উপধারা-(৪)(৩)উপধারায় উল্লেখিত প্রত্যেক হস্তান্তর নিবন্ধনকৃতদলিলমূলে করিতে হইবে এবংদলিল নিবন্ধনকৃত হওয়ার আগে জোতটি বা ইহার যে কোনো খণ্ডহস্তান্তরিত হইলেদলিল অনুযায়ী এবং হস্তান্তরের শর্তাবলী অথবা চুক্তি অনুযায়ীরাজস্বকর্মকর্তার লিখিত সম্পত্তি গ্রহণ করিতে হইবে ।

উপধারা-(৫)একজন আদিবাসী রায়ত তাহার জমি শুধুমাত্র একপ্রকারের বন্ধকযথা সম্পূর্ণ খাইখালাসী বন্ধক প্রদানের ক্ষমতায় সীমাবদ্ধ ।

তবে শর্ত এই যে, কৃষির উদ্দেশ্যে ঋণপ্রাপ্তির জন্য বা কৃষিউন্নয়ন কর্পোরেশন বা সমবায় সমিতির নিকট হইতে কৃষিরউদ্দেশ্যে ঋণ প্রাপ্তির বেলায় এইউপধারায় কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না ।

উপধারা-(৬)একজনআদিবাসী রায়ত অপর কোনো বাংলাদেশী ডমিসাইল্ড অথবাবাংলাদেশে স্থায়ীবসবাসকারী আদিবাসী যাহার সহিত ৯৫ ধারার (১) উপধারা অনুযায়ীসম্পূর্ণখাইখালাসী চুক্তিবদ্ধ হওয়া যায় তাহার সহিত তাহার জোতের অন্তর্ভূক্তযেকোনোভূমিকে যে কোনো ব্যক্তি অথবা অব্যক্ত চুক্তির মাধ্যমে যে কোনোসময়ের জন্য যাহা কোনোমতেই সাত বত্সরের অধিক হইবে না বা হইতে পারে না এইরূপসময়ের জন্য সম্পূর্ণখাইখালাসী বন্ধক চুক্তিতে আবদ্ধ হইতে পারে ।

উপধারা-(৭)কোনো আদিবাসী রায়ত এই ধারায় বিধানসমূহ লংঘন করিয়া কোনোহস্তান্তর করিলে উহা বাতিল হইবে ।

উপধারা-(৮)(ক)যদি এই ধারার বিধানসমূহ লংঘন করিয়া কোনো আদিবাসী রায়তকর্তৃক যদি কোনোজোত বা ইহার অংশ হস্তান্তর করে তাহা হইলে রাজস্ব কর্মকর্তার নিজউদ্যোগে বাইহার স্বপক্ষে তাহার বরাবরে পেশকৃত দরখাস্তের ভিত্তিতে লিখিত আদেশবলেএইরূপহস্তান্তর গ্রহীতাকে জোত অথবা অংশ হইতে উচ্ছেদ করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ আদেশের আগে হস্তান্তর গ্রহীতাকেএইরূপ উচ্ছেদের জন্য কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হইবে ।

(খ) (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজস্ব কর্মকর্তা কোনো আদেশ প্রদানকরিলে-

(অ) তিনি হয় আদিবাসী বা তাহার উত্তরাধিকারী বা তাহার আইনসংগতপ্রতিনিধির কাছে হস্তান্তরিত ভূমি প্রত্যার্পণ করিবেন; বা

(আ) হস্তান্তরকারী বা তাহার উত্তরাধিকারী বাতাহার আইনসংগতপ্রতিনিধি বা পাওয়া গেলে ভূমি সরকারের উপর ন্যস্ত হইয়াছেবলিয়া ঘোষণা দিবেন এবংরাজস্ব কর্মকর্তা উহা অন্য কোনো আদিবাসীর কাছেবন্দোবস্ত দিবেন ।

উপধারা-(৯)আপাততবলবত্‍ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনোআদালত কোনোআদিবাসী রায়তের জোত বা ইহার অংশের স্বত্ব বিক্রয়ের নিমিত্ত ডিক্রি অথবাআদেশপ্রদান করিতে পারিবেন না ।

তবে শর্ত এই যে, জোতের বকেয়া ভূমি রাজস্বআদায়ের জন্য বাসরকার বা কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন বা সমবায়সমিতি কর্তৃক কৃষিরউদ্দেশ্যে জোত-এর জামানত সাপেক্ষে প্রদত্ত ঋণ আদায়েরজন্য এই আইনের বিধানসমূহমোতাবেক সার্টিফিকেট কার্যকর করিবার নিমিত্ত কোনোআদিবাসীর জোত বিক্রি করা যাইতে পারে ।

উপধারা-(১০)সরকারবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করিতে পারিবেন যে, এইধারা কোনো জেলা বা স্থানীয়এলাকার যে কোনো শ্রেণী বা গোত্র যাহার ক্ষেত্রে (১) উপধারাঅনুযায়ী ইহাপ্রয়োগ করা হইয়াছে তাহার বেলায় এই ধারা প্রয়োগ হইতে বিরত থাকিবে ।

ধারা-৯৮( রায়ত এবং অকৃষি প্রজাগণ খাজনা পরিমার্জন)

অত্র অধ্যায়ে বর্ণিত বিধান ছাড়া কোনো রায়ত অথবা অকৃষি প্রজার খাজনা বৃদ্ধি, হ্রাসঅথবা পরিবর্তন করা যাইবে না ।

ধারা ৯৮ক (কতিপয় ক্ষেত্রে খাজনা নির্ধারণ অথবাপুনঃনির্ধারণ)

উপধারা-(১)অত্র আইনের অন্যত্র ভিন্নরূপ বিধান থাকা সত্বেও, ভূমির খাজনানির্ধারণ এবং পুনঃনির্ধারণ করা বৈধ হইবে-

(ক) যে ক্ষেত্রে রায়ত অথবা অকৃষি প্রজাকর্তৃক দখলিকৃত ভূমিরখাজনা ৪র্থ অধ্যায় অথবা ১৪৪ ধারার অধীনস্থ নির্ধারণকরা হয় নাই অথবা উক্ত ভূমিসম্বন্ধীয় খাজনা ১০৭ ধারার অধীনে নির্ধারণ করা হয়নাই; বা

(খ) যেখানে কোনো ভূমির খাজনা ক অনুচ্ছেদেউল্লেখিত কোনো বিধানঅনুযায়ী কৃষিভূমি হিসাবে নির্ধারণ করা হইয়াছে যাহাপরবর্তীকালে অকৃষি ভূমি হিসাবেব্যবহার করা হইয়াছে অথবা অকৃষি ভূমি হিসাবেনির্ধারণ করা হইয়াছে যাহা পরবর্তীকালেকৃষি ভূমি হিসাবে ব্যবহার করা হইয়াছে ।

উপধারা-(২)(১) উপধারার অধীন খাজনা নির্ধারণ অথবাপুনঃনির্ধারণের বেলায় জেলা প্রশাসক ২৬ ধারায় উল্লেখিত নীতিসমূহ বিবেচনা করিবেন;

তবে শর্ত থাকে যে, জেলা প্রশাসক এইরূপএলাকায় কোন ব্যবস্থাগ্রহণ করিবেন না যেখানে ১৪৪ ধারা মোতাবেক খতিয়ানপ্রস্তুত অথবা পুনঃপরীক্ষণ করাহইয়াছে :

আরো শর্ত থাকে যে, রায়ত বা প্রজার উপস্থিতহওয়ার এবং এইবিষয়ের শুনানীর জন্য কমপক্ষে ১৫ দিনের নোটিশ না দিয়া এই ধারামোতাবেক কোনো খাজনা নির্ধারণ অথবা পুনঃনির্ধারণ সমাধা করা হইবে না ।

উপধারা-(৩)যেক্ষেত্রে কোন জোতের একটি অংশ অকৃষি কাজের উদ্দেশ্যেব্যবহৃত হয় সেক্ষেত্রে১০৭ ধারার (৩) উপধারার উল্লেখিত নীতি সমূহের যতখানি প্রযোজ্যহয় ততখানিমোতাবেক উক্ত অংশ পৃথক প্রজাস্বত্বরূপে গঠিত হইবে এবং খাজনা নির্ধারণএবংপুনঃনির্ধারণ এই ধারা মোতাবেক সমাধা করা যাইবে ।

ধারা -৯৯ (খাজনার হার নির্ধারণ এবং খাজনার তালিকা প্রণয়নেরআদেশ )

 উপধারা-(১)সরকার রাজস্ব অফিসারগণকে নির্দেশ প্রদান করিয়া আদেশ দিতে পারিবেন-

(ক)অত্রঅধ্যায়ের বিধান এবং এতদ্উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃকপ্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী যেকোনো জেলা অথবা জেলার অংশ অথবা স্থানীয় এলাকার জন্যখাজনার হার নির্ধারণকরা ও নির্ধারিত ফরমে এবং নিয়মে খাজনার হারের ছক প্রণয়ন করাইতেযাহাতে ঐনির্ধারিত খাজনার হার তত্সহ অপরাপর নির্ধারিত বিবরণসমূহ সুনির্দিষ্টথাকিবে; এবং

(খ) যে কোনো জেলা, জেলার অংশ অথবা স্থানীয়এলাকার খাজনার হারেরছক অত্র অধ্যায়ের অধীনে প্রণয়ন ও বহালের পর উক্ত জেলাঅথবা জেলার অংশ অথবা এলাকারসমস্ত জনগণের জন্য ন্যায্য এবং ন্যায়সংগত খাজনানির্ধারণ করিতে এবং নির্ধারিত ফরমেএবং নিয়মে খাজনা নির্ধারণ বিবরণী প্রণয়নকরিতে যাহাতে উক্ত নির্ধারিত খাজনা তত্সহঅপরাপর বিবরণসমূহ সুনির্দিষ্টথাকিবে ।

ধারা-১০০ (খাজনার হার নির্ধারণের পদ্ধতি)

উপধারা-(১)যেক্ষেত্রে৯৯ (১) ধারার (ক) অনুচ্ছেদের অধীনে কোনো আদেশ প্রদান করা হয়সেক্ষেত্রেউক্ত আদেশে উল্লেখিত এলাকার জন্য খাজনার হার নির্ধারণেরউদ্দেশ্যে রাজস্ব অফিসারভূমির অবস্থা ও উক্ত এলাকা যদি কৃষি এলাকা হয় তবেউক্ত এলাকার উত্পন্ন ফসল বিবেচনাকরিয়া তিনি যেরূপ প্রয়োজনীয় মনে করিবেনসেইরূপভাবে উক্ত এলাকাকে কয়েকটি সুবিধাজনকইউনিটে ভাগ করিবেন ও রাজস্বঅফিসার অতঃপর উক্ত প্রতি ইউনিটের ভিন্ন শ্রেণীসমূহেরভূমির খাজনার হারসমূহনির্ধারণ করিবেন ।

উপধারা-(২)রাজস্বঅফিসার (১) উপধারার অধীনে বিভিন্ন শ্রেণীসমূহেরকৃষি ভূমির খাজনার হারসমূহনির্ধারণের বেলায় নিম্নলিখিত বিষয়াদি বিবেচনা করিবেন-

(ক)যে শ্রেণীর ভূমির জন্য খাজনার হার নির্ধারণ করা হইতেছেউহার মাটির প্রকৃতি এবং সাধারণ উত্পাদন ক্ষমতা;

(খ)নির্ধারিত নিয়মে প্রতি একর ভূমির স্বাভাবিক উত্পাদননির্ধারণ;

(গ)যেবত্সরগুলিতে ফসলের মূল্য অস্বাভাবিক ছিল সেই বত্সরসমূহ বাদ দিয়া বিগত বিশবত্সরের ফসলের মূল্য অস্বাভাবিক ছিল সেই বত্সরসমূহ বাদদিয়া বিগত বিশবত্সরের ফসলের গড় মূল্যের উপর ভিত্তি করিয়া নির্ধারিত উত্পাদিতফসলসমূহেরগড়মূল্য;

(ঘ)ঐরূপ ভূমি চাষের ক্ষেত্রে সেচ অথবা নর্দমা অথবা অপর কোনোবিশেষ সুবিধা

(ঙ)বিশেষ ইউনিটে সরকারী অর্থ ব্যয়ে কৃষি উন্নয়নমূলককর্মকাণ্ডের ফলাফল ।

(চ) বাদ দেওয়া হইয়াছে ।

উপধারা-(৩)(১)উপধারার অধীন (যে কোনো শ্রেণীর কৃষি ভূমির ) একর প্রতিখাজনার হার ঐরূপপ্রতি একর ভূমির উত্পাদিত ফসলের মোট মূল্যের দশ ভাগের এক ভাগেরবেশী হইবে নাযাহা ঐরূপ প্রতি একর ভূমির স্বাভাবিক উত্পাদন (২) উপধারার (২)অনুচ্ছেদেউল্লেখিত উক্ত উত্পাদিত ফসলের নির্ধারিত নিয়মে হিসাবকৃত গড় দামদ্বারাবৃদ্ধি করিয়া প্রাপ্ত হয়;

উপধারা-(৪)রাজস্ব অফিসার (১) উপধারার অধীনে বিভিন্ন শ্রেণীর অকৃষিভূমির খাজনার হার নির্ধারণার্থে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ বিবেচনা করিবেন ।

(ক)অনুরূপ সুবিধার অথবা অনুরূপ বর্ণনা সম্বলিত পার্শ্ববর্তীঅকৃষি ভূমির জন্য সাধারণভাবে সরকারকে প্রদত্ত খাজনার হার;

(খ)৯৯ ধারার অধীন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অব্যবহিত পূর্বেনির্ধারিত নিয়মে হিসাবকৃত ঐ জমির অথবা পার্শ্ববর্তী অনুরূপ ভূমির বাজার দাম;

(গ)প্রজাস্বত্বে বিশেষ শর্তসমূহ এবং অনুসঙ্গ যদি থাকে; এবং

(ঘ)সরকারী খরচে নির্দিষ্ট ইউনিটে উন্নয়নমূলক কার্যের ফলাফলঃ

তবে শর্ত থাকে যে, (১) উপধারার অধীনেনির্ধারিত যে কোনোশ্রেণীর অকৃষি ভূমির খাজনার হার আবাসিক এলাকার বেলায়উক্ত বাজার দামের শতকরা একচতুর্থভাগের বেশী হইবে না ও অন্য কোনো এলাকারবেলায় উক্ত বাজার দামের শতকরা আধ ভাদেরবেশী হইবে না।

উপধারা-(৫)(৪)উপধারার (৪) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত অনুরূপ বর্ণনাসম্বলিত পাশ্ববর্তী ভূমিরজন্য সাধারণভাবে প্রদত্ত খাজনার ইউনিটে অবস্থিত ঐ ভূমিরবর্তমান খাজনাসমূহএকত্র করিয়া মোট টাকাকে ইউনিটের মোট পরিমাণ দিয়া ভাগ করিয়া হিসাবকরা হইবে ।

ধারা-১০১ (খাজনার হারের ছকসমূহ প্রাথমিক এবং চূড়ান্তভাবেপ্রকাশ ও নির্ধারিত উর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইহার অনুমোদন)

উপধারা-(১)যেক্ষেত্রেরাজস্ব অফিসার খাজনার হারসমূহের কোনো ছক প্রণয়ন করেন সেক্ষেত্রে তিনিইহারএকটি খসড়া নির্ধারিত সময়ের জন্য ইহার সংগে সম্বন্ধযুক্ত এলাকায় অথবাগ্রামেপ্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন ।

উপধারা-(২)খাজনারহার সমূহের ছকের কোনো লিখনীর বিরুদ্ধে আপত্তিকারীব্যক্তি (১) উপধারাঅনুযায়ী প্রকাশের ১ম দিন হইতে ৩০ দিনের ভিতর রাজস্ব অফিসারেরকাছে দরখাস্তকরিতে পারিবে ও রাজস্ব অফিসার ঐরূপ কোনো আপত্তি বিবেচনা করিবেন এবংছকেরপরিবর্তন অথবা সংশোধন করিতে পারিবেন ।

উপধারা-(৩)উক্তসময়ের মধ্যে যদি কোনো আপত্তি না জানানো হয় অথবা অথবাযদি আপত্তি জানানো হয়তবে উহার নিষ্পত্তির পর রাজস্ব অফিসার তাহার প্রস্তাবেরকারণসমূহের পূর্ণবিবরণ তত্সহ প্রয়োজনীয় বিবরণ এবং প্রতি শ্রেণীর ভূমির বর্তমানখাজনার হার ওপ্রাপ্তআপত্তিসমূহের সংক্ষিপ্ত সারসহ তাহার কার্যক্রমসমূহ নির্ধারিতরাজস্বকর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবেন ।

উপধারা-(৪)উক্তউর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষ (৩) উপধারার অধীনেদাখিলকৃত ছক পরিবর্তনসহ অথবাপরিবর্তন ছাড়া অনুমোদন করিতে পারিবেন অথবা পুনঃপরীক্ষণের জন্য ফেরত্‍পাঠাইতে পারিবেন ।

উপধারা-(৫)যেক্ষেত্রেখাজনার হারসমূহের ছক উক্ত উর্ধ্বতন রাজস্বকর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হয়সেক্ষেত্রে অনুমোদনের আদেশকে ইহা প্রণয়নের নিমিত্তকার্যক্রম অত্র আইনমোতাবেক সঠিকভাবে পরিচালিত হইয়াছে বলিয়া চূড়ান্ত সাক্ষ্যরূপেগণ্য করা হইবেএবং প্রতি শ্রেণীর ভূমির জন্য ছকে দেখানো হার প্রযোজ্য এলাকায়অবস্থিত উক্তশ্রেণীর জন্য প্রদান যথাযথ ও ন্যায়সংগত হার বলিয়া অনুমান করা হইবে ।

ধারা-১০২(সর্বোচ্চ হার হিসাবে ছকে প্রদর্শিত হার)

১০১ ধারার অধীনে অনুমোদিত খাজনার হারের ছকেদেখানো যে কোন শ্রেণীর ভূমির জন্যখাজনার হার সেই সর্বোচ্চ পরিমাণ হইবে যাহাঐরূপ শ্রেণীর ভূমির জন্য একজন রায়ত বাঅকৃষি প্রজার খাজনা নির্ধারণ করাযাইবে ।

ধারা-১০৩(খতিয়ানে যে সকল বিবরণ থাকিতে হইবে)

১০০ ধারার (২) এবং (৪) উপধারায় উল্লেখিত এককও খাজনার হার যাহা অত্র অধ্যায়ের অধীনেউক্ত ইউনিটের অন্তর্গত বিভিন্নশ্রেনীর ভূমির জন্য নির্ধারিত হয় তদবিষয়ের বিবরণঅত্র খণ্ডের অধীনে পরিচালিতঐ এককের খতিয়ানের অংশ হিসাবে গণ্য হইবে ।

ধারা-১০৪(খাজনার হারসমূহের স্থায়িত্বকাল)

যে ক্ষেত্রেকোনো জেলা, জেলার অংশ বা এলাকারএককের জন্য অত্র অধ্যায়ের হার নির্ধারিত হয় এবং ১০০ধারায় অনুমোদিত খাজনারহারের ছকে প্রদর্শিত হয় সেক্ষেত্রে ঐ অনুমোদনের তারিখ হইতেকুড়ি (২০) বত্সরসময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উহা পরিবর্তন করা যাইবে না ।

ধারা-১০৫(খাজনা বৃদ্ধির কারণসমূহ ও সীমাবদ্ধতা)

উপধারা-(১)কোনোভুমির জন্য কোনো রায়ত (অথবা অকৃষি প্রজার) প্রদেয় খাজনা এই জন্য বৃদ্ধিকরা যাইবেযে, তদকর্তৃক দেয় খাজনার পরিমাণ যে এককে উক্ত ভূমি অবস্থিত এবং যেএককের ক্ষেত্রেপ্রযোজ্য ১১১ ধারা মোতাবেক অনুমোদিত খাজনার হারের ছকভুক্তসেই এককের অনুরূপশ্রেণীসমূহের ভূমির জন্য এই অধ্যায়ের অধীনে নির্ধারিতখাজনার হারে হিসাবকৃত খাজনারপরিমাণ মূলত কম হয় ।

উপধারা-(২)যেসমস্ত ক্ষেত্রে অব্যবহিত পূর্ববর্তী বত্সরের দেয়খাজনার চেয়ে শতকরা ৫০ ভাগবৃদ্ধি করা হয় ও অপর যে সমস্ত ক্ষেত্রে তিনি বিবেচনা করেনযে, তাত্ক্ষনিকখাজনা বৃদ্ধি দুর্ভোগ সৃষ্টি করিবে সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার এইমর্মেনির্দেশ দিতে পারিবেন যে, উক্ত খাজনা বৃদ্ধি বার্ষিক হিসাবে এইউদ্দেশ্যেতদকর্তৃক নির্ধারিত কয়েক বত্সরের জন্য কার্যকর হইবে ।

তবে শর্ত থাকে যে, অব্যবহিত পূর্ববর্তীবত্সরের যে সময় হইতে১১৩ ধারা অনুযায়ী নতুন খাজনা হিসাব করা হয় বিশেষ বত্সরেখাজনা বৃদ্ধি উক্ত বত্সরের দেয় খাজনার শতকরা ৫০ ভাগের বেশী হইতে পারিবে না।

 

ধারা-১০৬(খাজনা কমানোর কারণসমূহ)

নিম্নলিখিত এক বাএকাধিক কারণে রায়ত কর্তৃক দেয় কোনো জোতের খাজনা হ্রাস করা যাইবে যথাঃ

(ক)যদিকোনো রায়ত কর্তৃক দেয় খাজনা তাহার জোত ভূমি যেই ইউনিটেঅবস্থিত সেই ইউনিটেরঅনুরূপ শ্রেণীসমূহের ভূমির জন্য এই অধ্যায়ের অধীনে নির্ধারিতএবং উক্তইউনিটের জন্য প্রযোজ্য খাজনার হারের ছকে অন্তর্ভুক্ত এবং ১০১ ধারায়অনুমোদিতখাজনা অপেক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশী হয় ।

(খ)বালি সঞ্চিত হওয়ার ফলে অথবা অপর কোনো আকস্মিক অথবা নিয়মিতপ্রাকৃতিক কারণে যদি জোতের ভূমি খারাপ বা অনুর্বর হয়; এবং

(গ)যদিখাজনা শেষ নির্ধারিত হওয়ার সময় বিদ্যমান কোনো সেচ অথবাজল নিষ্কাষণব্যবস্থা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় বা সেই সময় বিদ্যমান কোনবাঁধ অথবা বেড়ীযদিভাংগিয়া যায় এবং উহার ফলে জোতের ভূমি খারাপ বা অনুর্বর হয় ।

ধারা-১০৬ক (খাজনা হ্রাসের কারণ)

কোনো প্রজা স্বত্বেরঅকৃষি প্রজা কর্তৃকপ্রদানযোগ্য খাজনা এই কারণে হ্রাস পাইতে পারে সে তদকর্তৃকপ্রদানযোগ্যখাজনার পরিমাণে যে ইউনিটে ঐ প্রজাস্বত্বের অনুমোদিত খাজনার হারেরছকেঅন্তর্ভুক্ত সেই ইউনিটের একই শ্রেণীর জমির এই অধ্যায় অনুযায়ী নির্ধারিতখাজনার হারেহিসাবকৃত খাজনার পরিমাণের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশী থাকে ।

ধারা-১০৭(যথাযথ ও ন্যায়সংগত খাজনা নির্ধারণ)

উপধারা-(১) অত্রঅধ্যায়েরঅধীনে খাজনার হারের কোনো ছক প্রণযন ও অনুমোদনের পর রাজস্ব অফিসারপূর্ববর্তীধারাসমূহের বিধানবলী মোতাবেক সেই এলাকার খাজনার হারের ছকপ্রযোজ্য হয় সেই এলাকারসমস্ত প্রজাগণের ন্যায্য ও ন্যায়সংগত খাজনানির্ধারণের জন্য ও ৯৯ ধারার (১) উপধারারখ অনুচ্ছেদের নির্দেশ মোতাবেক খাজনানির্ধারণ বিবরণী প্রণয়ণের জন্য অগ্রসর হইবেন ।

উপধারা-(২)রাজস্বঅফিসারের যথাযথ ও ন্যায়সংগত খাজনা নির্ধারণ এবংখাজনা নির্ধারণ বিবরণীপ্রণয়ন করার উদ্দেশ্যে ঐরূপ প্রণয়নকৃত এবং অনুমোদিত খাজনারহারের ছকে বর্ণিতখাজনার হার দ্বারা চালিত হইবেন ।

তবে শর্ত থাকে যে, রাজস্ব অফিসার যদি লিখিতকারণলিপিবদ্ধসাপেক্ষে বিবেচনা করেন যে, বিশেষ ক্ষেত্রে এবং বিশেষ বিশেষএলাকায় উক্তহারের প্রয়োগ অ-যথাযথ ও অন্যায়সংগত হইবে তবে তিনি উক্ত হার ঐরূপ ক্ষেত্রেঅথবাএলাকায় প্রয়োগ করিতে বাধ্য নহেন ।

উপধারা-(৩)যেক্ষেত্রেঅকৃষি ভূমি প্রজাস্বত্বে অন্তভূর্ক্ত অকৃষিভূমি ছাড়া অন্য ভূমি নিয়া গঠিতহয় বা যেক্ষেত্রে ভূমির শ্রেণী বিন্যাস আংশিকভাবেকৃষি হইতে অকৃষিতেপরিবর্তিত হয় সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার।

(অ)অকৃষি ও কৃষি ভূমির জন্য পৃথক প্রজাস্বত্ব গঠন করিবারজন্য প্রজাস্বত্বকে বিভক্ত করিবেন;

(অ)ঐরূপ গঠিত প্রজাস্বত্বের মধ্যে বর্তমান খাজনা বন্টন করিবেন ।

(ই)অত্র অধ্যায়ের বিধানবলী অনুযায়ী কৃষি এবং অকৃষি ভূমিরজন্য ন্যায্য এবং ন্যায়সংগত খাজনা হিসাব করিবেন ।

ধারা-১০৮(জরিপী খাজনা নির্ধারণ বিবরণীর প্রাথমিক প্রকাশনাও সংশোধন)

উপধারা-(১)যেক্ষেত্রেখাজনা নির্ধারণ বিবরণী প্রণযন করা হয়, সেক্ষেত্রেরাজস্ব অফিসার নির্ধারিতউপায়ে ও নির্ধারিত সময়ের জন্য ইহার একটি খসড়া প্রকাশনারব্যবস্থা করিবেন ওউক্ত সময়কালে কোনো কিছু বাদ পড়া সম্বন্ধে আপত্তি গ্রহণ এবং বিবেচনাকরিবেনএবং সরকার কর্তৃক প্রস্তুত বিধিমালা অনুযায়ী উক্ত আপত্তিসমূহেরনিষ্পত্তিকরিবেন ।

উপধারা-(২)রাজস্বঅফিসার স্বীয় উদ্যোগে অথবা ক্ষতি গ্রস্থ পক্ষেরআবেদনের প্রেক্ষিতে ১০৯ধারা অনুযায়ী অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট খাজনা নির্ধারণবিবরণী দাখিলকরার আগে যে কোনো সময় উহাতে ভুক্ত খাজনার পরিমার্জন করিতে পারিবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট প্রজাকে হাজিরহইবার এবং উক্তবিষয়ে শুনানীর জন্য যুক্তিসংগত নোটিশ প্রদান না করিয়া কোনোঅন্তর্ভুক্তির পরিমার্জনকরা যাইবে না ।

ধারা-১০৯ (খাজনা নির্ধারণ বিবরণী অনুমোদন এবং চূড়ান্তপ্রকাশ ও স্বত্বলিপিতে ইহা অন্তর্ভুক্তকরণ)

উপধারা-(১)যেক্ষেত্রে১০৮ ধারার অধীনসমস্ত আপত্তির নিষ্পত্তি ঘটে সেক্ষেত্রে রাজস্বঅফিসার তাহার প্রস্তাবসমূহেরকারণগুলি পূর্ণ বিবরণ এবং তদকর্তৃক গৃহীতআপত্তিসমূহের, যদি থাকে, সংক্ষিপ্তসারসম্বলিত খাজনা নির্ধারণ বিবরণীঅনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষেরকাছে দাখিল করিবেন ।

উপধারা-(২)অনুমোদনকারীকর্তৃপক্ষ সংশোধনসমূহ বা সংশোধন ছাড়া খাজনানির্ধারণ বিবরণী অনুমোদন করিতেপারিবেন অথবা পুনঃপরীক্ষণের নিমিত্ত ফেরত্‍ পাঠাইতেপারিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট প্রজাকে হাজিরহওয়ার এবং ঐ বিষয়েশুনানীর জন্য যুক্তিসঙ্গত নোটিশ প্রদান না করিয়া কোনোঅন্তর্ভুক্তি সংশোধন অথবা বাদঅন্তর্ভুক্ত করা হইবে না ।

উপধারা-(৩)অনুমোদনকারীকর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর রাজস্ব অফিসারচূড়ান্তরূপে খাজনা নির্ধারণ বিবরণীপ্রণয়ন করিবেন এবং নির্ধারিত উপায়ে উহা প্রকাশকরিবেন ও এই খণ্ডের অধীনেরক্ষিত খাজনা নির্ধারণ বিবরণীর সহিত সম্বন্ধযুক্ত এলাকারজন্য খতিয়ানে ইহাঅন্তর্ভূক্ত করিবেন ও ঐরূপ প্রকাশকে এই অধ্যায় মোতাবেক খাজনানির্ধারণবিবরণীর সহিত সম্বন্ধযুক্ত এলাকার জন্য খতিয়ানে ইহা অন্তর্ভুক্ত করিবেনওঐরূপ প্রকাশকে এই অধ্যায় মোতাবেক খাজনা নির্ধারণ বিবরণী যথাযথভাবেপ্রস্তুত করাহইয়াছে মর্মে চূড়ান্ত সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে ।

ধারা-১১০(উর্ধ্বতন রাজস্ব অফিসারেরসমীপে আপিল ও তদকর্তৃক রিভিশন)

উপধারা-(১)যদিকোনো আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল দায়ের করাহয় তবে সেই আদেশের তারিখ হইতেদুই মাসের মধ্যে ১০৮ ধারার অধীন উত্থাপিতআপত্তির প্রেক্ষিতে রাজস্ব অফিসারকর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেক আদেশের বিরুদ্ধে অথবা১০৯ ধারার অধীন অনুমোদনকারীকর্তৃপক্ষকতৃর্ক প্রদত্ত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্টরাজস্বকর্তৃপক্ষের সমীপে আপিল করা যাইবে ।

উপধারা-(২)এইঅধ্যায়ের অধীনে ভূমি প্রশাসন বোর্ড যে কোনো ক্ষেত্রেইহার স্বীয় উদ্যোগেবা কোনো দরখাস্তের ভিত্তিতে ১০৯ (২) ধারার অধীন খাজনা নির্ধারণবিবরণীঅনুমোদনের আদেশের বা (১) উপধারা মোতাবেক উর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষপ্রদত্তআদেশের, যাহা পরে ঘটে, ছয় মাসের মধ্যে খাজনা নির্ধারণ বিবরণী অথবাউহার অংশপরিমার্জনের নিমিত্ত নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন, কিন্তু ইহাদ্বারা বিশেষ জজকর্তৃক ১১১ ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হইবে নাঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে হাজিরহইবার এবং উক্তবিষয় শুনানীর জন্য যুক্তিসংগত নোটিশ প্রদান না করিয়া ঐরূপনির্দেশ প্রদান করা হইবেনা ।

ধারা-১১১(বিশেষ জজের নিকট আপিল)

উপধারা-(১) ১০৮ধারারঅধীন দায়েরকৃত আপত্তির প্রেক্ষিতে রাজস্ব অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশদ্বারাঅথবা ১০৯ ধারা অনুযায়ী অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত আদেশ দ্বারাক্ষুদ্ধ কোনোব্যক্তি আপিলের সহিত সম্বন্ধযুক্ত উপায়ে অত্র উদ্দেশ্যে সরকারকর্তৃক নিযুক্ত বিশেষজজের নিকট আপিল করিতে পারিবে।

তবে শর্ত থাকে যে, ১১০ ধারার (১) উপধারা অনুযায়ী এই ব্যাপারেনির্ধারিত উর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা হয় নাই ।'

উপধারা-(২)হাইকোর্টকর্তৃক রিভিশন এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়া প্রদত্তআদেশ কোনো আপিলে বিশেষ জজেরআদেশ চূড়ান্ত হইবে এবং অত্র ধারায় বিশেষ জজের আদেশেরবিরুদ্ধে হাইকোর্টেআপিল দায়ের করা চলিবে না ।

উপধারা-(৩)১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির বিধানসমূহ অত্র ধারায়বিশেষ জজের কাছে দায়েরকৃত আপিলের বেলায় প্রযোজ্য হইবে ।

ধারা-১১১ক (ভুলসমূহ শুদ্ধকরণ এবং খাজনার বিবরণী পরিবর্তন)

১০৯ (৩) ধারারঅধীন চূড়ান্তভাবেপ্রকাশিত হওয়ার আগে যে কোনো সময় রাজস্ব অফিসার খাজনানির্ধারণ বিবরণীতেকরণিক ভুল শুদ্ধ করিতে পারিবেন এবং ১১০ এবং ১১১ ধারার অধীনেপ্রদত্ত আদেশকার্যকর করার জন্য যাহা প্রয়োজন করিতে পারিবেন ।

ধারা-১১২(অত্র অধ্যায়ের অধীনে নির্ধারিত খাজনাসম্পর্কে অনুমান)

এই অধ্যায়ের অধীনে নির্ধারিত সমস্ত খাজনা শুদ্ধরূপেনির্ধারিত করা হইয়াছে এবং যথাযথ ও ন্যায়সংগত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে ।

ধারা-১১৩(যে তারিখ হইতে কার্যকর হইবে)

যে ক্ষেত্রেঅত্র অধ্যায় মোতাবেক কোনোএলাকার খাজনা রাজস্ব অফিসার নির্ধারিত হয় সেক্ষেত্রে উহা১১০ এবং ১১১ ধারারবিধানসাপেক্ষে ১০৯ ধারার (৩) উপধারার অধীন খাজনা নির্ধারণ বিবরণী, যাহাতেউক্ত খাজনা নির্দিষ্ট করা হয়, চূড়ান্তভাবে প্রকাশের তারিখের পরবর্তী কৃষিবত্সরের প্রথম হইতে কার্যকর হইবে ।

ধারা-১১৪(নির্ধারিত খাজনা যে সময় পর্যন্ত অপরিবর্তিতথাকিবে)

যেক্ষেত্রে অত্র অধ্যায় অনুসারে কোনোপ্রকার খাজনা নির্ধারিত হয়সেক্ষেত্রে কুড়ি (২০ বত্সর) সময়ের মধ্যে উহাবৃদ্ধি করা যাইবে না এবং ১০৬ ধারার(খ) অনুচ্ছেদ অথবা (গ) অনুচ্ছেদে বর্ণিতকারণ ছাড়া উক্ত সময়ের মধ্যে খাজনা কমানোযাইবে না ।

ধারা ১১৫(দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ারে বিধি-নিষেধ)

অত্রঅধ্যায়ের অধীন খাজনার হার নির্ধারণ অথবাকোনো খাজনা নির্ধারণ অথবা খাজনার হারনির্ধারণে অথবা খাজনা নির্ধারণ বাদসম্বন্ধে কোনো মামলা অথবা অপর কোনো আইনগতকার্যক্রম ১১১ ধারায় বর্ণিত বিষয়ছাড়া কোনো দেওয়ানী আদালতে দাখিল করা যাইবে না ।

ধারা ১১৬(একই গ্রামে প্রজার জোতের সংযুক্তকরণ)

একইগ্রামের মধ্যে একই প্রজার যদি পৃথকএকাধিক ভূখণ্ড থাকে, তবে উক্ত ভূখণ্ডগুলি কিংবাউহার কতিপয় যদি পৃথকপ্রজাস্বত্বের অধীন হয়, তবে উক্ত ভূখণ্ডগুলি রাজস্ব কর্মকর্তারআদেশক্রমেএকই প্রজাস্বত্বে সংযুক্ত করা যাইবে ।

ধারা ১১৭(জোতের উপরিভাগ এবং উহাতে বিধি-নিষেধ)

উপধারা-(১)এই অংশের ভিন্ন কিছু থাকা সত্ত্বেও, রাজস্ব কর্মকর্তা-(ক)১১৬ধারা অনুযায়ীপ্রজাস্বত্বের সংযুক্তির উদ্দেশ্যে, হয় স্বীয় উদ্যোগে না হয়এই উদ্দেশ্যে এক বাএকাধিক সহ-শরীক প্রজা কর্তৃক তাহার নিকট আবেদনক্রমে; বা

(খ)১১৯ ধারা অনুযায়ী মালিকের জোতের একত্রীকরণের উদ্দেশ্যে, হয় তাহার নিজ উদ্যোগে না হয় এই উদ্দেশ্যে তাহার নিকট আবেদনক্রমে; বা

(গ)খাজনাবন্টনের জন্য এজমালী প্রজাস্বত্বের উপরিভাগেরউদ্দেশ্যে এক বা একাধিকসহ-শরীক কর্তৃক তাহার নিকট আবেদনক্রমে, সহ-শরীক প্রজাদেরমধ্যে এজমালীপ্রজাস্বত্বের উপরিভাগ এবং উহার বকেয়া খাজনাসহ, যদি থাকে তদকর্তৃকযথাযথ ওন্যায়সংগত বিবেচিত খাজনার বন্টনের জন্য লিখিত আদেশ দ্বারা নির্দেশপ্রদানকরিতে পারিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, ঐরূপ আদেশ প্রদান করাহইবে না যদিসংশ্লিষ্ট পক্ষদিগকে উপস্থিত হওয়ার এবং এই ব্যাপারে শুনারীরজন্য যুক্তিসঙ্গত নোটিশপ্রদান করা না হয়ঃ

আরও শর্ত থাকে যে, যেখানে (গ) দফা অনুযায়ীআদেশ প্রদান করা হয়এবং ইহার কারণে খাজনার বণ্টন প্রজাস্বত্বের অংশের খাজনাএক টাকার নিম্নে আণয়ন করে, সেখানে এক টাকার অংশ একটি পূর্ণ টাকায় পরিণতহইবে ।

উপধারা-(২)১৯৬৭ সালের ৮ নম্বর অধ্যাদেশ দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে ।

উপধারা-(৩)একটিএজমালী জোতকে উপরিভাগ করিয়া যখন (১) উপধারা অনুযায়ীআদেশ প্রদান করা হয়, তখন ঐ উপরিভাগ মাঠে চিহ্ণিত হইতে পারে এবং ক্যাডেস্ট্রাল ম্যাপেপ্রদর্শিতহইতে পারে ।

ধারা-১১৮(এই ধারাটি ১৯৬৪ সালের ৬ নং আইন দ্বারা বাদদেওয়া হইয়াছে )

ধারা-১১৯(জোতের একত্রীকরণের জন্য আবেদন করার অধিকারীব্যক্তি)

উপধারা-(১)একইবা পার্শ্ববর্তী সংলগ্ন গ্রামে জমি ভোগ বা দখলকারী দুই বাততোধিক রায়ততাহাদের জোত-জমা একত্রীকরণের জন্য রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট নির্দিষ্টফরমেআবেদন পেশ করিতে পারেন এবং এইরূপ একত্রিকরণের সহিত একটি পরিকল্পনাও পেশকরিতেপারেন ।

উপধারা-(২)কোনোগ্রাম বা সংলগ্ন গ্রামসমষ্টি দুই-তৃতীয়াংশের কম নহেএমন সংখ্যক রায়ত, যদিউক্তগ্রামে বা গ্রামসমূহের তিন-চতুর্থাংশের কম নহে এইরূপ কৃষিজমি ধারণকরিয়া থাকেন এবং তাহাদের জোত-জমাসমূহ একত্রীকরণের জন্য (১) উপধারারবিধানমোতাবেক আবেদন করেন, তাহা হইলে আবেদন উক্তগ্রাম বা গ্রামসমূহের সকলরায়তের পক্ষ হইতেকরা হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে ।

ধারা-১২০ (আবেদন গ্রহণ)

উপধারা-(১)১১৯ধারা অনুযায়ীএকত্রীকরণের আবেদন পাওয়ার পর রাজস্ব কর্মকর্তা নির্ধারিতপদ্ধতিতে উক্ত আবেদনসম্পর্কে অনুসন্ধান করিবেন এবং যদি অনুসন্ধান করার পরবিবেচনা করেন যে উক্ত আবেদননাকচ করা জন্য অথবা একত্রীকরণ হইতে কোনো জমিবাদ দেওয়ার জন্য যথাযথ এবং যথেষ্ট কারণআছে তাহা হইলে তিনি উক্ত আবেদন নাকচকরার আংশিক অথবা অনুমোদিত না হওয়ার কারণপ্রদর্শন করিয়া সুপারিশসহ আবেদনটিনির্ধারিত উর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষের নিকটদাখিল করিবেন এবং উক্ত ঊর্ধ্বতনরাজস্ব কর্তৃপক্ষ ঐরূপ সুপারিশ পাওয়ার পর যাহাযথাযথ মনে করিবে ঐরূপ আদেশপ্রদান করিবে ।

উপধারা-(২)যদিরাজস্ব কর্মকর্তা (১) উপধারা অনুযায়ী কোনো সুপারিশ নাকরেন অথবা যদি উক্তউর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষ রাজস্ব কর্মকর্তার সুপারিশ পাওয়ার পররাজস্বকর্মকর্তাকে আবেদন সম্পূর্ণ বা আংশিক স্বীকার করিয়া লওয়ার জন্যনির্দেশপ্রদান করে, তাহা হইলে রাজস্ব কর্মকর্তার উক্ত আবেদন সম্পূর্ণ বাআংশিকভাবে যাহাযেখানে প্রযোজ্য হয় স্বীকার করিয়া লইবেন এবং এই অধ্যায়েরবিধানাবলী এবং এই আইনঅনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী উহাপরিচালনা করিবেন । 

ধারা-১২১ (একত্রিকরণের জন্য স্বীকৃত পরিকল্পনার অনুমোদন)

যখন জোতের একত্রীকরণের জন্য কোনো পরিকল্পনা১১৯ ধারার (১) উপধারা অনুযায়ীআবেদনসহ দাখিল করা হয় এবং উক্ত পরিকল্পনাতদসহ উক্ত পরিকল্পনায় এক পক্ষ কর্তৃক অন্যপক্ষকে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানেরশর্ত ক্ষতিগ্রস্ত রায়তদের দ্বারা স্বীকৃত হয়, তখনরাজস্ব কর্মকর্তা ১২০ধারা অনুযায়ী আবেদন সম্পূর্ণরূপেবা আংশিকরূপে স্বীকার করার পরউক্তপরিকল্পনা পরীক্ষা করিবেন এবং উক্তরূপ পরীক্ষার পর সংশোধনসহ বাব্যতীতপরিকল্পনাটি অনুমোদন করিবেন, অন্যথায় রিভিশনের জন্য ফেরত পাঠাইতেপারেন এবংরিভিশনের পর অনুমোদন করিতে পারেন:

তবে শর্ত থাকে যে, রাজস্ব কর্মকর্তা উক্তপরিকল্পনাটি অনুমোদনকরিবেন না যদি জমির পুনঃ বন্টনের পরিণতিতে খাজনারবন্টনের দ্বারা পরিকল্পনারঅধীনস্থ সকল জোতের মোট খাজনার পরিমাণহ্রাসপ্রাপ্ত হয় ।

ধারা ১২২(একত্রীকরণের জন্য পরিকল্পনা প্রস্তুতকরণ এবংউপদেষ্টা পর্ষদ নিয়োগ)

উপধারা-(১)নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে, যথা:

(ক) যেখানে ১১৯ ধারার (১) উপধারা অনুযায়ীআবেদনের সংগে জোতেরএকত্রীকরণের কোন পরিকল্পনা দাখিল করা না হয় বা যেখানেআবেদনের সংগে ঐরূপ পরিকল্পনাদাখিল করা হয় কিন্তু এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তরায়তদের দ্বারা উহা অস্বীকৃত হয় নাই; বা-

(আ) যেখানে ঐ ধারার (২) উপধারা অনুযায়ী আবেদন জানানো হইয়াছে; বা

(ই) যেখানে সরকার নোটিফিকেশনের দ্বারা আদেশপ্রণয়ন করিয়ানির্দেশ দেয় যে কোনো এলাকায় জোতের একত্রীকরণ সম্পন্ন হইবে এবংউক্ত এলাকার রায়তের(১ক) উপধারা অনুযায়ী স্বীকৃত পরিকল্পনা প্রস্তুত করিতেব্যর্থ হইয়াছে, রাজস্বকর্মকর্তা ঐ সকল গ্রামে বা এলাকায়, যাহা যেখানেপ্রযোজ্য হয়, ঐ সকল আবেদনের বাপ্রত্যেক রায়তের জোতের একত্রীকরণের জন্য একটিপরিকল্পনা প্রস্তুত করিবেন এবং ঐরূপপ্রত্যেকটি পরিকল্পনা এই আইনেরবিধানাবলী ও এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রণীতবিধিমালা অনুযায়ী প্রস্তুতকরা হইবে ।

(১ক) (১) উপধারার (ই) অনুচ্ছেদ অনুযায়ীনোটিফিকেশন প্রকাশিতহওয়ার পর রাজস্ব কর্মকর্তা নোটিফিকেশনের সংগেসম্পর্কযুক্ত এলাকার রায়তদেরকেনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাহা প্রয়োজন মোতাবেকবৃদ্ধি করা যাইতে পারে, জোতেরএকত্রীকরণের জন্য স্বীকৃত পরিকল্পনাপ্রস্তুতের জন্য আহবান জানাইবেন ।

উপধারা-(২)কোনো এলাকায়(১) উপধারা অনুযায়ী জোতের একত্রীকরণের জন্যপরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রেতাহাকে সাহায্য করার জন্য অথবা (১ক) উপধারা অনুযায়ীকোনো এলাকায় ক্ষেত্রেজোতের একত্রীকরণের জন্য স্বীকৃত পরিকল্পনা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যেরাজস্বকর্মকর্তা এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিমালা সাপেক্ষে, উক্তএলাকাসম্পর্কে একটি উপদেষ্টা পর্ষদকে ঐরূপ কারিগরী সহায়তা দান করিবেন ।

(২ক) যখন (১ক) উপধারা অনুযায়ী একটি স্বীকৃতপরিকল্পনাপ্রস্তুত করা হয় তখন রাজস্ব অফিসার ১২১ ধারায় যে নিয়ম বর্ণিত আছে ঐনিয়ম অনুযায়ীউক্ত পরিকল্পনা পরিচালনা করিবেন ।

উপধারা-(৩)(১) উপধারাঅনুযায়ী জোতের একত্রীকরণের পরিকল্পনা প্রণয়নেরক্ষেত্রে ইহার দ্বারাক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগণের মধ্যে সবচাইতে বেশী স্বীকৃতি সম্বলিতএকত্রীকরণেরপ্রস্তাবকে বিবেচনায় আনিবেন এবং একত্রীকরণের উদ্দেশ্যে জমিরপুনঃবন্টনেরক্ষেত্রে তিনি দেখিবেন যাহাতে জোতের সর্বমোট এলাকা বা উহা হইতেউদ্ভুতসুবিধা যতটুকু সম্ভব কম পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।

উপধারা-(৪)যদি (১) উপধারাঅনুযায়ী জোতের একত্রীকরণের জন্য পরিকল্পনাপ্রণয়নের ক্ষেত্রে রাজস্বকর্মকর্তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, জমির পুনঃবন্টন তাহারজমির মূল খণ্ডেরবাজার মূল্যের চাইতে রায়তের নিকট বণ্টনকৃত জমির খণ্ডের বাজার মূল্যকম আনয়নকরে তাহা হইলে রাজস্ব কর্মকর্তা ঐ পরিকল্পনার মধ্যে ঐ রায়তকে ঐ রায়তদ্বারা, যে রাজস্ব কর্মকর্তার মতানুসারে প্রথোমোক্ত রায়তের বেশী মূল্যবানজমি বন্দোবস্তদ্বারা উপকৃত হয়, ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন ।

উপধারা-(৫)(১) উপধারাঅনুযায়ী জোত একত্রীকরণের জন্য পরিকল্পনাপ্রস্তুতের ক্ষেত্রে রাজস্বকর্মকর্তা যেখানে জমি ঐ প্রকারের হয় যাহাতে বিভিন্নএলাকায় উত্পাদিকা শক্তিএক বত্সর হইতে আর এক বত্সরে পরিবর্তিত হয় এই বিষয় যথাযথবিবেচনার মধ্যেআনিবেন, যতটুকু সম্ভব জোতের ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণকরিবেনএবং যেখানে দাগগুলি বিভিন্ন সমতলে অবস্থান করে সেখানে জোতকে দুই বাততোধিকব্লকে একত্র করিতে পারেন যাহাতে প্রত্যেকটি বিভিন্ন সমতলে থাকে ।

উপধারা-(৬)১২১ ধারা অথবা১২৩ ধারা অনুযায়ী কোন এলাকায় জোতেরএকত্রীকরণের পরিকল্পনা অনুমোদনের পূর্বেউক্ত এলাকায় অবস্থিত জমিতে সংযুক্ত রেহেনসহসমস্ত দায়ের যতটুকু সম্ভবনিশ্চয়তা বিধান করিবেন এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে নোটিশ জারিকরিয়া দায়েরসুবিধা প্রাপক ব্যক্তিগণকে এই উদ্দেশ্যে নির্ধারিত তারিখের মধ্যেস্বার্থসম্পর্ক ঘোষণা দিবার জন্য আহবান জানাইবেন এবং তখন যে ব্যক্তির অনুকূলেদায়সৃষ্টি করা হইয়াছে তাহার তাহার দায়িত্ব হইবে উক্ত নোটিশে উল্লেখিতনির্ধারিত সময়েরমধ্যে রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট উক্ত দায় সম্পর্কে ঘোষণাপ্রদান করা এবং যদি উক্তব্যক্তি সময়ে দায় সম্পর্কে ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে মূলত দায়বদ্ধ জমিরঅংশবিশেষ, যাহা একত্রীকরণের পর মালিকের থাকিলনা, এবং এর সহিত সংযুক্ত দায়েরপরিসমাপ্তি ঘটিবে ।

উপধারা-(৭)(১) উপধারাঅনুযায়ী জোতের একত্রীকরণের জন্য পরিকল্পনাপ্রণয়নের ক্ষেত্রে, রাজস্বকর্মকর্তা দেখিবেন যাহাতে এই পরিকল্পনার অধীনস্থ সকলজোতের মোট খাজনার জমিরপুনঃবন্টনের পরিণতিতে খাজনা বন্টনের দ্বারা হ্রাসপ্রাপ্ত নাহয় ।

উপধারা-(৮)যেখানে জোতেরমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে পরবর্তিত, সেখানেজোতের একত্রীকরণের জন্য কোনকার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে, রাজস্ব কর্মকর্তাএকই সংগে এইভাবে খাজনাবন্ট ন করিবেন যাহাতে জোতের মালিকের উপর পরিণতি পূর্বের মতপ্রত্যেক জোতেরমূল্যের অনুপাতে থাকে ।

উপধারা-(৯)প্রত্যেক একত্রীকৃত জোতের একটি পৃথক খাজনা থাকিবে ।

ধারা ১২৩(পরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ এবং আপত্তি শুনানী)

উপধারা-(১)যখনজোতের একত্রীকরণের পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়, তখন রাজস্বকর্মকর্তানির্ধারিত পদ্ধতি এবং নির্ধারিত সময়ের জন্য পরিকল্পনার খসড়াপ্রকাশের ব্যবস্থাগ্রহণ করিবেন, প্রকাশের সময় কোনো কিছু ভুক্ত হওয়া বাকোনো কিছু বাদ যাওয়া সম্পর্কেআপত্তি গ্রহণ করিবেন ও বিবেচনা করিবেন এবং এইউদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রণীতবিধিমালা অনুযায়ী ঐ সমস্ত আপত্তির নিষ্পত্তিকরিবেন ।

উপধারা-(২)যদিউক্ত সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তি উত্থাপন না করা হয় অথবাযেখানে আপত্তিউত্থাপন করা হইয়াছে এবং উক্ত আপত্তির নিষ্পত্তি করা হইয়াছে, তাহাহইলেরাজস্ব কর্মকর্তা সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকে উক্ত পরিকল্পনাঅনুমোদনের জন্য আদেশপ্রদান করিবেন ।

উপধারা-(৩)ই, পি, অধ্যাদেশ নং ১৫/১৯৬১ এর দ্বারা বাতিল ।

ধারা-১২৪(আপিল)-

উপধারা-(১)১২১ধারা অথবা ১২৩ ধারার (২)উপধারা অনুযায়ী পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য রাজস্বকর্মকর্তার আদেশ দ্বারাক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, এই উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়েরমধ্যে নির্ধারিত উর্ধ্বতনরাজস্ব কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপিলদায়ের করিতে পারে এবং এইরূপ আপিলেউক্ত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত (২)উপধারার শর্তসাপেক্ষে, চূড়ান্ত বলিয়া গণ্যহইবে ।

উপধারা-(২)উর্ধ্বতনরাজস্ব কর্তৃপক্ষ কর্তৃক (১) উপধারা অনুযায়ীপ্রত্যেক আপিলের আদেশেরবিরুদ্ধে এই উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং নির্ধারিতপদ্ধতিতেসরকারের নিকট দ্বিতীয় আপিল করা যাইবে ।

ধারা-১২৫ (পরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদন)যখন১২৪ ধারার(১) উপধারা অনুযায়ী আপিল করার সময়ের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং যদিএইরূপ কোনো আপিল করা হয়, যখন উক্ত ধারার (২) উপধারা অনুযায়ী দ্বিতীয় আপিলকরার সময়েরও পরিসমাপ্তি ঘটেএবং উক্ত ধারার (১) এবং (২) উপধারা অনুযায়ী সকলআপিলের নিষ্পত্তি ঘটে এবং উক্তআপিলের পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত পরিকল্পনা নাকচআপিলের নিষ্পত্তি ঘটে এবং উক্ত আপিলেরপরিপ্রেক্ষিতে উক্ত পরিকল্পনা নাকচকরিয়া চূড়ান্ত আদেশ প্রদান না করা হয়, তাহা হইলেরাজস্ব কর্মকর্তা প্রয়োজনমোতাবেক উক্ত ধারা অনুযায়ী আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদত্তআদেশ বলবত্‍ করারজন্য পরিকল্পনা সংশোধন করিবে এবং অতঃপর উক্ত পরিকল্পনা চূড়ান্তভাবেঅনুমোদনকরিয়া একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করিবেন ।

ধারা-১২৬ (পরিকল্পনা অনুমোদন হওয়ার পর গ্রামের স্বত্বলিপিসংশোধন এবং উক্ত পরিকল্পনা কার্যকরী হওয়ার তারিখ)

উপধারা-(১)১২৫ধারা অনুযায়ীজোতের একত্রীকরণের পরিকল্পনা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন হওয়ার পররাজস্ব কর্মকর্তা এই অংশঅনুযায়ী রক্ষিত, পরিকল্পনার সংগে সম্পর্কিত গ্রামেরবা গ্রামসমূহের স্বত্বলিপিচূড়ান্তভাবে অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ীসংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং সকলপ্রজা যাহারা উক্ত পরিকল্পনার কারণেক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে তাহারা বিনামূল্যে রাজস্বকর্মকর্তার নিকট হইতে উক্তরূপসংশোধিত স্বত্বলিপির এক কপি পাইবে ।

উপধারা-(২)যখন১২৫ ধারা অনুযায়ী জোতের একত্রীকরণের পরিকল্পনাচূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয় তখনউহা ঐ পরিকল্পনার চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখের পরবর্তীকৃষি বত্সরের শুরুহইতে কার্যকরী হইবে ।

ধারা-১২৭(জোতের সীমানা চিহ্নিতকরণ)

জোতের একত্রীকরণপরিকল্পনা কার্যকরী হওয়ারসংগে সংগে পরিকল্পনার আওতাধীন জোতের চৌহদ্দি নির্ধারণকরার জন্য অথবা জোতেরঅন্তর্ভুক্ত সরেজমিনে জমির অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য রাজস্বকর্মকর্তা যাহাঅনুমোদন করিতে পারেন এইরূপ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্যসার্ভেয়ার বাআমীন নিযুক্ত করিবেন ।

ধারা-১২৮(একত্রীকরণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলাফলএবং উহার অধীনস্থ রায়তদের অধিকার)

উপধারা-(১)১২৫ ধারা অনুযায়ী পরিকল্পনা চূড়ান্তঅনুমোদনের পর উক্ত পরিকল্পনার সংগে সম্পর্কযুক্ত সকল রায়তদের উপর উহা বাধ্যকর হইবে ।

উপধারা-(২)১৯৬১ সালের ১৫ নং অধ্যাদেশ দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে।

উপধারা-(৩)১২৫ধারা অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত জোতের একত্রীকরণেরজন্য পরিকল্পনাদ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক রায়ত যেদিন উক্ত পরিকল্পনা কার্যকর হইবেসেইদিনহইতে বণ্টনকৃত জোতসমূহের দখলের অধিকারী হইবে, এবং রাজস্ব কর্মকর্তার ঐরায়তকর্তৃক এই উদ্দেশ্যে আবেদন জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে উক্তরূপ বণ্টনকৃতজোতে উক্ত রায়তকেদখল প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যবস্থাকরিবেন ।

উপধারা-(৪)একত্রীকরণেরপূর্বে তাহার মূল জোতে যেরূপ অধিকার ছিল একজনরায়তের ১২৫ ধারা অনুযায়ীচূড়ান্তভাবে অনুমোদিত জোতের একত্রীকরণের জন্য পরিকল্পনারঅধীনে তাহাকেবণ্টনকৃত একই অধিকার থাকিবে ।

ধারা-১২৯ (একত্রীকরণের জন্য পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্তজমির দায়)

উপধারা-(১)আপাতত বলবত্‍কৃত আইনে বা কোনো চুক্তিতে অন্য বিধান থাকা সত্ত্বেওযদি ১২৫ ধারা অনুযায়ীচূড়ান্তভাবে অনুমোদিত জোতের একত্রীকরণের পরিকল্পনার আওতাভুক্তরায়তের জোতউক্ত পরিকল্পনা কার্যকরী হওয়ার তারিখের অব্যববহিত পূর্বে কোনো বন্ধকবাঅন্যান্য দায়ের অধীন হয় তাহা হইলে উক্ত বন্ধক বা অন্যান্য দায় ঐ তারিখহইতে ঐপরিকল্পনার অধীনে ঐ রায়তের নিকট বন্টনকৃত জোতের বা পরিকল্পনার মধ্যেরাজস্বকর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত ঐ জোতের অংশবিশেষ হস্তান্তরিত বা সংযুক্তহইয়াছে বলিয়াধরিয়া লওয়া হইবে । ইহার পর হইতে যে জমি বন্ধক বা অন্যান্য দায়হস্তান্তরিত হইয়াছে সেজমিতে বন্ধক গ্রহীতা দায় প্রাপকের অধিকারের অবলুপ্তিঘটিবে এবং ঐ মূল জমিতে বা উহারঅংশবিশেষ বা উহার বিরুদ্ধে যেখান হইতে উক্তবন্ধক অন্যান্য দায় হস্তান্তরিত হইয়াছেউহার যে অধিকার ছিল তাহা বণ্টনকৃতজমি বা উহার অংশবিশেষ বা উহার বিরুদ্ধে বিদ্যমানথাকিবে ।

উপধারা-(২)১২৮ ধারার (৩)উপধারায় যাহা কিছু থাকুক না কেন, রাজস্বকর্মকর্তা রেহেন বা দায় (১)উপধারাঅনুযায়ী হস্তান্তরিত হইয়াছে এইরূপ জোত বা উহার অংশবিশেষের দখলেরঅধিকারীরেহেনগ্রহীতা বা অন্যান্য দায়প্রাপক কর্তৃক এই উদ্দেশ্যে আবেদনেরপরিপ্রেক্ষিত ঐজোতের বা উহার অংশবিশেষ রেহেনগ্রহীতা বা দায়প্রাপককে দখলগ্রহণের ব্যবস্থা করিতেপারিবেন ।

ধারা-১৩০(হস্তান্তর কার্যকরী করার জন্য দলিলেরঅপ্রয়োজনীয়তা)-সাময়িকভাবেবলবত্কৃত অন্য কোনো আইনে যাহা কিছু থাকুক না কেন, জোতের একত্রীকরণেরপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য হস্তান্তর কার্যকরী করিতে লিখিতদলিলের প্রয়োজনহয় না ।

ধারা-১৩১( একত্রীকরণের কার্যক্রম বিচারাধীনথাকাবস্থায় জোতের হস্তান্তর)

উপধারা-(১)এই অধ্যায়অনুযায়ী কোনো কার্যক্রম বিচারাধীন থাকাসময়ে কোনো ব্যক্তি উক্তকার্যক্রমের সহিত সম্পর্কযুক্ত কোনো জমি রাজস্ব কর্মকর্তারপূর্ব অনুমতিব্যতীত হস্তান্তর করিতে পারিবে না এবং যেখানে এইরূপ অনুমতি লইয়া উক্তজমিহস্তান্তরিত হয় সেখানে হস্তান্তরগ্রহীতা উক্ত কার্যক্রমে পক্ষভুক্ত হইবেবলিয়াধরিয়া লওয়া হইবে এবং জমি হস্তান্তরকারীর স্থলে তাহাকে কায়মোকাম করাহইবে ।

উপধারা-(২)১২৫ ধারাঅনুযায়ী জোতের একত্রীকরণের পরিকল্পনার চূড়ান্তঅনুমোদনের তারিখে ও তারিখহইতে কোনো সহ-শরীককে বহিষ্কার করিয়া জোতের অংশ বিশেষলাগাতার দখলের দ্বারাস্বত্ব অর্জন করিতে পারিবে না ।

ধারা-১৩২(একত্রীকরণের কার্যক্রমের খরচ আদায়)

উপধারা-(১)এইঅধ্যায়অনুযায়ী জোতের একত্রীকরণের কার্যক্রমের খরচ, একত্রীকরণের জন্য পরিকল্পনা২৫ধারা অনুযায়ী চূড়ান্ত অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতেনির্ধারণ করা হইবেএবং এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিমালাসাপেক্ষে, উক্ত পরিকল্পনা দ্বারাযাহাদের জোত প্রভাবিত হইয়াছে এইরূপ রায়তদের নিকট হইতেউদ্ধার করা হইবে।

তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে আবেদনকারীরাতাহাদের জোতএকত্রীকরণের জন্য একটি স্বীকৃত পরিকল্পনা দাখিল করিয়াছে সেখানে১১৯ ধারার (১) উপধারাঅনুযায়ী আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উত্থিত কার্যক্রমেরক্ষেত্রে অথবা ১২২ ধারার (১ক)উপধারা অনুযায়ী প্রস্তুত স্বীকৃত পরিকল্পনারপরিপ্রেক্ষিতে উত্থিত কার্যক্রমেরক্ষেত্রে কোনো খরচ উদ্ধার করা হইবে না ।

উপধারা-(২)উপরে উল্লিখিতখরচের অংশে যাহা রায়ত প্রদান করার জন্য দায়ী, উক্ত পরিকল্পনা দ্বারাপ্রভাবিত রায়তের জোতের ক্ষেত্রে বকেয়া খাজনা হিসাবে সরকারকর্তৃকউদ্ধারযোগ্য হইবে ।

ধারা-১৩৩(বকেয়া সরকারী দাবী হিসাবে ক্ষতিপূরণ আদায়)

১২৫ ধারা অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত পরিকল্পনার ক্ষতিপূরণ হিসাবে বর্ণিত কোনঅর্থ বকেয়া সরকারী দাবি হিসাবে আদায় করা যাইবে ।

ধারা-১৩৪(দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ার বাধা)

এই অধ্যায়েবর্ণিত রায়তেদর জোতের একত্রীকরণ সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে কোনো আবেদন বা মামলা কোনো দেওয়ানীআদালত গ্রহণ করিবে না ।

ধারা-১৩৪(দিনাজপুর জেলার জন্য বিশেষ বিধান)

এইঅধ্যায়ের উপরে উল্লিখিত ধারাগুলিতে যাহাকিছুই থাকুক না কেন? জোতের একত্রীকরণেরপরিকল্পনা এই অধ্যায়ের বিধানাবলীঅনুযায়ী দিনাজপুর জেলার দেবীগঞ্জ ও বোদা থানাএলাকায় কার্যকরী হইয়া থাকিলেউহা প্রথম হইতে বাতিল বলিয়া ধরিয়া লওয়া হইবেএকত্রীকরণের অব্যবহিত পূর্বেপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত জমিতে প্রজাদের বিদ্যমানঅধিকার ও স্বার্থ এমনস্বাভাবিক অবস্থায় বিদ্যমান থাকিবে যেন কখনই একত্রীকরণ করা হয়নাই ।

ধারা-১৩৫(খাজনার কিস্তি)

 উপধারা-(১)চুক্তিঅথবাপ্রতিষ্ঠিত রীতিসাপেক্ষে কোন রায়ত কর্তৃক পরিশোধনীয় খাজনা দুই সমানকিস্তিতেনির্ধারিত তারিখে দেয়, হিসাবে পরিশোধ করিতে হইব।

উপধারা-(২)চুক্তিসাপেক্ষে অকৃষি প্রজা কর্তৃক প্রদানযোগ্য খাজনাবার্ষিক এক কিস্তিতে কৃষি বত্ সরটির শেষ দিনে পরিশোধ করিতে হইবে ।

ধারা-১৩৬(খাজনা প্রদানের সময় ও স্থান)

উপধারা-(১)প্রত্যেক রায়তপ্রতি কিস্তির খাজনা প্রদান করিবে বা যাচনা করিবে ও প্রত্যেকঅকৃষি প্রজাযেদিন খাজনা প্রদানের জন্য নির্ধারিত থাকে সেই দিন সূর্যাস্তের পূর্বেউহাপ্রদান করিবে।

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো রায়ত অথবা কৃষিখাজনা প্রদানের জন্যনির্ধারিত সময়ের আগে যে কোনো সময় ঐ বত্সরেরজন্য দেয়খাজনা প্রদান বা যাচনা করিতেপারিবেন ।

উপধারা-(২)খাজনা প্রদান বা যাচনা করা যাইবে-

(ক) গ্রাম্য তহশীল অফিসে অথবা এতদ্ উদ্দেশ্যে কালেক্টর কর্তৃকনির্ধারিত সুবিধাজনক স্থানে, বা

(খ) নির্ধারিত নিয়মে ডাক মানি অর্ডার যোগে;

উপধারা-(৩)যে ক্ষেত্রেনির্ধারিত নিয়মে ডাক মানি অর্ডারযোগেখাজনা প্রেরণ করা হয় সেক্ষেত্রে বিপরীতকিছু প্রমাণনা হওয়া পর্যন্ত অনুমান করা হইবে যে উহা যাচনা করা হইয়াছে ।

উপধারা-(৪)যেক্ষেত্রে ডাকমানি অর্ডারযোগে প্রেরিত খাজনার অর্থগ্রহণ করা হয় সেক্ষেত্রে এই গ্রহণেরঘটনাকে ডাক মানি অর্ডার ফরমে উল্লিখিতবিবরণাদির শুদ্ধতা স্বীকারের সাক্ষ্যহিসাবে ব্যবহার করা করা চলিবে না ।

উপধারা-(৫)যদি কোনো খাজনাবা উহার কোনো কিস্তির বা কিস্তির অংশপরিশোধযোগ্য হইলে বা তত্পূর্বেপ্রদান করা না হইলে উহা বকেয়া খাজনা হিসাবে গণ্য করাহইবে ।

ধারা-১৩৭(খাজনা পরিশোধ বন্টন)

যেক্ষেত্রে একজন রায়তবা অকৃষি রায়ত খাজনাবাবদ কোনো অর্থ প্রদান করে সেক্ষেত্রে উহা দ্বারাআপাতত বলবত্‍ আইনে তামাদিহয় নাই এমন কোনো বকেয়া, যদি থাকে, মিটানো হইবেএবং বকেয়া মিটাইবার পরকোনোঅতিরিক্ত অর্থ থাকিলে বা কোনো বকেয়া না থাকিলে সম্পূর্ণ অর্থচলতিবত্সরেরখাজনার জন্য পরিশোধিত হইবে ।

ধারা-১৩৮(খাজনা প্রদান করিলে রায়ত রসিদ পাওয়ার অধিকারী)

প্রত্যেক রায়ত অথবা অকৃষি প্রজা কালেক্টরকর্তৃক লিখিতভাবে ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরনিকট হইতে নির্ধারিত ফরমে একটি লিখিতরসিদ পাইবার অধিকারী হইবে যাহা উক্তভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক স্বাক্ষরিতহইবে ।

ধারা-১৩৯(বকেয়ার দায়ে জোত বিক্রয়)

কোনো রায়তের জোত বাকোনো অকৃষি প্রজারপ্রজাস্বত্ব উহার খাজনার দায়ে ১৯১৩ সালের সরকারী দাবী আদায় আইনমোতাবেকস্বাক্ষরকৃত কোনো সার্টিফিকেট জারীমূলে বিক্রয়যোগ্য হইবে এবং খাজনাইউহারউপর প্রথম চার্জ হইবে ।

ধারা-১৪০(বকেয়াসমূহের উপর সুদ)

কোনো খাজনা অথবা উহারকিস্তি দেয় হওয়ারতারিখ হইতে প্রদানের তারিখ পর্যন্ত বা ১৯১৩ সালের সরকারী দাবিআদায় আইনেরঅধীনে সার্টিফিকেট দায়েরের তারিখ পর্যন্ত, যাহা আগে ঘটে, সময়ের নিমিত্তঐরূপখাজনা অথবা কিস্তির টাকার উপর শতকরা ৬.২৫ টাকা হারে সাধারণ সুদ প্রদানকরিতেহইবে ।

ধারা-১৪১(১৯১৩ সালের সরকারী দাবী আদায় আইন মোতাবেক বকেয়াখাজনা আদায়)

সকল প্রকার বকেয়া খাজনা শুধুমাত্র ১৯১৩সালের সরকারী দাবি আদায়আইনের অধীনে সরকার এই বিষয়ে যে বিধি প্রণয়ন করিবেনউহার বিধানসাপেক্ষে আদায় করাযাইবে, অন্য প্রকার নহে।

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের অধীনেস্বাক্ষরিত বকেয়া খাজনাআদায়ের জন্য উক্ত সার্টিফিকেট দায়িককে গ্রেফতার এবংতাহাকে দেওয়ানী কায়াদ আটক করিয়াকার্যকরী করা যাইবে না।

ধারা১৪১ক (কতিপয় ক্ষেত্রে বিক্রয় বন্ধ করার জন্য আদালতেবন্ধকের দেনা হিসাবে অর্থ প্রদান)

যেক্ষেত্রে কোনো সহ-অংশীদার, প্রজার কোনোজোতবা প্রজাস্বত্বের স্বার্থ ১৯১৩ সালের সরকারী দাবী আদায় আইন মোতাবেকস্বাক্ষরিত দেয়দাবী আদায়ের সার্টিফিকেট জারীর উদ্দেশ্যে বিক্রয়ের জন্যবিজ্ঞাপিত হয় ইহাতে তাহারস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেক্ষেত্রে বিক্রয়কেবন্ধ করার জন্য যদি সে প্রয়োজনীয়অর্থ আদালতে প্রদান করে সেক্ষেত্রে-

(ক) তদকর্তৃক প্রদত্ত অর্থ শতকরাবার্ষিক সোয়া ৬ টাকা হারে সুদসহ দেনা হিসাবে গণ্য হইবে ও উক্ত জোত অথবাপ্রজাস্বত্ব তাহার নিকটবন্ধক দ্বারা নিশ্চয়তা প্রদান করা হইবে; ও

(খ) ঐ জমি অথবা প্রজাস্বতের উপর বকেয়া খাজনার দায় ছাড়া অপরকোনো দায়ের চেয়ে তাহার বন্ধক অগ্রাধিকার পাইবে ।

(২) অত্র ধারার কোনো কিছুই উক্ত সহ-শরীকদারের অপর কোনোপ্রতিকারের অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না ।

ধারা-১৪২(তামাদি)

যে বত্সরের খাজনা বকেয়া পড়ে সেইবকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য তামাদি মেয়াদ সেই বত্সরের শেষ দিন হইতে তিন বত্সর কালহইবে ।

ধারা-১৪৩(খতিয়ান সংরক্ষণ)

কালেক্টর অত্র আইনের ৪র্থখণ্ড অথবা এই খণ্ডঅনুযায়ী প্রস্তুতকৃত অথবা পুনঃপরীক্ষিত খতিয়ান নির্ধারিত পদ্ধতিতেসংরক্ষণকরিবেন, প্রকৃত ভুল শুদ্ধ করিয়া ও উহাতে নিম্নলিখিত হেতুতেপরিবর্তনগুলিঅন্তর্ভুক্ত করিবেন-

(ক)হস্তান্তর অথবা উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে নামজারী;

(খ)জোত ক্ষুদ্রতর অংশ ভাগকরণ, একত্রীকরণ বা সংযুক্তকরণ;

(গ)সরকার কর্তৃক ক্রয় করা ভূমি অথবা জোতের নূতন বন্দোবস্ত; এবং

(ঘ)ভূমি পরিত্যাগ অথবা সিকস্তি অথবা অধিগ্রহণজনিত কারণে খাজনামওকুফ ।

ধারা-১৪৪(খতিয়ানসমূহ সংশোধন)

উপধারা-(১)সরকার যদিকোনোক্ষেত্রে উপযুক্ত মনে করেন তবে সরকার কোনো জেলা, জেলার অংশ অথবাস্থানীয় এলাকারস্বত্বলিপি সরকার কর্তৃক প্রণীত অনুযায়ী রাজস্ব অফিসারকর্তৃক প্রণয়ন অথবাপুনঃপরীক্ষণ করিবার নির্দেশ প্রদান করিয়া আদেশ দিতেপারেন ।

উপধারা-(২)সাধারণভাবেউপরোল্লিখিত ক্ষমতার ক্ষতিসাধন না করিয়া সরকারবিশেষভাবে নিম্নলিখিতবিষয়গুলির যে কোনটি সম্বন্ধে আদেশ দান করিতে পারেন, যথা-

(ক)যেক্ষেত্রে মোট প্রজাগণের অর্ধেকের কম নহে ঐরূপ আদেশপ্রদানের নিমিত্ত দরখাস্ত করিয়াছে;

(খ)যেক্ষেত্রে প্রজাগণের মধ্যে বিরাজমান অথবা উত্থিত হইতেপারে এমন সাংঘাতিক ধরনের বিবাদ মীমাংসার জন্য ; এবং

(গ)যেক্ষেত্রে কোনো জেলা অথবা জেলার অংশ অথবা স্থানীয় এলাকারখাজনা নির্ধারণ করা পর্যায়ে আছে ।

উপধারা-(৩)(১) উপধারায়প্রদত্ত কোনো আদেশ সরকারী বিজ্ঞপ্তিতেপ্রকাশিত হইলে বিজ্ঞপ্তিটি উক্ত আদেশযথাযথভাবে প্রদানের চূড়ান্ত সাক্ষ্য হিসাবেগণ্য হইবে ।

উপধারা-(৪)যেক্ষেত্রে ১উপধারায় কোনো আদেশ প্রদান করা হয় সেক্ষেত্রেরাজস্ব অফিসার উক্ত আদেশমোতাবেক প্রণয়নকৃত অথবা পুনঃপরীক্ষিত খতিয়ানে ঐ সকলবিবরণসমূহ রেকর্ড করিবেনযেইগুলি নিরূপণ করা হইবে ।

উপধারা-(৪ক)(অ)অত্রআইনের অন্যত্র যাহা কিছু বলা থাকুক না কেন, রাজস্ব অফিসার নিম্নলিখিতক্ষেত্রে ভূমির খাজনা নির্ধারণ অথবা পুনঃনির্ধারণকরিবেন। যথা :

(ক)যেক্ষেত্রেরায়ত অথবা অকৃষি প্রজা কর্তৃক অধিকৃত ভূমিরখাজনা ৪র্থ অধ্যায় অথবা ৯৮ (ক)ধারার অধীন নির্ধারণ করা হয় নাই অথবা ১০৭ ধারামোতাবেক উক্ত ভূমি সম্বন্ধীয়খাজনার ব্যবস্থা করা হয় নাই, অথবা

(খ)যেক্ষেত্রেক অনুচ্ছেদে উল্লেখিত শর্ত মোতাবেক কোনো ভূমিরখাজনা কৃষি ভূমি হিসাবেনির্ধারণ করা হয় ও পরবর্তীতে উক্ত ভূমি অকৃষি উদ্দেশ্যেব্যবহার করা হয় বাভাইস ভার্সা । রাজস্ব অফিসার এই ধারা মোতাবেক কোনো খাজনা নির্ধারণওপুনঃনির্ধারণের বেলায় ২৬ ধারায় উল্লেখিত নীতিসমূহ বিবেচনা করিবেন ।

(আ)যেক্ষেত্রেকোনো জোতের অংশ অকৃষি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার৯৮(ক) ধারার ৩ উপধারায় উল্লেখিত নীতিসমূহ মোতাবেক ব্যবস্থানিবেন ।

উপধারা-(৫)যেক্ষেত্রে (৪)উপধারায় উল্লেখিত বিবরণসমূহ ধারণ অথবাঅন্তর্ভূক্তির জন্য খতিয়ান প্রণয়নঅথবা পুনঃপরীক্ষণ করা হয় এবং (৪ক) উপধারা মোতাবেকখাজনা নির্ধারণ অথবাপুনঃনির্ধারণ করা হয় সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার নির্ধারণ নিয়মেপ্রণয়নকৃতঅথবা পুনঃপরীক্ষিত স্বত্বলিপির খসড়া নির্ধারিত সময়ের জন্য প্রকাশ করিবেনএবংউক্ত প্রকাশের সময় কোন কিছু অন্তর্ভুক্ত হওয়া অথবা বাদ পড়া সম্বন্ধেআপত্তিসমূহগ্রহণ ও বিবেচনা করিবেন ।

উপধারা-(৬)(৫) উপধারামোতাবেক দায়েরকৃত আপত্তির উপর রাজস্ব অফিসারকর্তৃক প্রদত্ত আদেশের দ্বারাক্ষুদ্ধ কোনো ব্যক্তি সরকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের পদমর্যাদার নীচে নয়এইরূপ নির্ধারিত রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট নির্ধারিত সময়সীমার ভিতরআপিল দায়েরকরিতে পারেন ।

উপধারা-(৭)যখন ঐরূপ সমস্তআপত্তি এবং আপিলের বিবেচনা ও নিষ্পত্তি এইউদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রণীতবিধিমালা মোতাবেক সম্পন্ন হয় তখন রাজস্ব অফিসারচূড়ান্তভাবে রেকর্ড প্রণয়নকরিবেন এবং নির্ধারিত নিয়মে উহা চূড়ান্তভাবে প্রকাশেরব্যবস্থা এবং এই ধারামোতাবেক রেকর্ড সঠিকভাবে প্রণয়ন এবং পুনঃপরীক্ষণ করা হইয়াছেমর্মে উক্তপ্রকাশ চূড়ান্ত সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে ।

উপধারা-(৮)যেক্ষেত্রে একটিখতিয়ান (৭) উপধারায় চূড়ান্তভাবে প্রকাশিতহইয়াছে সেইক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যেরাজস্ব অফিসার ল্যাণ্ড রেকর্ডস-এর ডাইরেক্টরকর্তৃক নির্ধারিত সময়ের ভিতর ঐচূড়ান্ত প্রকাশ এবং উহার তারিখের বিষয় উল্লেখ করিয়াএকটি সার্টিফিকেট দিবেনএবং উহাতে তাহার নাম অফিসের পদবীসহ স্বাক্ষর ও তারিখ দিবেন ।

ধারা-১৪৪-ক (স্বত্বলিপির বিশুদ্ধতার অনুমান)

১৪৪ ধারারবিধান অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত বাপরিমার্জনকৃত প্রতিটি স্বত্বলিপির লিখন উহাতে বর্ণিতবিষয়ের এইরূপ লিখনেসাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে এবং অশুদ্ধ বলিয়া সাক্ষ্য দ্বারাপ্রমাণিত না হওয়াপর্যন্ত শুদ্ধ বলিয়া অনুমান করিতে হইবে ।

ধারা-১৪৪-খ(দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ারে বিধি-নিষেধ)

উপধারা-(১)যখন ১৪৪ ধারার(১) উপধারার বিধান অনুযায়ী কোনো এলাকার স্বত্বলিপি প্রস্তুতকরণেরবাপরিমার্জনের নির্দেশ দিয়া আদেশ দেওয়া হয়, তখন ১১১ ধারার বিধানসাপেক্ষে, কোনো দেওয়ানীআদালত খাজনা পরিবর্তনের বা কোনো প্রজাস্বত্বের বিষয়ে প্রজারমর্যাদা নির্ধারণের জন্যকোনো মামলা বা আবেদন গ্রহণ করিবেন না এবং এইরূপআদেশের পর যদি এইরূপ এলাকার এইরূপকোনো মামলা বা আবেদন বিচারাধীন থাকে, তাহা আর চলিবে না এবং বাতিল হইবে এবং উক্ততারিখের পরে কোনো মামলায় কোনোরায়, ডিক্রি বা আদেশ দেওয়া হয় বা আবেদনের কোনো আদেশ দেওয়াহয় তাহাঅকার্যকরী হইবে এবং কোনো বৈধ ফল হইবে না ।

উপধারা-(২)এই অধ্যায়অনুযায়ী স্বত্বলিপি প্রস্তুত ও পরিমার্জনের কোনোনির্দেশ দিয়া আদেশ দেওয়াহইলে বা এইরূপ স্বত্বলিপি বা উহার অংশবিশেষ প্রস্তুতকরণ, প্রকাশন, স্বাক্ষরকরণ বা তসদিককরণ সম্পর্কে দেওয়ানী আদালত কোনো মামলা বা আবেদনদাখিলকরা যাইবে না এবং যদি এইরূপ কোনো মামলা বা আবেদন দেওয়ানী আদালতেবিচারাধীন থাকে তাহাআর চলিবে না তাহা বাতিল হইবে এবং যদি এইরূপ কোনোমামলায় কোনো রায়, ডিক্রি বা আদেশদেওয়া হয় অথবা এইরূপ আবেদনের কোনো আদেশদেওয়া হয় তাহা অকার্যকরী হইবে এবং কোনো বৈধ ফলহইবে না ।

ধারা-১৪৫(স্বত্বলিপি পরিমার্জন খরচ আদায়)

উপধারা-(১)যেখানেএইঅধ্যায়ের অধীনে কোনো জেলা, জেলার অংশবিশেষ বা স্থানীয় এলাকায়স্বত্বলিপিপ্রস্তুতকরণের ও পরিমার্জনের নির্দেশ দেওয়া হইয়া থাকে, এইরূপপ্রস্তুতকরণ ওপরিমার্জনের জন্য যাহা খরচ হইবে তাহা রায়তের এবং ভূমিরঅন্যান্য দখলকারীদের নিকটহইতে যদি থাকে এইরূপ অংশ কিস্তিতে আদায় করা হইবে, যাহা সরকার সার্বিক পরিস্থিতিবিবেচনায় নির্ধারণ করিতে পারেন ।

তবে শর্ত থাকে যে, চতুর্দশ অধ্যায়ের বিধানঅনুযায়ী এইরূপরায়তের যথাযথ ও ন্যায়সংগত খাজনা নির্ধারণের লক্ষ্যে যেখানে১৪৪ ধারার (২) উপধারার(গ) দফা অনুযায়ী স্বত্বলিপি প্রস্তুতকরণের ওপরিমার্জনের ব্যবস্থা লওয়া হইয়াছেসেখানে খরচের কোনো অংশই রায়তেদর বাদখলকারদের নিকট হইতে আদায় করা যাইবে না ।

উপধারা-(২)(১) উপধারাঅনুযায়ী খরচের যে অংশ যাহা কোনো ব্যক্তির দিতেহইবে তাহা উক্ত জেলা, জেলারঅংশ বিশেষ বা স্থানীয় এলাকার মধ্যে অবস্থিত উক্তব্যক্তির জোতের বকেয়া খাজনাবা অন্য হিসাবে যাহাই হউক, সরকার আদায় করিতে পারিবেন ।

ধারা-১৪৬ (রাজস্ব কর্মকর্তাদের উপর তদারক ও নিয়ন্ত্রণ)

উপধারা-(১)রাজস্বকর্মকর্তাদের উপর সাধারণ তদারক ও নিয়ন্ত্রণ ভূমি প্রশাসন বোর্ডের উপরন্যস্তথাকিবে এবং ঐ সকল কর্মকর্তা ভূমি প্রশাসন বোর্ডের অধীন থাকিবে ।

উপধারা-(২)(১) উপধারার বিধানসাপেক্ষে বিভাগীয় কমিশনার তাহার বিভাগেরঅন্যান্য রাজস্ব কর্মকর্তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখিবেন ।

উপধারা-(৩)উপরোল্লিখিতবিধান এবং বিভাগের কমিশনারেরনিয়ন্ত্রণসাপেক্ষে কালেক্টর তাহার জেলারঅন্যান্য সকল রাজস্ব কর্মকর্তাদের উপরনিয়ন্ত্রণ রাখিবেন ।

ধারা-১৪৭ (আপিল)

এই অংশ বা এই অংশের আইন অনুযায়ীপ্রণীতবিধিমালাতে আপিলের বিশেষ বিধানসাপেক্ষে রাজস্ব কর্মকর্তা কর্তৃক এইঅংশের বিধানঅনুযায়ী প্রত্যেক মূল বা আপিল আদেশের বিরুদ্ধে নিম্নলিখিতভাবেআপিল করা যাইবে যথা:

(ক) কালেক্টর নিকট, যখন কালেক্টরের অধীনস্থ রাজস্ব কর্মকর্তাকর্তৃক আদেশ প্রদান করা হয়;

(কক) বিভাগীয় কমিশনারের নিকট, যখন বিভাগের মধ্যে জেলারকালেক্টর কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হয়;

(খ) ১৯৭৩ সালের পি, ও ১২ দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে ।

(গ) ভূমি প্রশাসন বোর্ডের নিকট, যখন বিভাগের কমিশনার কর্তৃকআদেশ প্রদান করা হয় ।

ধারা-১৪৮(আপিলের জন্য তামাদি)

১৪৭ ধারা অনুযায়ীআপিলের জন্য তামাদিরসময়সীমা যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল জানানো হয় সেই আদেশের তারিখহইতে চলিতেথাকিবে এবং উহা নিম্নরূপ হইবেঅর্থাত্‍-

(ক) কালেক্টরের নিকট আপিল-৩০ দিন

(খ) বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপিল-৬০ দিন

(গ) ভূমি প্রশাসন বোর্ডের নিকট আপিল-৯০ দিন।

ধারা-১৪৯(রিভিশন)

উপধারা-(১)এই অংশের আওতায়রিভিশনের বিশেষবিধান সাপেক্ষে, কালেক্টর তাহার নিজ উদ্যোগে তাহারাইঅধীনস্থ একজন রাজস্ব কর্মকর্তাকর্তৃক এই অংশের অধীনে প্রদত্ত কোনো আদেশেরতারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে বা এইরূপআদেশের তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যেদাখিলকৃত কোনো আবেদনের ভিত্তিতে এইরূপ আদেশপরিমার্জন করিতে পারিবেন ।

(১ক) একজন বিভাগীয় কমিশনার তাহার নিজউদ্যোগে তাহার বিভাগেরমধ্যকার কোনো জেলার কালেক্টর কর্তৃক এই অংশের অধীনেপ্রদত্ত কোনো আদেশের তারিখ হইতেতিন মাসের মধ্যে অথবা এইরূপ আদেশের তারিখহইতে তিন মাসের মধ্যে দাখিলকৃত কোনোআবেদনের ভিত্তিতে এইরূপ আদেশ পরিমার্জনকরিতে পারিবেন ।

উপধারা-(২)১৯৭২ সালের ১২ নং পি, ও, দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে ।

উপধারা-(৩)ভূমি প্রশাসনবোর্ড উহার নিজ উদ্যোগে এই অংশের অধীনে কোনোবিভাগীয় কমিশনার কর্তৃকপ্রদত্ত আদেশের তারিখ হইতে ছয় মাসের মধ্যে অথবা এইরূপআদেশের তারিখ হইতে ছয়মাসের মধ্যে দাখিলকৃত কোনোআবেদনের ভিত্তিতে এইরূপ আদেশপরিমার্জন করিতেপারেন ।

উপধারা-(৪)ভূমি প্রশাসনবোর্ড যে কোনো সময় এই অংশের অধীনে সংরক্ষিতস্বত্বলিপির লিখন অথবা এই অংশেরঅধীনে প্রস্তুতকৃত এবং চূড়ান্তভাবে প্রকাশিতসেটেলমেন্ট রেষ্ট রোলে যথার্থভুল রহিয়াছে বলিয়া সন্তুষ্ট হইলে সংশোধনের আদেশ দিতেপারিবেন ।

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হইয়া থাকিলেএই ধারার অধীনে আদেশের পরিমার্জন করা যাইবে না ।

আরও শর্ত থাকে যে, আপিলের সংশ্লিষ্টপক্ষবৃন্দকেবিষয়টির উপর শুনানীর জন্য যুক্তিসংগত নোটিশ প্রদান না করিয়া (৪)উপধারার অধীনে কোনোসংশোধনীর আদেশ দেওয়া যাইবে না ।

ধারা-১৫০(রাজস্ব কর্মকর্তা কর্তৃক রিভিউ)

উপধারা-(৪)একজন রাজস্বকর্মকর্তা যে কোনো স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষের আবেদনক্রমে অথবাস্ব-উদ্যোগেতাহার নিজের প্রদত্ত অথবা তাহার পূর্ববর্তী কর্মকর্তা কর্তৃক এই আইনেরএইঅংশের অধীনে পেশকৃত যে কোনো আদেশ রিভিউ করিতে পারেন এবং এইরূপ কোনো আদেশরিভিউকরিতে গিয়া এইরূপ আদেশকে পরিবর্তন, খণ্ডন বা বহাল রাখিতে পারেন।

তবে শর্ত থাকে যে, (ক)এইরূপআদেশের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনেরমধ্যে একটি আদেশের রিভিউর জন্য আবেদন করা নাহইলে অথবা যখন এইরূপ আবেদন ত্রিশ দিনঅতিবাহিত হইবার পর দাখিল করা হয় তখনউক্ত সময়ের মধ্যে আবেদন না করার যথেষ্ট কারণছিল রাজস্ব কর্মকর্তাকেআবেদনকারী সন্তুষ্ট না করিতে পারিলে গ্রহণ করা যাইবে না;

(খ)যদিএইরূপ আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা হইয়া থাকে অথবাউর্ধ্বতন রাজস্বকর্তৃপক্ষের নিকট এইরূপ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশনের আবেদন করা হইয়াথাকে, তাহাহইলে আদেশ রিভিউ গ্রহণ করা যাইবে না; এবং

(গ)উক্তবিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষদেরকে শুনানী করার জন্য হাজিরহইবার জন্য যুক্তিসংগতনোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত রিভিউতে একটি আদেশ সংশোধন বাপরিবর্তন করা যাইবে না ।

উপধারা-(২)রিভিউএর আবেদন নাকচ করিয়া অথবা রিভিউতে পূর্ববর্তী কোনোআদেশ বহাল রাখিয়া আদেশ দেওয়া হইলে তার বিরুদ্ধ কোনো আপিল চলিবে না ।

ধারা-১৫১(এই আইন অনুযায়ী আপিল, রিভিশন ও রিভিউ-এর আবেদনেরজন্য তামাদির সময়সীমা গণনা)

উপধারা-(১)১৯০৮ সালেরতামাদি আইনের (১৯০৮ সালের ৯ নং আইন)৬, ৭, ৮ এবং ৯ ধারা ২৯ ধারার (২)উপধারা, পঞ্চম অংশ অনুযায়ী আনীত সকল মামলা, আপিলএবং আবেদনের ক্ষেত্রেপ্রযোজ্য হইবে না এবং এই আইনের বিধানসাপেক্ষে পূর্ববর্তীআইনের অবশিষ্টবিধানাবলী উক্ত অংশ অনুযায়ী আনীত সকল মামলা আপিল ও আবেদনেরক্ষেত্রেপ্রযোজ্য হইবে ।

উপধারা-(২)পঞ্চম অংশেবর্ণিত সকল মামলা, আপিল ও আবেদন নির্ধারিতসময়ের মধ্যে দায়ের করিতে হইবে, তামাদির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়ের না হইলে ঐরূপদায়েরকৃত মামলা আপিল ওআবেদন খারিজ হইয়া যাইবে যদিও তামাদির বিষয় ওজর করা হয় নাই ।

ধারা-১৫১ক(কতিপয় জমির ক্ষেত্রে খাজনা মওকুফ)

উপধারা-(১)এইআইনেরঅন্যত্র যাহা কিছু বলা থাকুক না কেন, যেখানে মালিক বা অকৃষি প্রজাএমন জমি অধিকারেরাখে যাহা প্রথমত গণপ্রার্থনা বা ধর্মীয় পূজা, গণ-কবর বাশ্নশানের স্থানহিসাবে ব্যবহৃত হয়, সেখানে ঐ জমির খাজনা মওকুফের জন্য সেনির্ধারিত ফরমে জেলাপ্রশাসকের নিকট আবেদন জানাইতে পারে ।

উপধারা-(২)এইরূপআবেদন প্রাপ্তির তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে জেলাপ্রশাসক যাহা যথাযথ মনেকরিবেন এরূপ অনুসন্ধান করার পর নিশ্চয়তা বিধান করিবেন যেআবেদনে বর্ণিত জমিউল্লিখিত ব্যবহৃত হয় কিনা ।

উপধারা-(৩)যদিজেলা প্রশাসক সন্তুষ্ট হন যে, আবেদনে বর্ণিত জমিউল্লিখিত উদ্দেশ্যেব্যবহৃত হয়, তাহা হইলে তিনি নির্ধারিত পদ্ধতিতে ঐ ব্যবহৃত জমিরএলাকানির্ধারণ করিবেন এবং ঐ এলাকার খাজনা মওকুফ করিয়া দিয়া একটি আদেশপ্রদানকরিবেন এবং যদি জেলা প্রশাসক সন্তুষ্ট না হন, তাহা হইলে ঐ আবেদনপ্রত্যাখ্যান করিয়াএকটি আদেশ প্রদান করিবেন ।

উপধারা-(৪)যদি(৩) উপধারা অনুযায়ী নির্ধারিত এলাকা জোত বাপ্রজাস্বত্ব অংশবিশেষ হয়, তাহাহইলে জেলা প্রশাসক এই এলাকাকে অবশিষ্ট জোত বাপ্রজাস্বত্ব হইতে পৃথক করিবেনএবং ঐ এলাকার জন্য নিষ্কর প্রজাস্বত্ব সৃষ্টি করিবেন ।

উপধারা-(৫)যেখানে(৪) উপধারা অনুযায়ী পৃথক নিষ্কর প্রজাস্বত্বেরসৃষ্টি হয়, সেখানে জেলাপ্রশাসক জোত বা প্রজাস্বত্ব যাহা হইতে নিষ্কর প্রজাস্বত্বেরসৃষ্টি হইয়াছে, তাহার প্রদানযোগ্য খাজনা ঐ নিষ্কর প্রজাস্বত্বের এলাকার অনুপাতেহ্রাসকরিবেন ।

উপধারা-(৬)(৩)উপধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের আদেশ দ্বারাক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ঐ আদেশেরতারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে বিভাগীয় কশিনারের নিকটআপীল করিতে পারেন।

উপধারা-(৬ক)(৬)উপধারা অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনারের আদেশ দ্বারাক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি উক্তআদেশের তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে এইরূপ আদেশের বিরুদ্ধেভূমি প্রশাসনবোর্ডের নিকট রিভিশনের জন্য আবেদন করিতে পারিবে ।

উপধারা-(৭)১৯৭৩ সালের ১২ নং পি, ও দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে ।

উপধারা-(৮)ভূমিপ্রশাসন বোর্ড যে কোনো সময় স্ব-উদ্যোগে বিভাগীয়কমিশনার বা জেলা প্রশাসককর্তৃক এই ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত আদেশ পরিমার্জিত করিতেপারিবেন ।

উপধারা-(৯)এই ধারা অনুযায়ী খাজনা প্রদান করা হইতে অব্যাহতির আদেশ, এইরূপ আদেশের পরবর্তী কৃষি বত্সরের শুরু হইতে কার্যকরী হইবে ।

ধারা-১৫১খ(১৫১ ধারা মোতাবেক খাজনা মওকুফবিশিষ্ট জমিরখাজনা পুনঃনির্ধারণ)

উপধারা-(১)যেক্ষেত্রে১৫১ক ধারা মোতাবেক যে সমস্ত উদ্দেশ্যেব্যবহার করিবার নিমিত্ত কোনো জমিরখাজনা মওকুফ করা হইয়াছিল উহা যদি সেই সমস্তউদ্দেশ্যে ব্যবহার না করা হয়সেক্ষেত্রে ঐ ভূমির খাজনা পুনঃনির্ধারণের ক্ষমতা জেলাপ্রশাসকের থাকিবে এবংএকই গ্রামের বা সংলগ্ন গ্রামের অনুরূপ বর্ণনা ও সুবিধাসম্বলিত ভূমির জন্যসাধারণভাবে প্রদেয় খাজনার হার বিবেচনা করিয়া তিনি যাহা ন্যায্যও ন্যায়সঙ্গতমনে করিবেন সেইরূপভাবে উহা নির্ধারণ করিবেন ।

শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে উপস্থিতহওয়ার এবং উক্তবিষয়ে শুনানীর নিমিত্ত ১৫ দিনের কম নহে নোটিশ প্রদান নাকরিয়া উহা পুনঃনির্ধারণ করাচলিবে না ।

উপধারা-(১)উপধারামোতাবেক জেলা প্রশাসকের আদেশ কর্তৃক ক্ষুব্ধব্যক্তি উক্ত আদেশ প্রদানেরতারিখ হইতে ৩০ দিনের ভিতর (বিভাগীয় কমিশনারের) কাছেআপিল দায়ের করিতে পারে ।

উপধারা-২ক(২) উপধারামোতাবেক বিভাগীয় কমিশনারের আদেশ কর্তৃকক্ষুব্ধ ব্যক্তি উক্ত আদেশ প্রদানের৬০ দিনের ভিতর উক্ত আদেশ রিভিশন করার জন্য ভূমিপ্রশাসন বোর্ডের কাছেদরখাস্ত দাখিল করিতে পারে এবং বোর্ডের আদেশ চূড়ান্ত হইবে ।

উপধারা-(৩)১৯৭৩ সনের ১২ নং পি, ও দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে ।

উপধার-(৪)-ঐ পুনঃনির্ধারিত খাজনা এই ধারা মোতাবেক পুনঃনির্ধারণেরতারিখের পরের কৃষি বত্সরের প্রথম হইতে কার্যকর হইবে ।

ধারা-১৫১গ (কতিপয় ক্ষেত্রে কৃষি জমি সম্পর্কিত রাজস্বমওকুফ)

এই আইনের অন্যত্র ভিন্ন কিছু থাকা সত্ত্বেওএবং এই অধ্যায়েরশর্তসাপেক্ষে, যেখানে যে কোনো পরিবার কর্তৃক বাংলাদেশেঅধিকৃত মোট কৃষি জমির পরিমাণপচিঁশ বিঘা অতিক্রম করিবে না সেখানে উক্তপরিবার ১৩৭৯ বাংলা সালের পহেলা বিঘাঅতিক্রম করিবে না সেখানে উক্ত পরিবার১৩৭৯ বাংলা সালের পহেলা বৈশাখ হইতে অথবা১৫১-ঝধারা অনুযায়ী উহা যে তারিখহইতে মওকুফের অধিকারী হইবে সেই তারিখ হইতে যাহাযেখানে প্রযোজ্য হয়, উক্তজমি সম্পর্কিত ভূমি রাজস্ব প্রদান হইতে অব্যাহিত পাইবে।

তবে শর্ত থাকে যে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরতারিখে যে পরিবারেরঅধিকৃত জমির পরিমাণ পঁচিশ বিঘা অতিক্রম করিয়াছিল, সেপরিবার ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরহইতে ১৫১ ঘ ধারা অনুযায়ী বিবরণী দাখিলের শেষতারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হস্তান্তরেরকারণে মোট জমির পরিমাণ হ্রাসপ্রাপ্তহইয়া পঁচিশ বিঘা বা তাহার কম হওয়ার ফলে ভূমিরাজস্ব মওকুফ পাওয়ার দাবিরঅধিকারী হইবে না।

আরও শর্ত থাকে যে, এই ধারা অথবা ১৫১ঝ ধারাঅনুযায়ী ভূমিরাজস্ব মওকুফ কোনো ব্যক্তিকে ১৯৫৮ সালের অর্থ (তৃতীয়অধ্যাদেশ)। (১৯৫৮ সালের ৮২নং ই, পি, অধ্যাদেশ) অনুযায়ী অতিরিক্ত উন্নয়ন এবংরিলিফ কর, ১৯৩০ সালের বঙ্গীয় (গ্রামাঞ্চল)প্রাথমিক শিক্ষা আইন (১৯৩০ সালের৭ নং বঙ্গীয় আইন) অনুযায়ী সেসকর ১৯৫৯ মৌলিকগণতন্ত্র আদেশের (১৯৫৯ সালের ৮নং পি, ও,) অধীনে স্থানীয় রেটস, যাহা ভূমি রাজস্বেরউপর ভিত্তি করিয়া গড়িয়াউঠে এবং সাময়িকভাবে বলবতকৃত অন্য কোনো আইন অনুযায়ীপ্রদানযোগ্য অন্য কোনোখাজনা, কর, সেস কর প্রদান করা হইতে অব্যাহতি পাইবে না ।

ধারা১৫১ঘ (পঁচিশ বিঘার অতিরিক্ত কৃষি জমির অধিকারী পরিবারপ্রধান কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে বিবরণী দাখিল)-১৯৭৩সালের ৩১শে জানুয়ারীর মধ্যে, সকল পরিবারের প্রধানগণ, যাহারা হয়ব্যক্তিগতভাবে অথবা যাহাদের পরিবারের অন্যান্যসদস্যদের সাথে বাংলাদেশেপঁচিশ বিঘার উর্ধ্বে কৃষি জমি ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরতারিখে অথবা বিবরণীদাখিলের তারিখে অধিকারে রাখিত বা রাখে, তাহারা নির্ধারিত ফরমে ওপদ্ধতিতে ঐসকল জমির একটি বিবরণী রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট দাখিল করিবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার সকল ক্ষেত্রে বিশেষবিশেষ ক্ষেত্রে, কোনো শ্রেণীর ক্ষেত্রে বা কোনো এলাকার ক্ষেত্রে বিবরণীদাখিলের সময়সীমা যাহা যথাযথ মনেকরিবেন ততদিন বর্ধিত করিতে পারিবে ।

ধারা-১৫১ঙ (বিবরণী দাখিল না করা বা ইচ্ছামূলক জমি গোপনকরার জন্য শাস্তি)

কোনো পরিবারের প্রধান যে বিবেচনা সংগত কারণব্যতীত, নির্ধারিতসময়ের মধ্যে ১৫১-ঘ ধারা অনুযায়ী দাখিল করিতে ব্যর্থ হয়বা ঐ ধারা অনুযায়ী তদকর্তৃকদাখিলকৃত বিবরণীতে ইচ্ছামূলকভাবে কোনো কিছু বাদদেয়া বা অসত্য ঘোষণা প্রদান করে, সেএক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার দায়েদায়ী হইবে এবং যে জমির জন্য কোনো বিবরণী করা হয়নাই বা বিবরণী থেকে বাদদেওয়া হইয়াছে বা যাহার সম্পর্কে অসত্য ঘোষণা করা হইয়াছে ঐজমি বাজেয়াপ্তহইয়া সরকারের উপর ন্যস্ত হইবে।

তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে বিবরণী দাখিলেরব্যর্থতা বা বিবরণীতেকোনো জমি বাদ বা অসত্য ঘোষণা এমন জমি সম্পর্কে ঘটেযাহা ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাতাহার পরে ঐ পরিবারের কোনো সদস্য কর্তৃকহস্তান্তরিত হইয়াছে সেই জমি বাজেয়াপ্ত হইবেনা কিন্তু তাহার পরিবর্তে ঐপরিবারের সদস্য বা সদস্যরা যে জমি দখলে রাখিয়াছে সেই জমিহইতে সমপরিমাণ জমিবাজেয়াপ্ত করা হইবে ।

ধারা ১৫১চ (কতিপয় ক্ষেত্রে মওকুফপ্রাপ্ত জোতের পুনঃনির্ধারণেরজন্য দায়)

যদি কোনো ব্যক্তি যে ১৫১গ ধারা অনুযায়ীভূমি রাজস্ব প্রদান হইতে নিষ্কৃতিপায় পরবর্তীকালে কোনো সময়ে উত্তরাধিকারসূত্রে ক্রয়, দান, হেবার দ্বারা বা অন্যকোনোভাবে কৃষি জমি অর্জন করে যাহাতত্কর্তৃক বা তাহার পরিবারের অন্যান্য সদস্যকর্তৃক ইতিপূর্বে অর্জিত মোটকৃষি জমির সংগে সংযুক্ত হইয়া সর্বমোট পঁচিশ বিঘারঅতিরিক্ত হয় তাহা হইলেতত্কর্তৃক বা তাহার পরিবারের সদস্য কর্তৃক অধিকৃত সর্বমোটকৃষিজমিনিম্নলিখিত তারিখ হইতে ভূমি রাজস্ব প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ হইবে; যথা:

(১) বাংলা বত্সরের পহেলা কার্তিকের পূর্বে অর্জনের ক্ষেত্রেঐ বত্সরের পহেলা কার্তিক হইতে কার্যকরী হইবে; এবং

(২) বাংলা বত্সরের পহেলা কার্তিক বা পহেলাকার্তিকের পরেঅর্জনের ক্ষেত্রে ঐ অর্জনের তারিখের পরবর্তী বাংলা বত্সরেরপ্রথম দিন হইতে কার্যকরীহইবে ।

ধারা-১৫১ছ (কতিপয় ক্ষেত্রে অর্জিত জমির জন্য পরিবারেরপ্রধান কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে বিবরণী দাখিল)

কোনো পরিবারের প্রধান যে অথবাযাহারপরিবারের কোনো সদস্য কৃষি জমি অর্জন করার ফলে পরিবার কর্তৃক অর্জিতকৃষিজমিরমোট পরিমাণ ১৫১চ ধারা অনুযায়ী ভূমি রাজস্ব প্রদানের জন্য দায়বদ্ধহয় ঐ অর্জনেরতারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে ও নির্ধারিতপদ্ধতিতে তত্কর্তৃক ওতাহার পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ কর্তৃক সকল কৃষি জমিরএকটি বিবরণী রাজস্বকর্মকর্তার নিকট দাখিল করিবেন ।

ধারা-১৫১জ (বিবরণী দাখিল না করা বা ইচ্ছামূলকভাবে জমি গোপনরাখার জন্য শাস্তি)

একজন পরিবারের প্রধান যে নির্ধারিত সময়েরমধ্যে ১৫১ছ ধারাঅনুযায়ী বিবরণী দাখিল করিতে ব্যর্থ হয় বা ঐ ধারা অনুযায়ীতত্কর্তৃক দাখিলকৃতবিবরণীতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু বাদ দেয় বা অসত্যঘোষণা প্রদান করে সে এক হাজার টাকাপর্যন্ত জরিমানার দায়ে দায়ী হইবে এবং যেজমির জন্য কোনো বিবরণী দাখিল করা হয় নাই বাযাহা বিবরণী হইতে বাদ দেওয়াহইয়াছে বা যাহার সম্পর্কে অসত্য ঘোষণা প্রদান করা হইয়াছেঐ জমি বাজেয়াপ্তহইয়া সরকারের উপর ন্যস্ত হইবে ।

ধারা১৫১ঝ (জমির পরিমাণে হ্রাসপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভূমিরাজস্ব প্রদান করা হইতে নিষ্কৃতি)

যেখানে কোনো পরিবার কর্তৃক ভূমিরাজস্বপ্রদানের জন্য দায়বদ্ধ মোট কৃষি জমির পরিমাণ ১৫১ঘ বা ১৫১জ ধারাঅনুযায়ী বিবরণীদাখিলের পর উত্তরাধিকার বা প্রকৃত হস্তান্তরের কারণে পচিঁশবিঘা বা তাহার কম হয়, সেখানে ঐ পরিবারের প্রধান নির্ধারিত ফরমে ভূমি রাজস্বপ্রদান করা হইতে নিষ্কৃতিচাহিয়া ঐ হ্রাসপ্রাপ্তির তারিখ ও কারণ বর্ণনাকরিয়া রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট আবেদনজানাইতে পারিবে এবং রাজস্ব কর্মকর্তাযথাযথ অনুসন্ধান করার পর আবেদনে বর্ণিত বিবরণীসম্পর্কে সন্তুষ্ট হইয়ানিম্নলিখিত তারিখ হইতে ঐ নিষ্কৃতি অনুমোদন করিয়া আদেশপ্রদান করিবেন, যথা:

(১) বাংলা বত্সরের পহেলা কার্তিকের পূর্বে আবেদনের ক্ষেত্রেঐ বত্সরের পহেলা কার্তিক হইতে কার্যকরী হইবে ।

(২) বাংলা বত্সরের পহেলা কার্তিক বা পহেলাকার্তিকের পরেআবেদনের ক্ষেত্রে ঐ আবেদনের তারিখের পরবর্তী বাংলা বত্ সরেরপ্রথম দিন হইতে কার্যকরীহইবে ।

ধারা-১৫১ ঞ(পরিবার ও পরিবারের প্রধানের সংজ্ঞা)

(ক) কোনোব্যক্তি সম্পর্কিক 'পরিবার' ঐ ব্যক্তি ও তাহার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পুত্রবধু, পুত্রের পুত্র ও পুত্রের অবিবাহিতা কন্যা।

তবে শর্ত এই যে, একজন বয়স্ক ও বিবাহিত পুত্রযে ১৯৭১ সালের১৬ই ডিসেম্বরের পূর্ব হইতে বিরামহীনভাবে তাহার পিতামাতা হইতেস্বাধীনভাবে পৃথক মেসেবসবাস করিয়া আসিতেছে সেও তাহার স্ত্রী-পুত্র ওঅবিবাহিতা কন্যা একটি পৃথক পরিবারগঠন করিয়াছে বলিয়া ধরিয়া লওয়া হইবে।

আর ও শর্ত থাকে যে, ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল-আওলাদ, দেবোত্তর বাঅন্য কোনো ট্রাস্টের অধীনস্থ জমি যেখানে সুবিধাভোগীদের তাহাদেরব্যক্তিগত সম্পত্তিহিসাবে ঐ সকল সম্পত্তি হস্তান্তর করার অধিকার থাকেসেইক্ষেত্রে ঐ সকল সুবিধাভোগীরাএকত্রে ঐ সকল জমি সম্পর্কিত পৃথক পরিবার গঠনকরিয়াছে বলিয়া ধরিয়া লওয়া হইবে ।

(২) ''পরিবারের প্রধান'' বলিতে বুঝায়-

(১) (ক) অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় অনুবিধিতেবর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীতঅন্যান্য ক্ষেত্রে ঐ পুরুষ বা মহিলা যাহার সম্পর্কদ্বারা রাজস্ব অফিসার নির্ধারিতনিয়মে পরিবার নির্ধারণ করেন ।

(১) (খ) অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় অনুবিধিতে বর্ণিত ক্ষেত্রেমুতওয়াল্লী, সেবায়েত বা ট্রাস্টিকে, যেখানে যাহা প্রযোজ্য হয় ।

ধারা-১৫২ (বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা)- (১)সরকার পূর্বেপ্রকাশ করার পর এই খণ্ডের উদ্দেশ্যে কার্যকর করার জন্য বিধিমালা প্রণয়ন করিতেপারিবেন ।

(২) বিশেষভাবে ও উপরোক্ত ক্ষমতার সাধারণভাবেকোন হানিকর কিছুনা করিয়া নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল অথবা যে কোন একটিরজন্য উক্ত বিধিমালায় থাকিবে, যথা :

(ক)৮৬ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত আবেদনের ফরম ও ঐ উপধারায়বর্ণিত মওকুফের পরিমাণ নির্ধারণ করিবার নিয়ম;

(খ)বাতিল

(গ)৮৯ ধারায় (১) উপধারা ক অনুচ্ছেদ এবং (৪) উপধারায় বর্ণিতনোটিশের ফরম ও উহাতে বর্ণিত প্রসেস ফী এর পরিমাণ;

(ঘ)৯০ ধারার (৩) ও (৪) উপধারায় বর্ণিত রাজস্ব কর্তৃপক্ষ

(ঙ)৯২ধারার (১) উপধারার খ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নোটিশের ফরম ওযে নিয়মে যে সময়েরমধ্যে ঐ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে এবং উক্ত ধারার (৩) উপধারায়বর্ণিত নোটিশপ্রকাশের নিয়ম,

(চ)৯৪ ধারা মোতাবেক দায় হস্তান্তর করিবার জন্য রাজস্ব অফিসারকর্তৃক ভূমি নির্ধারণের নিয়ম বা উপায়;

(ছ)৯৯ধারার (১) উপধারার ক অনুচ্ছেদে বর্ণিত খাজনার হারনির্ধারণ করিবার জন্যরাজস্ব অফিসার কর্তৃক অনুসৃত পদ্ধতি ও প্রয়োগকৃত ক্ষমতা ওউক্ত অনুচ্ছেদমোতাবেক খাজনার হারের টেবিলের ফরম, ঐ টেবিলের প্রস্তুতকরণের নিয়ম এবংউহাতেবর্ণিত বিবরণসমূহ;

(জ)৯৯ ধারার (১) উপধারার খ অনুচ্ছেদ মোতাবেক খাজনারবন্দোবস্তকৃত খাজনা বিবরণী-এর ফরম, উহা প্রস্তুতের নিয়ম ও উহাতে বণীর্ত বিবরণসমূহ;

(ঝ)১০০ ধারার (২) উপধারার চ অনুচ্ছেদ এবং (৩) উপধারায় বর্ণিতখাজনার গড় হার নির্ধারণের সময়;

(ট)১০১ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক খাজনার হারের খসড়া টেবিলেরপ্রকাশের নিয়ম ও উক্ত ধারার (৩) উপধারায় বর্ণিত রাজস্ব অফিসার;

(ঠ)১০৮ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক খসড়া বন্দোবস্তকৃত খাজনাবিবরণী প্রকাশের নিয়ম ও সময় ও উক্ত উপধারা মোতাবেক আপত্তিসমূহের নিষ্পত্তি;

(ত)১০৯ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত অনুমোদনকারী কর্তৃকপক্ষ; ওউক্ত ধারার (৩) উপধারামোতাবেক বন্দোবস্তকৃত খাজনা বিবরণী চূড়ান্ত প্রকাশের নিয়ম;

(ঢ) ১১০ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত উর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষ;

(ন)১১ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত আপিল দায়েরের নিয়ম;

(ত)বাতিল

(থ)১৯ ধারায় (১) উপধারায় বর্ণিত আবেদনের ফরম;

(দ)২০ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত অনুসন্ধান করার নিয়ম উধর্বতনরাজস্ব কর্তৃপক্ষযাহার নিকট রাজস্ব অফিসার কর্তৃক উক্ত উপধারায় বর্ণিত আবেদন দায়েরকরিতেহইবে এবং উক্ত ধারার (২) উপধারায় বর্ণিত আবেদনসমূহের ব্যবস্থা গ্রহণেরজন্যঅনুসৃত পদ্ধতি;

(ধ)১২২ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত জোতসমূহের সংযুক্তকরণপ্রকল্প প্রস্তুতের নিয়ম এবংউক্ত ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত উপদেষ্টা পরিষদেরনিযুক্ত ও গঠন;

(ন)১২৩ধারার (১) উপধারা মোতাবেক জোতসমূহের সংযুক্তকরণের খসড়াপ্রকল্প প্রকাশেরনিয়ম এবং সময় এবং উক্ত উপধারার অধীনে আপত্তিসমূহের নিষ্পত্তি;

(প)যেসময়ের মধ্যে ও যে নিয়মে ১২৪ ধারার (১) উপধারা মোতাবেকআপীল এবং উক্ত ধারার(২) উপধারা মোতাবেক ২য় আপিল দায়ের করা যাইবে এবং ঐ ধারায়বর্ণিত উর্ধ্বতনরাজস্ব কর্তৃপক্ষ;

(ফ)১৩২ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত জোতসমূহের সংযুক্তকরণেরজন্য কার্যক্রমসমূহের ব্যয়নির্ধারণের নিয়ম এবং ঐ উপধারা অনুযায়ী ঐরূপ ব্যয় আদায়;

(ব)১৩৫ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত খাজনার কিস্তিসমূহ প্রদানেরতারিখ;

(খ)১৩৬ ধারা মোতাবেক খাজনা প্রদান অথবা ডাক মানি অর্ডার যোগেপ্রেরণ;

(ম)১৩৮ ধারায় বর্ণিত লিখিত রসিদের ফরম;

(য)১৪১ ধারা মোতাবেক বকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য অনুসৃত পদ্ধতি;

(যক)১৪৩ ধারায় বর্ণিত স্বত্বলিপিসমূহ যে উপায়ে বা নিয়মেবর্তমান পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাইবে;

(যখ)১৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বত্বলিপিসমূহ পরিমার্জন করিবারক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার কর্তৃক অনুসৃত পদ্ধতি ও প্রয়োগকৃত ক্ষমতাসমূহ ।

 

 

ভূমি বিষয়ক তথ্য

খতিয়ান কী ?
মৌজা ভিত্তিক এক বা একাদিক ভূমি মালিকের ভূ-সম্পত্তির বিবরন সহ যে ভূমি রেকর্ড জরিপকালে প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।
সি,এস রেকর্ড কী ?
সি,এস হল ক্যাডাস্টাল সার্ভে। আমাদের দেশে জেলা ভিত্তিক প্রথম যে নক্সা ও ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় তাকে সি,এস রেকর্ড বলা হয়।
এস,এ খতিয়ান কী ?
সরকার কর্তৃক ১৯৫০ সনে জমিদারি অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন জারি করার পর যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তাকে এস,এ খতিয়ান বলা হয়।  
নামজারী কী ?
উত্তরাধিকার বা ক্রয় সূত্রে বা অন্য কোন প্রক্রিয়ায় কোন জমিতে কেউ নতুন মালিক হলে  তার নাম খতিয়ানভূক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারী বলে।
জমা খারিজ কী ?
জমা খারিজ অর্থ যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করা। প্রজার কোন জোতের কোন জমি হস্তান্তর বা বন্টনের কারনে মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমি নিয়ে নুতন জোত বা খতিয়ান খোলাকে জমা খারিজ বলা হয়।
পর্চা কী ?
ভূমি জরিপকালে প্রস্তুতকৃত খসরা খতিয়ান যে অনুলিপি তসদিক বা সত্যায়নের পূর্বে ভূমি মালিকের নিকট বিলি করা হয় তাকে মাঠ পর্চা বলে। রাজস্ব অফিসার কর্তৃক পর্চা সত্যায়িত বা তসদিক হওয়ার পর আপত্তি এবং আপিল শোনানির শেষে খতিয়ান চুরান্তভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর ইহার অনুলিপিকে পর্চা বলা হয়।
তফসিল কী ?
তফসিল অর্থ জমির পরিচিতিমূলক বিস্তারিত বিবরন। কোন জমির পরিচয় প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মৌজার নাম, খতিয়ান নং, দাগ নং, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমান ইত্যাদি তথ্য সমৃদ্ধ বিবরনকে তফসিল বলে।
মৌজা কী ?
ক্যাডষ্টাল জরিপের সময় প্রতি থানা এলাকাকে অনোকগুলো এককে বিভক্ত করে প্রত্যেকটি একক এর ক্রমিক নং দিয়ে চিহ্নিত করে জরিপ করা হয়েছে। থানা এলাকার এরুপ প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে। এক বা একাদিক গ্রাম বা পাড়া নিয়ে একটি মৌজা ঘঠিত হয়।
খাজনা কী ?
ভূমি ব্যবহারের জন্য প্রজার নিকট থেকে সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে ভুমি কর আদায় করে তাকে ভুমির খাজনা বলা হয়।
ওয়াকফ কী ?
ইসলামি বিধান মোতাবেক মুসলিম ভূমি মালিক কর্তৃক ধর্মীয় ও সমাজ কল্যানমুলক প্রতিষ্ঠানের ব্যায় ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন সম্পত্তি দান করাকে ওয়াকফ বলে।
মোতওয়াল্লী কী ?
ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান যিনি করেন তাকে মোতওয়াল্লী বলে।মোতওয়াল্লী ওয়াকফ প্রশাষকের অনুমতি ব্যতিত ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না।
ওয়রিশ কী ?
ওয়ারিশ অর্থ ধর্মীয় বিধানের আওতায় উত্তরাধিকারী। কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলে আইনের বিধান অনুযায়ী তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্নীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে ওয়ারিশ বলা হয়।
ফারায়েজ কী ?
ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলে।
খাস জমি কী ?
ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে।
কবুলিয়ত কী ?
সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহন করে খাজনা প্রদানের যে অংঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।
দাগ নং কী ?
মৌজায় প্রত্যেক ভূমি মালিকের জমি আলাদাভাবে বা জমির শ্রেনী ভিত্তিক প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সিমানা খুটি বা আইল দিয়ে স্বরজমিনে আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হয়। মৌজা নক্সায় প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে ক্রমিক নম্বর দিয়ে জমি চিহ্নিত বা সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রদত্ত্ব নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে।
ছুট দাগ কী ?
ভূমি জরিপের প্রাথমিক পর্যায়ে নক্সা প্রস্তুত বা সংশোধনের সময় নক্সার প্রত্যেকটি ভূ-খন্ডের ক্রমিক নাম্বার দেওয়ার সময় যে ক্রমিক নাম্বার ভূলক্রমে বাদ পরে যায় অথবা প্রাথমিক পর্যায়ের পরে দুটি ভূমি খন্ড একত্রিত হওয়ার কারনে যে ক্রমিক নাম্বার বাদ দিতে হয় তাকে ছুট দাগ বলা হয়।
চান্দিনা ভিটি কী ?
হাট বাজারের স্থায়ী বা অস্থায়ী দোকান অংশের অকৃষি প্রজা স্বত্ত্য এলাকাকে চান্দিনা ভিটি বলা হয়।
অগ্রক্রয়াধিকার কী ?
অগ্রক্রয়াধিকার অর্থ সম্পত্ত্বি ক্রয় করার ক্ষেত্রে আইনানুগভাবে অন্যান্য ক্রেতার তুলনায় অগ্রাধিকার প্রাপ্যতার বিধান। কোন কৃষি জমির মালিক বা অংশিদার কোন আগন্তুকের নিকট তার অংশ বা জমি বিক্রির মাধ্যমে হস্তান্তর করলে অন্য অংশিদার কর্তৃক দলিলে বর্নিত মূল্য সহ অতিরিক্ত ১০% অর্থ বিক্রি বা অবহিত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জমি ক্রয় করার আইনানুগ অধিকারকে অগ্রক্রয়াধিকার বলা হয়।
আমিন কী ?
ভূমি জরিপের মধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তুত ও ভূমি জরিপ কাজে নিজুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলা হত।
সিকস্তি কী ?
নদী ভাংঙ্গনে জমি পানিতে বিলিন হয়ে যাওয়াকে সিকস্তি বলা হয়। সিকস্তি জমি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়স্তি হলে সিকস্তি হওয়ার প্রাককালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন, তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন।
পয়স্তি কী ?
নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়স্তি বলা হয়।
নাল জমি কী ?
সমতল ২ বা ৩ ফসলি আবাদি জমিকে নাল জমি বলা হয়।
দেবোত্তর সম্পত্তি কী ?
হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির আয়োজন, ব্যাবস্থাপনা ও সু-সম্পন্ন করার ব্যয় ভার নির্বাহের লক্ষ্যে উৎসর্গকৃত ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি সম্পত্তি বলা হয়।  
দাখিলা কী ?
ভূমি মালিকের নিকট হতে ভূমি কর আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফরমে (ফরম নং-১০৭৭) ভূমিকর আদায়ের প্রমানপত্র বা রশিদ দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলে।
ডি,সি,আর কী ?
ভূমি কর ব্যতিত অন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফরমে (ফরম নং-২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে ডি,সি,আর বলে।
দলিল কী ?
যে কোন লিখিত বিবরনি যা ভবিষ্যতে আদালতে স্বাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিষ্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রি করেন তাকে সাধারনভাবে দলিল বলে।
কিস্তোয়ার কী ?
ভূমি জরিপকালে চতুর্ভূজ ও মোরব্বা প্রস্তুত করারপর  সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভূমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নক্সা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।
খানাপুরি কী ?
জরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরণ করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।

 

মিউটেশন (নামজারী) জমা ভাগ ও জমা একত্রিকরন সংক্রান্ত নিয়মাবলী

 মিউটেশনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর দরখাসত্ম দাখিল করতে হবে।

মিউটেশনের আবেদনের সাথে নিম্ন বর্ণিত কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।

(ক)প্রযোজ্যক্ষেত্রেঃ ১। ক্রয় ওপ্রয়োজনীয় বায়া দলিলের কপি। ২। ওয়ারিশ সনদপত্র ৩। হেবা দলিলের কপি এবংসকল রেকর্ড বা পর্চা খতিয়ানের সার্টি ফাইড কপি। ৪।সর্বশেষ জরিপের পরথেকে বায়া /পিট দলিল এর সার্টি ফাইড/ফটোকপি

৫। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা ।  ৬। তফফিল বর্ণিত চৌহদ্দিসহ কলমি নকসা ০১ কপি।

(খ) মিউটেশনের খরচঃ

(ক) আবেদন বাবদ কোর্ট ফি = ৫/- (পাঁচ টাকা)

(খ) নোটিশ জারী ফি = ২/- (দুই টাকা) (অনাধিক ৪ জনের জন্য ) চার জনের অধিক প্রতিজনের জন্য আরো ০.৫০ টাকা হিসাবে আদায় করা হবে।

(গ) রেকর্ড সংশোধন ফি = ২০০/- (দুইশত) টাকা।

(ঘ) প্রতিকপি মিউটেশন খতিয়ান ফি = ৪৩/- (তেতালি­শ) টাকা।

সর্বমোট= ২৫০/- (দুইশত পঞ্চাশ) টাকা + চার জনের অধিক হলে নোটিশ জারী ফি প্রতিজনের জন্য আরো ০.৫০ টাকা হিসেবে আদায় করা হবে।

বিঃদ্রঃদরখাস্তজমা দেওয়ার দিন থেকে ৪৫ দিনেরমধ্যে মিউটেশন কেস নিষ্পত্তি না হলে এবংউলে­খিত খরচের অতিরিক্ত ফি কেউদাবী করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি)/ উপজেলানির্বাহী অফিসার/রেভিনিউ ডেপুটিকালেক্টর/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)অথবা জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগকরুন।

 

ভূমি উন্নয়ন করের দাবী নির্ধারনঃ

ইউনিয়ন ভূমি অফিস

বিগত অর্থছরের দাবী

বিগত অর্থবছরের আদায়

বিগত অর্থবছরে আদায়ের হার

বর্তমান অর্থবছরের দাবী

দাবী বৃদ্ধি (টাকায়)

দাবী বৃদ্ধির হার

মমত্মব্য

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ইউনিয়ন ভূমি অফিস

বিগত অর্থছরের দাবী

বিগত অর্থবছরের আদায়

বিগত অর্থবছরে আদায়ের হার

বর্তমান অর্থবছরের দাবী

দাবী বৃদ্ধি (টাকায়)

দাবী বৃদ্ধির হার

মমত্মব্য

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ভূমি উন্নয়ন করের (সাধারণ) দাবী আদায়ঃ

 

ক্রমিক

নং

ইউনিয়ন ভূমি অফিস

বর্তমান অর্থছরের দাবী

বিবেচ্য মাসে আদায়ের টার্গেট

বিবেচ্য মাসে আদায়

বিবেচ্য মাসে আদায়ের হার

বিগত মাসে আদায়

মমত্মব্য

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নামজারী-জমাখারিজের আবেদন নিষ্পত্তিঃ

ক্রমিক নং

ইউনিয়ন ভূমি অফিস

বিগত মাস পর্যমত্ম পেন্ডিং আবেদনের সংখ্যা

বিবেচ্য মাসে দায়ের

মোট আবেদনের সংখ্যা

বিবেচ্য মাসে নিষ্পত্তি

নিষ্পত্তির হার

অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত

ক্রমিক নং

ইউনিয়ন ভূমি অফিস

বর্তমানে বন্দোবসত্মযোগ্য কৃষি খাস জমির পরিমান

বিবেচ্য মাসে বন্দোবসত্মকৃত কৃষি খাস জমির পরিমান

বিবেচ্য মাসে উপকারভোগী

পরিবারের সংখ্যা

কবুলিয়ত সম্পাদন হয়েছে এমন পরিবারের সংখ্যা

অবৈধ দখলীয় কৃষি খাস জমির পরিমান

মামলা মোকদ্দমার জড়িত কৃষি খাস জমির পরিমান

বন্দোবসত্মযোগী নয় এরূপ কৃষি খাস জমির পরিমান

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনাঃ

ক্রমিক নং

ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নাম 

অর্পিত সম্পত্তির পরিমান

অর্পিত সম্পত্তির ইজারা

বিগত অর্থবছরের দাবী ও আদায়

বর্তমান অর্থবছরের দাবী ও আদায়

মমত্মব্য

বকেয়া

হাল

মোট

 

 

 

 

 

প্রত্যর্পনযোগ্য

অনিবাসী

ইজারাভূক্ত

ইজারা

বিহীন

দাবী

আদায়

হার

দাবী

বিবেচ্য মাস পর্যমত্ম আদায়

হার

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিবিধ পাবলিক পিটিশন নিষ্পত্তিঃ

ক্রঃ

 নং

ইউনিয়ন ভূমি অফিস

বিগত মাস পর্যমত্ম পেন্ডিং পাবলিক পিটিশনের সংখ্যা

বিবেচ্য মাসে আগত পাবলিক পিটিশনের সংখ্যা 

বিবেচ্য মাসে নিষ্পত্তিকৃত পাবলিক পিটিশনের সংখ্যা

মাস শেষে পেন্ডিং পাবলিক টিটিশনের সংখ্যা

মমত্মব্য

 

 

 

 

 

 

 

. জনদুর্ভোগ লাঘব ও সেবার মান উন্নয়নে গৃহীত বিশেষ উদ্যোগঃ সহকারীকমিশনার(ভূমি) এর নিকট সরাসরি স্বাক্ষাতের মাধ্যমে যে কোন অভিযোগ/ আবেদনতাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

ছবি


সংযুক্তি

 বিষয়ক তথ্য.doc বিষয়ক তথ্য.doc



Share with :

Facebook Twitter